রিকল অফ সাম মেমোরীস আফটার ম্যাট্রিক
ম্যাট্রিক থিওরি শেষ হইছে, প্রাক্টিকাল বাকি। এর ভিত্রে গেলাম বড় খালার বাড়ি বেড়াইতে। খালার বাড়ি সর্বহারা প্রধান এলাকায়। খালু সাবে আবার ওই গেরামের এক টাইমের জমিদারও আছিলো। খালতো ভাই-বইনগুলা সব আমার থিকা দশ বিশ বচ্ছরের বড়। মজার একটা হিসাব দেওন যায়, আমার আমার মা আর আমার বড় খালার বড় মাইয়া সেম বয়সের। যাই হউক। ঐ টাইমটা আছিলো গরমের টাইম। মজাসে আম-কাঁঠাল খাইতেছি, পুকুরে দাপাইতেছি, বিকালে ক্রিকেট খেলতে খেলতে দৌড় পাইড়া চইলা যাইতেছি পাশের আখের খেতে। সব হইতেছে আমার ভাইস্তা ভাতিঝাগো লগে। বড় ভাতিঝা সেই টাইমে নয়া নয়া বিয়া করছে, ছোটডি আমার এক ইয়ার জুনিয়ার। এই ভাতিঝাগো গেরাম সূত্রের ইয়ার-দোস্তগোর কাছেও আমি বাই ডিফল্ট চাচা হইয়া গেছি। বেশ জুয়ান জুয়ান পোলাপাইনে যখন চাচা-চাচা কইয়া ডাকে, শুনতে খুব একটা খারাপ ফিলিংস লাগেনা।
মজাতেই আছি। সকালে উইঠা খাটের নিচের থিকা আম বের কৈরা খাইতে খাইতে কলের পাড়ে যাই। মুখ হাত ধুইয়া নাস্তায় বসি। নাস্তা খাইয়া বাইরে বাইরায়া দুকান থিকা যখন একটা গোল্ডলিফ কিনা ধরাই আশেপাশে দুই তিনটা ভাতিঝা জড় হইয়াই যায়। এখন জমিদারের শালির পোলা বইলা কথা। হেগরেও বিড়ি-সিগারেট কিনা দিতে হয়। বেশ ভাব নিয়া চাইর পাঁচ দিন কাইটা গেছে। এর ভিত্রে একদিন গেলাম দুইগেরাম সাইডে, খালার আরেক মাইয়ার বাড়িত। ওইখানে গিয়া দেখি আমি আল্লার উছিলায় নানা হইয়া গেছিগা। কপাল আর কারে কয়।
সেদিন ফিরা আসনের পর, সাইঞ্জাকালে বাড়ির সাইডের ইশকুল ঘরে বইয়া বইয়া তিন চাচা-ভাতিঝায় আড্ডা পিটতেছি। আকাশে মাশাল্লা চান্দও উঠছিল একখান। তো ওই সাইঞ্জার আড্ডা আছিল কাইল কি করা হইবো এই বিষয়ে। বড় ভাতিঝা কইতেছিলো যে টাউনে তাগোর বাড়ি থিকা কাইল তার মা গেরামে আইবো, সো বাড়ি ঘর পুরা ফাঁকা থাকবো। আমরা চাইলে বিকালের দিক রওনা কৈরা সাইঞ্জা সাইঞ্জায় টাউনে পৌঁছাইয়া যামু। দেন হের পরিচিত দোস্তোগোরে খবর দিলে বাড়িতেই ফেন্সি, বাংলা পৌঁছাইয়া দিয়া যাইবো। টেকাও দিবার দরকার পড়বো না। সারারাইত মৌজমাস্তি কৈরা তারপরদিন ফিরত আসা যাইবো। আমি ভাবলাম অহন্তরি যেহেতু ফেন্সিতে চুমুক দেই নাই তৈলে ঠোঁটে খড়িটা দিয়াই লওন যাইবো। পেলান ফাইনাল। আমরা বইসা সিগ্রেট খাইতেছি আর চান্দের শোভা দেখতেছি এই টাইমে হঠাত চাপা একটা শব্দ কানে আসলো। গুলির সাউন্ড না? কইয়া বড় ভাতিঝা লাফাইয়া উঠলো। ছোট ভাতিঝা কয় চাচা চলোতো গিয়া দেখি। বড় ভাতিঝা বাড়িতে ছুইটা গেলো তার বাপ, আইমিন আমার খালতো ভাইয়ে ফিরত আইছে কিনা দ্যাখতে। আমি আর ছোটডি মিলা রওনা করলাম যেইদিক থিকা গুলির শব্দ আইছে বইলা মনে হইছে সেই বাঁশবাড়ি বাজারের দিকে। অনেক দূর আগায়া যাওনের পর দেখি একদল লোক আসতেছে। ছোট ভাতিঝা তাগোরে জিগায় কি হইছে কিছু জানো নাকি? একজনে কয় লাল জমিদাররে তিনজন লোকে ডাইকা নিয়া গেছে বাজার থিকা। শুইনা ভাতিঝার মুখ শুকাইয়া গেলো। আমি তারে কই তোমার এখন ওইদিক যাওয়া ঠিক হইবোনা, লও ফিরা যাই। হেয় কয় না আমি দেখমু। বাজার পর্যন্ত যাওনের আগেই একটা খাল আছে। সেইখানে দেখি লোকজন ভীর কৈরা খাড়ায়া আছে। আমরা জিগাই কি হইছে। হেরা কয় সর্বহারারা লাল জমিদাররে খুন কৈরা ফেলাইয়া থুইছে। খালের পাড় ধইরা কিছুদূর গিয়া দেখি আমার খালতো ভাই লাল, পইড়া রইছে। এক্কেবারে মাথায় বন্দুক ঠেকাইয়া গুলি করছে। বাইচা থাকনের কোন চান্সই দেয় নাই। ভাতিঝা কোনো কাঁদাকাটি না কৈরা বাপের পাশে বইসা পড়লো। আমি কোনমতে হের হাত ধইরা টাইনা তুইলা বাড়ির দিকে রওনা দিছি। হেয় আসবোনা। আমি জোর কৈরা টানতে টানতে নিয়া আসছি। সারারাত কেমনে যে কাটছে কইতে পারমুনা। পরেরদিন দুপুরে মর্গ থিকা লাশ আইলো, জানাজা-টানাজা কমপ্লিট কৈরা কবর দেওনের টাইমেও আমার ছোট ভাতিঝার চউখে একফোঁটা পানি দেখি নাই। এরপর সাইঞ্জায় আমার লগে ইস্কুলঘরে বইসা তার হাউমাউ কান্না। কি হইবো চাচা আমাগোর? আমি কোন উত্তর দিবার পারি নাই।






অসম্ভব ভালো লিখেছেন। এক কথায় অনবদ্য।
বহুদিন পরে একটা ভালো লেখা পড়লাম। রবীন্দ্র পরবর্তী যুগে এধরনের লেখা আর আগে আসে নি। অনবদ্য...অসাধারণ... শুধু যে প্রাসঙ্গিক ও সময়উপযোগী লেখা তাই নয় একেবারে সমস্যার মূলে কুঠারাঘাত করেছেন। লেখকের বক্তবের সাথে পুরোপুরি একমত। এই পোস্টটিকে স্টিকি করা হৌক।
লেখা না পইড়া হুদাকামে টেম্প্লেট কমেন্ট মাইরা যাওনটা ভাল্লাগ্লোনা।
না পড়ে কমেন্ট করি না আমি।
টেম্লেট কমেন্ট মজা করে দেয়া, মজা না পাইলে এটার জন্য দূঃখিত।
আমি লেখছি আমার এক ভাইয়ের খুন হওনের কাহিনী, সেইখানে টেম্প্লেট কমেন্ট দেখলে মিজাজ মাথা ঠিক থাকে? আপনেই কন?
এটা কী সত্য ঘটনা। লেখার স্টাইল ভালো লাগল!
জী। এডি হাচা কাহিনী।
দুঃখজনক।
হ। আমার জীবনে ঘইটা যাওয়া দুঃখের ঘটনা গুলার ভিতরে এডি অন্যতম।
শিরোনাম দেখে ভাবছিলাম ম্যাট্রিক এর পরে আপনার নাডামির গল্প পড়ুম কিন্তু পড়তে পড়তে মাঝখানে এসে

খুবই ভয়াবহ, মর্মান্তিক। ভাষা নেই এসব অন্যায়ের প্রতিবাদের
মন্তব্য করুন