বিজ্ঞান তোমাকে ছালাম(শেষ পর্ব)
প্রথমে চলুন দেখি আগুনের উৎস গুলি কি কি?
ক শ্রেনীর আগুন – সাধারন ধাহ্য বস্তু যেমন, কাঠ,কাপড়, পেপার, খড়, রবার, প্লাষ্টিক ইত্যাদি।
খ শ্রেনীর আগুন- এই ধরনের আগুনের উৎস হল, ধাহ্য তরল পদার্থ যেমন পেট্রোল,কেরসিন,তৈল জাতীয় পদার্থ,গ্রীজ, তেল রং, ইত্যাদি।
গ শ্রেনীর আগুন- এই ধরনের আগুনের উৎস হল ধাহ্য গ্যাস।
ঘ শ্রেণীর আগুন- ধায্য ধাতব শ্রেনীর জিনিস যেমন, ম্যাগ্নেসিয়াম,টিটেনিয়াম, সোডিয়াম, লিথিয়াম, এবং পটাসিয়াম ইত্যাদি।
ঙ-শ্রেণীর আগুন- রান্নার কাজে ব্যবহৃত তেল বা ফ্যাট জাতীয় বস্তু।
চ শ্রেনীর আগুন- বিদ্যুৎ চালিত যন্ত্রপাতি, বা বৈদুতিক তারে সর্টসার্কিট জনিত আগুন।
আগুনের উৎস গুলো দেখা হল, এবার চলুন কোন ধরনের আগুন নিভাতে কোন ধরনের অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র ব্যবহার করা যায়।
ধরন ও যে ধরনের আগুনের উপর ব্যবহার উপযোগী
পানি- ক
ফোম/ক্রিম- ক,খ
ড্রাই পাউডার----- ক,খ, গ,ঘ,ঙ
কার্বন-ডাই- অক্সাইড- খ,ঙ
হেলন ১২১১/বি সি এফ- এখন সাধরনত ব্যবহার করা হয় না।
এখানে প্রথমে উল্লেখ করা জরুরী এবং অতীব জরুরী মনে করছি যে, যখন কোন ভবনে আগুন লাগবে (তা যে কোন ধরনেরই হউক না কেন) সর্ব প্রথম ঐ ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিতে হবে। তাহা হলে বিদ্যুৎ চালিত সকল যন্ত্রপাতি ক,খ, গ,ঘ ঙ শ্রেণী ভুক্ত আগুনের উৎসে পরিণত হবে।
উপরে আলোচিত আগুনের উৎস ও তা নির্বাপনের জন্য ব্যবহৃত যন্ত্রের ব্যবহারের দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে একমাত্র ড্রাই পাউডারই যে কোন ধরনের আগুন নির্বাপনে সক্ষম। তাই বিভিন্ন ধরনের বহন যোগ্য অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র না রেখে শুধু সংকুচিত ড্রাই পাউডার ব্যবহৃত অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ব্যবহার করলে ঘটনার সময় আর চিন্তা করার প্রয়োজন পড়ে না কোনটা ব্যবহার করব। অবশ্য এখন সকল প্রতিষ্ঠানে তাই করা হয়।
এখনকার দিনে সকল বানিজ্যিক ও শিল্প কারখার ভবনে বহন যোগ্য অগ্নি নির্বাপক যন্ত্রের পাশাপাশি অগ্নি নিরোধক ব্যবস্থা করা থাকে অর্থাৎ আগুন নিভানোর জন্য উচ্চ চাপে ( ১৪-১৬ বার বা ২০৩-২৩২ পি,এস ) পানির সংযোগ রাখা হয় । তাই সকলের বিশেষ করে যারা ফায়ার ওয়ার্ডেণ্ট বা ভবনের নিরাপত্তায় নিযুক্ত ব্যক্তির জেনে রাখা উচিত কোথায় কোথায় ফায়ার হুস বক্স প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। প্রতিটি ফায়ার হুস বক্সে একটি করে বহনযোগ্য অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র থাকবেই। তা ছাড়াও ভবনের আয়তন অনুযায়ী স্থপতি বা অগ্নি নির্বাপক বিভাগ কতৃক জায়গা নির্ধারন করে দেন অতিরিক্ত বহনযোগ্য অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র রাখার। তা ছাড়াও স্প্রিংকলার সিস্টেমের অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা থাকতে পারে। স্মোক ডিটেক্টার ও ফায়ার এলার্ম তো থাকবেই। এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা আবশ্যক মনে করছি না।
তার ছাড়া প্রতিটি অফিসের রিসিপসনে এবং ভবনের প্রবেশ পথে অগ্নি নির্বাপক বিভাগের জরুরি নম্বর প্রিন্ট ও লেমিনেটেট করে রাখতে হবে যেন সহজে সবার নজরে পড়ে।
আমাদের দেশের জরুরী ফায়ার সার্ভিস অনুসন্ধান নম্বর টি ১৯৯
ফায়ার সার্ভিস হেড কোয়ার্টারের নম্বর-৯৫৫৫৫৫৫-৭ এবং ৯৫৫৬৬৬৬-৭।
কিভাবে ব্যবহার করবেন
প্রতিটি বহনযোগ্য অগ্নি নির্বাপক যন্ত্রের গায়ে তার ব্যবহার বিধি লেখা থাকে। তবু একজন প্রশিক্ষিত ব্যক্তি ছাড়া কেউ ব্যবহার করবেন না। কারন এতে আপনি নিজে প্রাণের ঝুকিতে পড়তে পারেন। তবু ব্যবহার বিধিটা বলছি।
প্রথমে অগ্নি নির্বাপক যন্ত্রটি হাতে নিয়ে তার প্রেসার গেজে প্রেসার ফুল আছে কি না দেখে নিন। তালা লাগানো পিনটি খুলুন। যতটুকু সম্ভব আগুণের উৎসের কাছাকাছি যান। আপনি বা প্রশিক্ষিত ব্যক্তি ছাড়া বাকীদেরকে দূরে সরে যেতে বলুন। বাতাসের উৎস বন্ধ করার জন্য দরজা জাণালা বন্ধ করুণ। এবার আগুনের উৎস মুলে ওয়াই টাইপের সুইচ চেপে স্প্রে করুন। আগুন নেভা না পর্যন্ত স্প্রে বিভিন্ন কোণ থেকে করতে থাকুন। এ কাজটা অনেক বিপদজনক, কারন দরজা জানলা বন্ধ হবার দরুন অগ্নি নির্বাপন যন্ত্রের ব্যাক ফ্লো ও আগুনের ধোঁয়া যে পরিমাণ কার্বন ডাই ও কার্বন-মন অক্সাইড উৎপন্ন করে তা একজন মানুষের শরীর সর্বোচ্চ ৬০-৭০ সেকেন্ড সহ্য করতে পারে। তাই যা করার এ সময়ের মধ্যেই করতে হবে। নিজেকে কখনও বিপদের ঝুকিতে ফেলবেন না। মনে রাখবেন সম্পদের চেয়ে আপনার জীবনের মূল্য অনেক বেশী। কোন অবস্থায় ধৈর্য হারানো যাবে না। আগুন যদি নিবে গেল তো ভাল কথা, নইলে এফেক্টেড ঘরের দরজা বন্ধ করে দিন। দরজার নীচে ভেজা কাপড় দিয়ে ছিদ্র বন্ধ করুন যেন আগুন এ রুম হতে অন্য রুমে আসতে না পারে বা সময় লাগে। প্রশিক্ষিত ব্যক্তি ছাড়া কেঊ ফায়ার হুস ব্যবহার করবেন না। এরই মধ্যে জরুরী ও অগ্নি নির্বাপক বিভাগে ফোন করুন।
ধৈর্য না হাড়িয়ে লোকজনকে ভবনের বাহিরে যাবার ব্যবস্থা করুন। কেউ দোড়া দোড়ি করবেন না। আগ্নি নির্বাপক বিভাগের প্রশিক্ষিত ব্যক্তিরা এসে পৌছালে তাদের ভবনের অগ্নি নির্বাপন যন্ত্রাদির তথ্য দিন।
হেলন ১২১১/বি সি এফ অগ্নি নির্বাপণ যন্ত্রটি আগুন নিভানোর কাজে সবচেয়ে বেশী কার্যকরী। যখন বিশাল বিশাল বনাঞ্চলে আগুন লেগে শত শত হেক্টর বনভুমি নিমিষে ভস্মীভূত হয়ে যেত তখন হেলি কপ্টারের সাহায্যে হেলন গ্যাস স্প্রে করে আগুন নিভানো হত। কিন্তু অচিরেই এর ক্ষতিকর প্রভাব পরিলক্ষিত হল। উপর থকে স্প্রে করার দরুন অক্সিজেনের উপর যে ওজোন স্তর আছে তা ধ্বংস হয়ে যেত। তাতে সূর্য থেকে আগত আলট্রা ভায়োলেট রস্মি সরাসরি জীব জন্তুর উপর আঘাত হানত। তাতে চামড়া জনিত রোগের পাশাপাশি ক্যান্সার ও অন্যান্য মারাত্বক রোগের সৃষ্টি হত। তাতে লাভের চেয়ে ক্ষতির পরিমানই অনেক বেশি। তাই জাতিসঙ্গ এ অগ্নি নির্বাপক যন্ত্রটির ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। তবে যদি কখনও প্রয়োজন হয় তবে জাতিসংজ্ঞের অনুমতি সাপেক্ষে তা ব্যবহার করা যাবে। আমরা চাই এর ব্যবহার যেন কখনই করতে না হয়।
বন্ধুগন, আমি আমার লেখার শুরুতে আমার একজন কলিগের অসুস্থতার কথা বলেছিলেম। যার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাবার কথা ছিল। সে গত পরশু ০১/০৬/২০১৩ইং তারিখে না ফেরার দেশে চলে গিয়েছে। আমরা সকলে তার বিদেহী আত্নার মাগফেরাত কামনা করছি। আমিন। (শেষ)





আপনার কলিগের কথা শুনে দু:খিত হলাম।
প্রয়োজনীয় পোষট, আশাকরি মানুষের কাজে লাগবে
আপা আমার জানা নিরাপত্তা বিষয়ক লেখা লেখার ইচ্ছা আছে। আমাদের শ্রমিক ভাইয়েরা না জেনে কত ঝুকিতে কাজ করে। সত্যি অনেক কষ্ট হয়। আপা আপনাকে শুভ কামনা।
মন্তব্য করুন