চক্র
#১#কোন এক দিন..
শুক্রবারের সকাল। সাইফ আর সায়েম দুই ভাই, আর কেউ নেই বাসায়। গরমের ছুটি চলছে। বাবা মা দুজনেই বেড়াতে গেছেন গ্রামের বাড়িতে, জমিজমার কি যেন একটা কাজে।
সাইফ ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারে আছে এইবার, ছোট ভাই সায়েম ক্লাস সেভেনে।
সাইফের প্ল্যান ছিল আজ বারোটা পর্যন্ত ঘুমাবে, একে ছুটির দিন তার উপর বাসায় মা বাবার ডাকাডাকিও নাই। যাকে বলে, একেবারে সোনায় সোহাগা।
কিসের কি, ঘুম ভেঙে গেছে সেই ভোর ছয়টায়।
নামাজ পড়ে কিছুক্ষণ ছাঁদে হাটলো সাইফ, ভোর হতে দেখার মত সুন্দর দৃশ্য মনে হয় কম-ই আছে।
ছাঁদের ফুলগাছ গুলাতে পানি দিয়ে সায়েমকে ডেকে তুললো সাইফ। সায়েম প্রথমে স্কুলে দেরি হয়ে যাচ্ছে ভেবে ধড়ফড় করে উঠতে নিচ্ছিল,
দিনটা শুক্রবার মনে পড়ায় আরো ঘন্টাখানেক আড়মোড়া ভেঙে তারপর গিয়ে উঠেছে।
ফ্রেশ হয়ে দুইজন বাসার সামনের মোড়ের ছিমছাম রেস্টুরেন্ট থেকে নাস্তা সেরে এসেছে। বাসায় ফিরে বিছানায় বসে আজকের পেপারটা টেনে নিল সাইফ, সকাল বেলায় পেপার আর এক কাপ চা না পেলে কেমন জানি লাগে।
সাইফ এর ঘরের স্টেরিও টা থেকে সাগর সেনের ভরাট গলা ভেসে আসছে। সকালের এই সময়টায় রবীন্দ্রসঙ্গীত শুনলে মনটাই ভাল হয়ে যায়।
সফ্ট মিউজিক আর ভাল লিরিকের যে কোন গান-ই ভাল লাগে সাইফের; হোক তা বাংলা, ইংলিশ বা হিন্দি।
পাশের ঘরে পিসি-তে সায়েম থ্র্যাস মেটাল না কি সব জানি ছেড়ে দিয়ে রাখসে, এসব কান ঝা ঝা করা চিল্লাচিল্লি শুনে কি যে মজা পায় কে জানে?!
সাইফ কিছু বললেই বলে;
আরে যাও যাও..শোন তো সারাদিন প্যানপ্যানানি সব গান, তুমি আজকালকার গানের কি বোঝ..?!
পোলাপান..একটা মুচকি হাসি খেলা করে যায় সাইফের ঠোঁটের কোণে..
#২# বছর তিনেক পর
আজ-ই এই মেস টায় উঠল সায়েম। উপায় ছিল না। সাইফ ভাইয়া তো থাকে ওঁর ভার্সিটির হ্ল-এ, সায়েমের নতুন কলেজ থেকে অনেক দূরে। সায়েম কে এই মেসে ঢুকিয়ে দিয়েই চলে গিয়েছে ভার্সিটিতে, ক্লাস নাকি আছে।
স্কুল লাইফ শেষ হ্ল অবশেষে, এখন মুক্ত বিহঙ্গ জীবন!
মা বাবার শাসন ও নেই, একদম নিজের মত করে থাকা।
সাইফ এখানে শিফট হয়ে এসেছে প্রায় বছর দুয়েক আগে। ইন্টার পাস করার পর সাইফের কথাতেই মা বাবা সায়েম কে এখানে ভর্তি করিয়ে দিয়েছেন।
এই প্রথম বাসার বাইরে এসে থাকার জন্য থাকা। ফ্যামিলির বাইরে গিয়ে না থাকলে আসলে ফ্যামিলি কি জিনিস তা বোঝা যায়না। মন টা একটু কেমন করে উঠে সায়েমের।
সাইফ ভাইয়া দুইটা রবীন্দ্রসঙ্গীতের সিডি দিয়ে গেছে। বলেছিল, মন খারাপ হলে শুনতে।
দুপুরে এসে উঠেছে এই মেস-এ। গোছগাছ করে ফ্রেশ হতে হতেই সন্ধ্যা হয়ে গেছে।
খুব টায়ার্ড লাগছে। পিসি তে ভাইয়া'র দেওয়া একটা সিডি ছেড়ে, লাইট টা নিভিয়ে বিছানায় এসে শোয় সায়েম।
অচেনা কারও গলায় ভেসে আসে..
'নয়ন তোমারে পায় না দেখিতে, রয়েছ নয়নে নয়নে..হৃদয় তোমারে পায় না জানিতে, হৃদয়ে রয়েছ গোপনে..রয়েছ নয়নে নয়নে..'
কি সুন্দর কথা! আর সুরটাই যেন কেমন, মনটাই হালকা করে দেয়। আপনাতেই চোখটা বুজে আসে সায়েমের। ক্লান্ত মুখটায় তখন স্নিগ্ধ একটা ভালোলাগা আমেজ..
#৩# আরও এক দিন..
দেখতে দেখতে এখানে এই মেস-এ প্রায় বছর দেড়েক হয়ে গেল সায়েমের। সাইফ ভাইয়া মাঝে মাঝেই আসে, দুই ভাই এদিক ওদিক করে কাঁটিয়ে দেয় বেশ কিছু সময়। আজকাল রবীন্দ্রসঙ্গীত-ই বেশি শোনা হয় সায়েমের। সাইফ ও খেয়াল করেছে কিন্তু কিছু বলে নি, সে বেশ উপভোগ-ই করে ব্যাপারটা!
সামনে সায়েমের কলেজ ফাইনাল। পিসি তে হালকা সাউন্ডে রবীন্দ্রসঙ্গীত ছেড়ে পড়তে বসে সায়েম।
ফ্লাস্ক থেকে এক মগ গরম কফি নিয়ে দু'চুমুক দিতেই পাশের ঘর থেকে বিটকেলে সাউন্ড এর কোন একটা গান ভেসে আসে। গত সপ্তাহে একটা নতুন ছেলে এসে উঠেছে, মনে হয় ওর-ই কাণ্ড!
কি ভয়ংকর গান রে বাবা! কথা বা সুর কিছুই ঠিক নেই, শুধু হাউ মাউ খাউ টাইপ এর কিছু অসহ্য শব্দ।
উফ! এমন গান মানুষে শোনে?!
দরজা বন্ধ তাও মনে হচ্ছে কেউ মাথায় হাতুড়িপেটা করছে! মেজাজ খারাপ হয়ে যাচ্ছে।
উফ্, ছেলেটার কান মলে দিয়ে আসতে পারলে ভাল লাগতো!
হঠাৎ সায়েমের স্কুলে থাকার দিনগুলি মনে পড়ে যায়।
পাশের ঘরের ফাউল ছেলেটার যায়গায় ও নিজে, আর নিজের জায়গায় সাইফ ভাইয়া!
কে বলে দিন বদলায়, মানুষ-ই বদলিয়ে যায়।
ফিক্ করে হেসে ফেলে সায়েম..!





পেরথম

এখানে বাউন্ডুলে কোনজন?? সাইফ না সায়েম
দুজনের কেউই না,
আবার দুইজনের মাঝেই আছে!
আরোপিত লাগলো। স্পন্টেনিয়াস ভাবটা পাইলাম না
কিছু জিনিস কিভাবে লিখব তা আগেই মাথার ভেতর সেট হয়েছিল,
এজন্যই হয়তো।
দারুন
মন্তব্য করুন