পুরানো সেই দিনের কথা-২
চারদিকে খালি খারাপ খবর।আর ভালো লাগতেছে না। আজ সকালে শুনলাম ঢাকা তে অনেক বৃষ্টি হয়ছে। একটা পুরান দিনের কথা মনে পড়ে গেল……।।তাই লিখতে বসলাম।
ঢাকা গেছি চাকরী খুজতে। মাস দুয়েক পরে পেয়েও গেলাম কিন্তু সেটা গাজীপুর-টাঙ্গাইল এর সীমান্তে।ফ্যাক্টরীর গাড়ীতে করে নিয়ে যায় আর দিয়ে যায় কিন্তু সকাল হওয়ার আগে বের হতে হয় আর রাতে ফিরতে হয়।রুমে এসে খালি ঘুম ছাড়া আর কিছু হয় না।তাই ভাবলাম ফ্যাক্টরী কাছে হয় এমন কোথাও বাসা নিতে হবে।ওই সময় ইউনি এর অষ্ট পাথরের তিন পাথরের চাকরী কপাল গুনে এক দিকে হইয়ে গেল।সবাই মিলে ঠিক করলাম তাইলে টংগীতে বাসা নেই।সেই মোতাবেক টংগী কলেজ গেইট বাসা খুজা আরম্ভ করলাম।কিন্তু কোন বাড়ীওয়ালার মন গলাতে পারি না কয় ব্যচেলর ভাড়া দেই না।প্রতিদিন অফিস থেকে টংগী আসি আর বাসা খুজি কিন্তু বাসা খুজে পাই না।একদিন আমার দোস্ত এক বাড়ীওয়ালরে বলেই দিলো আংকেল মেয়ের বিয়ে কি ব্যাচেলরের সাথে দিবেন না কোন বিবাহিত এর সাথে দিবেন…ব্যাটা পারলে ধরে গনধোলাই দেয় আরেকটু হলে।।
একদিন এক বাসাতে দেখি টু-লেট ঝুলছে।৫ তলা বাসা জটিল ভাব সাব।।আমরা দুইদিন ওই বাড়ির সামনে দিয়া গেছি কিন্তু সাহস হয় নাই ভিতরে ঢুকার। সেদিন দোস্তের পীড়াপিড়ীতে গেলাম।দারোয়ানরে কয়তে কয় ব্যচেলর দিবো না। আমরা দারোয়ানরে কইলাম বাসার মালিক কে ডাকেন আমরা উনার সাথে কথা বলি।
বাড়িওয়ালা আসলেন বয়স বেশি না ৩৫-৩৮ হবে, স্মার্ট ভদ্রলোক।কোন বায়িং হাউজের বড় পোস্টে চাকরী করেন। আমরা বললাম বাসা ভাড়া নিতে চাই উনি বলেন ব্যাচেলর দিবো না আমার বাসাতে প্রবলেম হবে আব্বা-আম্মা রাজ়ি হবেন না।আমরা অনেক কাকুতি মিনতি করার পর উনি বাসার ভিতরে গেলেন রুদ্ধদার সভা করতে।ফিরে এসে জানালেন বাসা ভাড়া দিতে পারি কিন্তু কিছু শর্ত মানতে হবে।আমরা বললাম রাজ়ি।
শর্ত গুলা হছেঃ
১। বাসায় কোন মেয়ে আস্তে পারবে না
২। সিড়ি দিয়ে উঠার সময় গান গাওয়া যাবে না
৩। ছুটিরদিনে বন্ধুবান্ধব এনে তাস খেলা যাবেনা
৪। বাড়িঘর ঝকঝকে তকতকে রাখতে হবে।
আমরা বললাম সবতাতে রাজ়ি পারলে ষ্ট্যাম্পে লিখে দিতে রাজি।কিন্তু ভাড়ার বেলায় উনি যেটা বললেন সেটা দারোয়ান এর চাইতে এক হাজার বেশি।আমরা তাতেও রাজি।
বাসায় উঠলাম পরের দিন বাড়িওয়ালার স্ত্রী মা এবং বাবা আসলেন আর টাশকি খেলেন কারন আমাদের কোন আসবাবপত্র নাই বলে।বলে তোমাদের খাট-পালংক নাই কেন?আমরা কইলাম এবার কিনবো।
এভাবে দিন যায় আর আমাদের কইয়েকদিন পর পর এসে বলে যায় আসবাব কেনার কথা।আমরা বলি কিনবো আর আরাম করে ফ্লোরিং করি।আসবাব বলতে লেপ-তোষক কাথা বালিশ বইপুস্তক আর কিছু হাড়ি পাতিল এমনকি একটা আলনাও নাই।
২০০৮ এর জুন মাসের দিকে আমার ও আমার দোস্তের দুইজনের বি-শীফট সকালে নাস্তা
খেয়ে দুইজন আরেক পাক ঘুম দিছি হঠাৎ ঘুমের মধ্যে কেমন জানি ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা লাগে উঠে দেখি রুম ভর্তি পানি কারন বাইরে প্রচণ্ড বৃষ্টি হচ্ছে আর সেই বৃষ্টির পানি রুমের মধ্যে আসছে আর ছাদের সব পানি নিচে না যেতে পেরে আমাদের রুমের ভিতর ঢুকছে কারন পাচতলা বাসার এক ফ্ল্যাটে আমরা থাকতাম আরেক সাইড ফাকা ছিলো।
হুড়মুড় করে উঠলাম কিন্তু সব ভিজে গেছে।তোষক কাথা সব ভিজে চুপ্সে গেছে বইপত্র গুলা পানিতে ভাসতেছে।সে এক অন্যরকম অবস্থা।কি করি কোন বুদ্ধি পাই না কি করবো?বালিশ আর কাথা গুলো রান্না ঘরের সানসেটে রাখলাম আর দুই বন্ধু মিলে রুমের পানি বের করতে লাগলাম…………।
বাড়িওয়ালা এসে আবার ঝাড়ি দিলেন খাট কিনেন ভাই।আর টাকা না থাকলে বলেন আমি কিনে দেই আপনারা মাসে মাসে শোধ করে দিয়েন……





বাড়িওয়ালা খাট কিনে দিছিলো কি না , সেটাতো জানালেন না
সেই খাট কেনার আরেক ইতিহাস।একবার অটবিতে ছাড় দিছে পানির দামে সব বিক্রি করতেছে।আমি বাসায় গেছি দোস্ত ফোন দিয়ে কয় আমি খাট কিনতেছি তুই কিনবি? আমি কইলাম তাইলে দুইটা কিন।
সে মহা আনন্দে দুইটা ডাবল খাট কিনছে ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে কিন্তু বাসায় এসে দেখে দুই খাট সেট হয় না এক রুমে.।.।।
কি করা অটবির লোকজনের হাতে পায়ে ধরে খাট ফেরত দিয়ে সিঙ্গেল একটা কিনলাম শেষে চুক্তি হলো যে আগে ডাবল হবে সে নিবে সিঙ্গেলটা.।।কারন যার ডাবল হওয়ার ক্ষমতা আছে তার আরেকটা খাট কেনারো ক্ষমতা আছে.।।।
দোস্তটার কপালে সিঙ্গেলটা জুটছিলো আগে ডাবল হওয়ার কারনে।।
উত্তরায় ছয়তলা এক বিল্ডিংয়ের ছাদে একবার আস্তানা গেঁড়েছিলাম। ছাদে একপাশে এক রুম তৈরী করেছিলো বাড়িওয়ালা। ব্যচেলর ভাড়া না পাইতে না পাইতেই ওইটা পেয়ে যাই। উখাল-পাতাল বাতাস। রাতে ছাদে ইজিচেয়ার পেতে আমরা দুই বন্ধু। দীর্ঘসময় কাটিয়েছি। প্রচুর শর্ত ছিলো, তবে সেসবে আমাদের আপত্তি ছিলো না কোন।
খাওয়া-দাওয়া-ঘুমানো-মুভি দেখা-গেম খেলা এরকম কিছু সিরিয়াস কাজ সে সময় মনোযোগ দিয়ে করা হয়েছে। যা এখন আর হয় না। তাই মনে পড়ে গেল।
একবারে ঠিক কইছেন.।.।এইধরনের বাসা গুলোতে মজাই আলাদা.।।।
ব্যাচেলর লাইফটা মিসাই
মজা পাইলাম
পুরোনো দিনের কথা ভালো লাগলো। নতুন দিনের কথাও কিছু শোনাও আমাদের
নতুন দিনের কথা পুরান হোক।তারপর শুনামু।
বিঃদ্রঃ মামুন ভাই, আজ তুমি করে লিখলেন যে?সেদিনের তুই তো ভালো ছিল।
পুরোনো দিনের দুর্দশার কাহিনী ভালু লাগছে। এবার মামুন ভাই এর সাথে একমত হয়ে বলি, নতুন দিনের কথাও শোনান।
পুরোনো দিনের দুর্দশা হইবো ক্যান????ওইটা ছিলো জীবনের সেরা সময়.।
আর আবারো বলি নতুন দিনের কথা পুরান হোক তারপর কমু.।।।
ব্যাচেলরদের বাসা ভাড়া করা...... খেক খেক..... কত্ত কাহিনী...... বাড়ীওয়ালা রাজী হৈলেও বাড়ীর ভেতর থেকে চুড়ীর রিনিঝিনি শব্দ শোনা যাইত, সেইটা শুনে বাড়ীওয়ালা যাইতো ভেতরে, এরপর ঐ যেই মুখে রাজী হৈছিলো, সে মুখেই কৈতো কালকে জানাবো..... কিসের যে ভয় পাইতো কে যানে.......।
ব্যাচেলর বাসা ভাড়া পাওয়া এক বিরাট ঝামেলার .... বিশেষ করে ঢাকা শহরে... বাসায় ব্যাসেলর মেয়ে আছিল নাহ?
khub sundor lekha.bhalo laglo.
রাসেল আশরাফ, আপনার লেখা পড়ে আমারও অনেক কিছু মনে পড়ে যায়
ভালো লাগলো
মন্তব্য করুন