জাপান ডায়েরী ২
ল্যাবে গিয়ে মিশরের আইমানের সাথে পরিচয় হলো, কামানো গোঁফ আর বিশাল ঝুলানো দাড়ি। সংবাদপত্রজনিত কারণে বিভিন্ন ভৌগলিক অঞ্চলের অধিবাসীদের সম্পর্কে এক ধরণের অজ্ঞতাপ্রসুত সংবাদপত্রবাহিত ধারণা আমাদের থাকে। এই স্টেরিওটাইপিক্যাল ধারণার জন্যে মধ্যপ্রাচ্য এবং তার সন্নিকটের আফ্রিকা মহাদেশের মুসলিম অধ্যুষিত দেশগুলো সম্পর্কে খুব বেশী ভালো ধারণা আমার নেই। সার্বজনীন নির্বাচনে যেই দেশের লোকজন মুসলিম ব্রাদারহুডকে নির্বাচিত করে সে দেশের জনগণের সম্পর্কে উন্নত ধারণা ধারণ করা কঠিন। এই বিশ্ববিদ্যালয়েই পিএইচডি শেষ করে পুনরায় পোস্টডক্টরেট করতে এসেছে, আমরা একই অফিসে মুখোমুখি টেবিলে বসে অন্তত পরবর্তী এক বছর কাটাবো।
জাপানী প্রফেসরেরা অতীব ভদ্রলোক। বাংলাদেশের সরকারী কর্মকর্তারা মন্ত্রীর শ্যালকদের সামনে যে পরিমান বিনীত হয়ে বিভিন্ন সরকারী সুবিধার কথা জানায়, আমার প্রফেসর প্রতিটা বাক্যের শুরুতে প্লীজ বলে নরম স্বরে জানালো এই ল্যাবে আমার জন্যে একটা ডেস্কটপ কম্পিউটার তৈরী আছে, আমি চাইলে সেটা ব্যবহার করতে পারি, আর যদি আমার নিজের ল্যাপটপ থাকে তাহলে ল্যাপটপও ব্যবহার করতে পারি, তিনি আমার জন্যে ওয়াইফাই নেটওয়ার্কের পাসওয়ার্ডও লিখে রেখছেন, আমি চাইলে সেটাও ব্যবহার করতে পারি। দেশী শিক্ষকদের সাথে সম্ভ্রমসূচক দুরত্ব বজায় রাখতে অভ্যস্ত আমি কিছুটা বিব্রত বোধ করলেও বুঝলাম অন্তত এইখানে কাজ করতে গিয়ে খুব বেশী ঝামেলার মুখোমুখি হতে হবে না।





মন্তব্য করুন