তুমি আসবে বলে----
ঝরা পাতার দিন শেষে, এখন সবুজের সমাবেশ চারিদিকে! দিন আসুক বা রাত যাক চলে, তাতে কারো কিছু যায় আসুক বা না আসুক, প্রকৃতির সময় গুননে কোনো হেরফের নেই! কেউ দেখুক বা না দেখুক, আনন্দে কারও মন ভরে উঠুক বা না উঠুক, তাতে তার কিছু ভাবনা নেই যেনো! ঠিক ঠিক-ই রঙ যাচ্ছে বদলে...ঠিক ঠিক-ই আসছে নুতন সময়, পুরাতন কে অনুকরন করে...চলছে দিন...যেমন চলে আসছে হাজার বছর ধরে!
আজকাল, আমার ছোট্ট ঘরের দক্ষিনের বারান্দায় দাঁড়ালে কত রঙ যে দেখি জানো? খুব সকালে আজ ঘুম থেকে উঠে, হাতে-মুখে একটু ঠান্ডা জল ছিঁটিয়ে দৌড় দিলাম...ঠান্ডা বাতাসে জুড়িয়ে গেল প্রাণ...গাড়ির হাঁকাহাকি নেই, রাস্তায় জনমানব নেই, আকাশে সূর্য নেই...শুধু কটা পাখীর থেমে থেমে ডাকাডাকি! আমার বারান্দার ঠিক বিপরীত দিকে একটা বিশাল কৃষ্ণচূঁড়া গাছে যেনো আগুন লেগে আছে! পুরো বাড়ির ছাদ জুড়ে আছে লাল পাপড়িগুলো...আজকাল লাল কৃষ্ণচূঁড়ায় লালের সাথে সাদা সাদা পাপড়িও আছে। বেমানান লাগছে বলবোনা, কিন্তু খুব মানিয়েছে তাও নয়! আমার আপত্তি আছে এইখানে! লালের আধিক্যে সাদা কে খুব তুচ্ছ লাগছে জানো, ঠিক যেনো খুব সুন্দর কোনো রমনীর পাশে খুব সাদামাটা একটা বর, অথবা খুব ভারী মনা মানুষের পাশে খুব হালকা মেজাজের কোনো মানুষ অথবা খুব যোগ্যতা সম্পন্ন স্বামীর পাশে একদম অবুঝ কোনো বালিকা বঁধু! চলে কিন্ত খুব জুতঁসই চলেনা!
বারান্দার অপরপাশে, সারি সারি জারুল ফুটেছে আজ বেশ কদিন হলো! বেগুনী রংটা যেনো হাত দিয়ে ছুঁতে গেলে হাতে লেগে যাবে! নীচের সবুজ ঘাসে যেনো কার্পেট মোড়ানো...রাতে হালকা বৃষ্টি হয় ইদানিং...প্রায়-ই! সাথে বজ্রপাতও! হঠাৎ ঝাপ্টা দিয়ে আসে ঝড়...সব উড়িয়ে নিয়ে যায়...বৈশাখ মাস প্রায় শেষ হলো বলে...রবীন্দ্রনাথের সার্ধশততম জন্মবার্ষিকী পালনের জ়োড় প্রচেষ্টা চলছে চারিদিকে! ভাবতেই অবাক লাগে...কবি জন্মেছিলেন কী অদ্ভুত সুন্দর সময়ে!
সবুজ ঘাসে যখন জমে থাকে শিশিরের মতো বৃষ্টির ফোঁটা, পায়ের তলার ভিজে মাটিতে যখন রঙ বেরঙ্গের ফুলের পাপড়ি থাকে বিছিয়ে,ছোট্ট ঘাসটিও যখন নিজের আভিজাত্য প্রকাশে ব্যস্ত তার সাদা রঙের ফুলে ফুলে...ডালে ডালে যখন পাখীরা ডাকে অজানা আনন্দে! তখন বসন্ত কে বুঝি বড্ড যন্ত্রনাদায়ক মনে হয়, যারা একা থাকে ঘরে! কারো জন্যে প্রতীক্ষা যাদের এখনও ফুরোয়নি! মাঝে মাঝে মনে হয়...ইস! প্রজাপতি হতাম যদি! এইসময়টা বুঝি চুপ করে পালিয়ে বেড়ানো যেত! সবাইকে ফাঁকি দিয়ে!
দুপুরবেলা যখন কোকিল ডেকে উড়ে যায় বাড়ির ছাদের উপর দিয়ে, যখন কড়া রোদ চুপ্সে দিয়ে যায়, সব ফুলের পাপড়ি, যখন বাইরের আলোয় দৃষ্টি ফেলা যায় না...প্রখর নিষ্ঠুর রোদের তাপে যখন মুদে আসে দুচোখের পাপড়ি...তখন মনে হয়...রং মাখা কোনো চকচকে প্রজাপতি হয়ে , যদি ঘর পালিয়ে কোনো আশ্রয়দাতার দুহাতের মুঠোর ছায়ায় লুকাতে পারতাম! যেখানে রোদ-বৃষ্টি-ঝর ঝাপ্টা-ভয় কোনোকিছু-ই আমাকে খুঁজে পেতনা...ছুঁতে পারতো না...উড়তে পারার ক্ষমতা স্বত্বেও আমি বন্দি থাকতাম সেই সুশীতল হাতের মুঠোয়...আর...সেই ছায়ায় থাকতে পারার আনন্দে...আগলে থাকার সুখে...আমার রঙ্গিন চকচকে পাখনা দুটো শুধু ধীরে ধীরে উঠতো আর নামতো...কিন্তু কখনও সেই বন্দি দশা থেকে পালাতে চাইতো না...
সময় পেলে একবার এসে রুদ্দুর হয়ে যাওনা গো...এই চকচকা সবুজ পাতা আর রঙ্গিন ফুলের পাপড়ির দিনে...
তুমি রুদ্দুর হয়ে না এলে...আমি যে প্রজাপতি হয়ে ঘর থেকে পালাতে পারছিনা...!!
২৪ শে বৈশাখ,১৪১৮
দুপুর ২টা ৩০ মিনিট।





তুমিডা কিডা ?
হ। তুমিডা কেডা?
তমি তো তুমি!
সবার যেমন একটা তুমি থাকে !!
তুমির কী ভাগ্য!
পড়ে ফেলেছি...
ডুয়েল পোস্টিং-এর কারনে পোস্টটি প্রথম পাতা থেকে সরিয়ে নিয়ে আপনার ব্লগে স্থানান্তরিত করা হল।
জারুল ফুলের বিষয়টা কিন্তু জমপেশ। এত বেগুনী দেখতে চাইলে মিরপুরে বোটানিক্যাল গার্ডেনে ডুকেই হাতের ডানদিকে চোখ রাখতে হবে।ওখানে সারি সারি জারুল গাছ আছে।কিংবা ময়মনসিংহে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঝে রেল ক্রসিং পার হয়ে বা দিকে তাকালেই দৃষ্টি নন্দন জারুল ফুলের হাতছানি দেখা যাবে।
মন্তব্য করুন