ইউজার লগইন

সময় যে বহে যায় ( ২য় ও শেষ পর্ব)

সময় যে বহে যায় ( ২য় ও শেষ পর্ব)
হাজারও ভাবনা ভাবতে ভাবতে এক সময় মসজিদের শহর ঢাকা, আর আমার বাসা থেকে ২০০ মিটার দুরের মসজিদ থেকে মাইকের সাহায্যে মোয়াজ্জিনের কন্ঠকে বহুগুণ বৃদ্ধি করে আল্লাহু আকবর, আল্লাহু আকবার আরবী শব্দ উচ্চারনে আজান ভেসে আসতে লাগল। ঠিক এ সময় মন্দির প্যাগোডা হতেও কাসার ঘণ্টায় এবং প্রত্যেক ধর্মই যেহেতু প্রভাত প্রার্থনার জন্য আহবান জানান। তারাও নিশ্চয়ই আহবান জানাচ্ছে, কিন্তু আমার বাসস্থানের এ স্থান
থেকে তা আমার কর্ণ গোচর হচ্ছে না। তা হোক বা না হোক, আমার বা পৃথিবীর প্রতিটি প্রানীর জীবন থেকে আরও একটি সুন্দর দিন ও সুন্দর রাত বিয়োগ হয়ে গেল। তা প্রার্থনার আহবানে সাড়া দিয়ে আমরা প্রভুর দানের কৃতজ্ঞতা জানাই বা না জানাই।
আমি সারা রাত জেগে জেগে কি সব ভেবে শধু রাত্রি জাগরনের মহরাই দিলাম। আমার ধর্মমতে যে ভাবে রাত জাগরণ করতে বলা হয়েছে সে ভাবে যদি জাগরণ করতে পারতাম তবে আমায় হতাশাময় কবিতা লিখতে হতো না।
মোর ভাবনাকে রেখেছ আকীর্ণ করে
কভু দাওনা মমে নিবিষ্ট হতে
মম অন্তরে।
এক বিগত দুরে মম কন্ঠ পরি
তব বাস।
তবু দেখিতে নারি
খুজছি, যুগ যুগ ধরি
প্রতিদিন বছর মাস।
কি করে পাব
তুমে
তব ছলনায়
তব কারিস্মায়
আকীর্ণ রিদয় দেহ মন প্রাণ
সংসার প্রকৃতি প্রেম আরও
যা আছে
হরণ করিছে সদা মম সত্বা।
না পারি ওসবে ত্যাজিতে
না পারি জিতিতে
শুধু সময় বহে যায়।
কিছুই হয় না
তবু আকন্ঠ পরি
তুমে হেরিতে
ক্ষনকাল সময় না পারি করিতে আমার।
তুমে হেরিতে হায়,
হায় সময় যে বহে যায়।।
১। হে বস্ত্র আচ্ছাদনকারী। ২। রাত্রিতে দণ্ডায়মান হও কিছু অংশ বাদ দিয়ে ৩। অর্ধ রাত্রি কিংবা তদপেক্ষা অল্প। ৪। বা তদপেক্ষা বেশী।
উপরের চারটি আয়াত সুরা মুযযাম্মেল এর বাংলা অনুবাদ। চারটি আয়াতেই আল্লাহ্‌ রাব্বুল আলামিন আমাকে যা হুকুম করেছেন তাঁর বরখেলাপ করেছি। আমি তো রাতে দণ্ডায়মান হইনি, আর আমাকে তো সারারাত জাগতে বলেননি, বলেছেন অর্ধ রাত্রির কিছু কম বা বেশী।
কারন সারারাত জাগরণ করলে আমি দিবাভাগে কাজ করতে পারব না। আর দিবাভাগে কাজ না করলে আমার রুটি রুজির যোগার কি করে হবে।
৪।কোরআন আবৃত্তি কর ধীরে ধীরে ও স্পষ্টভাবে।
আমি তো আজ কোরআন পড়িইনি, ধীরে ধীরে ও স্পষ্টভাবে, সে তো সুদুর পরাহত। কিন্তু আমি যদি অর্ধ রাত্রি তক জেগে কোরআন পড়তাম, ফরজ নামাজ আদায় করে অন্যান্য নফল ইবাদত করতাম নিজের সব কিছুর দায়ীত্ব আমার মহান সৃষ্টি কর্তার উপর ভরসা করে নিদ্রার কুলে নিজকে সপে দিতে পারতাম, তবে বিনিদ্র রজনী পার করে আজ ঘুম ঘুম আঁখি নিয়ে অফিসের কাজ করতে হতো না।
তবে রাত্রি জাগরণ আমার একেবারে বৃথা গেছে বলব না। আমি মহান সৃষ্টি কর্তার অপার সৃষ্টির মহিমা দেখে যেমন নয়ন সার্থক করেছি,পাশাপাশি তাকে নিয়েও ভেবেছি, তবে আমার মত করে।
৬। উপাসনার জন্য রাত্রি জাগরণ কঠিন কাজ কিন্তু হৃদয়ঙ্গম করার পক্ষে অতিশয় অনুকুল।
হে মহান সৃষ্টিকর্তা আমার পক্ষে আর ভাবনা সম্ভব নয়।আমি তোমার একটি করে বাক্য পড়ি আর নিজেকে অথৈই সমুদ্রে হাড়িয়ে ফেলি। তাই আমি আমার ক্ষুদ্র ভাবনার এখানেই সমা প্তি করলাম। এই চেয়ে বেশি ধারন করতে বা ভাবতে গেলে নিজেই হয়ত হারিয়ে যাব।
তাই তুমি তোমার মহিমান্বিত স্থান থেকে তোমার রহমত যেভাবে দিচ্ছ তাই দাও, আর আমাকে দাও সে শক্তি, তোমার দানের শুকরিয়া আদায় করার।
চৈত্র,০৫,২০১৪
এপ্রিল,১৮,২০১৪
সিরাজগঞ্জ।

পোস্টটি ৮ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

আহসান হাবীব's picture

নিজের সম্পর্কে

তোমার সৃষ্টি তোমারে পুজিতে সেজদায় পড়িছে লুটি
রক্তের বন্যায় প্রাণ বায়ু উবে যায় দেহ হয় কুটিকুটি।।
দেহ কোথা দেহ কোথা এ যে রক্ত মাংসের পুটলি
বাঘ ভাল্লুক নয়রে হতভাগা, ভাইয়ের পাপ মেটাতে
ভাই মেরেছে ভাইকে ছড়রা গুলি।।
মানব সৃষ্টি করেছ তুমি তব ইবাদতের আশে
তব দুনিয়ায় জায়গা নাহি তার সাগরে সাগরে ভাসে।
অনিদ্রা অনাহার দিন যায় মাস যায় সাগরে চলে ফেরাফেরি
যেমন বেড়াল ঈদুর ধরিছে মারব তো জানি, খানিক খেলা করি।।
যেথায় যার জোড় বেশী সেথায় সে ধর্ম বড়
হয় মান, নয়ত দেখেছ দা ছুড়ি তলোয়ার জাহান্নামের পথ ধর।
কেউ গনিমতের মাল, কেউ রাজ্যহীনা এই কি অপরাধ
স্বামী সন্তান সমুখে ইজ্জত নেয় লুটে, লুটেরা অট্টহাসিতে উন্মাদ।
তব সৃষ্টির সেরা জীবে এই যে হানাহানি চলিবে কতকাল।
কে ধরিবে হাল হানিবে সে বান হয়ে মহাকাল।।