ইওরোপের কোন এক খানে... (৪)
আবেগ-সর্বস্ব এক দেশের মানুষ আবেগ-হীন এক দেশে হাজির।
তয় ফ্রান্স পর্ব শেষ করণের আগে দুই ফরাসীর কাছে কৃতজ্ঞতা জানাইতে চাই। একজন ফরাসী সেনাপতি সিনফ্রেঁ, যিনি তাঁর সৈন্যবাহিনী নিয়া পলাশীর যুদ্ধের শেষ পর্যন্ত বাংলার স্বাধীনতা রক্ষায় সিরাজউদ্দৌলার হইয়া যুদ্ধ কইরা গেছেন। আর দ্বিতীয় জন ফরাসী যুবক জাঁ ক্যুয়ে কে, যিনি ’৭১ এ প্যারিসে পিআইএর একটা ফ্লাইট হাইজ্যাক করছিলেন বাংলাদেশের শরণার্থীদের জন্য সাহায্য চাইয়া।
আইলাম জার্মানীতে, স্টুটগার্ট শহরে। পাশাপাশি দুইটা দেশ ফ্রান্স-জার্মানী, কিন্তু বিস্তর ফারাক। ফ্রান্সে কাঁটাচামচ, পানি খাওনের গ্লাস থেইক্কা শুরু কইরা সব কিছুই কঠিন শৈল্পিক; জার্মানীতে সৌন্দর্য নিয়া কোন মাথাব্যাথা নাই, সব কিছু শক্ত-সমর্থ, বড়, দীর্ঘস্থায়ী, কার্যকর। ফ্রান্সে রান্না-খাওয়াও একটা বিশাল শিল্প। দুই দুইটা বিশ্বযুদ্ধের ক্ষত কাটাইয়া উঠতে জার্মানী রান্না-খাওয়ায় বাহুল্য বাদ দিছে মনে হয়। আলু-রুটি-কেক-বিয়ারেই তাদের খাওয়া। যুদ্ধের কারণেই জার্মানরা বেশ হিসাবী/কিপ্টা, আর আবেগ-টাবেগ বলতে কিছু নাই। এরা শুধু বুঝতে চায় এদের দায়িত্ব আর কর্তব্য কি, ব্যাস সেইটাই কইরা ফালায়। এদের কোন আবেগের ব্যবসা নাই।
সকালে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আবহাওয়ার খেইল দেখলাম। ১১টার দিকে আকাশে সূর্য, কড়া রোদ । এক ঘণ্টা পরে মেঘলা আকাশ, হটাৎ বৃষ্টির মত গুড়িগুড়ি বরফ-কুচি পরা শুরু হইলো, দেখার মতই দৃশ্য। কিছুক্ষণের মধ্যে চাইর দিক সাদা চাদরে ঢাকা, আহা! আবার এক ঘণ্টা পরে আবহাওয়ার মর্জি বদলাইলো, আবার আকাশে সূর্য, বেশ রোদ, যেই বরফ পরছিলো, সেইগুলা গইলা পানি। এর কিছুক্ষণ পরে আবার সূর্য পালাইলো, মেঘলা মেঘলা আকাশ, এই তিলিস্মতি চলতেছে।
অখন জার্মানী নিয়া একটু বকবকাই। রাশিয়ারে বাদ দিলে, জার্মানী হইলো ইওরোপের সবচেয়ে জনবহুল দেশ, সংখ্যায় ৮ কোটির মত। জার্মানরা দুনিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম বিয়ার-খাদক, গড়ে জনপ্রতি বছরে ১২০ লিটার কইরা গিলে। এইখানে ১৩০০ মত বিয়ার ব্রিউয়ারি আছে, যেইগুলাতে প্রায় ৫০০০ ধরণের বিয়ার বানায়! জার্মানী পশ্চিম ইউরোপের একমাত্র দেশ যেইখানে অফিস আর রেস্তোরাঁয় বিনা বাঁধায় সিগারেট খাওন যায়। প্রায় ৩০০ ধরণের রুটি আছে এইখানে।
হেগেল, কান্ট, নীটশের মত বিশ্বসেরা দার্শনিক আর বিটোফেন, বাখ, ওয়াগ্নার, হান্ডেল, শুম্যান, ম্যান্ডেলসন, স্ট্রসদের মত ধ্রুপদী কম্পোজারদের দেশ হইলো জার্মানী। ছাপাখানা, সানাই, পকেট ঘড়ি, ক্যালকুলেটর, বাল্ব, প্যারাফিন, পেট্রল ও ডিজেল ইঞ্জিন, অটোমোবাইল, মোটরসাইকেল, জেট ইঞ্জিন, এলসিডি স্ক্রিন, ওয়াকম্যান, ইনসুলিন সহ অনেক কিছুর আবিষ্কার জার্মানদের। এরা সৌর-অবলোকন কেন্দ্র বানাইছিলো আনুমানিক ৭০০০ বছর আগে। একশো বছর আগে তারা দুনিয়াতে ডেলাইট সেভিং চালু করছিলো।
এইখানে প্রায় ৬০০০ এর মত নানা ধরণের যাদুঘর, ৭০০ এর মত জ্যুওলজিক্যাল বাগান, বন্যপ্রাণী পার্ক, এ্যাকুয়ারিয়াম, বার্ড পার্ক, এনিমেল রিজার্ভ, চিড়িয়াখানা, সাফারি বানায়া রাখছে। ‘ইকোলজি’ শব্দটা প্রথম এইখানে প্রায় ১৫০ বছর আগে চালু হইছে।
জার্মানী দুনিয়ার ৩৫% এর মত বায়ুশক্তি বানায়, এইখানে ২০০০০ এর মত বায়ু-টারবাইন আছে। জার্মান ‘অটোবান’ মহাসড়ক প্রায় ১২০০০ কিমি আর ইওরোপের একমাত্র এইখানেই কোন স্পিড লিমিট নাই। বলা হয়, জার্মানী হইলো এমন এক জায়গা যেইখানে যেকোনো সময় যেকোনখানে আপনে কোন সুপার মডেলের সাইকেলের সামনে পরতে পারেন।
কয়ডা ফটুক...
~





এক স্প্রেক আইন বিসেন ডয়েশ [ আমি একটু একটু ডয়েশ বলতে পারি]
আপনার লেখা গুলা ভালই লাগে আমি আপনার নিয়মিত পাঠক
জ উব্লিয়ে
জ পারলে ফসে আপুতিপু অসি। [ ভুলে গেছি আমি ফ্রেঞ্চ ও বলতে পারি]
আপনার ফ্রাঞ্চ এর জার্মানদের তুলনা টা ভালই হয়েছে
তবে সুপার মডেলের ব্যাপারটা সুইজারল্যান্ডে বেশি। এখানে রিভ নামে একটা জায়গা আছে এটা সুইজারল্যান্ডের সব চেয়ে বড় শপিং মল। প্রায় প্রায় সেলিব্রেটিদের দেখা যায়
আমিও আপনার লেখার নিয়মিত পাঠক
সুইজারল্যান্ডে গেছিলাম ফেব্রুয়ারিতে। রিভ কোন দিকে?
১. যে বিয়ারগুলো এনেছিলেন সবগুলো কি শেষ হয়ে গেছে?
২. কোনো সুপার মডেলের দেখা পেয়েছিলেন?
১. আপনার বর্ণনাগুলো ভাল হয়.. একটা দেশ সম্পর্কে কিছুটা ধারনা পাওয়া যায়
২. ছবির ফ্রেমিং সুন্দর... একটা বড় ক্যামেরা নেন। (ম্যালা আগে আপ্নার বড় ক্যামেরা ছিল.. দেখছিলাম... ওইডা কি কর্ছেন?)
৩. ফিরবেন কবে?
আজকাল ঘড়িই পরি না মোবাইলে সময় দেখা যায় দেইখা। ছবি তুলনের লাইগা এত্ত বড় ক্যামেরার ব্যাগ, সাথে যন্ত্রপাতি আমার দ্বারা বহন সম্ভব না বস
কি সৌভাগ্য ভাই আপনার
দারুন !!
বর্ননা ভালো হইছে। কি কি পানীয় খাইলেন সেইটার একটু বর্ননা দিতেন
কি সৌভাগ্য ভাই আপনার
ক্রীসমাসের এ সময়টা ইউরোপের সবচেয়ে সুন্দর সময়। কি সুন্দর ওরা সব সাজিয়ে রাখে।
ওপেন মার্কেট গেছিলেন নাকি? স্মোকড মাকরিল পাইলেন কই? নাকি ক্রীসমাস মার্কেটে?
কখনো হল্যান্ডে আসছেন? কিপটা সম্পর্কে আপনার ধারনা আবার বদলাবে
হু...ক্রীসমাসের আগের ইওরোপের কিছুটা দেখা হইলো...সুন্দর।
ক্রীসমাস মার্কেটে গেছিলাম...স্মোকড মাকরিল সেইখানেই চাখা হইলো।
কখনো হল্যান্ডে যাই নাই ;(
~
বিদেশ যাইতে মঞ্চায়
আমারো
গাড়ি করে ইউরোপ ট্যুর দিতে ইচ্ছে করে
আমারো করে
মন্তব্য করুন