পাহাড়ী বলতে কি বুঝায়?
আমি বুঝি না পাহাড়ী বলতে কি বুঝায়? কই আমরা তো কখনো কাউকে বলতে শুনি না
রাজশাহী-বাঙালী বা খুলনা-বাঙালী বা সিলেট-বাঙালী নামক কোন কথা? তাহলে
পাহাড়ী-বাঙালী আবার কি? আমরা তো সবাই বাংলাদেশ এর নাগরিক। এই বোধ টা
আন্তরিকতা টা আমরা পার্বত্য এলাকার মানুষদের দিতে পারি নাই এবং আমাদেরও
বোধদয় হয় নাই, আমরা আন্তরিকও হতে পারি নাই...
আমরা তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বিরোধী দলকে শিক্ষা দেই আর সেই শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে আমরা হরতাল এর হুমকি দেই...
কিন্তু আমাদেরকে কে শিক্ষা দিবে মানুষ কে মানুষ ভাবার এবং নিজ দেশের মানুষকে নিজের ভাবার...
একুশে ফেব্রুয়ারীর দিন পেপারে প্রথম এই খবর দেখেই মনে হলো এই লজ্জা শহিদ মিনারে লাখ লাখ ফুল দিয়েও ঢাকা যাবে না...






আমরা কিন্তু নোয়াখালির লোকজনরে নোয়াখাইল্যা বলি , বরিশালের লোকজনরে বরিশ্যাইল্যা বলি সেরকম পাহাড়ের লোকজনরে পাহাড়ী বলি।
আসল কথা হল , পাহাড়ীদের সংস্কৃতি, জীবন-যাপন , আচার আমাদের থেকে আলাদা। তারা পাহাড়েই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে আর আমার মতে পাহাড়ের সাথে তাদের জীবন যাপন মিলে গেছে একদম। আমরা সবাই বাংলাদেশী , কেউ বাঙালী বাংলাদেশী , কেউ পাহাড়ী বাংলাদেশী । ওদের কে ওদের মতই থাকতে দেয়া উচিত।
আর রাজনীতি কিংবা রাজনীতিবিদ দের নিয়ে কিছু বলার ইচ্ছা নাই, নষ্ট জিনিস নিয়ে কিছু বলাও সময় নষ্ট।
সাঈদ ভাইয়ের মন্তব্যে জাঝা...
তয় ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বার সাংস্কৃতিক অধিকাররে আপনে ছোট করতে পারবেন না। আদিবাসী সংস্কৃতিরে আপনে অগ্রাহ্য করবার পারবেন না। আমার মনে হয় সবাই বাংলাদেশের নাগরিক বইলা এইরম ক্ষোভ-বিক্ষোভরে এড়াইয়া চলা যায় ঠিকই কিন্তু সমাধানে পৌছানো যায় না।
যেই কারণে সিলেট-রাজশাহী-বরিশাল-ঢাকা-চট্টগ্রাম সব এলাকার বাঙালিরা এককাট্টা হইয়া কখনো সেনাবাহিনীর পোশাকে, কখনো সাদা পোশাকে পাহাড়ের আদিবাসীগো উপরে নির্যাতন চালায়। দখলদারী মনোবৃত্তি দেখায়...পাহাড়ের মানুষেরা আরো কোনঠাসা হয় এই দেশে তাগো সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধইরা রাখতে গিয়া।
শান্তির চূক্তির নামে ডিভাইড এন্ড রুল করনের খেলা খেলে রাষ্ট্র। একজন মানুষ হিসাবে কথিত বাঙালীগো জাত্যাভিমান বহনের দায় আমি নিজে নিতে চাই না।
জাতিস্বত্তাকে তো আর অস্বীকার করা যাবে না তবে আমার ধারনা পাহাড়ী বা বাঙ্গালী কেউই সেইভাবে নিজেদের পারস্পরিক সম্পর্কের আন্তরিকতা বাড়ানোর চেষ্টা করে নি .........
জনাব ঘোলাপানি,
রাষ্ট্র একটা ভৌগলিক কাঠামো। তাই বলে এখানে বাসকারী সকলেই এক না। আলাদা সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য বিরাজ করে। আপনি বিক্রমপুরের সংস্কৃতি আর উত্তরবঙ্গের সংস্কৃতিতেই দেখবেন অনেক ফারাক।
এজন্যই বিক্রমপুইরা, বরিশাইল্যা, নোয়াখাইল্যা, সিলটি প্রভৃতি প্রচলিত।
নৃতাত্ত্বিক পরিচয়ের বাইরে আছে ধর্মীয় পরিচয়, ধর্মীয় সংস্কৃতি। এখানে কেউ মুসলমান, কেউ সনাতন ধর্মের, কেউ বৌদ্ধ, কেউ খৃষ্টান, কেউ জৈন।
ভৌগলিক বাংলাদেশে পাহাড়শ্রেণী আছে। আর তাতে বহুকাল ধরে বসবাস করে আসছে কিছু ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী। চাকমা, মগ, মুরং, মারমা, তঞ্চঙ্গা, গারো প্রভৃতি জনগোষ্ঠীর আছে স্বতন্ত্র পরিচয়। আলাদা জাতিস্বত্বা। আলাদা মাতৃভাষা। পাহাড়গুলো তাদেরই।
তাদের কী নামে ডাকা হবে তাই নিয়ে অনেক জল ঘোলা হয়েছে। উপজাতি শব্দ নিয়ে আপত্তি আছে। আদিবাসী, তা নিয়েও অনেক তর্ক। আমি আমার পোস্টে পাহাড়ী বলেছি শুধু পাহাড়ে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীগুলোকে এক শব্দে বোঝাতে। এবং তারচেয়ে বেশি এই কারণে- স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দিতে চেয়েছি পাহাড় তাদেরই। সেখানে আমাদের আগ্রাসণ অবৈধ, অমানবিক। এজন্যই আমি পাহাড়ী পরিচয়টার ওপর গুরুত্ব দিয়েছি বেশি।
নিজ দেশের মানুষকে নিজের ভেবেই তাদের প্রতি অন্যায়ের প্রতিবাদ করি। কিন্তু তাই বলে তাদেরকে ভাই বেরাদর বানানোর বদৌলতে আমাদের ভাষা সংস্কৃতি তাদের উপর চাপিয়ে দিতে চাই না। চাইনা তাদের আবাসস্থল কেড়ে নিতে।
আমরা সমতলের মানুষেরা পাহাড় থেকে তাদেরকে উচ্ছেদ করতে চাচ্ছি কেন? এই দেশ আমাদের সবার এই বলেই তো? আপনার 'সবাই আমরা বাংলাদেশী' তত্ত্বই কিন্তু পাহাড়ীদের এই সর্বনাষের মূলে। সমতলের আমরা ভাবছি তাহলে পাহাড়গুলোও তো আমাদের, সেখানে শুধু এই নাক বোঁচা মঙ্গোলাইট প্রাণীগুলো থাকবে কেন?
অথচ তাদের সংস্কৃতি, জীবিকা, জুমচাষ সবকিছুই পাহাড়কেন্দ্রিক।
পাহাড় থেকে তুলে দিয়ে আপনি এদেরকে বাংলাদেশী বানিয়ে দিন। যেমন পাকিস্তানীরা চেয়েছিলো আমাদের বাঙ্গালী জাতিসত্ত্বাকে মুছে দিয়ে সবাইকে পাকিস্তানী বানাতে।
দুক্ষিত, আপনাকে ধন্যবাদ জানাতে পারলাম না।
বঙ্গবন্ধুর কাছে যখন পাহাড়ের সমস্যাগুলো তুলে ধরা হলো, তখন তিনিও তাদেরকে বলেছিলেন- 'তোরা সবাই বাঙ্গালী হয়ে যা'। তারই কুফল এখনো আমরা ভোগ করতেছি।
আপনার এই সবাই বাংলাদেশী হয়ে যাক কথার ভিত্রেই হারিয়ে যায় গোটা পঞ্চাশেক জাতিসত্ত্বা... আর আমরা দখল করি পাহাড়...
আমরা বিক্রমপুইরা, বরিশাইল্যা, নোয়াখাইল্যা, সিলটি বলি কিন্তু আমরা কি কখনো শুনেছি নোয়াখাইল্যা-বাঙালী সংঘর্ষ??? কেন বারবার আমাদের পাহাড়ী-বাঙালী কথাটা ব্যবহার করতে হয়...আমার শুধু এখানেই আপত্তি...
আমি কারও ভাষা সংস্কৃতি তাদের উপর চাপিয়ে দেওয়ার কথা বলি নাই...যে যার সংস্কৃতি নিয়ে থাকবে, এতে আমিও কোন সমস্যা দেখি না
আর আমার "আমরা সবাই বাংলাদেশী" তত্ত্ব (!!!) আমরা সমস্যা হিসেবে দেখি দেখেই এটা সমস্যা... কিন্তু আমি মনে করি এটাই সমধানের পথ... আমাদের নোয়াখাইল্যা-বাঙালী কথাটা ব্যবহার করতে হয়না তার কারনও কিন্তু আমার এই "আমরা সবাই বাংলাদেশী" তত্ত্ব (!!!)।
এইখানে আমাদের সবার আন্তরিকতা আর বিশ্বাষই আসল...
জনাব লোকেন বোস
আপনার লেখা পরলাম... ভাল লাগলো... আমি আপনার লেখা সাপোর্ট করি... আমি আপনার লেখাকে নির্দেশ করে আসলে কিছু বলি নাই... আমি আমাদের সবার জন্য বলেছি...
আর আমি আসলে কারো ধন্যবাদ পাওয়ার জন্য মতামত দেই না... যাইহোক আপনি আমার লেখা পড়েছেন তার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ...
পাহাড়ী হলো বাঙালি জাতীয়তাবাদের কাছে জীবন বিসর্জন দেয়া মানুষ।
পাহাড়ী বাঙালী বিতর্কটা বহু পুরোনো। মূল সমস্যাটা ভুমির মালিকানা বিষয়ক। পাহাড়ী বলতে কোন জাতি নেই। ওটা শ্রেফ সাধারনীকরন সম্বোধন, অপমানসূচক নয়। তবে দুপক্ষের কেউ কাউকে বিশ্বাস করে না এটা সত্যি।
সেদিনের ঘটনার জন্য দায়ী কারা স্পষ্ট নয় এখনো। কিন্তু অবিশ্বাস আরো ভেতরে প্রবেশ করেছে তাতে সন্দেহ নেই।
...পাহাড়ীদের প্রতি আমাদের রাষ্ট্রযন্ত্রের এত আক্রোশ কেন? এমন একটাও সরকার আসেনাই, যারা সহানুভুতিশীল...আর আম্রাও তেমনই, এখকালে শাহরিয়ার কবিরের কয়টায় লেখায় পড়ছিলাম...ধুর...
শুধু প্রতিবাদ না, ধিক্কারও জানাই...
পহাড়ীরা আমাদের বিশ্বাস করে না, আবার আমরাও ওদরে বিশ্বাস করি না। চাইলে কিন্তু মিলে-মিশে ওদের সঙ্গে সহাবস্থানের মাধ্যমে সমস্যাটা সমাধান করা যায়। এজন্য যে উদ্যোগ দরকার সেটা কেউ নেয় না। বড়ই আফসুস।
আমার অবশ্যএকটা পাহাড়, নিদেনপক্ষে পাহাড়ের ওপর একটা বিশাল বাংলো কিনে সেখানে থাকার ইচ্ছে আছে। ইচ্ছে আছে সবার সঙ্গে মিলেমিশে একসঙ্গে থাকার।
পাহাড়ীদের যারা পাহাড়ে থাকে না সেই আদিবাসীদের কি বলা হবে?
মন্তব্য করুন