আমরা সহজে সব কিছু ভুলে যাই।
দিন দশেক ব্লগ ফেবু REOSA, BITRAJ বা কোথাও কোন লেখা পোষ্ট করেছি মনে পড়ছে না। মনে হচ্ছিল কতদিন লেখি না। কি করে লেখি লোভ যদি কারও ভিতর প্রবেশ করে লেখা লেখির মানসিকতা তার থাকে কি করে? আমারও হয়েছে তাই। অর্থের লোভ সামলানো সত্যি কঠিন? আর এ লোভ আমাকে মাঝে মাঝে পেয়ে বসে। পরিচিত সার্কেলে বড় কোন টেন্ডার দিতে হলেই ডাক পড়ে, অফিস শেষে এবং ছুটির দিনে, লেখালেখির সময়টা অতিরিক্ত টাকা উপার্জনের পথে ব্যয় করে ফেলি। অবশ্য এড়িয়ে যাওয়াও সম্ভব হয় না। শত কোটি টাকার টেন্ডার দিতে যারা ডাকেন তাদের এড়িয়ে যাওয়াও আমার দৃষ্টিতে বেয়াদবি। এ সপ্তাহ এমনি অতিরিক্ত ব্যস্ততা বাদেও অফিসে কাজের ও মানষিক চাপ দুটোই বেশী ছিল। তাই তো আমার বন্ধুরা, আমার ভাবনাগুলো, আমার লেখালেখির উপকরণ গুলো আমার ছেরাবেরা অবস্থা দেখে আমাকে করুনা করে আমার কাছ থেকে দুরে সরে গেছে। ক্লান্ত শ্রান্ত শরীরে কিছু সময়ের জন্য বিভিন্ন মাধ্যমে প্রবেশ করে প্রিয় লেখক ব্লগারদের লেখার শিরোনাম পড়ে আড়মোড়া ভেঙ্গে লেখার চেষ্টা করলেও লেখার মত কাওকে আর খুঁজে পাই না।
গতকাল বন্ধু ইকবাল ওর লেখায় আমার নানাজানকে( আল্লামা শফি) নিয়ে যে বাক্য ছুড়েছে তা আমার ভাল লাগেনি, কিন্তু নানাজান কি বলেছে তা জানতে মনটা আকুপাকু করছিল। ইকবালের লেখাটা কোড করছি,
Can someone please shut the mouth of this whatever Shafi guy of Hefazot up ... Looks like old age made him crazy and out of mind. Dear other Hefazot leaders, can you please do your boro hujur a favor and keep him busy reciting many many kalema and doa at this end of his life instead of putting him in front of mike and let him say all inappropriate stuff.
এর আগে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর অসন্তোষের বিষয়টি টিভিতে দেখেছি। তাই বক্তব্যের ভিডিওটি দেখতে খুব ইচ্ছে হচ্ছিল।
রাতে ATN এ মুন্নি সাহার উপস্থাপনায় একটা অনুষ্ঠানের মাঝামাঝি দেখলাম। আলাপ চারিতার এক পর্যায়ে মুন্নি সাহা আল্লামা শফির বক্তব্য জন সমুক্ষে প্রচার যোগ্য নয় বলাতে নিষিদ্ধের প্রতি বেশী আকর্ষন এ কারনেই কি না জানি না, কি বলেছেন জানতে কেমন জানি ব্যকুলতা তাড়া করল। এমনি এক সময় বিরতিতে যাবার আগে জনাব জাফর ইকবাল স্যারকে আল্লামা শফির বক্তব্য সম্পর্কে উনার প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়ে আলাপ চারিতার সংযোগে নিয়ে এলেন। স্যার উনার প্রতিক্রিয়ায় জানালেন, ইউ টিউবে উনি উনার পারিবারের অন্যান্য সদস্যের সাথে যখন ভিডিওটি দেখছিলেন, উনার ভাষায় লজ্জায় মাথা কাটা যাচ্ছিল। এবার আমি ক্লু পেলাম ইউ টিউবে বক্তব্যটি পাওয়া যাবে। আমি ইউ টিউব এ সার্চ দেবার সাথে সাথে শিকার পাবার মত পেয়ে গেলাম। দেখতে লাগলাম, একসময় দেখা শেষ করলাম একবুক কষ্ট নিয়ে। মনে হয় সবাই আপনারা দেখেছেন, তাই ব্যখ্যা করব না। বিশেষ কোন দূর্ঘটনা বা আঘাত যেমন মানুষকে বারবার এমন কি ঘুমের ঘুরেও বিচলিত করে তোলে, মা, বোন,মেয়ে ও সহধর্মিনীর জাত মেয়ে মানুষকে নিয়ে যে হীনমন্য বাক্য তিনি ব্যবহার করেছেন তা বার বার আমার কানে প্রতিধ্বনি করছিল।
৭১ সালের যুদ্ধাপরাধী গোলাম আজমের রায় হল, সব গুলো অপরাধ সন্দেহাতীত ভাবে প্রমাণ হবার পরও তাকে ৯০ বছরের কারাদন্ড দেয়া হল। আমি কোন মন্তব্য না করে শ্বশ্রদ্ধ ও বিনয়ের সহিত মাননীয় বিচারককে একটু ভাবতে বলব, আপনি যদি ওই ব্যক্তির বা তার সাংগপাংগের হাতে পড়েন আপনাকে কি তারা বিচারক ভেবে ছেড়ে দেবে? না তাগুতি আইনের বিচারক বলে বিনা কোন প্রভুর নামে উৎসর্গ করবে। আসলে আমরা জাতি হিসেবে খুবই ভোলো, আমরা সহজে সব কিছু ভুলে যাই। এর ফল আজকের হেফাজত, আর তার খেশারত আমাদের যতটুকু দিতে হবে তা তো দিবই, তার চেয়ে হাজার গুন বেশী দেবে আমাদের সন্তান ও উত্তরসূরিরা।





মন্তব্য করুন