২
শহরের রাতের নিজস্ব চরিত্র আছে, শহরের রাস্তায় অনবরত হেঁটে বেড়ানো মানুষের মুখের আলাদা গল্প আছে। দিনের আলোয় যেসব চেহারার অন্ধকার অবসাদ খুঁজে পাওয়া যায় না, সন্ধ্যের আবছায়ায় আর রাতের অন্ধকারে সেসব অবসাদ স্পষ্ট ফুটে ওঠে। দিনের ব্যস্ততায়, উজ্জ্বল আলোতে বুঝে ওঠা কঠিন ছাঁটা ঘাস আর সাজানো গাছের আশেপাশে বসে থাকা মানুষগুলোর অনেকের স্থায়ী নিবাস আসলে পার্কের বেঞ্চ। রাতের শহরের হল্লা, মাতাল উচ্ছ্বাস আর উল্লাসের ভেতরে কোনোমতে মাথা গুঁজে এরা ভোরের অপেক্ষায় থাকে।
যে মানুষটা শরীরে সোনালী রঙ মেখে সন্ধ্যার রাস্তায় ভ্রমনার্থীদের বিনোদিত করছে, সে মানুষটা হয়তো দিনের আলোয় চুপচাপ বসে থাকে লেকের পাশে, প্রগলভ তরুণ যে হিপহপের তালে নাচছে আর সামনে ফেলে রাখা টুপিতে যারাই পয়সা ফেলছে তাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছে দিনের আলোয় সে একেবারে নিশ্চুপ।
বেহদ্দ মাতাল যে মানুষটা ল্যাম্পপোষ্ট ধরে দাঁড়িয়ে আছে, আমি নিশ্চিত যে ভ্রমনার্থীর সাথে আমার পরের দিন দেখা হবে গুরুগম্ভীর কোনো আলোচনায়। পাশের রাস্তায় পুরুষ নারীর নিতম্বের নীচে হাত দিয়ে কিছু খুঁজছে, যতটা গভীরে যাওয়ার চেষ্টা করছে সে পুরুষ, মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশের মাটিতে এতটা খনন করলে হয়তো খনিজ তেল খুঁজে পাওয়া যেতো, তবে এখানে প্রায় মধ্যরাতে তার বিহ্বল দৃষ্টি দেখে মনে হচ্ছে সে হন্যে হয়ে বিয়ের আঙটি খুঁজছে সেখানে।
২য় বিশ্বযুদ্ধে জাপান যেসব দেশ দখল করেছিলো, যেসব মহল্লায় বোমা ফেলেছিলো, সেসব দেশ তাদের ট্যুরিস্ট ডেস্টিনেশন তালিকায় উপরের দিকে আছে। তারা নিয়মিত ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া থাইল্যান্ড যেতে যায়, তারা সুযোগ পেলেই হাওয়াই ঘুরতে আসে, এমন কি শহরের এয়ারপোর্ট এবং বড় বড় হোটেলে জাপানী ভাষাভাষী মানুষের জন্যে আলাদা ডেস্ক আছে, জাপানী ভাষায় ওয়ান্ডারফুল হাওয়াই বই বিক্রী হয় শহরের ২৪ ঘন্টার দোকানগুলোতে। তাদের হাওয়াই প্রেম এত বেশী প্রায় ৩ হাজার মাইল উড়ে সুইসাইড মিশনে হাওয়াই এসে বোমা ফেলার জন্যে পাইলটের অভাব হয় নি।
কোথায় যাচ্ছো - বাতাসে এ কথা উড়িয়ে দেওয়া তরুণীর দিকে তাকানোর অবসর নেই, কার উদ্দেশ্যে বললো এ কথা, কার হদিশ জানতে এতো ব্যাগ্রতা জানার চেষ্টাও করলাম না। আমাকে যে করেই হোক একটা খাওয়ার জায়গা খুঁজে পেতে হবে।





মন্তব্য করুন