খেলা দেখুন বিশ্বকাপে, ঝড় তুলুন চায়ের কাপে! ৬
চিলি বনাম হন্ডুরাস
প্রথম বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতাসমৃদ্ধ দল চিলির ফুটবল ঐতিহ্য অনেকদিনের। অষ্টমবারের মতো চূড়ান্ত পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জনকারী চিলির সেরা সাফল্য ১৯৬২'র প্রতিযোগিতায় তৃতীয় স্থান প্রাপ্তি। লাতিন আমেরিকার ফুটবল নিয়ে ভাবতে গেলেই যে সৌকর্য্যের কথা মাথায় আসে, চিলিয়ানরা সে বিষয়ে কোন কেয়ার করেনি কোন কালে। তাদের ফুটবল অনেকটাই ইউরোপীয় ঘরানার। এবার তাদের ম্যানেজার একজন আর্জেন্টাইন, ২০০২ সালের ব্যর্থ আর্জেন্টাইন দলের ম্যানেজার ছিলেন তিনি। বিয়েলসার অধীনে চিলির ফুটবল অনেকখানি পাল্টে গেছে। শুরুতে আক্রমণাত্মক খেলায় অভ্যস্ত হয়ে ওঠার ঝামেলায় তারা বেশ কয়েকটি বড় পরাজয় মেনে নিয়েছে। কিন্তু বাছাই পর্বে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে জয় তাদের পুরো আত্মবিশ্বাসের জায়গাটা তৈরী করে দিয়েছে। তরুণ তুর্কীদের দল চিলির নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড়দের গড় বয়স ২৪। উদিনেসের মরিসিও ইসলা আর বোকা জুনিয়র্সের গ্যারি মেডেলে'র বয়স ২২। মধ্যমাঠের খুটি মাতিয়াস ফার্নান্দেজের বয়স ২৪। আক্রমণ ভাগের আলেক্সিজ সাঞ্চেজের বয়স ২১। কিন্তু এদের নিয়েই চিলি দল তৈরী করছে ভবিষ্যতের স্বপ্ন। অন্যদিকে হন্ডুরাস এর আগে ১৯৮২তে চূড়ান্ত পর্বে খেলেছে। সেবার তারা স্বাগতিক স্পেনের সাথে ১-১ গোলে ড্র করেছিলো। কাউন্টার এটাক নির্ভর এ দলটি প্রস্তুতি পর্বে মার্কিন যূক্তরাষ্ট্রকে হারিয়েছে একবার। আক্রমণভাগের নির্ভরতা ডেভিড সুয়াজোর উপর নজর রাখতে পারেন। কিন্তু খেলার ফলাফল চিলির পক্ষে যাওয়ার সম্ভাবনা ৭০ভাগ।
স্পেন বনাম সুইজারল্যান্ড
স্পেন লীগের খবর আমরা সবাই কম বেশি রাখি। বর্তমান বিশ্বের সেরা দুই তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এবং লিওনার্দো মেসি দুজনেই খেলছেন এ লীগে। তাদের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই বিশ্বকাপেও চলবে নিশ্চিত। কিন্তু রোনালদো এবং মেসিকে যেসব খেলোয়াড় চাপমূক্ত রাখে, যারা তাদের মূল পরিচালিকা শক্তি সেই আলোঞ্জো-জাভি-ইনিয়েস্তাদের দলটি এবার অনেকের চোখেই ফেভারিট বিবেচিত হচ্ছে। যদিও স্পেন কখনোই অগুরুত্বপূর্ণ দল হিসাবে বিবেচিত হয়নি। তারপরো তাদের বিশ্বকাপ অভিযানের সেরা সাফল্য চারবার থেমে গেছে চারবার কোয়ার্টার ফাইনালেই। ২০০২'তে তারা স্বাগতিক দঃ কোরিয়ার কাছে হেরে বিদায় নিয়েছিলো। তবে ২০০৮'এর ইউরোপিয়ান কাপ জিতে তারা আবারো বিশ্বকে নতুন করে ভাবনার পথ দেখিয়েছে। এছাড়া দীর্ঘ লীগের পরে প্রস্তুতি পর্ব শুরু করেই তারা মার্কিন যূক্তরাষ্ট্রের কাছে পরাজিত হওয়া ছাড়া বেশ ভালোই ধারাবাহিকতা দেখিয়েছে।
ফুটবলের চোকার বলে খ্যাত স্পেন দলের ম্যানেজার এবার ভিনসেন্ট দেল বস্কের অধীনে তারা আনন্দদায়ক ফুটবল খেলছে ২০০৮ থেকেই। সাথে শিরোপার স্বাদতো যূক্ত হয়েছেই। রিয়াল মাদ্রিদের এই কোচের তারকা ফুটবলারদের নিয়ন্ত্রণে খ্যাতিই আস্থা যোগাচ্ছে এবার। অন্যদিকে সুইজারল্যান্ড এসেছে বাছাই পর্বের সবচাইতে দূর্বল গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হিসাবে। সুইজারল্যান্ডের খেলায় নরডিক প্রভাব রয়েছে। শক্তির দূরন্তপনা যার মূল উৎস। জার্মান কোচ ওটমার হিট্জফেল্ড'এর প্রশিক্ষণে তারা গতো দু'বছর ধরে বেশ চাঙ্গা ফুটবল খেলছে। প্রস্তুতি পর্বে খুব ভালো না খেলা এ দলটির তারকা খেলোয়াড় আলেক্সান্ডার ফ্রেই জাতীয় দলের পক্ষে ৭৪ ম্যাচে করেছেন ৪০ গোল।
এই দু'দলের প্রতিদ্বন্দ্বীতায় স্পেন হয়তো জিতে যাবে। কিন্তু প্রেডিকশান বলছে এ জয় খুব সহজ পথে আসবেনা তারকা খচিত স্পেন দলের জন্য।
দঃ আফ্রিকা বনাম উরুগুয়ে।
উদ্বোধনী খেলায় শাবালালা চমকে দিয়েছেন সারা বিশ্বকে। প্রথম খেলায় গোল করা খেলোয়াড়টি যে দঃ আফ্রিকানদের সবচাইতে জনপ্রিয় খেলোয়াড় সে তথ্যও এখন নতুন করে উদঘাটিত হচ্ছে। প্রথম খেলায় স্টিফেন পিয়েনার তেমন একটা জুতসই দক্ষতা দেখাতে না পারলেও এ খেলায় তিনি ভালো খেলবেন এটা হলফ করে বলে দেয়া যায়। ফর্মে থাকা পেশাদাররা পর পর দু'ম্যাচে খারাপ খেলবেন সেটা হওয়ার কথা না। মোকিনা'ও বেশ ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছিলেন গতো ম্যাচে।
অন্যদিকে গতো খেলায় উরুগুয়ে রক্ষণাত্মক কৌশলে ফ্রান্সের সাথে বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছিলো। ফোরলান ম্যাজিক ঘনঘন না দেখা গেলেও তার কয়েকটা ম্যুভমেন্টেই তিনি জাত চিনিয়ে দিয়েছেন। তবে দঃ আফ্রিকা মেক্সিকো ম্যাচটি যে অবস্থানে ছেড়ে এসেছে সে জায়গা থেকে যদি তারা আজকের খেলা শুরু করতে পারে তাহলে তাদের জয় অবশ্যম্ভাবী। যদিও এ খেলাটি ড্র হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে।





চিলি মনে হয় জিতেই যাচ্ছে। পরেরটায় স্পেন। তারপরেরটা নিয়া একটু চিন্তিত। আমি সাউথ আফ্রিকার পক্ষে
চমৎকার বিশ্লেষন
অঘটন তাহলে ঘটছে। স্পেন হারবে? রায়হান ভাই কুথায়?
প্রেডিকশানের শেষ এই বাক্যে আমি একটা ইঙ্গিত দিয়েছিলাম। অবশ্য্ এই খেলার আগে সুইজারল্যান্ড জিতে যাবে সরাসরি এ ধরনের বাক্য উচ্চারণটাও ধৃষ্টতা হোতো।
জাভি-ইনিয়েস্তা কিংবা আলোন্সো বল বাড়িয়ে দিলে গোল করে মেসি অথবা রোনালদো। বিশ্লেষণের মুহুর্তে আমি ঐ জায়গাটাতে ভিয়া এবং তোরেস ছাড়া কাউকে দেখছিলাম না, যাদের মান অবশ্যই আল্টিমেট নয়। যাদের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায়। আর সুইজারল্যান্ডের নেতিবাচক ফুটবল নিয়ে আমার ধারণা ছিলো। যে ধরনের ফুটবলে তাদের বেশ দখল রয়েছে। ডি বক্সে জমাট বেধে দাঁড়িয়ে থেকে শুটারের ভিশন নষ্ট করতে তারা বেশ দক্ষ।
তবে এবারের বিশ্বকাপে প্রথম অঘটন হিসাবেই চিহ্নিত হবে সুইজারল্যান্ডের জয়।
মন্তব্য করা হয় না। কিন্তু পড়া হয় সবগুলোই। আপনার বিশ্লেষণের মুগ্ধ পাঠক হয়ে গেছি আগেই। এত নিখুঁত বিশ্লেষণ অন্য কোথাও পাই নি।
বিশ্লেষক নামকরন সার্থক হলো এতোদিনে
মন্তব্য করুন