সময় যে বহে যায়
এখন রাত ২টা। ঢাকা শহরের এই এলাকাটা এমনিতে দিনের বেলাতেও তেমন কোলাহল মুক্ত থাকে। প্রাইভেট কার, সি,এন,জি, টেক্সিক্যাপ, রিক্সা ও পথচারীর চলাচল ছাড়া মাঝে মাঝে ফেরিওয়ালার হাকডাক শুনা যায়। আর এখন গভীর রাত, রাস্তার বৈদ্যুতিক আলো ও কাছে দুরের নির্মাণাধীন ইমারতের নিরাপত্তা বাতিগুলো রাতের নিকস কালো আধারের কিয়দংশ দুর করলেও বাকি জায়গাগুলোর অন্ধকার দুর করার কাজটি মহান সৃষ্টিকর্তার নির্দেশে আজন্ম থেকে যে চাঁদ মামা করে আসছিলেন, আজও তিনি তাই করছেন।
জানালার পর্দা গলিয়ে উঁচু ইমারতের ৬ম তলার সমান্তরাল বা আকাশের দিকে তাকালে আলোর বন্যায় সব যেন ঝকঝকা ফকফকা, কিন্তু নিচে তাকালেই ভিন্ন চিত্র। রাস্তার দু ধারে বা দু ইমারতের মাঝের ফাকা জায়গায় স্বল্প গভীর শিকড় জাতীয় বৃক্ষ রোপণ করতঃ শান পাথরে বাধানো এ শহরকে খানিক সবুজায়নের চেষ্টা করা হয়েছে। চান্দ মামার আলোর রশ্মি যখন এ বৃক্ষাদির পত্র পল্লবের উপর পতিত হয় তখন গাছের নীচে এক অদ্ভুত আবছায়ার সৃষ্টি হয়। এ যেন বাত্তির নীচে অন্ধকারের মত। নিশুতি রাতের শীতল সমীরণ যখন পত্র পল্লব ছুয়ে যায় তখন গাছের নীচের আবছায়াগুলো যেন নৃত্য রসে মেতে উঠে।
ভালই উপভোগ করছিলাম নিশুতি রাতের আলোছায়ার এই খেলা। হঠা ৎ খুপড়ির মধ্যে ভুত এফ এম ৮৮.০তে প্রচারিত কিছু ঘটনা নাড়া দিতে লাগল। আচ্ছা আলো ছায়ার এ খেলার ভিতর থেকে কয়েকটা ভুত বা পেত্নী যদি কম উঁচু ভবনের ছাদে এসে ওদের ভাষার কাই মাই সুরে সঙ্গীত এবং তাদের সঙ্গীতের তালে তালে কথক, ঠুমরী বা ভরত নাট্যমের নাচ আরম্ভ করে, তখন কি আমি তাদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করব, নাকি গরমে হউক বা যে কোন কারনেই হউক, হার্ট এটাক বা অন্যান্য যে সব কারনে ইদানিং লোকজন তড়িঘড়ি ইহলৌকিক কর্মকান্ড সমাধা করে পরপারের বাহনে সওয়ার হচ্ছে, তেমন কিছু একটা ঘটবে নাতো। কিছু ঘটুক বা নাই ঘটুক রাত এখন আরও এক ঘণ্টা বেড়ে তাঁর অন্তিম লগ্নে এসে পৌছেছে। অর্থাৎ রাত তিনটা। ঘুমানো দরকার।
নিশুতি রাতের সৌন্দর্য দেখতে দেখতে ভিতর পানে কি হচ্ছে তা এতক্ষন ইন্দিয়ের আওতার বাইরে ছিল। পাশে আমার উনি শুয়ে আছেন। নিদ্রাদেবী উনাকে যে অন্তরের অন্তস্থল থেকে বহুত মহব্বত করেন তা আপনাদেরকে জোর গলায় বলিতে পারি। নইলে বিছানায় গা লাগিয়েছেন তো সাথে সাথে নিদ্রা মা তাকে আদর করতে লেগে যান। ইদানিং মা তাকে আরও একটি উপঢৌকন দিয়েছেন। মনে হয় নিজের হাতেই দিয়েছেন। আকাশ বাতাস নদী সাগড় ঝর্ণা মৌমাছি পাখিসহ সকলেরই নিজস্ব একটা সুর ও সংগীত আছে। আমার মনে হয় সকল মায়েরা তাদের শিশুদের গিত, সংগীত,সুর বা লরি শুনিয়ে নিদ্রার কুলে পাঠান। কাজেই মায়েদের এ সুর যে কত সুধামিশ্রিত তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু দেবী মা তার ভক্তদের সুর তাল লয় বিহীন যে নাসিকা সংগীত প্রদান করেন তার অর্থ বুঝার সাধ্য আমার তরে যেমন সুদুর পরাহত তেমনি শুধু বিরক্তিকর নয়, রিতীমত রাগে দু:খে যুদ্ধংদেহী করে তোলে। কিন্তু কিছু তো আর করার নাই। সে যে সন্তান রুপে মমে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সম্পদ দান
করেছে।
ঘুম তবু আসছে না, উর্ধ্ব নয়নে ছাদের পানে চেয়ে চেয়ে আমার দেহ মন প্রাণকে যে ভাবনায় নিথর করে তুলেছে।
মোর ভাবনাকে রেখেছ আকীর্ণ করে
কভু দাওনা মমে নিবিষ্ট হতে
মম অন্তরে।
এক বিগত দুরে মম কন্ঠ পরি
তব বাস।
তবু দেখিতে নারি
খুজছি, যুগ যুগ ধরি
প্রতিদিন বছর মাস।
কি করে পাব
তুমে
তব ছলনায়
তব কারিস্মায়
আকীর্ণ রিদয় দেহ মন প্রাণ
সংসার প্রকৃতি প্রেম আরও
যা আছে
হরণ করিছে সদা মম সত্বা।
না পারি ওসবে ত্যাজিতে
না পারি জিতিতে
শুধু সময় বহে যায়।
কিছুই হয় না
তবু আকন্ঠ পরি
তুমে হেরিতে
ক্ষনকাল সময় না পারি করিতে আমার।
তুমে হেরিতে হায়,
হায় সময় যে বহে যায়।।
(চলবে)
সিরাজগঞ্জ,
এপ্রিল,০৩, ২০১৪ খ্রীঃ





রাতের বয়ান ভাল্লাগছে, সুন্দর লেখা।
বিষন্ন ভাইয়্যা,
মনটা যার এত ভাল সেই তুমি বিষন্ন। আমার বাসার পিসি হাসপাতালে। মোবাইলে যা লিখি তা স্বল্প আকারে ফেবু তে পোষ্ট করতে পারি। তাই তোমার জবাব দিতে দেরী হলো। তোমাদের পুরনো বন্ধু প্রিয়াকে নিয়ে দু লাইন লিখে ফেলেছি। জানিনা ঠিক লিখেছি কিনা। যদি রেগে যায় সামলিও।
তোমার মন্তব্য আমাকে সব সময় উৎসাহ যোগায়। এবারও তাঁর ব্যতিক্রম নয়। ভাল থেকো।
প্লিজ ঘুম হয়ে যাও চোখে আমার মন খারাপের রাতে............ গানটা শুনে দেখতে পারেন কি অবস্থা দাঁড়ায়।
গানটা আমি শুনিনি, তবে গানের কথা পড়েই বুঝতে পারছি অনেক গানটা শুনলে কাজে দেবে।
তবে সেদিন আমার মন খারাপ ছিল না। ভাবনা গুলো আমাকে ঘুমুতে দেয় নি।
আজ আমার মন খারাপ। কারণ আমি আজ আমার ছেলে, মেয়ে ও আমার ওর কাছ থেকে দুরে।
" তুমি কি পূর্ণিমার বিধৌত জ্যোৎস্না রাতে
অবণী পরে অবনীত হয়েছিলে,
নাকি তোমার নানি তোমাকে
জোনাকি পোকা, ফুলের পাপড়ি
নয়ত শতদল কচলিয়ে
তব চেহেরেমে লেপে দিয়েছিল
নইলে রকেট লাঞ্চারসম হাসি তুমি
পেলে কোথা থেকে,
যা মহাবিশ্বের সকল কবির কবিতার পঙক্তিকে
করে স্তব্দ।
সর্বস্ব করে ছিন্ন ভিন্ন।
মন্তব্য করুন