চ তুমি কত ভাগ্যবান(পর্ব-2)
প্রত্যেকটি নবজাতক শিশু জন্ম গ্রহণ কালে কান্না করতে থাকে।আমার দৃষ্টিতে সেটা কান্না নয়, আমি আমার একটি কবিতায় লিখেছিলাম, সে তখন চিৎকার করে বলতে থাকে আমি মানুষ, আমি মানুষ। কিন্তু আমরা তার ভাষা বুজতে পারি না। তাই আমরা যে যার ধর্মে জন্ম গ্রহণ করি,প্রকারান্তরে সে সেই ধর্মের অনুসারী হই। কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া। এই নবজাতক শিশুটি যে ঘরে যে বাবা মা বড় ভাইবোনের সাথে থাকে তাদের কাছ থেকেই সে সকল প্রাথমিক শিক্ষা পেয়ে থাকে। তারপর যখন সে শিক্ষাঙ্গনে যায় তার শিক্ষক, শিক্ষিকার কাছ থেকে বিদ্যাশিক্ষার পাশাপাশি পরিবেশ ও পারিপাশ্বিকতার শিক্ষা লাভ করে। নিজ দেশে বা দেশের বাইরে উচ্চ শিক্ষা অর্জনের সময় সহপাঠীর কাছ থেকেও একে অপরের মাঝে পরিবেশ ও পারিপাশ্বিকতার আদান প্রদানে বিশ্বপরিবেশ বিষয়ে ধারনা জন্মে। দেশ ও দেশের বাইরে কাজ করতে গেলেও কিছুটা ধারনা হয়। তবে আমরা যে যত আধুনিক বা উদার মানসিকতার হই না কেন? রক্ষনশীলতা রক্ষনশীলতাই, এটা আলো ও আঁধারের মত।
বাহরাইনে আমার অনেক ফিলিপিনো সহকর্মী ছিল। তারা অত্যন্ত মিশুক, আবার ক্ষেত্র বিশেষে অনেক ফেরোসাস। আমার যে সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ ছিল সে ছিল সেফটি অফিসার। তার কাছ থেকে তাদের সমাজের অনেক কিছুই জানতে পারি। তার মধ্যে একটি ছিল। তাদের সমাজে বিবাহ পূর্ব সন্তানকে সমাজ বা রাষ্ট কোন রকম অন্যায় চোখে দেখে না। তবে এক সময় সে আমাকে জানায় যারা রক্ষনশীল পরিবার তারা এ থেকে বিরত থাকে, এবং বিবাহ পূর্ব সন্তান ও তাদের বাবা মাকে অবহেলার চোখে দেখে। সত্যি কথা হল বাবার হদিস তো আর থাকে না। মাকেই সাড়া জীবন তার গ্লানি বহন করতে হয়।
প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাপণী পরীক্ষা দেবার পর তিন মাস হাতে কলমে কাজ শিখার জন্য,কোন একটা নির্মাণ কোম্পানিতে তার প্রশিক্ষন নিতে হয়। আমি যে প্রতিষ্ঠানে কাজ শিখতে (মধ্যম সারির কোম্পানি) আসি কিছুদিনের মধ্যেই মালিকের সাথে আমার একটা সখ্যতা গড়ে উঠে। কারণটা একই প্রতিষ্ঠান থেকে পাশ করা। উনি নিজে প্রকৌশলী হওয়াতে আমাকে তিন মাসে এত কিছু শিখিয়েছিলেন, আজ এত বছর পরও মনে হয় নইলে তিন মাসের যে শিক্ষা তিনি আমাকে দিয়েছিলেন তা অর্জন করতে কত বছর লাগত তা আল্লাহই জানেন।
উনার প্রতি কৃতজ্জতা বোধ বা যে কোন কারনেই হউক উনি আমেরিকা প্রবাসী হবার আগ পর্যন্ত আমি যখনি সুযোগ পেতাম উনার সান্নিধ্য নেওয়ার চেষ্টা করতাম। বয়সের ব্যবধানটা ১৮-১৯ বছর হলেও এক সময় আমরা বন্ধুর মত হয়ে গেলাম। তাই বন্ধুর মতই অনেক কিছু শেয়ার করতাম।
তখন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টন ও মনিকা লিওনেক্সি জোয়ারে সাড়া বিশ্ব কম্পমান। এত জনপ্রিয় একজন প্রেসিডেন্টকে টিভিতে নাকি অনেক নাজেহাল হতে হয়েছিল,। নাকি বলার কারন আমি সে অনুষ্ঠানটি দেখার মত সুযোগ পাইনি। তাই একদিন ঢাকা থেকে দিনাজপুর যাওয়ার পথে উনাকে জিজ্ঞেস করলাম, স্যার, আমেরিকা একটা ফ্রি সেক্সের দেশ, সে দেশে একজন প্রেসিডেন্ট একটা মেয়ের সাথে কি না কি করেছে তা প্রমাণ করার জন্য এত কিছু কেন?
উনি আমাকে বললেন, আমেরিকা ফ্রি সেক্সের দেশ হলেও যারা রাষ্ট্রীয় গুরুত্ব পূর্ণ পদে থাকবে তাদের বান্ধবী বা কোন রকম চারিত্রিক স্খলন সে পদের জন্য অযোগ্যতার পরিচায়ক। যেমন রাষ্ট্রপতি, প্রধান বিচারপতি, সেনাপ্রধান, ডিসি এস পি সহ যে সমস্ত পদ রাষ্ট্রীয় ক্ষতি করার ক্ষমতা রাখে তাদের সকল দিক হতে পুত পবিত্র থাকতে হবে। আমার বিষয়টা এমনই ভাবিয়ে তুলেছিল, ঠিক যেমন কয়লার ভিতর স্বর্ণ লুকিয়ে থাকার মত। তখন আমি ভাবছিলাম আমাদের এরশাদ চাচায় ক্ষমতা হারানোর পর যখন উনার নামের বিপরীতে বান্ধবীর সিরিজ বের হচ্ছিল, তখন রংপুরের জনগণ নাকি বলত, হামার ছোয়া আজা, দুই চাইর খান মাগি বাজি তো কইরবারিই পারে তায় হহছে টা কি? রাজার বাইজী বাড়ি রংমহল থাকবে।, এটা আবার কোন বিষয় হল।
হ্যাঁ অবশ্যই বিষয়, যখন রাজা বাদশাদের রংমহল ও বাইজি বাড়ি ছিল, তখনকার সময় আর এখনকার সময় এক নয়। এখন যে কেউ ইচ্ছা করলেই যা তা করতে পারে না। আমরা নিজের বা অপরের বিষয়ে যাই বলি, সাড়া বিশ্ব তা মুহুর্তেই জেনে যায়। কে কেমন জাতি তাও জানতে বাকি থাকে না।
থুতু উপরের দিকে দিলে নিজের ঘায়ে পড়ার সম্ভাবনাই বেশী। সরকারি দলের মহিলা এম পি সংসদে দাঁড়িয়ে (অধ্যাপিকা অপু উকিল) বললেন, খালেদা জিয়ার মা লক্ষ্মী রানী মারমা দার্জিলিংয়ের চা বাগানের মালিক উইলসনের চাকরানি ছিলেন। চা বাগানের মালিকের ছিল মদ ও নারীর প্রতি আসক্তি। লক্ষ্মী রানী গর্ভবতী হলে উইলসনের দারোয়ান মুরালি মোহন মারমার সঙ্গে তার বিয়ে দেওয়া হয়। উইলসনের তত্ত্বাবধানে ১৯৪৫ সালের ১৩ আগস্ট খালেদা জিয়ার জন্ম হয়। খালেদা জিয়া ইহুদি ঔরসজাত। তার গায়ের রং ও খাদ্যাভ্যাস তার প্রকৃত ইহুদি পিতার সঙ্গে মিল আছে।
দেখুন তো থুতু নিজের গায়ে পড়েছে কি না? রেহেনা আক্তার রানু যখন বংগবন্ধুকে নিয়ে পাল্টা একি ধরনের বক্তব্য সংসদে পেশ করলেন। যে সংসদে প্রধান মন্ত্রী নিজে উপস্থিত ছিলেন। অধ্যাপিকা শাহেবা আপনি বঙ্গবন্ধু এবং বেগম জিয়াকে নিয়ে সংসদে দাড়িয়ে সাড়া জাতীর কাছে যে ভাবে অপমানিত করেছেন, এবং করার সুযোগ করে দিয়েছেন, তাঁর অধিকার কী জনগণ আপনাকে দিয়েছেন। ধরে নেয়াও যদি যায় দুটি ঘটনাই সঠিক তবু আপনি এবং রেহেণা আক্তার রানু দু জনের কাছেই আমি দেশের একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে প্রশ্ন রাখতে চাই,আপনারা দুজনই মুসলিম আপনাদের কি এই হাদিসটি জানা নেই যে, কোন মুসলমান যদি কারও দোষ ত্রুটি গোপন রাখে, আল্লাহ নিজে তাঁর দোষ ত্রুটি গোপন রাখেন। আপনারা তো তা করেন নাই-ই, যে জাতির পিতা তার আয়ুস্কালের ১৮টি বছর জেলের ভিতর কাটিয়েছেন এই বাংগালী জাতির জন্য সেই বাংগালী জাতির সন্মুখে আপনি তাঁকে অপমান করার সুযোগ করে দিয়েছেন। সুরা ফাতিরের ৩৫ নম্বর আয়াতে আল্লাহ্ তায়ালা বলেছেন, হে নবী আপনি কবর বাসি কাউকে কিছু শুনাতে সক্ষম নন। তাই বংগবন্ধুর ধিক্কার থেকে,অভিশাপ থেকে আপনি বেঁচে গেছেন। নইলে উনি আপনাকে অভিশাপ দেবার পাশাপাশি আরও একবার মৃত্যু বরন করতেন।
আর বেগম জিয়া পর পর দুবার এদেশের জনগণের রায় নিয়েই প্রধান মন্ত্রী হয়েছেন। এখনও তিনি বিরোধী দলীয় নেত্রী, আপনি উনাকে অপমান করে সাড়া জাতিকে অপমান করেছেন।
১২ মার্চের মহাসমাবেশে তাদেরই মঞ্চ থেকে শফিউল আলম প্রধান খালেদা জিয়াকে চিরকুমারী বলে মন্তব্য করেছেন। অথচ আমরা জানি তার দুই সন্তান রয়েছে।
প্রধান সাহেব, ক্লাস সেভেন কি এইটে একটা অংক ছিল, একটি বানর ২০ফুট লম্বা একটা বাঁশের
মাথায় উঠার জন্য লাফালাফি আরম্ভ করল। প্রথম লাফে ২ ফুট উঠে তো দ্বিতীয় লাফে এক ফুট নীচে নেমে আসে। এমনই ভাবে ২০ফুট উচু বাঁশের মাথায় উঠতে তার কত সময় লাগবে?
জনাব আপনি সেই কবে থেকে লাফালাফি আরম্ভ করেছেন, কিন্তু একটা লাফ আপনার কাজে লেগেছে বলে কখনও শুনি নাই। তা ছাড়া ঢাকা শহরে এখনও দিনাজপু্রের লোককে বুধাই বলে। আপনার বাড়ি পঞ্চগড় অর্থাৎ বৃহত্তর দিনাজপুরে, আপনি এমন বক্তব্য দিয়ে নিজেকে রাম বুধাই প্রমান করলেন। চামচামিরও একটা সীমা থাকে।
আমার এক প্রাণের দোস আমাকে বলেছিল দোস্ত উলটা পাল্টা কিছু লেখা লেখ, দেখবি তুই তারাতাড়ি নামকরা লেখক হয়ে যাবি। আমি বললাম উল্টা পাল্টা কেমন, ও বলল যা ডাহা সত্য তা মিথ্যা, আর যা ডাহা মিথ্যা তা সত্য, ধর্মের পক্ষে, বিপক্ষে এমন আর কি? আমি বললাম দোস আমি নামের জন্যও লিখি না, টাকার জন্যও লিখি না। আর আমার ছাই পাশ লেখা আমি সখের বশে লিখি। কেঊ ভুলে বালে লাইক মারলে বেলুন, বিমান কিছুই লাগে না আকাশে উঠে যাই। এর চেয়ে বেশী আর কি চাই।
তয় আমার বন্ধুর উপদেশ বাণী এখনকার মহিলা সাংসদেরা কেমনে জানল বুঝলাম না। নইলে এই রেহেনা আক্তার রানুর নাম শুনা তো দুরের কথা নামের গন্ধও কোনদিন পাই নাই। পামুই বা কেমনে আমি তো রাজনীতি নিয়া মাথা ঘামাই না। তয় আমার অনেক আফসোস হচ্ছিল চলতি বাজেট অধিবেশনের আলোচনায় তিনি নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রসঙ্গে ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশ্যে নিজের জেলা ফেনীর আঞ্চলিক ভাষায় বলেন, 'তত্ত্বাবধায়ক সরকার লই কোনো চুদুরবুদুর চইলত ন, এই বক্তব্যটি দেবার সময় আমি টিভিতে উনাকে দেখতে না পারার জন্য। উনি কেমন শারীরিক অঙ্গ ভঙ্গিতে এই বাক্যটি বলেছিলেন। তবে এই বক্তব্যটি নিয়ে বাংলা একাডেমি সহ পশ্চিম বঙ্গের বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের এক শিক্ষক রিতিমত গবেষণা করা আরম্ভ করেছেন। আরে এটা বাংলাদেশরে সব জায়গাতেই কম বেশী সবাই বলে থাকে, আর এর মানে হইল কোন কিছু না দেবার উদ্দেশ্যে কাল ক্ষেপণ। তবে আমার লেখার নামকরণের চ তুমি কত ভাগ্যবান তার কিছুটা সার্থকতা মিলল।
তবে আল্লাহ্ কারও সাধ অপূর্ণ রাখেন না, অফিস থেকে এসে টিভি অন করতেই দেখি সংসদের অধিবেশনের চলতি বিবরণী সরাসরি দেখাচ্ছে। কাপড় ছেড়ে ফ্রেস হতে হতে দুজন সাংসদ কি জানি বললেন মাথা মুণ্ডু তেমন বুঝলাম না। এবার মাননীয়া স্পিকার রেহেনা আক্তার রানুর নাম ঘোষণা করলেন। আমার না চাইতেই বৃষ্টি পাওয়ার আনন্দের মত আনন্দ হচ্ছিল। অতি কাঙ্ক্ষিত সেলিব্রেটির অভিনয় দেখার আনন্দ। আহ কথার কি ফুলঝুরি আর কি অঙ্গ ভঙ্গি। এ তো দেখি আমাদের শুক্কুরের মাকেও হার মানাবে। (চলবে)





ধন্যবাদ আপনাকেও।
মন্তব্য করুন