প্রবাসী ছাত্র ডায়েরি - ২য় পর্ব
দিল্লী থেকে বিমান বদলানো হবে। দেড় ঘন্টার ব্রেক। নেমে ভিতরে ঢুকছি, এয়ার পোর্ট কর্তৃপক্ষ বলল যারা ছাত্র আছে তারা যাতে হাতে ভিসা লেটার নিয়ে দাঁড়ায়। আমার মেজাজ খিচড়ে গেল। আরে বেটা আমি খালি এইখানে চেঞ্জ করতেছি তোদের কেন আমার ভিসা লেটার দেখানো লাগবে। সেটা হাতে নিয়ে দাড়ালাম তাও। লাইন ধরে এগিয়ে গেলাম। কাগজ দেখছিলো। পাশের লাইনে দাঁড়ানো এক সিলেটি ছেলে আজাইরা সব প্রশ্ন করছিলো। আমিও তাকে বাংলায় বুঝানোর চেষ্টা করছিলাম। পাশে দাঁড়ানো ছেলেটা কিছু বোঝার আগেই তাকে বলল তার ভিসা লেটার দেখাতে। সে বলে “ ওয়ান লাগেজ, ওয়ান হ্যান্ড ব্যাগ” । মেজাজ চ্রম খ্রাপ হলো। তাকে বললাম “ মিয়া ইংরেজী বুঝেন না বাল? ভিসা লেটার চায়।“ আমার কাগজ হাতে লোকটা হঠাৎ করে আমাকে জিজ্ঞেস করলো তোমার IELTS আছে? কিছুক্ষন সিলেটি ছেলেটার দিকে রাগ নিয়ে তাকিয়ে রইলাম, যে এই কিসিমের মানুষ গুলা ক্যান ছাত্র ভিসায় বাইরে যাচ্ছে, ক্যানইবা আমাদের টুটাফাটা ইমেজকে হেয় করছে।“ আমি তার দিকে তাকিয়ে বললাম, “firstly, though you have no authority to check my visa letter but i’m, showing you that, and you don’t have any authority to ask me about my english qualification, however, I’ve 7 in IELTS, do u wan to see it?” লোকটা আমার দিকে তাকিয়ে রইল। বলল না যাও। কাগজ নিয়ে চলে এলাম। মনে মনে ইন্ডিয়ানদের গাল বকতে বকতে। ফ্রি কফি ছিলো লাউঞ্জ থেকে কফি নিয়ে ভাবলাম চেকিং এর কাজ সেরে ফেলি। কারন আর ১৫ মিনিটের মাঝে এমনিতেও যেতে হবে। গিয়ে লাইনে দাড়ালাম।
এখানে বলে রাখি আমার হিন্দি ভাষায় দখল খুবই ভালো। একবার বলার পরে আমার এক ইন্ডিয়ার ফ্রেন্ড শুনে বলেছিলো “ তু হিন্দিকো এসে রেপ না কারনা” সামনে দাঁড়ানো পুলিশের লোকটা যখন হিন্দিতে কিছু বলল আমি প্রথমে ভাবলাম তাকে ভদ্র ভাবে বলি দেখ মামা আমি হিন্দি পারি না আমার লগে ইংরেজী মাতো। কিন্তু পর মুহুর্তে মনে পড়ল এরা আমাকে জিজ্ঞেস করেছে IELTS আছে কিনা আমি কেন ছাড়বো। আমি তাকে সরাসরি বললাম “ Look man I don’t understand hindi at all please speak in english or I shall go to some other line.... this is ridiculous that you speaking in hindi with a foreigner in an international airport.” এরপর সে ভাঙ্গা ইংরেজীতে যা বলল তার মর্ম এই যে “ তোমার কাধের ব্যাগ স্ক্যান করাও।“ দিয়ে এলাম। শুরু হলো হ্যারাসমেন্ট । খুব অপমান হয়েছিলো হয়ত। হয়ত ভাবতেই পারেনি বাংলাদেশ নামের গরীবখানায় এমন কেউ আছে যে হিন্দি জানে না আর এমন ভাবে বলছে। আমার বেল্ট হেভী বাকল ছিলো। বলল বেল্ট খোল। খুললাম। বলে স্ক্যানারে দিয়ে আস। আসলাম। বলে মানিব্যাগ বের কর। করলাম। সেটারও উপরে মেটাল ফ্রেম। বলল “ স্ক্যানারে দাও।“ দিয়ে এলাম। সেটা আসার পরে সে মানিব্যাগ খোলা শুরু করল। মেজাজ হলো চরম খারাপ। আমি তাকে বললাম “ excuse me, now you are getting persona, you can’t open my wallet. If you don't leave it now I’ll sue against you for unauthorized harassment. And for your kind information I’m law student don’t tell me that law gave you the permission to open my wallet.” আমার গলা হয়ত বেশ উঠে গিয়েছিলো। একটু দূরে থাকা একজন সিনিয়র অফিসার এগিয়ে এলেন । জিজ্ঞেস করলেন কি হয়েছে। আমি বললাম এ আমার মানিব্যাগ খুলছে। সে কিছু একটা বলল হিন্দিতে ওই বেটাকে। ব্যাটা এরপরে পড়ল আমার সোল্ডার ব্যাগ নিয়ে। আমার ল্যাপটপের ভেতর পারলে বোমা খুজে বের করে। এরপরে সে আমার সিডি ব্যাগ নিয়ে পড়ল, বলে এটা নিয়ে যেতে পারবা না। বললাম কেন। বলে সিকিউরিটি রিজন। বললাম আমার দেশে আমাকে কিছু বলল না আর আমি তোমার দেশের কি সিকিউরিটি ব্রিচ করছি। সে তখন সেই সিনিয়র অফিসারকে আমার সিডি ব্যাগ দেখালো। আমি তাকে বললাম “ দেখ এইটাই আমার জরুরী অনেক নোটস, ডকুমেন্টস, ল্যাপটপের সিডি ইত্যাদি আছে। এটা কি করে সিকিউরিটি ব্রীচ করে। “ সে বলল “ নো নো ইউ ক্যান টেক ইট।“ বেটার মুখ কালো হয়ে গেলো। সব নিয়ে হাটা দিলাম। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি আধঘন্টা লাগিয়েছে শালারা আমার।





শাব্বাস !!! এই না হইলে তুই আমার ভাই। তুই এমন না কইলে তোর উপর আমি শ্রদ্ধা হারাইতাম।
চলুক । কিন্তু এত দেরী করে করে কেনরে ভাই ?
হা হা হাহাহাহহা..........................
ভালো লাগছে ফিল প্রাউড ফর U.
আহেম দুস্ত ধইন্যা। ইন্ডুয়ান হালারা খ্রাপ। চ্রম খ্রাপ
মেজাজ বেদম বিলা ছিলো। তয় হালারা আরো কাহিনী করতারতো। করে নাই । মন চাইতাছিলো আরো কিছু কই। কিন্তু ঝামেলায় যাইতে চাই নাই। তয় নিয়ত কচ্ছি জীবনে আর ইন্ডিয়া হৈয়া যামু না। হালারা খারাপ।
দেরীর লাইগ্যা স্যরি আছি। সময় হৈতছিল না লেখতে বসার ।
এয়ারপোর্ট হ্যারাসমেন্টের কাহিনী ভাল্লাগতেছে!!
আপ্নে ইতো খ্রাপ!!!!!!!!
হেঃহেঃহেঃ এরেই কয় সূর্য্যের চেয়ে বালি গরম, ট্রানজিটে এই চেকিং হইলে ইন্ডিয়া পড়তে গেলে কিরাম হৈতারতো।
)
কাহিনী মজা পাইতেছি (হয়রানীতে না কইলাম
চলুক ...........................
ভাই আর কৈয়েন না। হিথ্রোতে নামার পরের কাহিনী কওয়ার পরে কম্পেয়ার কৈরেন।
পরের পর্ব দোস্তু তাড়তাড়ি দিও..........
দিম দোস্ত
শাবাশ রে জাবির। এই না হইলে বিডি টাইগার!!!
লেখার জন্য তোমারে ঝাজা!!
পরের পর্ব ছাড় জলদি।
উফ আপু আর বৈল না বাংলাদেশ দেইখা এরা যে কি মনে করে!!!!!!!!!!!!!!!!!!!! মন্টায় চাইছিলো থাবড়াইতে।
শাবাশ :)
এই না হৈলে জাবির ...
পড়তাছি :) ... লিখে যাও ...
ভাল থাইকো আর পড়াশুনার উর্পে থাইকো
দোয়া রাইক্ষেন আর পড়া লেখা ঠিক মত করার চেষ্টায় থাকপো।
জিয়া থেইকা দিল্লী যাইতে এক মাস লাগ্লো?!
কিস্যু করার নাই ২ ফুট জায়গা আগাইতে যদি আধাঘন্টা লাগে তাইলে এতো হাজার মাইল আইতে কি ১ মাসা লাগা অস্বাভাবিক?
খুব ভালো বলেছেন। দেশের কিছু লোকজনকে ভারতীয় অথবা পাকিস্তানী (এমনকি সম্প্রতি প্রবাসে আসা মিডল ইস্টার্ন) দেখলেই তার সাথে হিন্দিতে কথা বলার জন্য অতিউৎসাহী হয়ে হামলে পড়তে দেখি। চরম বিশ্রী লাগে।
উফ আর বলবেন না এদের কথা। এদের কথা মনে পড়লেও মেজাজ খ্রাপ হয়। আর পাকি বা ইন্ডিয়ানগুলাও মনে করে উর্দু বা হিন্দি সবাই জানে। আমার বাড়ীওয়ালা পাকি। সে আসলে বাসার অনেকেই হিন্দি বা উর্দুর চেষ্টা করে। আমি তাকে প্রথম দিনই বলে দিয়েছি আমি হিন্দি উর্দু একদম পারি না।এমনকি বুঝিও না। তাই ইংরেজীতে কথা বলতে। আমার সাথে ঠিকই ইংরেজী বলে।
কিসু খাস গালি দিয়া আইতেন দাদগোরে...ভালা হইতো তাইলে...
দিতে চাইছিলাম। নিয়ত আছে পড়া লেখা শেষ কৈরা ফিরার সময় দিল্লি হৈয়া আসুম। তখন ওগো আমি দৌড়ানি দিম।
এইডা পুতিবেশী দেইখ্যা ঝারছেন বুজলাম, লন্ডনে কি করেন দেখার অপেক্ষায় আছি। এত দেরী করলে কিন্তু পরেরটাই মাইনাচ দিমু।
১ম কথা, ইংরেজরা জাতিগত ভাবে আমাদের থেকে ভদ্র। ২য় কথা, সাবকন্টিনেন্টালরা খুবই আনকালচারড। বিশেষ করে ইন্ডিয়ানরা বাংলাদেশীদের দেখলে যা করে। ৩য় কথা এইদেশে ল' এন্ড অর্ডার অনেক স্ট্রং। এমনকি পুলিশ আপনারে এরেস্টের সময়ও পোলাইটলি স্যার সম্বোধন করবে। লন্ডনের অভিজ্ঞতা আসবে পরে। আপাতত নিউইয়ার নিয়া পোস্টাইছি।
দেরীতে পোস্ট দেয়ায়, দেরীতে পড়লাম (দেরীতে পড়ার ভালো একখান অজুহাত পাইলাম)। পড়ের পোস্ট দেরীতে দিলে মাইনাচ।
েইবার কি অজুহাত দ্যান দেখার অপেক্ষায় আসি । হিহিহি
অধঃস্তন লোকেরা সব সময় উর্ধতনদের ধমক খাইতে খাইতে কাউরে পাওয়া মাত্র এটার উসুল করার জন্য ব্যতিব্যস্ত হয়ে পরে।
লেখা ভালো লাগছে।
সেটা সব দেশের জন্যেই ঠিক। তবে ইন্ডিয়ানরা বাংলাদেশী দেখলে নাকি একটু বেশিই করে। আমার আরো কিছু বন্ধুর অভিজ্ঞতা শুনে তাই মনে হলো।
মন্তব্য করুন