ইদানিং জীবনযাপন
শামসুর রাহমান প্রসঙ্গে হুমায়ুন আজাদের বক্তব্য মনে পরে-
ঘরোয়া আড্ডায় তিনি কিভাবে কথা বলতেন জানা নেই কিন্তু তার প্রথানুরক্ত প্রথাবিরোধিতা নিয়ে, বাংলা সাহিত্যে নিজস্ব অবস্থান প্রসঙ্গে তার উচ্চমন্যভ্রান্তি সমেত তিনি তার কষ্টচর্চিত শুদ্ধউচ্চারণশুঁচিবাই নিয়ে জনসমক্ষে উপস্থিত হতেন। তার ব্যক্তিগত এবং সামাজিক জীবনের পার্থক্য সম্পর্কে তিনি সচেতন ছিলেন এবং সামাজিক পরিবেশে নিজের বুদ্ধিজীবী মুখোশ এঁটে গম্ভীর মুখে উপস্থিত হতেন।
এই বন্ধ্যা রাজনীতিকালে প্রতিদিন চাটুকারিতার ইতিহাস পূনর্লিখিত হয়, উদ্ভাবিত হয় তোষামোদীর নতুন কৌশল, ফলতঃ দেশের প্রয়োজনের তুলনায় দেশনেত্রীর ব্যক্তিগত অনুভুতির গুরুত্ব বেড়ে যাচ্ছে। ভাগবাটোয়ারার নির্বাচনে নেত্রীর বাছাইকৃত আইনপ্রণেতারা সংগত কারণেই জনগণের আকাঙ্খা- শঙ্কা উপেক্ষা করে নেত্রীর মনোরঞ্জনে ব্যস্ত। তারা নেত্রীর বিরাগভাজন হতে নারাজ। জনগণের চোখের আগুণের আঁচ থেকে নিরাপদ দুরত্বে নেত্রীর আঁচলতলে থেকে পাতি নেতা- উপনেতা- হবুনেতা এবং উচ্চাকাঙ্খী মানুষেরা স্তাবকতার নতুন নতুন মাইলস্টোন স্থাপন করছেন।
নারী হেনেস্তার উস্কানী দেওয়া আইনপ্রণেতা, তার পদবী দেখে অতিতৎপর ছাত্রনেতা, এবং ছাত্রনেতার কল্যানে বিভিন্ন দোকানে মুফতে চা সিগারেট খেতে পারা তার অনুগত কর্মী - নেতা হওয়ার সিঁড়িতে যে যত নীচে অবস্থান করছে তারা ততবেশী পরিমাণে বিচলিত হচ্ছে।
আনুগত্য প্রকাশের ভীষণ দায় থেকে যে মানুষটা আদালতে মামলা করেছে- মহানগর আদালতের যে বিচারক কারণ দর্শানো নোটিশ পাঠাচ্ছে, তারা এখনও নিশ্চিত নন তারা যথেষ্ট পরিমাণে ল্যাজ নাড়িয়েছেন কি না- তাদের ল্যাজও নমনীয়, তাদের মেরুদন্ডও নমনীয়, ভাবমুর্তির শক্ত বর্ম আছে বলে তারা কেন্নোর মতো গুটলি পাকিয়ে আছেন বাংলাদেশে নইলে কেঁচোর মতো স্যাঁতস্যাঁতে জীবনযাপন করতেন।
মাত্রাছাড়া প্রতিক্রিয়াশীলতা উপমহাদেশে নতুন কিছু না। দাঙ্গাউন্মুখ ইতরের গলির মোড়ে চায়ের দোকানে উৎসুক বসে থাকে- অসহিষ্ণুতা এখানে পৌরুষের প্রকাশ- সামান্য উস্কানিতে এদের সভ্য মানুষের মুখোশটা খসে ফেললেও এরা বিব্রত হয় না কিন্তু এরা দ্রুতস্খলনে বিচলিত হয়। তাই ৩২ জাতের গাছের ফল-ফুল-পাতা- ছালবাকল ভেজানো পানি পান করে প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে- বাঘ- সিংহ, হিমালয়ের চুঁড়ায় পাইনের ডালে ল্যাজ ঝোলানো হনুমান, সবার অন্ডকোষ শুকিয়ে চায়ে ভিজিয়ে খায়।
রাজনীতিজীবী মানুষের চামড়া থেকে হাড়ের মজ্জা পর্যন্ত থকথকে ঘৃণা, পরস্পরের সাথে শোভন সম্ভাষণের সময় তাদের ফুসফুস থেকে বের হওয়া বাতাসেও ঘৃণার জীবানু- ঘৃণার অন্তহীন প্রতিযোগিতায় কে প্রথম আর কে দ্বিতীয় ঠাওড় করা কঠিন।
পরস্পরের পোশাক, আবরণ, আভরণ, বিশ্বাস, অবিশ্বাস, মতাদর্শ, রাজনীতি- যা কিছু স্পর্শ্ব করা সম্ভব এবং যা কিছু শুধু শব্দেই নির্দিষ্ট করা সম্ভব- সাম্ভাব্য সকল বিষয়ে পরস্পরের প্রতি তীব্র ঘৃণা অনুভব এবং ঘৃণাচর্চায় উদগ্রীব মানুষেরা এখানেই বসবাস করে।
রিরংসার মতো তীব্র শাররীক আগ্রাসন সম্ভব না হলে যৌনআগ্রাসী শব্দে জিঘাংসা মেটানোর উল্লাস এদের মানায়। এরা গলির মোড়ের চায়ের দোকান থেকে তাদের ইতরপনা নিয়ে হাজির হচ্ছে ভার্চুয়াল জগতে- আনুগত্যে আমিও পিছিয়ে ছিলাম না, আমার জন্যেও খানিকটা বরাদ্দ রাখো হে মাননীয় স্বীকৃতিউন্মুখ তারা যৌন আগ্রাসী শব্দগুচ্ছসমেত তারা প্রবল পৌরুষের দাপট দেখাচ্ছে।
আমি আবারও স্মরণ করছি হুমায়ুন আজাদকেই- তিনি জানতেন ব্যক্তিগত আর সামাজিক জীবনের সীমারেখা, তাই পোশাক পরিবর্তনের মতো অবলীলায় নিজের মুখোশ বদলে ফেলতেন সামাজিক পরিবেশে-
ঘরের নির্জন কোণে ঘ্যাস ঘ্যাস বীচি চুলকাতে চুলকাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আনুগত্যের পৌরুষদীপ্ত প্রমাণ রেখে যাওয়া এইসব রাজনৈতিক ইতরেরা এখনও শোবার ঘর আর হাগনকুঠির তফাত করতে পারলো না ।
এই যেমন গতকাল অলৌকিকভাবেই তোষামোদীর নতুন কৌশল হিসেবে মোদির সামনে জন্মের অনেক দিন পর প্রিয়াংকা চোপড়ার পা উদ্ভাসিত হলো- আমি আর অবাক হলাম না- বাকরুদ্ধ হয়ে গেলাম।





মন্তব্য করুন