প্রবাসী ছাত্র ডায়েরি - ৫ম পর্ব (আপাতত শেষ পর্ব)
টিউবে করে চলে এলাম হলবোর্ণ। সেখান থেকে চেঞ্জ করে সেন্ট্রাল লাইন। সেন্ট্রালে করে এসে লেটনস্টোন স্টেশনে নামলাম। জামিরাও নতুন মাত্র ৩ দিনের পুরানো আমার থেকে। আর এই বাসায় উঠেছে আগের দিন। ওরাও রাস্তা চিনে না। হাটা শুরু করলো । হেটে এক রাস্তার মাথায় গেলাম। নোমান বলল এই রাস্তা না। পরে একজনকে জিজ্ঞাসা করলাম। সে রাস্তা বলে দিলো। হাটা শুরু করলাম। ভারী ভারী সুটকেস, হ্যান্ডব্যাগ, কাধে ব্যাগ নিয়ে হাটতে হাটতে একসময় মনে হলো এর থেকে রাস্তার বসে পড়ি।
উল্লেখ্য সেদিন ছিলো স্যাটারডে নাইট। উদ্দাম ডিস্কোর শব্দ আসছিলো জায়গা থেকে। মাতাল লোকজন রাস্তা দিয়ে হুল্লোড় করছিলো। দেখছিলাম আর হাটছিলাম। মেয়েদের কাপড় দেখে একটু ইয়ে ধরনের ফিলিংসও হলো। সেদিন জামিরও প্রথম স্যাটারডে নাইট ছিলো। হেটে চলছি রাস্তা দিয়ে। আর অপেক্ষা করছি কখন শুনবো বাসায় আসছি। অসম্ভব ক্লান্ত ছিলাম। মাঝে মাঝে ইচ্ছে হচ্ছিলো রাস্তায় সুটকেস নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। পরক্ষনেই মনে পড়ছিলো এন টিভির রিপোর্টাররা যদি দেখে পুরা প্রেস্টিজের ব্যাপার। টিভি রিপোর্টের ভয়েই হোক আর যেই কারনেই হোক হাটতে থাকলাম।
একসময় নোমান বলল এই রাস্তা দিয়ে আমাদের ডানে যাওয়া লাগবে এরপরে ডানে মোচড় নিলেই রাস্তা ঘর। তখন সময়কে আরো দীর্ঘ মনে হচ্ছিলো। রাস্তার শেষ মাথা দেখা যাচ্ছিলো। মনে হচ্ছিলো কয়েক মন ওজন নিয়ে কয়েকশ মাইল পার হতে হবে। অবশেষে রাস্তা পার হয়ে ঘরে ঢুকলাম। ক্লান্তিতে শরীর ভেঙ্গে আসতে চাইছিলো। ঘরে ঢুকে সব ফেলে রেখেই বিছানায় এলিয়ে পড়লাম। এরমাঝে মিশু আমার মোবাইল অন করে দিয়েছে। দেরী না করে ঘরে ফোন দিলাম। জানালাম আমি ঠিক মত ঘরে পৌছেছি। মিশু জানালো উঠবে। সকালে কাজ আছে ৬ টা থেকে। লাগেজ খুলে ওর কিছু জিনিস ছিলো বের করে বিদায় দিলাম। জামি বলল খেয়ে নিতে এতো টায়ার্ড ছিলাম যে খেতে যাওয়ার ইচ্ছা ছিলো না। কোন মতে ফ্রেস হয়ে কাপড় বদলে বললাম দোস্ত আমি ঘুমাবো। বলেই ডানে বামে না তাকিয়ে ঘুম।
পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই টের পেলাম পেটের মাঝে ইদুর দৌড় চলছে। জামিকে উঠালাম কোথায় কি আছে জানতে। জামি ফ্রেস হতে ঢুকার পর জানালা খুলে বাইরে তাকালাম। দিনের আলোয় প্রথম লন্ডন দর্শন। খুব আহামরি কিছুই লাগলো না। জা্মি ডাক দেওয়ার পর ওর সাথে নিচে গেলাম। পরিচিত হলাম সবার সাথে।
নাস্তা সেরে বাসায় ফোন দিলাম মার সাথে কথা বলতে। কথা শেষ করে আড্ডায় বসলাম পাক ঘরে। রান্না করব আর আড্ডা চলবে। রান্না শেষ করে উপরে এসে বিশ্রাম নিচ্ছিলাম তখন বন্ধু দিদার ফোন দিলো। বের হলাম ওর সাথে দেখা করতে। আগের রাতের কষ্টের কথা শুনে ও বলল আরে তোদের বাসার সামনেই ত বাস আসে ওইখান থেকে। নিজেদের বোকামীতে হাসলাম। ওর সাথে আড্ডা সেরে ঘরে ফিরলাম সন্ধায়। কেটে গেলো আমার প্রবাস জীবনের প্রথম দিন। শুরু হলো জীবনের নতুন অধ্যায়।
আপাতত এই পর্বেই শেষ করে দিবো ভাবছি। আপনাদের ভালো লাগলে পরে হয়ত লন্ডনে নিত্য নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে আবার শুরু করবো।





"পরক্ষনেই মনে পড়ছিলো এন টিভির রিপোর্টাররা যদি দেখে পুরা প্রেস্টিজের ব্যাপার। টিভি রিপোর্টের ভয়েই হোক আর যেই কারনেই হোক হাটতে থাকলাম।"--ওই অবস্থাতেও এই কথা মনে পড়লো আপনার! বাস্তবতা কী বিচিত্র!
ভালো লেগেছে, অবশ্যই নতুন পর্ব শুরু করে দেবেন।
আহা হা এত দেরী করে কেঊ? ঠান্ডা করেই পড়তে হল। তবে এই পর্ব আরেকটু বিস্তারিত হলে ভাল হত, তারাতারি শেষ করে ফেললেন মনে হল। নেষ্টে কোন সিরিজ আসছে নকি?
আর ভাই এখন ওখানকার tire 4 ধারীদের অবস্থার কি উন্নতি হইছে?
তড়িঘড়ি শেষপর্ব মনে হইল। ঘটনা কি?
শেষ কেন? চলুক।
শেষ করলি ক্যান উল্লুক ? এইডাও তড়িঘড়ি করে লেখা ।
হ
চলুক
সুচনা পর্ব বেশ আমোদ নিয়াই পরলাম, এইবার অভিজ্ঞতা পর্ব আসবে আশা করি।

লেখা বরাবরের মতই সুখ পাঠ্য হইছে
আমিও কোন একদিন আমার বিদেশ পর্ব দিবো আশা করছি। মেয়েদেরটা ছেলেদের থেকে একটু আলাদা কিনা কিংবা ছাত্রদেরটা থেকে গৃহবধূদেরটা আলাদা হয়।
এটা পড়ে মজা পাই নাই দাদা। আরো বিস্তারিত চাই, আরো রস দিয়ে।
মন্তব্য করুন