কৈশরের চান রাত
Chan rat e "chan glass" kina
চান রাত। ক্যামেরা হাতে ইফতারের পর বের হওয়া, সোজা নিউ মার্কটে যাওয়া… মানুষের আনন্দ দেখে নিজের আনন্দিত হওয়া…দোকান্দারদের সবচে বেশি আনন্দ…তারা আজকে সারা রাত বেচা বিক্রি করে ভোর রাতে বাড়ি রওনা দিবে।
একবার এক চানরাতে ১১ টার সময় নিউ মার্কেটের ফুটপাতে এক ছেলেকে সান গ্লাস কিনতে দেখছিলাম। খুব হাসি পাইছিল তখন কিন্তু কেন জানি এখন আর হাসি পায় না। হয়ত খুব শখ করে কিনছিল, হয়ত অনেক কষ্টের জমান টাকা।

er moddhe theke kemne select korbe? eta world er one of the complex maze.
ঈদ কবে এটা কে ঠিক করবে? সরকার নাকি চান মামা?
বন্ধুরা মিলে নিউমার্কেটে আড্ডা দিতেছিলাম (প্রায় ১১/১২ বছর আগের কথা), তখনো আমরা কেও নিশ্চিত ছিলাম না কালকে ইদ হবে কি হবে না। রাত প্রায় ১১ টা। হটাত দেখি সবাই ছুটাছুটি শুরু করে দিছে। কারন কি? এক লোককে জিগাসা করলাম। সে বলল কালকে নাকি ইদ। আমরাও তারাতারি বাসায় এসে সুনলাম একটু আগে নাকি টিভিতে ঘোষনা দিছে কালকে ঈদ। তখন বুঝছিলাম ঈদ কবে হবে এটা চান মামা ঠিক করে না, সরকার ঠিক করে।
চান দেখার জন্য চিম্বুকে উঠতে মঞ্চায়
১৯৯৭ সালের কথা। ঈদের চাদ কোথাও দেখা যায় নাই। আমরা সবাই হতাশ হয়ে চিন্তা করতেছি আরো একটা রোজা বেশি রাখা লাগবে(ঐ বয়সে আমি চ্রম রোজাদার ছিলাম)। তখনি আব্বার ওয়্যারলেসে শোনা গেল “স্যার, চাদ দেখা গেছে”। আব্বা জিগাসা করল “কোথায় দেখা গেছে?” , উত্তর আসল “স্যার, চিম্বুকের উপর থেকে দেখা গেছে”। এখনো মনে পড়লে হাসি পায়। ওয়্যারলেসে তার গলা শুনে মনে হইছিল সে দুনিয়ার সবচে সুখি মানুষ।
হার্টথ্রব এমি
১৯৯৩ সালের কথা। আমরা থাকতাম চট্টগ্রাম নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটির ৩ নাম্বার রোডে। যথারিতি চান রাত। সারাদিন ক্রিকেট খেলা আর রাতের বেলা গল্পের বই পড়া ছাড়া আর কোন কাম কাজ নাই (তখনতো আর এইসব ছাইপাস চ্যানেল, কম্পিউটার, মোবাইল ছিল না)। মেইন পয়েন্টে আসি। আমাদের উল্টাদিকের সামনের বাসার এক তলায় থাকত আমাদের সবার হার্টথ্রব ক্লাস সিক্সে পড়া এমি (আমাদের সমবয়সি)। এমির সাথে আবার লাইন ছিল পাসের বাড়ির মামুন ভাইয়ের। মামুন ভাইরে আমরা কেও দেখতে পারতাম না (আমাদের থিওরি ছিল যেহেতু এমি আমাদের বয়সি তাই আমাদের হক আগে)। শালারে আমরা সবাই ডাকতাম মামু। তখন রাত ৮ টা বাজে। কি কারনে আমি জানালার কাছে এসে দাঁড়িয়ে দেখি মামু এমিদের বাসার জানালা দিয়া চোরের মত ফুসকি মারতেছে। রহস্যের গন্ধ পেলাম (তখন আমাদের জেনারেশন তিন গোয়েন্দার শুধু ক্যাপাসিটর ছাড়া ফ্যান না, পুরা বিদ্যুত ছাড়া এসি) । সাথে সাথে এক দৌড়ে নিচে নেমে এমিদের বাসার গেট দিয়ে ঢুকে দেখি মামু খুব মনযোগ দিয়া এমিদের রুমের ভিতরে কি যেন দেখতেছে। আমি আস্তে আস্তে যেয়ে মামুর পিছনে দাড়ালাম, মামুর এক হাতে একটা ছোট বাক্স, মনে হ্য় এমির জন্য ঈদ গিফট। আমি মামুর কানের কাছে যেয়ে আস্তে বল্লাম “অ মামু, কি দেহ?” মামু মনে হয় কারেন্ট শক খাইল, ব্যাঙ এর মত একটা লাফ দিল (যদি অলিম্পিকে দিত তাইলে আমি শিওর মামু সোনা পাইত) এবং তারপর ভো দৌড়। ১৭ বছর আগের কথা কিন্তু এখনো চান রাত আসলেই মনে পড়ে।
মনে পড়ে যায় সেই কৈশর
এখন আর চান রাত নাই, সবাই যন্ত্র হয়ে গেছে। চান রাতে মোবাইলে সবাইকে একই এসএমএস (যে এসএমএস হয়ত কয়েকদিন পরে পৌছাবে সার্ভার জ্যামের জন্য) করে বিভিন্ন চ্যানেলের সামনে বসা অথবা ইন্টারনেটে ফেসবুকে বসাটাই একমাত্র কাজ পোলাপাইনের। যদি পারতাম তাহলে আবার চলে যেতাম ১০/১৫ বছর আগের সেই সময়গুলাতে। অসম্ভব সুন্দর এবং মজার ছিল আমাদের কৈশরের ঈদ।





হুমমম...যখন যেমন আরকি।ভালো লাগল...স্মৃতিচারন।
মজারু স্মৃতিকথন! ঈদের শুভেচ্ছা জানবেন ভাইজান
মিয়াভাই, শিরোনামের/শিরনামের বানান ভুল চোখে খুব পীড়া দেয় গো! জলদি কৈশোররে উদ্ধার করেন
নস্টালজিক করে দিলেন ... ছোটবেলার চানরাত নিয়ে একটা স্মৃতিকথা লিখতে হাত নিশপিশ করতেছে
আসাদের খবর কি?
নিয়মিত লেখালেখি করো... অস্ট্রেলিয়া নিয়ে লিখো..
কৈশোরের স্মৃতিগুলো এরকম মধুমাখা

যে দেশের পুলাপাইন ক্লাশ সিক্সে এতো পাকনা সে দেশের ভবিষ্যত যে ঝরঝরে হবে তাতে কি কারো কোন সন্দ আছে?
মন্তব্য করুন