একজন সফল অথবা বিফল নারীর গল্প (দ্বিতীয় অংশ)
আমি কেবলি্ স্বপন ও করেছি বপণ ও আকাশে...গানটা শুনছে রুবাই,বাবুকে বুকের ভেতর নিয়ে ঘুম পাড়াছ্ছে..।দেখতে দেখতে ১২ বছর হয়ে গেল সংসার এর ...ইউনিভাসিটিতে পড়ার সময় প্রেম করে বিয়ে করেছে ওরা...বিয়ের পরপর ই বড় মেয়ে পেটে আসে রুবাইর...সে আরেক যুধ্দ কিছুতেই বাচ্চা নিবে না তানভির...রুবাই মনে মনে সিদ্ধান্ত নেয় যে এসেছে যে কোন কিছুর বিনিময়ে তাকে পৃথিবীতে আনবে রুবাই।খুব আজব হলেও সত্য যখন রুবাই জানতনা ও মা হতে চলেছে একরাতে স্বপ্ন দেখল কে একজন ওর কাছে ছোট্ট সুন্দর একটা মেয়ে দিয়ে বলছে নে এটা তোকে দিলাম।।কথাটা তানভির কে বলতে হেসে বলেছিল তুমি মনে মনে হয়ত চাও এজন্য...!সব যুধ্দের পর রুবাই এর চাওয়াই পূরন হয়েছিল...বড় মেয়ে পৃথিবীর মুখ দেখেছে...রুবাই ওর নাম রেখেছে "শশি"
ভালই কাটছিল সব কিছু.. রুবাই ওর শশুর ,শাশুরী ননদ দেবর সবার সাথে থাকে।কয়েকদিন এর জন্য রুবাই বাপের বাড়ি গেল বেড়াতে।৭/৮ দিন থেকে চলে আসল।তখন তানভির অফিস এ।তানভির কে সারপ্রাইস দেবার জন্য জানায়নি ও এসেছে।ঘড় গুছাতে গিয়ে তানভির এর ওয়াড্রবের ড্রয়ার এ দেখতে পেল ২৫/৩০ তা খালি শিশি...ফেন্সিডিল...! মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ল রুবাইর...! একেবারে চুপ হয়ে গেল রুবাই ।অপেহ্মা করতে লাগলো তানভির এর বাড়ি ফেরার।তানভির বাসায় ফিরলো অনেক রাতে।।
তানভির বাসায় এসে রুবাই কে দেখে খুব চমকে গেল...তুমি? কখন আসছো?রুবাই তানভির এর চোখের দিকে তাকিয়ে থাকলো..কারন তখন ওর কান দিয়ে কিছুই ঢুকছে না...ওয়ারড্রব এর কাছে নিয়ে গেল তানভির কে, এগুলো কি?
তানভির ফোঁস করে উঠল ।তুমি আমার ওয়াড্রব এ হাত দিলা কেন?এত সাহস কেন?
রুবাই থতমত খেয়ে গেল...কি বলছে তানভির এগুলো?
রাতে তানভির একা একা ভাত খেল রুবাই কে ডাকলোনা ,রুবাইর শাশুরি আসলো,
এসময় না খেয়ে থাকতে নেই শরীর খারাপ লাগবে...রুবাই অনড় হয়ে বসে থাকল বিছানার পাশে সোফায়.।.বুঝতে পারছেনা কি করবে ,কি বলবে...!
তানভির এসে দ্রুত লাইট অফ্ করে দিয়ে শুয়ে পড়ল... রুবাই বাতি জালালো বলল তুমি উঠো তোমার সাথে আমার কথা আছে ...তুমি ফেন্সিডিল খাও?
মাঝে মাঝে খাই এটা কিছু না..আরে আমাদের বাবু এলে কি আমি আর খাব?
আছা তুমি চিন্তা কোর না আমি ছেড়ে দিব...!
সেদিনের মত রুবাই বোকা মেয়ের মত আস্বস্থ হয়ে নিসচিন্তে ঘুমিয়ে পড়ল।কিন্তু সেই ফেন্সিডিল খাওয়া ছাড়ানো যায়নি ১২ বছর এও।মেয়ে বড় হয়েছে,ক'দিন পর পরই ঘর পরিস্কার করে শত শত ফেন্সিডিল এর বোতল...দুরবীসহ এই জীবন এমন এক জায়গায় ঠেকলো কথার সাথে গায়ে হাত তোলা,বিশ্রী বকা দেয়া,ঘরের জিনিষ পত্র ভেঙ্গে ফেলা বাসায় কোন টাকা না দেয়া...কোন অত্যাচার ই বাকি থাকলো না...মেয়ের ব্যাংক ভেঙ্গে,রুবাইর ব্যাগ থেকে যেখান থেকে পায় টাকা নিচ্ছে।।রুবাই এবং তার নিজের এমন কোন আত্মীয় বাদ থাকল না যাদের কাছ থেকে মিত্থ্যা বলে বলে টাকা ধার না আনলো...! একটার পর একটা ব্যাংক লোন ।একটা বিদেশি কোম্পানিতে চাকরি করেও উত্তপ্ত স্বভাব এর জন্য ১২ বছরেও প্রমশোন হোল না একটা..ভরসা রুবাই এর ব্যাংক এর চাকুরি...প্রছন্ড টানা টানি বাসা ভাড়া দিতে পারে না ছেলের দুধ কেনার টাকা নেই...আর এসব নিয়ে কিছু বললেই শুরু হোত অত্যাচার। প্যান্ট থেকে বেলট খুলে পেটাতেও ওর বাদ সাধত না...!রুবাই ওর বিয়ের গহনা বিএী করে সেসব ব্যাংক লোন শোধ করতে থাকলো।কিন্তু ব্যাংক লোন এর তালিকা শেষ হোল না.!
এসব চলার মধ্যে রুবাই ধিরে ধিরে প্রতিবাদী হয়ে পড়লো যা হওয়া উছিত ছিল আরও অনেক আগে কিন্তু পারেনি।বাবা নেই মা নেই বাসার বড় মেয়ে।কাকে বিচার দিবে! এরইমধে রুবাইর বোনরা জেনে গেল সব ।সবার একটাই কথা ছেড়ে দাও তাকে!যেন ছেড়ে দিলেই সব সমস্য।র সমাধান হোয়ে যাবে।একলা একটা মেয়েকে যে এই সমাজ কত ভাবে ছিড়ে কুড়ে খাবে!অথচ যে জীবন রুবাই কাটাচ্ছে এটা কোন বেচে থাকা নয়।কোন রং নেই,ধুসর মরুভূমি।কত বছর হোল বিয়ে হোয়েছে,আজ অব্দি কোন জন্মদিনে,বিবাহ বাষিকীতে কিংবা কোন ঈদ এ সামান্য উপহারটুকু তো অনেক দুরের কথা একটা শুভেচ্ছাও জানায়নি রুবাইকে।বিশেষ দিনগুলো কেটে যেত সাধারন আর সব দিনের মত।
তানভির কে ছেড়ে প্রয়োজনে একলা থাকার উপদেশ দিল সবাই... রুবাই অফিস থেকে লোন নিয়ে শেয়ার বিসনেস শুরু করল,একলাই সংসার সামলাতে শিখে গেল।ব্যাবসায় খুব লাভ হতে শুরু করল রুবাইর...,বাবার বাড়ী থেকে জমি বিএী করে বেশ বড় একটা টাকা ও পেয়ে গেল রুবাই...সব ই শেয়ার এ ইনভেস্ট করলো...চাকুরী বদল করলো ।আরও ভালো পোস্ট ভাল বেতন এ অন্য একটা ব্যংক এ জয়েন করল।আস্তে আস্তে একটা গাড়ী কিনল। কিস্তিতে একটা ফ্লাট কিনল ওর স্বপ্নপুরি বসুন্ধরা বারিধারাতে...।দুই বছর পর সেই ফ্লাট বিএী করে দিল তানভির এর চাপাচাপিতে...অফিস এত দূরে ,কাছে কোথাও ফ্লাট কিনো...বেচা হোল ফ্লাট তবে দুইগুন বেশি দাম এ... চরম অরথনৈতিক শান্তি এনে দিল ওকে...হিসাব করতে শুরু করল রুবাই তানভির কে ছাড়লে কি হবে আর না ছাড়লে কি হবে...আসলে একসময় রুবাইর জীবন এ তানভির এর কোন ভুমিকাই- ই থাকল না...ওর বিসনেস,মেয়ে শশি ,চাকরি, কিছু বন্ধু এরাই হয়ে উঠল ওর জগৎ।রুবাই নিজে গাড়ী চালায়।মেয়েকে নিয়ে আজ এখানে কাল ওখানে ঘুরে,খায়। জীবন এর সব টুকু সুখ এভাবেই স্বামীহীন খুজে নিতে চেষ্টা করল...।কিন্তু তবু জীবন এ কিছু কিন্তু থেকেই গেল...২২ এ বিএ হওয়া রুবাই ৩৪ পেরিয়ে গেল,স্বামীর ভালবাসা ছাড়া...।যে সময় টায় মানুষ তার সব কিছু দিয়ে জীবন এর সব দিক থেকে আনন্দ নেয় রুবাই এর জীবন এর সে সব অনেক দিক ই বাকি থেকে গেল...রুবাই ভাবত একজীবন এ সব হয় না,মেয়েকে কে যে রুবাই বাবা ছাড়া করতে পারবেনা...!
এরই মাঝে একদিন তানভির খুব অসুস্হ হয়ে গেল...একটু সুস্হ হবার পর ৫ বারের মত একটা মাদকাশক্তিলায় এ চিকীৎসা করালো তানভির কে...।রুবাইকে অবাক করে দিয়ে এক মাস পর ফিরে এসে তানভির সম্পুরন সুস্হ হয়ে গেল...বেতন এর টাকা হাত দিয়ে ছোঁয় না।ব্যংক এর চেক বই রুবাই কে দিয়ে দিয়েছে সই করে।. ..চরম এক সুখী জীবন এর মুখ দেখলো রুবাই...এরই মাঝে জন্ম হল ছেলে রুশ এর...!জীবন যত কষ্টেরই হোকনা রুবাই মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে সব সময় নামাজ পড়ে শুকরিয়া জানাতো।এর চেয়েও কষ্টের হতে পারতো ওর জীবন।দীঘ ৪ বছর পর কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরেই তানভীরের মধ্যে একটা পরিবতন দেখছে রুবাই। আর আজ কোথায় গেল তানভীর !(চলবে)





পাঠককে এরকম একটা টাইমে এনে লেখক কোথাও গেল? আজব্।
কোথায় হবে। লেখা ভালো পাচ্ছি। তাড়াতাড়ি পরের পর্ব চাই।
ভালো লাগছে।
পরের পর্বের আশায় এখনো আছি
কোথায় গেল আতিয়া বিলকিস মিতু ? কোথায় গেল একজন সফল অথবা বিফল নারীর গল্প (তৃতীয় অংশ) ? তানভীর কোথায় গেল তা জানতে কি সবাই তার পিছু পিছু ছুটতে ছুটতে ক্লান্তিতে এলিয়ে পড়লো ?
মন্তব্য করুন