আমি এখন খুলনায়(দ্বিতীয় পর্ব)
আমি এখন খুলনায়(দ্বিতীয় পর্ব)
ঘুম থেকে উঠে খুজতে গিয়ে দেখি একটি মোবাইলের চার্জার ও এয়ার ফোন ছেড়ে এসেছি। নিচে গিয়ে খোজাখুজির পর এয়ার ফোন পেলাম কিন্তু চার্জার পেলাম না। কিছু হালকা স্নেক্স ও সফট ড্রিংস নিয়ে রুমে ফিরলাম। খেতে খেতে আই, পি, এল এর খেলা দেখলাম। তারপর ডিসকভারি দেখা, বাসায় কথা বলা সেরে আবার, আমার প্রিয় ও ভীষণ ভালাবাসা নিদ্রামায়ের দরজায় কড়া নাড়তে লাগলাম। মনে হয় মা জননী খুব বেশী দেরী করেননি।তার ঘরে প্রবেশ করার পর কি যে মায়ার জালে সে বাঁধে বের না হওয়া পর্যন্ত কিছু মনে করতে পারি না। কেউ কেউ নাকি তার ঘরের মায়ায় এমনি জড়িয়ে যায় আর ফিরতেই পারে না।
আমি যখন নিদ্রাদেবীর ঘর থেকে বের হলাম, দিনশুরুর প্রার্থনার আহবান শুনতে পেলাম। মসজিদে গিয়ে সে আহবানে সাড়া দিলে ২৭গুন বেশী নেকী পাওয়া যায়, তবুও আমার মসজিদে তেমন একটা যাওয়া হয় না। আমার কেন জানি একান্তে নিজের ঘরে একাকী ডাকলেই আমার স্বত্বাকে তার কাছে বেশী বিলীন করতে পারি।কিন্তু আমি নিজেকে বিলীন করলেও সে তো আমাকে তার কাছে নেয় না। আমার কন্ঠপরি নাকি তার বাস, তবু আমি তারি দেয়া অক্ষির পাতা বন্ধ করে মন দৃষ্টি দিয়ে তাকে দেখতে চাই দেখতে পাই না। শুধু অনুভব করতে পারি সে অনেক অনেক দূরে।তাতে বুঝতে পারি তাকে ডাকার মত করে আজও ডাকতে পারিনি।
অনেকটা রিলাক্স মোডে রুম থেকে বের হলাম হোটেল ক্যাসেল সালামের রেষ্টুরেন্টে নাস্তা করার জন্য। হোটেল ক্যাসেল সালামে সকালের নাস্তার ফ্রি। ফ্রি বলতে ভাড়ার সাথেই হোটেল কতৃপক্ষ এটা সমন্বয় করে নিয়েছে। তার পরও যেহেতু নগদ পে করতে হয় না,আমার কাছে ফ্রিই মনে হল।
বুফে সিস্টেমের নাস্তার মেনু দেখলাম, চমৎকার। লুচি, পরাটা, ডাল, আণ্ডা ভাজা, বা পোচ, সরবত, কিছু ফল, চা, কফি, সেমাই, পায়েস আরও মনে হয় কিছু ছিল।
একেতো রাতে হালকা খেয়েছি, তদুপরি মাঙনা পেলে নাকি বাংগালী আলকাতরা খায়, আর এসব তো আলকাতরা নয় উপাদেয় খাবার, তাই শরীর বাবাজিকে বললাম তুই যাই মনে করিস,কর,আমি ছাড়ছি না।একে একে কোনটা বাদ না দিয়ে দিলাম আচ্ছা একখান খাওয়া, মনে হচ্ছিল আলকাতরা খাওয়াকেও হার মানিয়ে দিয়েছি।সবার শেষে চায়ের সাথে হালকা কফিদানা দিয়ে আমার উপাদেয় চা বানিয়ে চুমুক দিতে আরম্ভ করেছি, দেখি ইনভেন্টরি বিভাগের দুই কর্মকর্তা নাদুস নুদুস চালে এগিয়ে আসছেন।
স্যার নাস্তা খেয়েছেন?
জ্বি, খেয়েছি, মনে মনে ধন্যবাদ দিলাম দেরী করে আসার জন্য না হলে মাঙনা পাওয়া খাবারটা ঠিকমত ওয়াসিল করতে পারতাম না।
দেখলাম উনারাও কম যান না।
হাজী সাব ফোন করলেন স্যার পিক আপ পাঠাব। সকাল সকাল টুনটুনি পিক আপে চড়তে ইচ্ছা হল না, তাই বললাম প্রয়োজন নেই। মামুন ও সারোয়ার সাব আছেন উনাদের সাথে সি,এন,জি করে চলে আসতে পারব। অবশ্য আজ যখন এ লেখা লিখছি তখন এ প্রজেক্টে আমার জন্য নির্ধারিত গাড়ী চলে এসেছি।
সাইট অফিসে পৌছে কিছক্ষন হাতের ব্যায়াম করতে হল পরিচয় পর্ব সাড়ার জন্য। এরই মাঝে আমার প্রাণের দোস্ত নামটা বলা যাবে না, তার নিষেধ আছে, তাকে নিয়ে ব্লগ, গ্রুপ বা ফেবুতে কিছু লেখার।সে ফোন করল। দোস্ত তুমি কোথায়? আমি অফিসে।
দূর মিয়া অফিসে কি কর?
চব্বিশ বছর পর দেখা হবে,আমার যেমন ঠিক তারও তেমন তর সইছিল না। তারাতাড়ি আমার অফিসে আস।
হাজী সাবকে নিয়ে রওনা দিলাম, যার সাথে সাড়ে চার বছর এক সাথে পড়েছি সেই বন্ধুর সাথে ২৪বছর পর দেখা করতে।
বলা বাহুল্য আমি যে কোম্পানির জি,এম সেই কোম্পানি যে সরকারি বিভাগের কাজ করছে সে সেই সরকারি বিভাগের একজন পদস্থ কর্মকর্তা।
তাই এ প্রজেক্টে আসার আগে তাকে বলেছিলাম দোস্ত আমরা একসাথে পড়েছি এটা গোপণ রাখতে হবে। কিন্তু ওর অফিসে যাবার পর ও তা পারেনি।পদস্থ অন্যান্য কর্মকর্তা, এমন কি তার বসকেও পরিচয় করাল বন্ধু হিসেবে, তারপর আমার বর্তমান কর্ম পরিচয়।
হাজী সাব জানতেন সে আমার বন্ধু তাই ওর রুমে আমাকে দিয়ে টেকনিক্যালি কেটে পড়ল।দুজনে স্মৃতির পাতা উল্টাতে আরম্ভ করলাম, একেক পাতার এক এক রং। এক এক পাতায় লেখা এক এক রকম, এমন কি একি পাতার বিভিন্ন প্যারায় বিভিন্ন স্মৃতি।
আমাদের বন্ধুদের গর্ব আর এক বন্ধু শামীম মাহবুবুল হক পলাশ। যে রাজনৈতিক কিছু বিষয় না থাকলে হয়ত এতদিন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হতো।তাকে সে ফোন করল। পলাশ একটা মিটিং এ ছিল তাই শুধু আমার খুলনা আগমনের বিষয়টি অবহিত করে ফোন রেখে দিল।
চাইনিজ কোম্পানি সাংহাইয়ের প্রজেক্ট ম্যানেজারের সাথে আমার সাক্ষাৎ হবার সময় দেয়া ছিল, তাই খুব বেশি সময় দু বন্ধু কাটাতে পারলাম না। উঠতে হল।
সাংহাই এর অফিস থেকে বের হয়ে আমার অফিসে এলাম।অফিসে বসে মেইল খুলে দেখছিলাম।
সেল ফোনটা চিল্লাতে আরম্ভ করল,দেখি পলাশের ফোন।
দোস্ত তোমার মেনু বল।
কোন মেনু নাই।চা নাস্তাই যথেষ্ট।
আরে না, আমার দুপুরের পরের সব প্রোগ্রাম বাতিল করেছি, তোমার ভাবিও আজ আর বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবে না।তোমার জন্য স্পেসাল কিছু করবে।
এখানে না বল্লেই নয় আমার দুইই বন্ধুর সহধর্মীনিগন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক।
সব ভাবিরাই ভি আই পি কিন্তু এই ভাবিরা যে সত্যি সত্যি ভি, আই, পি। আমার অনেক বন্ধুর সহধর্মিনীগন সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অনেক বড় বড় পদে কর্মরত আছেন।তাই আপনারা কিছু মনে করবেন না।
আমি বললাম ভাবির যা পছন্দ তাই করুন, আমার কোন কিছুতে সমষ্যা নেই।
শুটকি চলে,
আরে বল কি?
তা হলে আজ এটাই হবে তোমার জন্য স্পেশাল।
আমার আবার ডাক পড়ল সরকারি কর্মকর্তা বন্ধুটির অফিসে।
এই মিয়া কি কর?
তারাতাড়ি আমার অফিসে আস।
গেলাম।
আমি সন্ধ্যায় পলাশের বাসায় যাওয়ার কথা বললাম,সাথে ওর প্রতি পলাশের
অভিযোগের বিষয়টিও জানালাম।
দীর্ঘদিন ওরা পাশাপাসি থাকলেও পলাশের তুলনায় এই বন্ধুটি কম পলাশের বাসায়
কম গেছে।
সাথে সাথে ও ফোন তুলল। আমি থামালাম, ও এখন ঘুমাচ্ছে।
আমি ভেবেছিলাম হোটেলে ফিরে ফ্রেস হয়ে পলাশের বাসায় যাব। কিন্তু বন্ধুটি বলল
না অফিস থেকে সরাসরি যাব। আমিও আপত্তি করলাম না। আড্ডা দেবার সময়
একটু বেশি পাওয়া যাবে।(চলবে)
মে,৩০,২০১৪ খ্রীঃ
খুলনা।





ঘুরে এলাম খুলনা থেকে।
হাবীব সাহেব কেমন আছেন?
মন্তব্য করুন