ইওরোপের কোন এক খানে... (৩)
প্রত্যেকের জীবনই একেকটা আস্ত ভ্রমণ-কাহিনী। কিন্তু সেইটা আমরা হয়তো খেয়াল করি না।
কঠিন কথার কাম নাই। ফ্রান্সে চলাফেরা বড় ভ্যাজাল, ইচ্ছা হইলো তো রাস্তায় ব্যবহৃত টিস্যু, চকোলেটের কাগজ, চিপসের ঠোঙ্গা, আপেলের উচ্ছিষ্ট ফালাইতে পারি না। জায়গা মত ফেলতে হয়। আমি বাংলাদেশের মানুষ; কক্সবাজার, সেন্টমার্টিনরে বিশাল ডাস্টবিন বানাইয়া ছাড়লাম, কিন্তু এইখানে আইসা ফেইল। এগো ছোট্ট শহরটাও এক্কেবারে ঝকঝকা, কোথাও কাগজের টুকরা, পলিথিন, সিগারেটের মাথা পইড়া নাই। এই ছোড শহরটাতেও সিটি-বাস, ট্রাম চলে ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত, মিটার ট্যাক্সি তো আছেই। এখনো কোন ট্রাফিক পুলিশ বা সার্জেন্ট দেখি নাই, কিন্তু সবাই ব্যাক্কলের মত ট্রাফিক আইন মাইনা চলে, যেমন যাত্রীরা তেমনি চালকরা। হোটেলরে বললাম ভোর পাঁচটায় এয়ারপোর্টে যাওয়ার জন্য ট্যাক্সি লাগবো, তারা ফোনে বুকিং দিয়া দিলো। ঠিক সময় ট্যাক্সি আইলো, সেই ট্যাক্সিওয়ালা একদম নির্জন রাস্তায় প্রত্যেকটা লাল সিগন্যালে থামলো, মিটার অনুযায়ী ভাড়া নিয়া রশিদ ধরাইয়া দিলো, কোন ক্যাচাল ছাড়াই। ভাবছিলাম ট্যাক্সিওয়ালারে একটু ট্রাফিক ফাঁকির বুদ্ধি শিখাইয়া দিমু কিনা, কিন্তু ভাষাগত কারণে হইলো না। আমরা তো আর শৃঙ্খল হইতে পারুম না, তাই ওগোরে বিশৃঙ্খল বানানো ছাড়া উপায় কি?
ফ্রান্সের ভাষা নিয়া দুই লাইন গ্যাজানো যাইতে পারে। এরা যা লিখে তা উচ্চারণ করে না – কাউরে শুভেচ্ছা জানাইতে যেইটা বলে সেইটা লিখে ‘Bonjour’ কিন্তু উচ্চারণ করে ‘ব্যোঁজো’ এর মত কিছু একটা। আর জাতি হিসাবেই পেটের মধ্যে কথা বেশী রাখে আর মুখ দিয়ে বাইর করে কম। ইংরেজির মত ফরাসী ভাষারও বাপ হইলো ল্যাটিন। তারপরেও ইংরেজির সাথে উচ্চারণে মিল নাই। ফরাসীরা ইংরেজ গো দেখতে পারে না, যুদ্ধ ও করছে বহূ বার, তাই মনে হয় সব শব্দ অন্য ভাবে উচ্চারণ করে।
কাছের আরেক শহরে যাইতে স্থানীয় এয়ারপোর্টে গেলাম। ছোট্ট এয়ারপোর্ট, কিন্তু সিকিউরিটি চেকিং হইলো কড়া, বেল্ট জুতা খুলনের অবস্থা। এয়ারক্রাফট ক্রুদের ও ছাড়ন নাই। পাশে এক মহিলা যাত্রীরে দেখলাম মহিলা সিকিউরিটি অফিসারের বেশ পরিচিত, হাসতে হাসতে দুইজন গালে গাল মিলাইলো, কিন্তু তাতে চেকিং এ কোন কমতি নাই, ঠিকই ঘুরাইয়া ফিরাইয়া পুরাই চেক দিল। এইখানে আইনের কাছে কারো ছাড়ন নাই, ১২ বছর ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট থাকা জ্যাক শিরাক রে পর্যন্ত ৭৯ বছর বয়সে আইসা ২ বছরের সাজা খাইতে হইলো কালকে। এই ফ্রান্সই আবার আফ্রিকার দেশগুলাতে গৃহযুদ্ধ, জাতিগত সংঘাত, দাঙ্গা লাগাইয়া সমানে লুটপাট চালাইয়া আসতেছে মহাসমারোহে!
ডিসেম্বরের অর্ধেক গেছে, এখনো বরফ নাই, ঠান্ডাও নাই। বরফ ছাড়া ক্রিসমাস করতে হয় কিনা এই চিন্তায় এইখানকার লোকজনের মাথা গরম হইয়া গেছে। কিন্তু প্রচণ্ড বাতাস আছে, সাথে পঁচা বৃষ্টি। এই আবহাওয়ায় আমার খেলনা ক্যামেরাতে ছবি পাওয়া কষ্ট। তার উপর সব সময় সাথে দুই-চাইর জন স্থানীয় আছে, তাগো সামনে যেখানে সেখানে ছবি তুললে ক্যাবলা মনে হইতে পারে, তাই তেমন ছবি তুলন যাইতেছে না। তাই এই দেশে আর থাকুম না...জার্মানী যামুগা।
কয়ডা ফটুক...
~





কোন সিটিতে আসলেন জার্মানীর?
স্টুটগার্টে
ভাল্লাগছে আপ্নার ভ্রমন কথা। চালায় যান......
ধন্যবাদ রায়হান ভাই
চলুক...
মোটামুটি বেশ কয়েকবার ডয়েচল্যান্ডে যাওয়ার সৌভাগ্য হইছে আমারো।
সেইখানের ফটু দিতে কিপ্টামি কইরেন্না আর।
আইচ্ছা..ফটুর ব্যাপারে মনে থাকবো
এচিভমেন্ট জানাইয়েন
চেষ্টা চলিতেছে...
আপনার খেলনা ক্যামেরায় তো ভালই ছবি উঠে । ঝকঝকা
ছবি যেহেতু তুলতে পারি না তাই ক্যামেরার দুষ দেই..
ইউরোপ যাইতে মঞ্চায়।

চইলা যাইবেন একদিন ...
।
আর লোভ বাড়ায়েন না।

... সব লোভে পাপ হয় না
প্লেন থেকে জার্মানী দেখা মজার ব্যাপার। একেক অংশ একেক কালারের লাগে।
মন্তব্য করুন