ইউজার লগইন

কেউ আজ কেউ কাল

কেউ আজ কেউ কাল
আবুল হোসেন
২১/১/২০২২

ছয়দিন ছুটি কেমনে যে চলে গেল টেরই পেলাম না।
আজ (২১.১.২০২২) সকাল আটটার মধ্যে অফিসে যোগদান করার কথা। কিন্তু প্রথম থেকে প্রজেক্ট ম্যানেজাট, ক্যাম্প কমান্ডার এর সাথে সম্পর্ক ভালো থাকায় আর শুক্রবার এমনিতেই ছুটি তাই দেরীতে যাবার সিদ্ধান্ত নিলাম।
আমার বাসা মানিকদী, অফিস কাম রেসিডেন্স হাসনাবাদ বসুন্ধরা রিভারভিউ সিটিতে।
আমার ইন্জিনিয়ারিং এ পড়ার বন্ধু মাহমুদুর রহমান খোকন হার্টের ও আরো কিছু সমষ্যা নিয়ে স্যার সলিমুল্লা মেডিকেলে ভর্তি আছে।
যাবার সময় ওকে দেখে যাব তাই এই দেরী করার সিদ্ধান্ত।
আজ শুক্রবার, গিন্নীরও অফিস নাই। ওকেও সাথে নেই। একসাথে আরো কয়েক ঘন্টা থাকা যাবে, আর ওরও একটু রিলাক্স হবে।
রাতে বললে তরকারি রান্না করে রাখতাম শুক্রবার ছেলেমেয়ে ভালোমন্দ কিছু খেতে চায়। সমস্যা নাই যা আছে তাই খাবে। আর ওরা যদি চায় ওদের পছন্দমত খাবার রেষ্টুরেন্ট থেকে নিয়ে আসবে।
ঐতিহ্যবাহী জ্যামের শহর ঢাকা, তার উপর পুরান ঢাকা। মনে হলেই ভয় লাগে। তবে আজ শুক্রবার ভয়টা একটু কম।
হলোও তাই, দু এক জায়গা ছাড়া তেমন কোন জায়গায় আটকাতে হলো না।
বন্ধু তপনের দেয়া,২নম্বর বিল্ডিং এর তিনতলার ৩০১ নম্বর রুমের ১০নম্বর বেডে খোকান আছে কি না, কনফার্ম হবার জন্য গিন্নিকে গাড়ীতে রেখে উপরে গেলাম।
হাজারো মানুষের ভিড়ে আমরা যেমন নিসংগ থাকি, রুমে ঢোকেই খোকনকে তেমনই মনে হলো।
আমাকে দেখে ওর চোখ দুটি কেমন যেন চিকচিক করে উঠলো।
কেমন আছ বন্ধু। আজ একটু ভালো।
তোমার ভাবিও এসেছে। গাড়ীটা নিরাপদ জায়গায় পার্ক করে ওকেও নিয়ে আসি।
ফিরে এসে জিজ্ঞেস করলাম ভাবি কোথায়? নিচে গেছে, এখনি চলে আসবে।
ক্ষনিকে ভাবিও চলে আসলো। আমার গিন্নীর সাথে পরিচয় করিয়ে দিলাম।
বেডে ঝুলানো প্রেসক্রিপশন গুলো গিন্নি দেখতে লাগলো আর আমি খোকনের কাছে বর্তমান অবস্থা জানলাম।
অক্সিজেন সেচুরেশন লেভেল কম হওয়ায় এনজিওগ্রাম করা যাচ্ছে না। ওর বুকে কম বেশী সব সময় ব্যাথা করে। শুয়া থেকে উঠলে ক্লান্তি বোধ হয়, যেন অনেক পরিশ্রম করেছে।
নিঃশ্বাসেও কষ্ট হয়।
গিন্নি প্রেসক্রিপশন গুলো দেখে বললো সব কিছুই বেশী বেশী, আরো কি জানি একটা বললো ঠিক মনে নেই। সারমর্ম অবস্থা খুব ভালো বলা যায় না।
তবে সবার উপর যিনি তার উপর সব নির্ভর করবে।
চিন্তা করো না বন্ধু। তোমার ক্লাস সেভেনে পড়া ছেলের দিকে তাকিয়ে আল্লাহ তোমাকে রহম করবেন, তুমি সুস্থ হয়ে আবার আমাদের মাঝে ফিরে আসবে। আর আমরা বন্ধুরা আছি, সবাই তোমার সাথে।
আজ কানাডা প্রবাসী বন্ধু উজ্জ্বল ফোন করেছিল এবং PBRLP এর প্রজেক্ট ডাইরেক্টর বন্ধু আফজাল আসবে জানালো।
আফজাল কখন আসবে জানতে ওকে ফোন দিলাম। ধরলো না। ক্ষনিকে কল বেক করে জানালো বিকালে ও আসবে।
অফিস সহকারী ফোন দিয়ে জানতে চাইলো, কখন আসব। আসছি, রাস্তায় আছি।
সত্যি তো আমি অফিসের পথে রাস্তায় আছি, গিন্নি (যদিও ও ঘন্টা তিনেক ছিল ভাবির সাথে) বাসায় ফেরার রাস্তায় আছে। কেউ কেউ জীবন নদীর পারাবারের রাস্তায় আছে, কেউ ইতিমধ্যে না ফেরার দেশে পৌছে গেছে।
তবে সবাইকেই যেতে হবে,
কেউ আজ কেউ কাল।

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

আহসান হাবীব's picture

নিজের সম্পর্কে

তোমার সৃষ্টি তোমারে পুজিতে সেজদায় পড়িছে লুটি
রক্তের বন্যায় প্রাণ বায়ু উবে যায় দেহ হয় কুটিকুটি।।
দেহ কোথা দেহ কোথা এ যে রক্ত মাংসের পুটলি
বাঘ ভাল্লুক নয়রে হতভাগা, ভাইয়ের পাপ মেটাতে
ভাই মেরেছে ভাইকে ছড়রা গুলি।।
মানব সৃষ্টি করেছ তুমি তব ইবাদতের আশে
তব দুনিয়ায় জায়গা নাহি তার সাগরে সাগরে ভাসে।
অনিদ্রা অনাহার দিন যায় মাস যায় সাগরে চলে ফেরাফেরি
যেমন বেড়াল ঈদুর ধরিছে মারব তো জানি, খানিক খেলা করি।।
যেথায় যার জোড় বেশী সেথায় সে ধর্ম বড়
হয় মান, নয়ত দেখেছ দা ছুড়ি তলোয়ার জাহান্নামের পথ ধর।
কেউ গনিমতের মাল, কেউ রাজ্যহীনা এই কি অপরাধ
স্বামী সন্তান সমুখে ইজ্জত নেয় লুটে, লুটেরা অট্টহাসিতে উন্মাদ।
তব সৃষ্টির সেরা জীবে এই যে হানাহানি চলিবে কতকাল।
কে ধরিবে হাল হানিবে সে বান হয়ে মহাকাল।।