hudai 2
শিক্ষার প্রায়োগিক উপযোগিতা বেড়ে যাওয়ায় গত এক শতাব্দীতে পৃথিবীতে পেশাদার গবেষকের পরিমাণ বেড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় এবং গবেষণাগারে প্রচুর জ্ঞান উৎপাদিত হচ্ছে, প্রতিদিনই আমাদের জ্ঞানভান্ডার সমৃদ্ধ হচ্ছে। গত এক শতাব্দীর পরিসরে পৃথিবীর জ্ঞানের ভান্ডারে এত বেশী বৈচিত্র এসেছে নির্দিষ্ট একজন ব্যক্তির পক্ষে সেসবের মর্ম অনুধাবন করার কোনো প্রশ্নই নেই বরং সকল জ্ঞানের সন্ধান তার জন্যে নিতান্তই অসম্ভব। শাখা প্রশাখা ছড়িয়ে প্রফেশন্যাল সায়েন্টিস্ট এর যুগে বিজ্ঞানের যেকোনো একটি শাখায় কাজ করছেন এমন মানুষের সংখ্যা খুব বেশী হাজারখানেক হবে। তবে এমন পরস্পরের সাথে সম্পর্কিত শাখার সংখ্যা এবং নিজের অর্জিত জ্ঞানের প্রয়োগক্ষেত্র নির্ধারণ করে একাডেমিশিয়ান এবং প্রফেশন্যাল সায়েন্টিস্টদের গবেষণাক্ষেত্র খুবই সুনির্দিষ্ট। তারা একই সময়ে একাধিক শিক্ষার্থীর সহযোগিতায় ৫ থেকে ৬টি ক্ষেত্রে গবেষণা করতে পারেন। তারা যে জ্ঞান উৎপাদন করছেন- জ্ঞানের সংবেদ যে ভাষায় লিখছেন তার পাঠক সীমিত। গবেষণাপত্র পড়ে অনুধাবন করার জন্যে একজন পাঠককে যে পরিমাণ পরিশ্রম করতে হয় সে পরিশ্রমটুকু না করলে গবেষণাপত্রের নির্দিষ্ট একটি বাক্য সম্পূর্ণ অনুধাবন করা কঠিন। জ্ঞানের ধারাবাহিক বিকাশে আমরা ক্রমশঃ এমন একটি গন্তব্যে যাচ্ছি যেখানে আমাদের পরিশীলিত উপলব্ধি অনুধাবনের মানুষ কমে যাচ্ছে। আরও বেশী বিশেষায়িত, এর বেশী জটিল হতে থাকা এই জ্ঞানভান্ডের রস আস্বাদনের সুযোগ দেওয়ার জন্যে আগ্রহী পাঠকদের জন্যে চটুল বিজ্ঞানগ্রন্থ লিখছেন গবেষকেরা। বিজ্ঞানী আর্নেস্ট রাদারফোর্ড বলেছিলেন " তুমি যদি কোনো বারমেইডকে নিজের গবেষণার বিষয় বুঝাতে না পারো তাহলে তুমি গবেষণাই করছো না"।
ইংল্যান্ডের পাবে যেসব তরুনী ক্রেতাদের মদের গ্লাস পূর্ণ করার পেশায় নিয়োজিত তারা বিজ্ঞান বিষয়ে খুব বেশী ওয়াকিবহাল হবে না। তাদের কাছে নিজের গবেষণার বিষয়বস্তু সরল ভাষায় তুলে ধরা গবেষকের জীবনের মোক্ষ না হলেও তার অনুধাবনের মাত্রাটা এমন হতে হবে যে সাধারণ যেকোনো মানুষকে সে যদি নিজের গবেষণার কথা জানায়- বুদ্ধিবিবেচনাবোধসম্পন্ন যেকোনো মানুষ সেটা কিছুটা বুঝতে পারবে। আমরা গত এক শতাব্দীতে আমাদের অর্জিত জ্ঞান এত বেশী বিমূর্তায়নের পথ অতিক্রম করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পর্ব শেষ করতে যাওয়া শিক্ষার্থীরাও তাদের বিভাগের গবেষকদের গবেষণার বিষয়গুলো কিছুটা অনুধাবন করতে পারবে এমনটা দুরাশা। এমন বিমূর্তায়নের যুগে যখন কোনো প্রতিষ্ঠিত গবেষক নিজের জ্ঞান সাধারণ মানুষের কাছে উপস্থাপন করেন সেটা পড়ে অধিকাংশ পাঠকই কিছুটা বিভ্রান্ত হয়ে যান।





মন্তব্য করুন