ইউজার লগইন

নিভৃত স্বপ্নচারী।

আমারও ছিল মনে
কেমনে ব্যাটা পেরেছে সেটা জানতে।
না নিভৃতস্বপ্নচারী আমি তোমাকে নয় আমার নিজকেই নিজে গালি দিচ্ছি। কেন আমি তোমার আগে এ প্রিয় নামটি আমার করে নিতে পারিনি। স্বপ্ন দেখতে যে আমিও ভালবাসি। তাই তো কবি গুরু যে বাণীতে জুতা আবিস্কার শেষ করেছিলেন। একি বানীর শুভ সুচনায় আমি আমার প্রিয় নামটি আবিস্কার করলাম।
কিন্তু এর অধিকার যে এখন শুধু তোমার। “আমরা বন্ধুর” রেজেষ্ট্রি অফিসে ডিজিটাল যুগে ডিজিটহীন মূল্যে তুমি যে তা নিজের করে নিয়েছ। কিন্তু তোমার সাথে আমার একটু পার্থক্য আছে, তা হল তুমি নিভৃতে স্বপ্ন দেখ, আমি নিভৃতে ও জেগে জেগেও স্বপ্ন দেখি। জেগে জেগে যা দেখি,বাস্তবে তা সফল হওয়া সম্ভব নয় তাই নিভৃতে ঘুমের ঘোরে তা পূরন করতে চাই।
কত রকমের স্বপ্ন, ছোট স্বপ্ন, বড় স্বপ্ন, লাল নীল,বা সাত রংগা স্বপ্ন। মুঠো মুঠো বা দুই হাত ১৮০ ডিগ্রী প্রসারিত অর্থাৎ দিগন্ত বিস্তৃত স্বপ্ন। একি তুমি হাসছ যে, আমার কথা শুনে, হাসবেই তো এভাবে কেঊ স্নপ্ন দেখে নাকি। কেঊ দেখে কি না জানিনা, তবে আমি দেখি না। আমি দেখি একটার পর একটা স্বপ্ন।
জান স্বপ্নচারী, আমার কিছু স্বপ্ন সফল হলেও বেশীর ভাগই সাফল্যের মুখ দেখতে পারে না। তারপরও আমি কখনও হতাশ হই না।
জ্ঞান হবার পর যেদিন থেকে আমি স্বপ্ন দেখতে শুরু করি প্রথম কোন স্বপ্নটা দেখেছিলাম মনে করতে পারছি না।একটু এদিক ওদিক হলে আমার মনে হয় তেমন ক্ষতি নেই। তুমি কি বল স্বপ্নচারী?
ডুপ সাঁতারে পারিবারিক পূকুরে এক ডূবে এপার থেকে ওপারে যাওয়া, রাখাল হয়ে গর, মহিষের পাল নিয়ে সারাদিন চাড়ণ ভূমিতে কাটিয়ে দেয়া বা গাড়োয়ানকে পটিয়ে গাড়োয়ান হওয়া আর গলা ছেড়ে যে কোন রাখালিয়া গান গাওয়া। আর এটা হতে হলে যে রকম গলার স্বর হবার দরকার সে রকম স্বর তো আমার নাই, তবুও ফাটা বাঁশের স্বরের মত স্বর দিয়েও হারমোনিয়ামে সুর তোলে যখন দুধের সাধ
ঘোলে মিটাই সেটাকেই আমি সৃষ্টি কর্তার অসীম দান হিসেবে গ্রহন করি। নাইবা হলাম জর্জ হেরিসন, রবি শঙ্কর, রথীন্দ্রনাথ রায়, আব্দুল জব্বার। সঙ্গীত বিষয়ে এ সামান্য জ্ঞানটুকু না থাকলে হয়ত জানতাম না, কণ্ঠের অস্ত্র দ্বারাও যুদ্ধ করা যায়। আর তারাই যে কন্ঠের অস্ত্র দ্বারা, মুক্তি যোদ্ধাদের সাথে যুদ্ধ করে আমাদের মুক্ত বাতাসে নিঃশ্বাস নেবার অধিকারটুকু দিয়েছেন।
আদিবাসি সাওতাল জন গোষ্টি যখন তীর-ধনুক, খুন্তি, শাবল, বাটুল নিয়ে শিকারে বের হত আর শেষ বিকেলে খুশিতে চিক চিক করা চোখে কাঁধে শিকার ঝুলিয়ে বাড়ি ফিরত, আমার তখন কাঁধে তীরের ঝাঁপিতে অসংখ্য তীর, হাতে ধনুক নিয়ে শিকারির বেশে দিগন্তে অজানার ঊদ্ধেশ্যে বেড়িয়ে যেতে ইচ্ছা করত।
বাড়ীর পাশে গ্রামের হাটে হা-ডু-ডু, ফুটবল, ভলিবল, খেলা হতো,আমার সাধ জাগতো আহ! আমি যদি এমন খেলোয়ার হতাম যে ভীষন প্রতি প্রতিদ্বন্দ্বিতা
পূর্ণ খেলায় একমাত্র গোলে আমার টিম জিতছে, আর একমাত্র গোলটির দাতা আমি। সবাই আমাকে কাঁধে চড়িয়ে ঊল্লাস করছে।
অতি ছোটকাল থেকেই আমার খেচর হওয়ার সাধ। ছোট্ট ছোট্ট পাখিরা কিচির মিচির করে যখন ঊড়ে যেত আমার ঊড়ার সাধ যেন আমাকে অক্টোপাসের মত ঘিরে ধরত।
এমনি হাজারো স্বপ্ন দেখতে দেখতে কখন যে যৌবন এসে ঊকি দিল বুজতে পারলাম না। প্রতিক্ষাটা কবি গুরুর মতন আমাকে তাড়িয়ে বেড়াত।

দিবস ও রজনী আমি যেন কার আশায় আশায় থাকি।
তাই চমকিত মন চকিত শ্রবন তৃষিত আকুল আঁখি।

পেশাগত জীবনে যা হতে স্বপ্ন দেখেছিলাম তাই হয়েছি, তবু আজ আমার মনে হচ্ছে আমি এ বিষয়ে ভুল স্বপ্ন দেখেছিলাম। স্বপ্ন সফল হলেও স্বপ্ন ভাংগার বেদনায় আজ আমি বেদনাবিদূর। স্বপ্ন ভাংগার বেদনা পাথরকেও কাঁদায়। আর সে কান্না আজ আমাকে কাঁদচ্ছে। তাই আমি আর স্বপ্ন দেখতে চাই না। আজ আমি হতাশ।

কিছু কিছু পেশা আছে, যেখানে আবেগ থাকা যাবে না। সৈনিক, সাংবাদিক, ডাক্তার, প্রকৌশল, ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি। এ পেশাগুলোতে আবেগ তার পেশাগত উন্নতির অন্তরায়। একজন সৈনিককে সদ্য প্রান হারানো সহযোদ্ধার প্রানহীন শবের উপর দাড়িয়ে জয় পরাজয় নিশ্চিত না হওয়া অবধি যুদ্ধ চালাতে হবে।
তবে সাভারের রানা প্লাজা নামক ভবনটির ধ্বংসাবশেষ থেকে সর্বশেষ জীবিত যে মানুষটির সন্ধান পাওয়া যায়, তার নাম সাহিনা। তাকে জীবন্ত ঊদ্ধার করার স্বপ্ন নিয়ে আমাদের গর্বের সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, স্বেচ্ছা সেবক ও অন্যান্য বাহিনীর ঊদ্ধার কর্মীরা ২৩ ঘণ্টা চেষ্টা করার পর তাকে ঊদ্ধার প্রক্রিয়ার শেষ মুহূর্তে অগ্নি কান্ডের দুর্ঘটনায় তাকে ঊদ্ধারের স্বপ্ন ভংগ হওয়ায় পাথরের অক্ষিকোটরেও শ্রাবনের বন্যা দেখেছি।
রাতে ATN বাংলার সংবাদ দেখছিলাম, যে সাংবাদিক জীবনের ঝুকি নিয়ে সাহিনার কাছ পর্যন্ত গিয়েছিলেন ঊনার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, এত কিছুর পরও যখন সাহিনাকে ঊদ্ধার করা গেল না, এতে আপনার অনুভুতিটা বলবেন, সংক্ষিপ্ত উত্তর, সাংবাদিকদের আবেগ থাকতে নেই ,তাই বলে কি... ঊনি আর কিছু বলতে পারেন নি, ক্যামেরা থেকে মুখ ঘুড়িয়ে নিলেন। পাশেই দেখতে পেলাম, ফায়ার ব্রিগেট, সেনাবাহিনী,ডাক্তার ও সেচ্ছাসেবক বাহিনীর যারা সাহিনাকে উদ্ধারের জন্য ২৩টি ঘণ্টা স্বপ্ন দেখিছিলেন, তারা একে অপরকে জাড়িয় ধরে কাঁদছে। নিজেদের জীবন বিপন্ন করেও সাহিনাকে বাঁচানোর যে স্বপ্ন তারা দেখেছিল, এ যে সে স্বপ্ন ভঙ্গের বেদনা, এ বেদনাই যে এ পাহাড় বা ইস্পাদ সমদৃঢ় এ সব ব্যক্তিত্বকে শিশুর মত কাঁদিয়েছে। আপনাদের এ কান্না পেশাগত উন্নতির অন্তরায় হবে কি না, জানিনা, কিন্তু আপনাদের এ অবদান, এ অনুভূতি মানবতাকে যে নিয়ে গেছে সর্বোচ্চ শিখরে। মানবতার এ বিজয়ে আপনাদেরকে অসংখ্য স্যালুট।

২৯/০৪/২০১৩ইং

পোস্টটি ৪ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

চিন্তক's picture


বেশ লিখেছেন তো! এটা কি কবিতা ভাইজান?

আহসান হাবীব's picture


না, ভাইয়া, চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু অনেক বড় হয়ে যাবে তাই ভেবে গদ্য লিখেছি। তা ছাড়া যখন আপনাদের মত বড়দের লেখা পড়ি আফশোস হয় আমি কেন এমন লিখতে পারি না। আমার প্রফেসান আমার এত সময় কেড়ে নেয় যে আমি লিখতে পারি না। ভাবতে সময় পাই না। অনেক সময় ভাবনাগূলো মাথায় কিলবিল করলেও, মনিটর বা পেপারে ঊপস্থাপন করা সম্ভব হয় না। ভাল থাকুন নিরাপদে থাকুন।

নিভৃত স্বপ্নচারী's picture


ব্যাটাকে শূলে চড়ানো দরকার Crazy Tongue
প্রথম দিকের স্বপ্নচারণ তো ভালই লাগলো কিন্তু শেষ দিকে এসে আবার মন খারাপ করে দিলেন। Sad Sad

আহসান হাবীব's picture


হে স্বপ্নচারী,
ভেবেছিলাম তোমার সাথে যে দিন শেয়ার করব।
অনেক মজা হবে।
কিন্তু সময় ও পরিবেশ আমাদের তা সমর্থন করল না।
কিন্তু তুমি কষ্ট পেয়েছ, এতে আমি খুশি হয়েছি
এ জন্য যে তুমিও আমার মত
রক্ত মাংসের একজন সাধারন মানুষ।
তবে তুমি অনেক বড় লেখক।
আচ্ছা আমি তোমাকে আমার
লেখা ও এখানে তুমি করে বলেছি
তুমি মনে হয় কষ্ট পেয়েছ।
তাই আমাকে আপনি করে লিখেছ।
তাই যদি হয় অদুরে না হয় আপনি বলব।
থাক ভাল, থাক সাবধানে।

তানবীরা's picture


Sad(

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

আহসান হাবীব's picture

নিজের সম্পর্কে

তোমার সৃষ্টি তোমারে পুজিতে সেজদায় পড়িছে লুটি
রক্তের বন্যায় প্রাণ বায়ু উবে যায় দেহ হয় কুটিকুটি।।
দেহ কোথা দেহ কোথা এ যে রক্ত মাংসের পুটলি
বাঘ ভাল্লুক নয়রে হতভাগা, ভাইয়ের পাপ মেটাতে
ভাই মেরেছে ভাইকে ছড়রা গুলি।।
মানব সৃষ্টি করেছ তুমি তব ইবাদতের আশে
তব দুনিয়ায় জায়গা নাহি তার সাগরে সাগরে ভাসে।
অনিদ্রা অনাহার দিন যায় মাস যায় সাগরে চলে ফেরাফেরি
যেমন বেড়াল ঈদুর ধরিছে মারব তো জানি, খানিক খেলা করি।।
যেথায় যার জোড় বেশী সেথায় সে ধর্ম বড়
হয় মান, নয়ত দেখেছ দা ছুড়ি তলোয়ার জাহান্নামের পথ ধর।
কেউ গনিমতের মাল, কেউ রাজ্যহীনা এই কি অপরাধ
স্বামী সন্তান সমুখে ইজ্জত নেয় লুটে, লুটেরা অট্টহাসিতে উন্মাদ।
তব সৃষ্টির সেরা জীবে এই যে হানাহানি চলিবে কতকাল।
কে ধরিবে হাল হানিবে সে বান হয়ে মহাকাল।।