ইউজার লগইন

বাংলা ব্যান্ডের গান

I was born on the dawn of a new society
And I feel lucky that my eyes could see
People standing up and being who they want to be
People made the music and the music made them free
Now I was just a baby through the summer of love they say
But it still feels like it was today
And if the road gets rough I pick up my guitar and play
It's always been right by my side to help me on my way

Now I don't need to worry 'bout tomorrow
Ain't anticipating what's to come
And I don't need to worry 'bout the things I have not done
Long as I got rock and roll I'm forever young

Now we can't always understand this world
Farther along we'll understand it all
The seventies looked like we all were headed for a fall
But those who listened hard enough could hear the summer call
Now I was growing up through all of this
My first beer and love and my first kiss
You never learn the things in school
You learn by living and going through
You taught me how to be myself
How can I thank you

সিন্ডারেলার গাওয়া ওয়ান ফর রক এন্ড রোল আমার পছন্দের একটা গান, একটা সময়ের অনুভুতি অনেকাংশেই ধরে রেখেছে গানটা। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বিংশ শতাব্দীর ষাট আর সত্তরের দশক বেশ অদ্ভুত একটা সময়, বিশ্বের স্থানিক ঔপনিবেশিকতার অবসান, নতুন নতুন জাতীয়তাবাদী রাষ্ট্রের উদ্ভব, সাম্যবাদে বিশ্বাসী মানুষদের এই বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আকাঙ্খা এবং একই সাথে নতুন ক্ষমতাকেন্দ্র হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে সাম্যবাদী উত্থান রোধের আদর্শিক ও সামরিক লড়াই চলছে এ সময়ে। যুক্তরাষ্ট্রের নিকটতম প্রতিবেশী কিউবায় সাম্যবাদী বিপ্লব এবং সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের বৈধ-অবৈধ সকল ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ন্যুনতম পারিতোষিকে রাষ্ট্রীয়করণের বিরোধিতার সাথে সাথে যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষিণ আমেরিকায় সরাসরি সাম্যবাদবিরোধী সংঘাতে জড়িয়ে পরেছে ,ভিয়েতনাম যুদ্ধ, আমেরিকায় বীট আন্দোলন আর ভারতে হাংরি আন্দোলনের সূচনা হয়েছে এ সময়ে।

সে যুদ্ধের বিরোধিতা করছে যুক্তরাষ্ট্রের তরুণতর গায়কেরা, তরুণ-তরুণীদের যুদ্ধবিরোধী অবস্থান এবং তাদের বাধ্যতামূলক সামরিক শিবিরে যোগদানের ঘটনাগুলোর প্রতিবাদ হচ্ছে, একই সাথে রাষ্ট্রীয় মদতে এইসব বিক্ষুব্ধ তরুণদের মাদকাসক্ত অকার্যকর করে তোলার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে- সে সময়ের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশেও এক ধরণের পরিবর্তন এসেছে।

রেহমান সোবহানের স্মৃতিচারণে দেখা যাচ্ছে আইয়ুব খানের শাসনামলের শেষের দিকে অর্থনৈতিক বৈষম্যের চেয়ে বেশী পীড়াদায়ক হয়ে উঠেছিলো এই সাংস্কৃতিক বৈষম্য- ঢাকা শহরের প্রচলিত সংস্কৃতি অনুসরণ না করে এক দল ধনীর সন্তান বিদেশী সংস্কৃতির অনুসরণ করছে, সেটা অপরাপর মানুষদের ভেতরে আলোড়ন তুলেছে।
আইয়ুবের শাসনামল শেষে ইয়াহিয়া এবং অত:পর বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং স্বাধীনতা যুদ্ধপরবর্তী রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা এই দুই দশকের ঘটনা।

পূর্ব পাকিস্তানের তরুণের গীটার বাজানোয় উদ্বুদ্ধ হয়েছে ষাটের দশকেই কিন্তু সত্তরের দশকে এসে বাংলাদেশে ধীরে ধীরে ব্যন্ড সংগীতের উত্থান ঘটলো। বাংলাদেশের অপরাপর যেকোনো বিষয়ের মতোই ব্যান্ড আন্দোলন নিয়ে বড় পরিসরে কোনো লেখা হয় নি, এক দল মানুষের কাছে এইসব বিপথগামী তরুণদের সংগীতকে রসাতলে নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা, কোনো রকম তালিম না নিয়ে বাংলা গানের হাজার বছরের ঐতিহ্য ধ্বংসের পায়তারা। আর সরাসরি ব্যান্ডের সাথে জড়িয়ে ছিলেন তারা নিজেদের গান ও জীবনযাপনের বাইরে এসে তেমন আলোচনায় জড়িয়ে পড়েন নি যেখান থেকে বাংলা ব্যন্ড সংগীতের ধারাবাহিকতা বোঝা যায়, এই ব্যান্ডের সাথে জড়িত ব্যক্তি কিংবা তাদের গুণমুগ্ধরা তেমন স্মৃতিচারণ করেন নি। আমাদের জাতীয় মানসে শুধুমাত্র মৃত ব্যক্তির স্মৃতিচারণার সহজাত অভ্যস্ততায় ফিরোজ সাঁইয়ের মৃত্যুর পর বাংলা ব্যান্ডের প্রাথমিক দিনগুলো নিয়ে কিছু স্মৃতিচারণ হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে আজম খানের মৃত্যুর পরপর পুনরায় সেই উত্তাল সময় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

ঢাকায় যে সময়ে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ইংরেজীতে গান করছে মাইলস সে সময়ে চট্টগ্রামেই বাংলা ব্যান্ড আন্দোলনের সূচনা ঘটেছে। ঢাকায় বাংলা ব্যন্ড ছিলো না এমন না , আজম খানের উচ্চারণ, পিলু মমতাজ কিংবা নাজমা জামানদের পারিবারিক ব্যন্ড ছিলো, তারা গানও করেছেন, ধীরে ধীরে সেখানে নতুন মুখ যুক্ত হয়েছে, কিন্তু চট্টগ্রামের সোলসই সম্ভবত বাংলাদেশের প্রাচীনতম ব্যান্ডের মর্যাদা পাবে।

সোলস বাংলা ব্যান্ডের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল কয়েকজন সংগীতজ্ঞের জন্ম দিয়েছে, একেবারে প্রাথমিক ব্যন্ডের সদস্য তালিকায় সাম্প্রতিক সময়ের রেঁনেসার সদস্যরা ছিলেন, তার সাথে ছিলেন তপন চৌধুরী, গীটারে আইয়ুব বাচ্চু, আশির দশকের সে সময়টাতেই চট্টগ্রামে ছিলো জেমস, পরবর্তী সময়ে বাংলা ব্যান্ডের গতিপথ নির্ধারণে এরাই সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে।

সোলস ব্যান্ড হিসেবে অসাধারণ এমনটা বলবো না কিন্তু তাদের প্রতিটি এলব্যামেই সমসাময়িক জীবনের কথা থাকে। সমসাময়িক জীবন নিয়ে অন্তত একটা গান করার এই প্রবনতা তাদের প্রথম এলব্যাম থেকেই চালু আছে। নকীব খানের গাওয়া একটা গান মনে পরছে, সম্ভবত সোলসের প্রথম এলপির গান
ফুটবল ফুটবল দুরন্ত ফুটবল
চারিদিকে ফুটবল নাম শুনি
গোল গোল গোল গোল
ফুটবল ফুটবল জয়ধ্বনি

বাংলা ভাষায় সম্ভবত শুভ্র দেবের হাস্যকর ক্রিকেট নিয়ে গানটার আগে খেলা বিষয়ে এই একটা গানই ছিলো। নকীব খান ঢাকায় চলে আসবার পর তারা নিজেরা রেঁনেসা তৈরি করলেন, সোলসেও ভাঙন ধরলো, পরবর্তীতে বাচ্চু বের হয়ে নিজেদের মতো তৈরি করলেন এল আর বি, তপন চৌধুরী সলো ক্যারিয়ার শুরু করলেন, সোলসের হাল ধরলেন পার্থ বড়ুয়া। তবে সোলসের চরিত্র তারা এখনও অক্ষুন্ন রেখেছেন।

ঢাকায় সে সময়ে হ্যাপি আখন্দ, লাকী আখন্দ, ফেরদৌস ওয়াহিদ পপ গান শুরু করেছে, তাদের হাতেই বাংলাদেশে সফট রক ধারার গানের উদ্বোধন হয়েছে, একদিকে আজম খানের হার্ড রক অন্য দিকে ফিরোজ সাঁইএর দেহাত্মবাদী গানের মাঝামাঝি ধারায় চলেছেন তারা। এদের সাথেই কাজ করেছেন কাওসার আহমেদ চৌধুরি। আমার নিজের ধারণা হ্যাপী আখন্দের জনপ্রিয় হয়ে উঠবার পেছনে ঘুড্ডি ছবির অবদান অনেক বেশী, এই একটা ছবির আবার এলো যে সন্ধ্যা গানটা হ্যাপী আখন্দকে দীর্ঘ সময়ের জন্য তারুণ্যের আইকনে পরিণত করেছে। হ্যাপীর সংগীত প্রতিভা নিয়ে তার মৃত্যুর পরে অনেক ধরণের প্রশংসা পড়েছি- কিন্তু ব্যক্তি হ্যাপী আখন্দ কিংবা তার কাজের ধারা নিয়ে তেমন আলোচনা পড়ি নি।

এই সময়ের পপ-আধুনিক-রক ধাঁচের গায়কদের উদারতা প্রশংসনীয়, অনেকক্ষেত্রেই অনুকরণীয়ও বটে, তারা একে অপরের গান গেয়েছেন, লং প্লের যুগ শেষ হয়ে ক্যাসেটের ফিতার যুগ শুরু হলে সেখানেও এই চর্চা অব্যাহত ছিলো। হ্যাপী আখন্দের একটা গান আছে " কে বাঁশী বাজায় রে" আমি যে গানটা শুনেছি সেটা সম্ভবত নকীব খানের গাওয়া, গানটার লিরিক পড়ে আমার বারবার মনে হয়েছে গানটা মূলত মেয়ে শিল্পীর জন্যে লেখা-

" কে বাঁশী বাজায় রে,
এই মন কেনো নাচায় রে
আমার মন যে মানে না,
কিছুই ভালো লাগে না। "

" নাম ধরে সে ডাকে না যে
তবু কেনো মরি লাজে
মন যেনো আজ একা একা
লাগে না কোনো কাজে "

ঐ বাঁশী যে বিষের বাঁশী
তবু কেনো ভালোবাসি
মগ্ন হয়ে আড়ালে থেকে
দেখেছি পোড়া হাসি"

কোনো ছেলের বদলে গানটা কোনো মেয়ের পক্ষে গাওয়াটাই অধিকতর শোভন মনে হয়েছে আমার।

হ্যাপীর অন্য একটা বিষন্ন গান মনে পড়ছে

আজ আছি কাল নেই
অনুযোগ রেখো না
অধরের ঐ হাসি
মুছে ফেলো না

ব্যাথা ছাড়া আমি
তোমার এ জীবনে
আর কিছু জানি
দিতে পারি নি যে

কিছু স্মৃতি রেখে
চলে যাবো একা
শুধু এই ভেবে
করে দিও ক্ষমা
আজ আছি কাল নেই
অভিযোগ রেখো না
অধরের ঐ হাসি মুছে
ফেলো না।

অনেক কথাই এখানে নেই, ব্যান্ডের নিজস্ব আভ্যন্তরীন গোলোযোগ, ব্যক্তিত্বের দ্বন্দ্ব, গুরুত্ব কিঙ্গা গুরুত্বহীনতা নিয়ে সংঘাত, এসব ব্যান্ড আন্দোলনের ইতিহাসের সাথে সব সময়ই থাকে, কেউ না কেউ কোনো না কোনো সময় এসব নিয়ে কাজ করবেন, হয়তো বাংলাভাষার ব্যান্ড সংগীত নিয়ে চমৎকার কিছু বই আমরা পাবো।

আমরা বন্ধুর মুরাদ( বিষাক্ত মানুষ) গান ভালোবাসে, ওর কাছে অনেক তথ্য পাওয়া যাবে, একটা সময় গানপাগল মানুষদের পারস্পরিক আলোচনায় এইসব চরিত্ররা ছিলো। তারা ক্যাসেটের ফিতাবন্দী হয়েও একেবারে প্রতিবেশী হয়ে ছিলেন গান পাগল মানুষদের। আমি এসব গান পাগলদের কাছেই শুনেছি গায়ক আর ব্যান্ডের ইতিহাস।

পোস্টটি ১২ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

তানবীরা's picture


আরো পরব আসতে পারে এ লেখাটার। অনেককিছু বাদ রয়ে গেলো

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


তো, আরেকটা সিরিজ হয়ে যাক?

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.