ইউজার লগইন

টিকটিকি, তেলেপোকা ও মশার ঊপদ্রপ

কিছুদিন থেকে আমার শোভার ঘরে টিকটিকির উপস্থিতি লক্ষ্য করছি। প্রথম প্রথম এটাকে প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়ম মনে করেই তেমন গুরুত্ব দেইনি।কিন্তু দিনকে দিন তাদের অত্যাচার যেন বেড়েই চলছে। প্রথম দিকে সৃষ্টি কর্তার সৃষ্ট এমন সুন্দর প্রানীটির প্রতি আমার ভাল লাগা ও মায়া মমতার কোন কমতি ছিল বলে মনে করতে পারি না। আস্তে আস্তে তারা তাদের বংশ বৃদ্ধি করছে এটাও আমার নজর এড়ায় নি। আমি ভাবলাম তাতে আর এমন কি? প্রথম প্রথম তারা আমার ঘরের জানালা, ভেন্টিলেটর বা বাথরুমের বিড়াল ঘরে তাদের অবস্থান সীমাবদ্ধ রাখত । কালক্রমে মশারি, ওয়ার ড্রপ, বক্স টিভি স্ট্যান্ড, আলমারি এবং তাতে রক্ষিত কাপড় চোপর সর্বত্র অবাধ বিচরণ করতে আরম্ভ করল। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে টিকটিকির সাথে কিছু তেলাপোকার ঊপস্থিতি আমাকে একটু ভাবিয়ে তুলল। এরা আমার দামি দামি কাপড় চোপড় কাটতে কাগল, এমন কি ব্রিফ কেশে রাখা আমার কিছু স্পেশাল কাপড় যা কিনা বিদেশ থেকে আনা হয়েছিল তাও বাদ দেয়নি। আমার কেন জানি মনে হতে লাগল আল্লাহ ওদের আমাদের মত করে সৃষ্টি করেনি, আমাদের যা অবশ্য প্রয়োজনীয় তাই আমাদের ভোগ বিলাশ মনে করে মেনে নিতে পারছে না।
আমার মাথায় বাজ পড়ার মত অবস্থা হল যখন অনেকদিন পর সাধের হারমোনিয়ামটা নিয়ে বসলাম, কিন্তু একি এ যে কথাই বলছে না। খূলে দেখি, হাওয়া আদান প্রদানের জন্য স্যান্ডোজ আকৃতির যে চামড়াটা আছে তার উপর কাটা কুটির যত রকমের প্র্যাকটিস আছে তার সবই সমাধা করেছে।কিন্তু নিছক কাটাকুটি এটা আর আমি মানতে পারছি না। তার উপর ভিতরের এমন কোন স্থান নেই যেখানে তারা বংশ বিস্তারের লক্ষে আদিম খেলায় মাতেনি।যার ফলে আমার সাথে যুদ্ধ করার মনসাবনা নিয়েই যেন তারা তাদের বংশ বৃদ্ধি করে চলেছে।

মশা তো জন্ম লগ্ন থেকেই রক্ত চোষে যাচ্ছে। কখনও কখনও তার কৃপায় ডেঙ্গো ম্যালেরিয়া ও অন্যান্য ঊপসর্গের ঊপদ্রপ সবারই অভিজ্ঞতার ভান্ডার কমবেশী হলেও সমৃদ্ধ করেছে। তাদের সাথে আমার বেসিক পার্থক্য হল আমাকে সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি কাজ করে আমার নিজের ও সংসারের ব্যয় বহন করতে হয়। কিন্তু তারা কি নিশ্চন্তে বিনে ভাড়ায় আমার ঘরে বসবাস করছে আর আমার বাড়ি বা আমার রাজ্যে আমার ঊপার্জিত খাদ্য খেয়ে কি নাদুস নুদুস চেকনাই শরীর খানা এক এক জন বানিয়েছেন, আমার হিংসে না হলেও বড়ই আফসোস হ্য়। এতেও যদি তাড়া নিজেদের সন্তুষ্ট রাখত তবে আফসোস পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাকতাম। কিন্তু না তারা আমার কম্পিউটার টেবিল, লেখার টেবিল, ডাইনিং টেবিল এমন কি ঘূমন্ত অবস্থায় ধুপধাপ মশারির উপর পড়ে শুধু ঘুমের ব্যঘাতই যে ঘটায় শুধু তাই কিন্তু নয়। হঠাৎ ঘুমের মাঝে মশারির উপর পতনে কিছুটা ভীতির ও ঊদ্রেগ হয়।
এরা এমনি দূর্ত যে ধরতে বা মারতে যাবেন কদাচিত দু একটা মারতে পারলেও বিড়াল ঘর, ফাঁক ফোকরে কোথায় যে হাড়িয়ে যায়, খুজে পাওয়া যায় না।
এদের মাঝে সদ্য আবিস্কৃত তেলা পোকাটা বেশী ক্ষতিকারক। কারন বিভিন্ন রংগের সাথে এমন ভাবে খাপ খাইয়ে মিশে থাকে যে খুজে পাওয়া বা বুজাই মুশকিল।
আমার ছেলে কয়েকদিন হলো, এসেছে, ৭ম শ্রেনীতে পড়া আমার ছেলে আমাকে বলল, আব্বু এদের ধবংস না করলে একসময় আমাদের বাসাতে থাকাই মুশকিল হয়ে যাবে। একটা ইন্সেক্ট কিলার নিয়ে এসে স্প্রে করলেই সব শেষ হয়ে যাবে।

আজ টিকটিকি, তেলাপোকা বা মশার ঊপদ্রপে আমি আমার বাসায় যেমন অতিষ্ট তেমনি আমার দেশ, আমার প্রিয় জন্ম ভুমির উপরও তেমনি টিকটিকি, তেলা পোকা ও মশার ঊপদ্রপ আরম্ভ হয়েছে। তাদের সময় মত দাওয়াই না দিলে একদিন আমাদেরই অস্তিত্ব হুমকির সন্মুক্ষীন হতে হবে। ভয়ের কিছু নাই আমার ছেলে যেমন আমার বাড়ির সমস্যা সমাধান করেছে। তেমনি আমার দেশের, আমার দেশ মাতার কোটি তরুণ ইন্সেক্ট কিলার নিয়ে জেগে উঠেছে। শত্রুরা বিভিন্ন ধোয়া তোলে তোমাদের ধোয়ায় আচ্ছন্ন করার চেষ্টা করবে। তোমরা তাতে বিভ্রান্ত হবা না। আমার দেশ মাতার সন্তানেরা, একটা কথা মনে রাখবা, তোমার দেশ মাতা যদি তোমার কাছে না থাকে তবে তোমার ধর্ম তোমার মা বোনের ইজ্জত, তোমার চোখের সামনেই ভূলুন্ঠিত হবে। শুধু ইরাকই তার জলন্ত প্রমান। ছেলের হাত থেকে মাকে ছিনিয়ে নিয়েছে কিন্তু ছেলের কিছুই করার ছিল না চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া। তাই সকল বিভেদ ভুলে দেশ মাতার সার্বভৌম সমুন্নত রাখতে প্রস্তুত থাক সবাই। আবার বলি রাত যত লম্বা, অন্ধকারময় হউক না কেন? রাত তো ভোর হবেই। হবেই।
৩০/০৪/২০১৩ইং

পোস্টটি ৯ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

ঠিকানা জানিনা's picture


রাত তো ভোর হবেই..কিন্তু টিকটিকি মশা তেলাপোকা এগুলার কি হবে?

আহসান হাবীব's picture


রাত ভোর হলে, টিকটিকি, তেলাপোকা ও মশারা যে কৃত্তিম অন্ধকারের সৃষ্টি করেছে তা এমনিতেই দূর হয়ে যাবে।

আরাফাত শান্ত's picture


ভোর আসবেই!

আহসান হাবীব's picture


আসবেই।

চিন্তক's picture


লেখা খারাপ লাগেনি| খারাপ লেগেছে তিন নম্বর শব্দটির ভুল প্রয়োগ| তেমন আহামরি কিছু ভুল নয়, কিন্তু কিছু কিছু সাধারণ ভুল এত এত দেখি যে মাঝে মাঝে বিরক্তি এসে যায়|
যাই হোক, আপনি কিন্তু বেশ লেখেন| বেশ ভাল লাগে|

আহসান হাবীব's picture


ভাইয়া, আপনাকে ধন্যবাদ। আপনারা ভুল গুলো ধরিয়ে না দিলে শুধরাবো কি করে। তারপরও আপনার ভাল লেগেছে জেনে উৎসাহ পেলাম। ভাল থাকবেন। সাবধানে থাকবেন।

নিভৃত স্বপ্নচারী's picture


অন্ধকার কেটে গিয়ে রোদ উঠবে, ঝলমলে রোদ!

আহসান হাবীব's picture


এটাই তো প্রকৃতির নিয়ম।

তানবীরা's picture


ভোর আসবেই

বিলাশ
মনসাবনা
চোষে
ডেঙ্গো
ঘূমন্ত
দূর্ত
বুজাই
ঊপদ্রপে
সন্মুক্ষীন হ

এগুলো ছাড়াও আরো কিছু ভুল আছে

১০

আহসান হাবীব's picture


ওয়াও, আমার অনেক সুভাগ্য, বাংলায় আমি বরাবরই দুর্বল। এতে আসা করি আমার অনেক উপকার হবে।
ভাল থাকবেন, সাবধানে থাকবেন।

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

আহসান হাবীব's picture

নিজের সম্পর্কে

তোমার সৃষ্টি তোমারে পুজিতে সেজদায় পড়িছে লুটি
রক্তের বন্যায় প্রাণ বায়ু উবে যায় দেহ হয় কুটিকুটি।।
দেহ কোথা দেহ কোথা এ যে রক্ত মাংসের পুটলি
বাঘ ভাল্লুক নয়রে হতভাগা, ভাইয়ের পাপ মেটাতে
ভাই মেরেছে ভাইকে ছড়রা গুলি।।
মানব সৃষ্টি করেছ তুমি তব ইবাদতের আশে
তব দুনিয়ায় জায়গা নাহি তার সাগরে সাগরে ভাসে।
অনিদ্রা অনাহার দিন যায় মাস যায় সাগরে চলে ফেরাফেরি
যেমন বেড়াল ঈদুর ধরিছে মারব তো জানি, খানিক খেলা করি।।
যেথায় যার জোড় বেশী সেথায় সে ধর্ম বড়
হয় মান, নয়ত দেখেছ দা ছুড়ি তলোয়ার জাহান্নামের পথ ধর।
কেউ গনিমতের মাল, কেউ রাজ্যহীনা এই কি অপরাধ
স্বামী সন্তান সমুখে ইজ্জত নেয় লুটে, লুটেরা অট্টহাসিতে উন্মাদ।
তব সৃষ্টির সেরা জীবে এই যে হানাহানি চলিবে কতকাল।
কে ধরিবে হাল হানিবে সে বান হয়ে মহাকাল।।