বিশ্বজিতের আত্নীয়রা মরবে হাজার বার
সময়ের প্রয়জনে পোষ্টটি দিলাম। আমার মনে হয় এ লেখাটি আমি আমরা বন্ধুর সদস্য হবার পূর্বে লেখা।
আমি রাজনীতি করি না, রাজনীতি বুজি না। তবে দেশের ভাল যাতে হয় সেটা সব সময় কামনা করি।
যেদিন বাংলাদেশের খেলা থাকে, আর বাংলাদেশ হারবে মনে হয় আমার মেয়ে টিভি বন্ধ করে দেয়। কারন আমার হাই ব্লাড প্রেশার। বাংলাদেশ হারলে প্রেশার বেড়ে যাবার সম্ভাবনা ৯০ভাগ। আমার দেশে জন সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে কিন্তু কারও একের জায়গায় দশটি সন্তান হলেও যেমন তার কাছে বোজা হয়ে যায় না। তেমনই আমার দেশ মাতা যত দরিদ্রই হউক আমাদেরকে কখনো ফেলে দেন না এবং না খাইয়ে রেখেছেন কেঊ বলতে পারবে না।
দুর্ণিতিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়া, বিভিন্ন রাজনৈতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও আমার বিশ্বাস সকল ক্ষেত্রে দেশের ঊন্নতি হয়েছে। তারজন্য সরকারের পাশাপাশি আমাদের দেশের বেসরকারি ঊদ্যোগতারা বেশী প্রশংসার দাবিদার এটা আমার দাবি।
যা হউক আমার লেখার ঊদ্দেশ্য এটা না। আমার ঊদ্দেশ্য হল বিশ্বজিত হত্যা কান্ড নিয়ে। দিনে দুপুরে একটা নিরীহ ছেলেকে কুপিয়ে কুপিয়ে হত্যা করল। আর তাদের খুনিদের পরিচয় নিয়ে একেক জনের একেক বক্তব্য কি করে হতে পারে? আমি তখন বাহরাইনে যতদুর মনে পড়ে তিন বন্ধুর দু বন্ধু একটি মোবাইলের লোভে এক বন্ধুকে খুন করে। একটি ভিডিও ক্যাসেডের সুত্র ধরে গোয়েন্দা পুলিশ হত্যাকারিকে খুজে বের করে, ব্রাম্মনবাড়ীয়ার আলোচিত নিদারাবাদ হত্যাকান্ডের হোতা তাজুল ইসলামকে তাবলীগ জামাতের আস্তানা থেকে ধরা সবি আমাদের দেশের গোয়েন্দা বিভাগের সফল কাজ। এ রকম হাজার হাজার ঊদাহরন আছে আমাদের গর্বের বিভিন্ন বাহিনীর। সে সময় প্রবাসে আমারা গর্ব করে বলতাম স্বল্প সুযোগ সুবিধা নিয়েও আমাদের দেশের গোয়েন্দারা কত জটিল জটিল কেসের সমাধান করছেন। আমার বিশ্বাস এখন আমাদের দেশের ঊন্নতির পাশাপাশি সকল ক্ষেত্রে সুযোগ সুবিধাও বেড়েছে।
তবে বিশ্বজিত হত্যাকান্ড নিয়ে এত গুটি চালাচালি কেন? বিশ্বজিতের হত্যাকান্ডের ভিডিও তার বাবা মা নিশ্চয়ই দেখেছেন। চাপাতির যে আঘাতগুলো বিশ্বজিতকে করা হয়েছে তাতে বিশ্বজিত তো মারাই গেল, কিন্তু তার বাবা মা ভাই বোনেরা যতবার মনে করবে এক একটি চাপাতির কোপ হাজার হাজার চাপাতির কোপ হয়ে তাদের কে কি ক্ষত বিক্ষত করবে না? সাথে সাথে তার আত্নীয়দের প্রত্যেকে কি হাজার বার মৃত্য বরন করবে না? শুধু বিশ্বজিত কেন সাধারন জনগণ আমার বর্ণিত এ জ্বালা বা কষ্ট থেকে কেঊ কি মুক্ত?
সকল ঘটনা মনে দাগ কাটে না। কিন্তু বিশ্বজিতের হত্যাকান্ড যেভাবে দেশে বিদেশে মানুষকে, মানুষের বিবেক কে নাড়া দিয়েছে, তাতে যদি সঠিক হত্যাকারীকে খুজে বের করে বিচার না করা হয় তবে ছোট মুখে একটি কথা বলছি, আগামি নির্বাচনে নিশ্চয়ই এর প্রভাব পড়বে। আমার বিশ্বাস, আমাদের দেশের জনগণ এখন আর আবেগ ও মার্কা দেখেই ভোট দেন না। জনগণ এখন অনেক সচেতন। আর ইতিহাস যা বলে তা হল সীমা লংগন কারী বেশী দিন টিকে থাকে না।
মধ্যপ্রাচ্যে একটা কথা বহুল প্রচলিত, তা হল, কাঊকে কোন কাজের কথা বললেই বলেন, ইনশাল্লাহ অর্থাৎ আল্লাহ যদি চাহেন। কিন্তু সে মুখে ইনশাল্লাহ বললেও মনে মনে হয়ত বলছে আমি তোর কাজ করবো না। তাই আমারা বলতাম ইনশাল্লাহটা কি বাংলাদেশি না বাহরাইনি। যদি বলত বাংলাদেশী তখন মনে করতাম যে, না কাজটা সে অবশ্যই করবে। তাই সরকারকে অনুরুধ বাহরাইনই ইনশাল্লাহর মত ডিপ্লোম্যাটিক বক্তব্য পরিহার করে সত্যিকার তদন্ত করে বিশ্বজিতের হত্যাকান্ডের সঠিক বিচার করবে এটা আমি যেমন আসা করছি দেশের আপামর জনতাও আশা করছেন। আর তাতেই সবার মঙ্গল হবে।
মোঃ আবুল হোসেন
১৪ই ডিঃ ২০১২
ঊত্তরা ঢাকা 





বিশ্বজিতের মতো আর কাউকে যাতে জীবন দিতে না হয়, সেজন্য আমাদের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দদেরকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে ক্যাডার পলিটিক্স বন্ধ করতে হবে
সহমত
মন্তব্য করুন