খেলা দেখুন বিশ্বকাপে, ঝড় তুলুন চায়ের কাপে! ৪
নেদারল্যান্ড বনাম ডেনমার্ক
একটা কথা আমরা প্রায়ই শুনি এদিক ওদিক। টোটাল ফুটবল বিশ্ব ফুটবলে একটি বিশাল পরিবর্তন দিয়েছিলো। কিন্তু আমার খানিকটা ভিন্ন ইন্টারপ্রিটেশন রয়েছে এ বিষয়ে। ১৯৭৪'এ যোহান ক্রুইফ নির্ভরতায় তারা ফাইনালের আগ পর্যন্ত ছিলো অপরাজেয় ঘরানার দল। কিন্তু চার বছর পর ক্রুইফের অনুপস্থিতিতে তারা ফাইনাল খেললেও একেবারেই অপরাজেয় ছিলো না। গ্রুপ পর্যায়েই স্কটল্যান্ডের নিকট পরাজিত হতে হয়েছিলো। ১৯৮৮তে নেদারল্যান্ড আবারো অজেয় দল হয়ে ইউরোপিয়ান কাপ জিতে নিলো রুড খুলিত-মার্কো ভ্যান বাস্তেন আর কোয়েম্যানদের সহায়তায়। আবার দীর্ঘ সময় খরাক্রান্ত কাটলো। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে এসে আবার একদল খেলোয়াড়ের আবির্ভাব ঘটলো তাদের। ফিলিপ কোকুর নেতৃত্বে আবারো তারা সারা বিশ্বকে জাত চিনিয়ে বিদায় নিলো সেমিফাইনালে। এরপর আবার নেদারল্যান্ড অনুপস্থিত বিশ্ব ফুটবলের সেনারিও থেকে। সাধারণ ইউরোপিয়ান মানে তারা সবসময়েই ছিলো ফুটবলের দীর্ঘ ঐতিহাসিক ভিত্তি থাকাতে। এতো ইতিহাস পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে আমি উপসংহার টানতে চাই এরকম, টোটাল ফুটবলে খেলে হয়তো পুরো দল, কিন্তু নেতুত্বে প্রয়োজন হয় একজন ক্রুইফ অথবা খুলিত কিংবা কোকু'র মতোন খেলোয়াড়দের। এই যে বিশেষ একজন ব্যক্তি খেলোয়াড়কে নেদারল্যান্ডের টোটালিটিকে বের করে নিয়ে আসতে হয় এটাকে আমার খুব বিপজ্জনক একটি রেখা মনে হয়। এবারের নেদারল্যান্ডে এমন একজনই আছেন ওয়েসলি স্নেইডার। যার পারফরম্যান্সের উপর নির্ভর করবে নেদারল্যান্ডের জয়-পরাজয় কিংবা ড্র।
অন্যদিকে ডেনমার্কের স্বর্নসময়েই তারা খুব কিছু করতে পারেনি কখনো। সেই স্বর্ণযূগের মর্টেন ওলসেন দায়িত্ব নিয়েছেন। তিনি নিজে ছিলেন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার বা সেই আমলের আরেকটি দায়িত্ব লিবেরো। তাই তার প্রশিক্ষণে দল খেলছেও ডিফেন্সিভ ফুটবল। নেদারল্যান্ড লীগে খেলা ক্রিস্টিয়ান এরিকসন যদি সুযোগ তৈরী করতে পারেন তাহলে প্রথম খেলাতে আক্রমনাত্মক নেদারল্যান্ডকে একটু ভেবে চিন্তে বল নিয়ন্ত্রণে রেখে খেলতে হবে। আর তা না হলে আমার বাজী নেদারল্যান্ড বেশ কয়েক গোলের ব্যবধানে জিতেই বিশ্বকাপ শুরু করতে যাচ্ছে।
জাপান বনাম ক্যামেরুন
ক্যামেরুন বিপজ্জনক দল কিন্তু কখনোই তারা কনসিসটেন্ট পারফরমেন্স দেখাতে পারেনি। স্যামুয়েল ইতো এই দলের নেতা তবে ক্লাবের খেলায় তার ভূমিকাকে কখনোই জাতীয় দলের খেলায় পালন করতে দেখা যায়না। তবে অধিনায়কত্ব পাওয়াটা তার খেলায় কতোটা পরিবর্তন এনে দেয় সেটা দেখার অপেক্ষায় আছি। এছাড়া পড়তি ফর্মের রিগোবার্তো সং, ইদ্রিসু কিংবা ইমানা'র দিন হলে আজকে জাপানকে বেশ সমস্যায় পড়তে হতে পারে।
অন্যদিকে জাপান এশিয়ার চ্যাম্পিয়ন হলেও প্রস্তুতি পর্বে একের পর এক ম্যাচ তারা হেরেছে সবল দূর্বল প্রতিপক্ষের কাছে। কোচ তাকেশি ওকাদা কেইসুকি হোন্ডাকে নিয়ে বাজি খেলতে চান। সিএসকেএ মস্কোর এই খেলোয়াড়ের মাল্টি স্কিলে তিনি বিভ্রান্ত হয়েছেন নাকি তার সঠিক ব্যবহার করতে পারছেন সেটা প্রমাণিত হবে আজকের খেলাতেই। এরমাঝে আবার আক্রমণ প্রবণ ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার মারকাস তুলিও তানাকা কোচের বিরুদ্ধে যা'তা বলে বেরাচ্ছেন।
এ খেলায় জাপান যদি চিরাচরিত খেলার ধারাবাহিকতা ফিরিয়ে আনতে পারে তাহলে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলা ড্র হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। তা না হলে ক্যামেরুন জেতার সম্ভাবনা বেশি। আমার বাজী ক্যামেরুনের পক্ষে।
ইতালি বনাম প্যারাগুয়ে
এ খেলা নিয়ে আমি বিস্তারিত আলোচনা করতে চাইনা। কেবল বলতে চাই ম্যারাডোনা কিংবা পাওলো রসি'র প্রেডিকশানের সাথে আমার বিরোধ আছে। বুড়োদের দল ইতালি এ খেলায় জিতবে অন্ততপক্ষে ২ গোলের ব্যবধানে।
দেখা হবে আবার আগামী দিন। ভালো থাকুন, বিশ্বকাপের আমেজে থাকুন।





আমি আজকে কমলা ফতুয়া লাগিয়ে এসেছি নেদারল্যান্ডস এর জন্য। অফিসে অন্যদের সাথে টিভি রুমে হাটাহাটি করে মোরাল সার্পোট দিবো।
নেদারল্যান্ড নয় আসলে নেদারল্যান্ডস কারন ওনাদের এখনো কলোনী আছে তাই একখানা "এস" এখনো আছে লেজে।
আইজকা ইতালো - আউস্ত্রেলিয়া ক্লাবে জায়গা পাওন যাইবো না কইলাম।
ইতালি জিতবো।
ক্যামেরুন গোল মিস করতে করতে গোল খাইয়া বসবো আতকামাইরা। জাপানরে ফেভারিট মানতাছি।
দুই নর্ডিকের খেলার স্টাইলে তেমন ফারাক নাই। আগ্রহ নাই। ড্র হবে।
ইতালীর দুইটা জিনিস খুব ভালো
১। সুন্দরী
২। সিনেমা
এই দুইটার তুলনা নাই।
ফুটবল দল হিসাবে ইতালীরে আমার কোনোকালে পছন্দ না। জিতলেও
প্রথম দুইটা তো হয়ে গেল,পরেরটা নিয়ে বলি।
যথারীতি আরেকটি গোলখরার ম্যাচ দেখতে যাচ্ছি প্যারাগুয়ে-ইতালির সাক্ষাতে।আপাতত ড্র এর পক্ষেই বাজি ধরছি।
মন্তব্য করুন