ইউজার লগইন

প্রবাসী ছাত্রডায়েরী - ৩য় পর্ব (নিউ ইয়ার স্পেশাল)

দেশে থাকতে বন্ধুদের কাছে ওয়েস্টমিনিস্টারে নববর্ষ উদযাপন, ফায়ারওয়ার্ক, ইত্যাদি নিয়ে অনেক কথা, গল্প শুনেছি। নিজেরও ইচ্ছে ছিলো দেখার। তাই ডিসেম্বরের শুরু থেকেই প্ল্যান করছিলাম ওয়েস্টমিনিস্টার যাওয়ার। প্ল্যান হচ্ছিলো লম্বা সময় নিয়েই। জন্মদিন রাতে ছোট ভাই হিমেল জানালো ও আর ওর বন্ধু ফাহিম আসবে আমাদের সাথে নববর্ষ উদযাপন করতে।

সে যাক আজকে শুধুই ৩১ তারিখ রাত নিয়ে কথা হবে। যা মনে আছে।

দুপুরেই ঘর থেকে হিমেল ফাহিম সুজন আর নোমান বের হয়ে গেল। ফাহিম এর গার্লফ্রেন্ড আসছে সেন্ট্রালে। তাকে নিয়ে ওরা ঘুরবে আমি, জামি, মাহফুজ, মিশু, রুশো পরে জয়েন করবো। মিশু ৭ টায় ফোন দিল কখন বের হবো জানার জন্যে। ওকে বললাম ৯ টার দিকে। এদিকে মাহফুজের পরীক্ষা ৫ তারিখ থেকে মাহফুজ তাই গ্রুপ স্টাডি করতে গিয়েছে। ৯টা বাজে তাও ওর আসার নাম নেই। মিশু এসে বার বার ফোন দিচ্ছে মিশুকে আনতে গেলাম স্টেশনে। তখনি কাওছারের ফোন (ব্লগার কাওছার)। ওকে জানালাম কিছুক্ষনের মাঝে রওনা দিবো। ও জানালো ও টোট্যেনহ্যাম স্টেশনে অপেক্ষা করছে ধোয়ার অপরিমেয় সাপ্লাই হাতে আমি গিয়ে যাতে ওকে ফোন দেই।

সারাদিনে কিছু খাইনি আলস্যজনিত কারনে। মাহফুজের দেরী হচ্ছে মেজাজ চড়ছে। ওকে ফোন দিলাম। ওর মনেই ছিলো না যে সেট্রালে যাবো ও বলল ও রওনা দিচ্ছে আমরা যাতে বের হই। সাথে সাথেই খালি পেটে বের হলাম। অফলাইসেন্স দোকান থেকে একটা ভ্যাট ৬৯ আর দুই লিটার কোক নিলাম। সাথে দেখি বাসার ছোটভাই রিমন। সেও আমাদের সাথে যাবে। বললাম চল।

ট্রেন ধরে চলে গেলাম মাইল এন্ড। সেখান থেকে ডিস্ট্রিক্ট লাইন নিতে হবে। মাহফুজ ও চলে এসেছে পড়া শেষ এরমাঝে। ট্রেন আসা মাত্র ঝাপিয়ে পড়োলাম। অসম্ভব রকমের ভীড় হয়। কোনমতে ঠেলা ঠেলি করে উঠলাম। বহু কষ্টে দাঁড়িয়ে রইলাম। টেম্পলে যাওয়ার পরে ড্রাইভার এনাউন্স করলো " এমবার্কেমেন্ট স্টেশন মানুষের চাপের জন্যে বন্ধ আছে। যাতে এইখানেই চেঞ্জ করি। নামার সাথে সাথেই মাহফুজ বলল দোস্ত এরা তো মিছা কথা কয় অনেক সময় ট্রেন থেকে লোক নামাইতে প্রেশার বেশি হয়া গেলে। সাথে সাথে দৌড় দিলাম। ট্রেনের দরজা প্রায় বন্ধ এমন সময় পা ভরে দিলাম। আবার খুলে গেল। লাফিয়ে উঠে গেলাম। এরপরে এম্বার্ক্মেন্ট নেমে মাথা পুরা নষ্ট। এতো লোক!!!! এতো শোলাকিয়ার জামাতের মত অবস্থা!!!! বেচারারা মানুষের ঢল সামলানোর জন্যে ইমার্জেন্সী এক্সিট খুলে দিয়েছে। সেই ঢেউয়ে নাচতে নাচতে বের হলাম। মানুষ আর মানুষ। সবাই আনন্দে উদ্বেলিত। নাচতে গাইছে পান করছে ধোয়া নিচ্ছে ছবি তুলছে। জাতি ধর্ম বর্ন কোন বাধাই মনে হলো না। খিচুড়ি অবস্থা। কে বাংলাদেশী, কে ইন্ডিয়ান, কে পোলিশ, কে ইংলিশ বঝার উপায় নেই। সবাই হৈ হুল্লোড় করে চলছে। কাউকে যদি সে আনন্দ না ছোয় তবে সে গন্ডারের অধম যে আশে পাশে এতো মানুষের আনন্দ সে বুঝলো না, নাইলে অসম্ভব ইগোম্যানিয়াক। সে যাক। হাটা শুরু করলাম ল্যাম্বেথ রোড ব্রীজের দিকে। গিয়ে দেখি বন্ধ হয়ে গেছে। এরপরে দৌড় শুরু করে কোন মতে সময়ের আগেই জায়গা করে নিলাম। ঠিক ২০ সেকেন্ড আছে ঘড়িতে তখন। ঠিক যখন ৯ সেকেন্ডে কাউন্ট শুরু হলো ৯ - ৮ - ৭ - ৬ - ৫ - ৪ - ৩ - ২ - ১ সবার সাথে চিৎকার করে গলা মিলালাম। ঠিক বারোটায় ঘড়ির ঢং ঢং আর ফায়ারওয়ার্ক এক সাথেই শুরু হলো।

৮ মিনিট মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে দেখলাম সেই অপরূপ খেলা। টিভি সিনেমায় দেখে যা লাগে তার থেকে হাজার গুনে সুন্দর। সময় কোন দিক দিয়ে দৌড়ে গেল টেরই পাইনি। শেষ হওয়া পর্যন্ত চোখে রেশ লেগে ছিলো। বন্ধু মিশু আর মাহফুজ বলল এইবারেরটা নাকি অনেক কম করেছে। আমি পরে পড়েছি এবার অন্যান্য বারের তুলনায় ২০% কম সময় বাজী পোড়ানো চলেছে এতে করে ৭৫০০০ পাউন্ড কম খরচ হলেও সর্বমোট খরচ ১.৬ মিলিয়ন পাউন্ড।

আইন কানুনের দিক দিয়ে লন্ডনে অনেক কড়াকড়ি থাকলেও এই দিনে শিথিল থাকে। অন্যান্য সময় পাবলিক প্লেসে মদ খাওয়া নিষেধ থাকলেও এই দিন কোন বাধা নেই। পুলিশ গ্রেফতার না করে উঠিয়ে বাসায় পাঠায়। রাস্তায় ফিরতে ফিরতে এমন অনেক ঘটনাই দেখেছি। পুলিশের সাথে ছবি তুলেছি। মজা করেছি। বেশ কিছু মাতালকে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখেছি। এক মাতাল এক মহিলা পুলিশকে বলছে "yo sexy come lets dance" পুলিশ শুনে হাসছে মজা করছে। বেশ বন্ধুত্বপূর্ণ ভাব। মাহফুজ বলল মামা আইজকা রাইতের লাইগ্যাই কাইল করুক না খালি নগদে ভিত্তে।

মোটামুটি এইছিলো আমাদের নববর্ষ উদযাপন। আরো অনেক বর্নাঢ্য অনুষ্ঠান ছিলো কিন্তু নেহায়েত নিজেদের। সেইসব পরে হবেক্ষন।

আপনাদের জন্যে পুরা ফায়ারওয়ার্কের একটা ভিডু দিলাম।

পোস্টটি ১১ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

বিষাক্ত মানুষ's picture


:) জুশ

পদ্মলোচন's picture


হে হে হে

টুটুল's picture


আমাগো দেশটা ম্যালা গরিপ :( ... আমাগো অনেক কিছু নাই ... তবে আমাদের জঙ্গি আছে... রাজাকার আছে জামাত শিবির আছে..

জাবির... দেইখোতো এইগুলারে এক্সপোর্ট করা যায় কিনা? লগে রাজনীতিবিদ ফ্রি

পদ্মলোচন's picture


মামা আমাগো অনেক কিছুই নাই ঠিক। তয় যা আছে তা এগো নাই ।

আর ওগোরে এক্সপোর্ট করা যাইতো না ওগোরে এক্সপোর্টের একটাই জায়গা আছে আমাজন জঙ্গল

নুশেরা's picture


বাহ্ সুন্দর!

মেলবোর্নে দুইবার হয় ফায়ারওয়ার্কস, সূর্যাস্তের পরপর রাত ৯টায় এইবার আর যথারীতি রাত বারোটায় আরেকবার। এবার খুব বাতাস ছিলো, পৌনে ৯টার দিক থেকে শুরু হলো বৃষ্টি। অনেকক্ষণ দেরী করে অবশেষে শুরু হলো, কিন্তু আতসবাজিগুলো না তেমন আওয়াজ করলো, না সেভাবে আলো দিলো। পোতানো অবস্থা একেবারে!

টুটুল's picture


শাতিল কৈল এইবার বলে ঝড় বৃষ্টিতে ধরা?

নুশেরা's picture


ধরা মানে মহা ধরা। আমি পুরানকালের খালাম্মা কিসিমের মানুষ, বাইরে যাইতে হইলে ছাতা-ব্যাগ-পানি না নিলে শান্তি লাগেনা, জামাই দ্যায় ঝাড়ি, আবার এইগুলি থুই... এইবার ট্রামে চড়ায়া নিছে আমগোরে (সাজুগুজু তরুণীতে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ভর্তি, তার উপর গরমকাল Foot in mouth)... বাজিবুজি কিছুই জুইতের হইলো না... উল্টা তিনজনে ভিজ্যা শ্যাষ...

টুটুল's picture


শাতিলের কামলা ছিল :) ... তাই বেচারারে দেখলাম মহা খুশি :)

এক্টা পোস্ট দেন ... আপ্নার চোখে মেলবোর্নের নিউইয়ার দেখি

পদ্মলোচন's picture


এইবার ট্রামে চড়ায়া নিছে আমগোরে (সাজুগুজু তরুণীতে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ভর্তি, তার উপর গরমকাল

আম্মো মেল্বোর্ন যাইতে ছাই

১০

পদ্মলোচন's picture


হি হি হি হিংসিত হন

১১

সাঈদ's picture


বাহ দারুন কাটাইলি ৩১শে । ব্রাভো। ব্রাভো।

আমরার ১লা বৈশাখ আসুক , আমরাও মজা করুম ।

১২

টুটুল's picture


সহমত সাঈদ ভাইয়ের লগে :)

১৩

পদ্মলোচন's picture


কত দিন পরেযে আবার ১লা বৈশাখ উদযাপন করুম কে জানে? :( মন খ্রাপ করানির লাইগ্যা মাইয়াচ

১৪

সোহেল কাজী's picture


মুনইলো প্রতিটি উত্তেজনাময় মুহুর্ত সাথেই ছিলাম। দারুঞ্জ মজা লৈছেন বুঝাযায়।
VAT69 কিনলেন মাগার শরীক্তো পাইলাম্নারে কুদ্দুস Frown
এই পর্বটার কি আরো এক্সটেন্সন আছে s

১৫

পদ্মলোচন's picture


এই পর্বের কুনো এক্সটেনসন নাইক্যা। তয় vat69 এবং jack daniels, Smirnoff, teachers ইত্যাদির কি হাল হৈছে জানতে হইলে খোমা কিতাব চেকাইয়েন

১৬

নীড় সন্ধানী's picture


মহাদারুন আগুনকর্ম, ফাটাইয়া দিছে। আমাদের পহেলা বৈশাখে আমরাও পটকা আর তারাবাত্তি ফুটামু Cool

১৭

পদ্মলোচন's picture


আপনেরেও সাঈদ ভাইয়ের লাহান মাইনাচ

১৮

নজরুল ইসলাম's picture


১৫ ডিসেম্বর রাতে টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের সামনে ফায়ার ওয়ার্ক্স হলো। একেবারে ছাত্রদের চাঁদার টাকায়। সঙ্গে ফানুস ওড়ানো।
হয়তো ইউরোপ আমেরিকার কাছে এটা কিছুই না। কিন্তু আমার কাছে খুব দারুণ লেগেছিলো...

১৯

পদ্মলোচন's picture


ভাই দেশের জিনিস দেশেরই তার মজাই আলাদা। রাজু চত্বরে ফানুস উড়ানো আর বাজী পোড়ানো যেই রকম অনুভব হবে সেটা এইখানে কোন ভাবেই সম্ভব না

২০

তানবীরা's picture


আমিও ফায়ারওয়ার্ক দেখতে দেখতে ভাবছিলাম এটা নিয়ে কিছু লিখবো। এক ঘন্টায় কতো পয়সা নষ্ট। কিন্তু ফায়াকওয়ার্ক দেখে ঠান্ডা লেগে গেলো আর কিছু লেখা হলো না।

নববর্ষের শুভেচ্ছা

২১

পদ্মলোচন's picture


আসলেই। এদের নিছক বিনোদন আমার দেশের জন্যে অনেক কিছু। বারবার সেই পন্ডিত মশাইয়ের গল্প মনে পড়ে যায় সাহেবের কুকুরের এক পায়ের পিছিনে শখের খরচ তার ৬ জনের পরিবারের অন্ন।

২২

হাসান রায়হান's picture


এই সময় ছিলাম কক্সবাজারে সৈকতে। ছালমার গান, ফানুস আর সাথে আতশবাজী। সেইরকম লাগছে।

২৩

পদ্মলোচন's picture


কক্সবাজার যাইতে মঞ্চায় :(

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.