খেলা দেখুন বিশ্বকাপে, ঝড় তুলুন চায়ের কাপে! ৫
নিউজিল্যান্ড বনাম স্লোভাকিয়া
নিউজিল্যান্ডে কোন পেশাদার লীগ হয় না। একটাই মাত্র পেশাদার ফুটবল দল রয়েছে যারা বছর পাঁচেক ধরে অংশ নিচ্ছে অস্ট্রেলিয়ান লীগে। তাদের খেলোয়াড়দদের একটা বড় অংশ ইউরোপে খ্যাপ খেলতে চলে যায় বিভিন্ন ছোট ক্লাবে। তাদের কোচ একজন প্রাক্তন নিউজিল্যান্ডার ওয়ার্ল্ড কাপার। বিশ্বমানের কোন খেলোয়াড় নিউজিল্যান্ড দলে নেই। তবুও ওশেনিয়া অঞ্চলে তিন দলের মধ্যে প্রথম হওয়ার পর তারা এশিয়ার পঞ্চমস্থান অধিকার করা দল বাহরাইনকে হারিয়ে ২০১০ বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। গতো ছ'মাসে তারা একটি ম্যাচ ছাড়া আর সব খেলাতেই পরাজিত হয়েছে। তবে যে ম্যাচটিতে তারা জয় পেয়েছে সেটিই তাদের সম্পর্কে ভিন্ন ভাবনার অবকাশ এনে দেয়। বিশ্বকাপের উল্লেখযোগ্য দল সার্বীয়াকে তারা ১ - ০ গেলো হারিয়েছে গেলো মাসেই। তবু বিশ্বকাপে তাদের নতুন দল বলা যাচ্ছে না, কারণ তাদের বিশ্বকাপ অভিষেক ঘটেছে ১৯৮২তে। অন্যদিকে স্লোভাকিয়া এবারই প্রথম বিশ্বকাপে এলো। চেকোস্লোভাকিয়া রাষ্ট্রের অংশ হওয়াতে তাদের একটা ফুটবল ঐতিহ্য রয়েছে যদিও, কিন্তু প্রথমবার বিশ্বকাপে স্বতন্ত্র পরিচয়ে অংশগ্রহণ নিশ্চই ভিন্ন অনুভূতি তৈরী করে।
নিউজিল্যান্ডের বিপরীত চিত্র স্লোভাকিয়ার ফুটবলে। এবার তারা তাদের পূর্ববর্তী শাসকের দল চেক রিপাবলিককে হারিয়েই বিশ্বকাপে স্থান করে নিয়েছে। তাদের সব খেলোয়াড় পেশাদার। ইউরোপের সব নামকড়া লীগেই তাদের উপস্থিতি রয়েছে। প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতে স্লোভাকিয়া মিশ্র ফলাফল পেয়েছে। সুযোগবঞ্চিত নরওয়ের কাছে হারবার পর তারা ক্যামেরুনের সাথে ড্র এবং একসময়ের সাড়া ফেলা কোস্টারিকার সাথে ৩-০ ব্যবধানের জয় পেয়েছে। তাদের খেলার ধরণ পুরনো চেকোস্লোভাকিয়ার মতোই। দুই উইং নির্ভর শক্তিময় ফুটবল। হেড করার মতোন লম্বা এবং শক্ত ঘাড়ের স্ট্রাইকার। আমি ৯৪'এর সেই চেক স্ট্রাইকারের কথা স্কুরাভির কথা নিশ্চই আপনাদের মনে আছে। যে পুরো টূর্নামেন্টে পাঁচটি গোল করেছিলো যার সবগুলিই ছিলো মাথা দিয়ে। ম্যাঞ্চেস্টার সিটির ভ্লাদিমির উইস আর জর্ম্মন শাল্কের জেন্দ্রিসেকের গোলে আজ স্লোভাকিয়া অন্ততপক্ষে ২ - ০ ব্যবধানে জিতবে।
আইভরি কোস্ট বনাম পর্তুগাল
দিদিয়ের দ্রগবা নাকি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, কে জিতবে আজ? ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো আজকের বিশ্বে প্রথম দুজন খেলোয়াড়ের একজন, দিদিয়ের দ্রগবাকেও প্রথম পাঁচের তালিকায় রাখতে হবে। পর্তুগালের রক্ষণভাগে যেমন নেতৃত্ব দিবে চেলসির কার্ভালহো, তেমনি আইভরি কোস্টেও ম্যাঞ্চেস্টার সিটির কোলো তোরে। ভ্যালেন্সিয়ার মিগুয়েল আর আর্সেনালের ইম্যানুয়েল এবু'র মানে কি পার্থক্য আমার তা বোধগম্য নয়। ইন্টারমিলানের ইম্যানূয়েল কোনে'র পাস দ্রগবার পায়ে বা মাথায় যেমন নিখুঁতভাবে পৌছবে রিয়াল মাদ্রিদের পেপে'ও তার কসরত ভালোই জানে। তবে আজকের খেলায় দ্রগবার খেলার সম্ভাবনা কম। একারনে পর্তুগালের জিতে যাওয়ার সম্ভাবনাটাই বেশি। তবে এই খেলা ড্র হওয়ার সম্ভাবনা ৬০%।
ব্রাজিল বনাম উঃ কোরিয়া
চীরকাল ঢাক ঢাক গুড় গুড় থাকা দেশ উঃ কোরিয়া ১৯৬৬ সালে ইতালিকে হারিয়ে দিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ড পৌছে গিয়েছিলো। সেই আনপ্রডিক্টেবল উঃ কোরিয়া আজ মুখোমুখি হবে ব্রাজিলের। ব্রাজিল বর্তমান বিশ্বের এক নাম্বার দল, যার রয়েছে প্রত্যেকটি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের এবং পাঁচটি বিশ্বকাপ শিরোপা জিতে নেয়ার রেকর্ড। আর্জেন্টিনার নাম উচ্চারণেই যেমন ম্যারাডোনার ছবি ভেসে ওঠে চোখে, তেমনি ব্রাজিলে আসেন পেলে। কিন্তু ব্রাজিলে পেলে ছাড়াও জন্মেছে জিকো, কারেকা, সক্রেটিস, রোনালদো, রোনালদিনহো কিংবা কাকার মতোন ফুটবলার। এতো প্রতিভার ছড়াছড়ি আর কোন দেশে দেখা যায় কিনা সন্দেহ রয়েছে। তবো প্রতিভা বেশি হলে যা হয় ব্রাজিলেও তা হয়েছে। জিকো-কারেকা-সক্রেটিসরা কোন কাপ জিততে পারেনি। রোনালদো মুটিয়ে গিয়ে কোন দল না পেয়ে নিজ দেশের লীগ খেলছেন। রোনালদিনহোকে এবারের কোচ দুঙ্গা দলেই রাখেননি।
ব্রাজিল আক্রমনাত্মক ফুটবল খেলবে নাকি রক্ষনাত্মক তা নিয়ে সবার জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। তবে আর্জেন্টিনার মতোন ব্রাজিলের মধ্যমাঠ নিয়েও আমার ভিন্ন উপলব্ধি আছে। কাকা এবং জিলবার্তো নির্ভর ব্রাজিলের মধ্যমাঠ ছোট পাস আর দ্রুতগতির ফুটবলের সাথে কতোটা তাল মেলাতে পারে সেটা আজকের ম্যাচ দেখে বোঝা যাবে। যদিও আর্জেন্টিনার সাথে ব্রাজিলের পার্থক্য রক্ষনভাগে। আক্রমণের ঐতিহ্যধারী ব্রাজিলের রক্ষণভাগ এখন বিশ্বসেরা হিসাবে পরিগণিত হয়। তাদের গোলরক্ষণেও রয়েছে বিশ্বের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক হুলিও সিজার। আক্রমণে রবিনহো আর ফ্যাবিয়ানো কার্য্যকরী, কিন্তু তারা কি প্রশ্নহীন কীনা তার প্রমাণও রাখতে হবে তাদেরই। ফ্যাবিয়ানো বাছাই পর্বে একের পর এক গোল করে প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতে গোলখরায় ভুগেছে এই তথ্য মাথায় রেখেই ব্রাজিলের খেলা দেখতে বসা দরকার।
যতোই গোপণীয়তা তৈরী করুক উঃ কোরিয়া কাউন্টার এটাক নির্ভর খেলা খেলবে এটাই অনুমেয়। ব্রাজিল যদি নিজের মতোন খেলতে পারে তাহলে উঃ কোরিয়ার সাথে তাদের ব্যবধান হবে ৩-০ গোলের। তবে প্রথম খেলার নার্ভাসনেসে ব্যবধান একটু কমতেও পারে। তবে নিঃসন্দেহে বলে দেয়া যায় উঃ কোরিয়া আজ হারছে।





আইভরি কোস্ট বনাম পর্তুগাল খেলাতে জমবে ভালো মনে হচ্ছে। কে জিতবে জানিনা, ধারণাও নাই। খুব আশা নিয়ে খেলাটা দেখবো , একটা জমজমাট খেলা দেখবো এমন আশায়।
আর আপনি ব্রাজিলে যে প্রতিভাদের স্থান দিয়েনছেন তাতে দ্বিমত আছে। আপনি কি রোমারিও বা রিভালদো কে প্রতিভান খেলোয়ার মনে করেন না?
এই খেলাতে যে রিজাল্ট দিয়েছের তাতে সহমত। এমন হওয়ার আশা।
জয়তু ব্রাজিল।
রোমারিও'র নাম উল্লেখ করতে আমি ভুলে গিয়েছিলাম। তবে রিভালদোকে আমার ট্যালেন্টেড ফুটবলার মনে হয়, জিনিয়াস নয়।
আমার কাছেও জিনিয়াস মনে হয়না কিন্তু রোনালদোর করা গোল বা সেই সময়ে অধিকাংশ গোল এ সে দাবিদার। মিড ফিল্ডটা ভালো করেই দখল রাখতো সে।
ব্রাজিলের মিডফিল্ডে এখন বিশ্বের ১ নম্বর আর ২ নম্বর খেলোয়াড়, আর আপনে বলেন মিড কতটা কার্যকর??
দেখা যাক, খেলায় কি হয়? আমরা বরং খেলার পরই কথা বলি...
ব্রাজিল দূর্বল তাঞ্জানিয়ার পর এবার আরেক দূর্বল দল উত্তর কোরিয়ার কাছেও একটা করে গোল খেয়েছে ... এদের রক্ষণভাগ কি আত্মতৃপ্তিতে ভুগছে?
ব্রাজিলের রক্ষণভাগ বিশ্বসেরা এটা তাদের খেলা দেখেও মনে হলো। একটা ফাইনাল ট্যাকলও যে সুন্দর হতে পারে সেটা তারা বুঝিয়ে দিয়েছে। কিন্তু মধ্যমাঠের দূর্বলতার জন্য ডিফেন্সকে সবসময় কিছু বাড়তি দায়িত্ব নিতে হয়। গতোকাল উঃ কোরিয়া গোলটি করেছে বামপ্রান্ত দিয়ে। ঐ দিকটা রক্ষণের দায়িত্ব মাইকন আর লুসিও'র। দুজনকেই দেখলাম বেশ খানিকটা উপরে খেলতে। আমি তাঞ্জানিয়ার সাথে প্রস্তুতি ম্যাচটি দেখিনি, তবুও মনে হচ্ছে ঐ খেলাতেও বাম প্রান্ত দিয়েই গোল খেয়েছিলো। গতোকালকের খেলায় জিলবার্তোকে আমার অপ্রয়োজনীয় মনে হয়েছে। এলানোকে স্বাধীন ভাবে খেলার সুযোগ করে দিতেই হয়তো তাকে দাঁড় করিয়ে রাখা কিন্তু সে দায়িত্ব পালন করতে দেখেছি লুসিও-মাইকন কিংবা বাস্তোসকে।
বিশ্লেষনগুলো পড়ে ভাল লাগছে। খুব সুন্দর বিশ্লেষন
খেলাটা অনেক পরিচ্ছন্ন লাগছে। রেফারীর বাঁশির ঝলকানি অনেক কম ছিল।
সব চাইতে মন কাড়ছে উত্তর কোরিয়ার (সম্ভবত:) ৯ নম্বর জার্সিধারী খেলোয়ারটাকে। জাতীয় সংগীতের সময় দেশের প্রতি তার যেই আবেগ... এটা শিক্ষনীয়। আমরা দেশের প্রতি ভালবাসা বৈলা মুখে ফেনা তুলে ফেলি.. কীবোর্ডে ঝড় তুলি কিন্তু জাতীয় সংগীত বাজার সময় অনেক আলসেমি ভেঙ্গে আড়ামোড়া দেই ...
সকাল থেকে অপেক্ষা করছি বিশ্লেষকের ৬ নম্বর পোস্টটির জন্য।
হ্যা, ৬ নমবর আসে না ক্যান? টপ ক্লাস বিশ্লেষণ হচ্ছে।
মন্তব্য করুন