বিশ্বকাপ নিয়ে গেসবল

বিশ্বকাপ এসে গেলো গেলো বলে। কি আছে দুনিয়ায়! আমরাবন্ধুর এই চমৎকার স্লোগানটার কথা মনে পড়ে যায়, যখন মনে মনে ঠিক করি আবারও বিশ্বকাপের উন্মাদনায় কেয়ার করবোনা কিছু; কাজের চাপ, ব্যস্ততা, বসের হুকুম, সেমি-বসের ঝাড়ি -- কোনোকিছুকেই তোয়াক্কা না করে বুঁদ হয়ে যাবো বিশ্বকাপে।
এমন এক বিশ্বকাপ, গেসবল ছাড়া কি জমে? সেজন্যই দুইটা গেসবল। প্রথমটা দুধভাত; স্টার্টার/এ্যাপেটাইজার/ওয়ার্ম আপ ম্যাচ -- যা খুশী ভাবতে পারেন। দ্বিতীয়টা শুনে আমি মজা পাইছি, আপনেও পাইবেন। বাঙালী-বাঙালী ভাই ভাই, এক জিনিসে মজা পাওন চাই।
প্রথম গেসবল:
(উইকিপিডিয়া বা অন্যবইপত্র/ওয়েবসাইট ঘাঁটলে খুব দ্রুত এইটার উত্তর খুঁজে পাবেন। তবে কিছু না ঘেঁটে নিজে নিজে কোনো কিছুর কারণ আবিস্কারের মজাটাই আলাদা
)।
দক্ষিণ আফ্রিকায় এবার যে কয়টি ভেন্যুতে খেলা হবে তারমধ্যে বেশ কয়েকটি নাকি সমুদ্রসমতল থেকে অনেক উঁচুতে অবস্থিত। উঁচু এলাকায় খেলা কতটা ব্যবধান সৃষ্টি করে সেটা বোঝার জন্য দুর্বল বলিভিয়ার কাছে গতবৎসর আর্জেন্টিনার ৬-১ গোলে হারার ঘটনাটা মনে করলেই যথেষ্ট।
যারা নিচু এলাকায় খেলে অভ্যস্ত তারা উঁচু এলাকায় খেললে দুইটা বড় সমস্যার মুখে পড়ে। একটা হইলো, খেলোয়াড়রা হাঁপায়া যায় দ্রুত; এখানে কারণটা সহজেই বোধগম্য, উঁচু জায়গায় অক্সিজেন কম (মুসা ইব্রাহিমের অক্সিজেন মাস্কের কাহিনী স্মর্তব্য), তাই অনভ্যস্তরা সহজেই শ্বাসকষ্টে পড়বেন।
আরেকটা সমস্যা, যেইটা আজকে প্রথম আলোতে আসছে, সেটা হইলো, উঁচু জায়গায় শট নেয়া বল এক্সপেকটেশনের বেশী দূরে চলে যায়।
মানে, ধরেন, আপনি লেফট সাইড থেকে রাইট সাইডের উইংগাররে লম্বা একটা পাস দিলেন, আপনার হিসাব মতো সেইটা তার কাছে যাওয়ার কথা, কিন্তু দেখা গেলো যে বল সাইডলাইনের উপর দিয়া উইড়া দর্শকের হাতে, পুরা ছক্কা!
অথবা ডিবক্সের সামনে থিকা একদম মাপমতো রেইনবো ফ্রিকিক নিলেন, দেখা গেলো বল গোলের ধারে কাছেও না গিয়া বারের অনেক উপর দিয়া উইড়া গিয়া ফটো সাংবাদিকের ক্যামেরার উপর, ধড়াস্!
আপনাকে গেস করতে হবে, উঁচু এলাকায় নেয়া শট বেশী দূরে চলে যায় কেন?
দ্বিতীয় গেসবল
যদিও এবারের বিশ্বকাপের ফুটবলটা দেখতে বদখত, জানিনা কি আছে প্লেয়ারদের কপালে, তাও ছবিতে দেখাঅ ফুটবল দুইটারে দেখে বলা যায় যে কোনটা আগের যুগের ফুটবল (বাঁয়ের, রঙীন) আর কোনটা এই যুগের ফুটবল (ডানের, সাদাকালো), তাইনা?
কথা হইলো ষাটের দশকের মাঝামাঝিই সম্ভবতঃ, ফুটবলের এই বিবর্তন শুরু হয়, মানে পুরানা একরঙা অবস্থা থিকা সাদাকালোতে বিবর্তন শুরু হয়। বর্তমানে প্রতি বিশ্বকাপে নানান টাইপের বল বাইর করার পেছনে যেমন এ্যাডিডাসের ব্যবসাটাই মূল কারণ, তেমনি ফুটবলের ঐ বিবর্তনের পেছনেও মূল কারণ ছিলো ব্যবসাই।
আপনারে গেস করতে হবে, এই বিবর্তনের পেছনের কারণটা কি?





১
ভূপৃষ্ট থেকে উঁচুতে হওয়ার কারণে অভিকর্ষজ ত্বরণ এর মান কম, প্লাস বাতাসের চাপ কম হওয়ার কারণে বাধা কম । এইকারণে বলকে নিচের দিকে টানার জন্য যেই বল সেইটার মান কম, অতএব, আনুভূমিক দিকে বল বেশি যায়, স্বাভাবিক অবস্থার চাইতে ।
২
সাদাকালো থেকে রঙিন টিভিতে বিবর্তনের সাথে সাথে প্রচারের সময় দেখা যাওয়ার সুবিধার্থে বলের রঙের বিবর্তন ।
----
তাৎক্ষণিক । কোন রেফারেন্স ঘাঁটি নাই । ঈমাণকি কৈলাম ।
প্রথমটা হইছে ... সাবাশ! (অবশ্য মাধ্যাকর্ষনের প্রভাবটা খুবই নগণ্য হবে)
দ্বিতীয়টা হয়নাই এখনও
এনিওয়ে, আপনার উত্তর নিয়া ভাবতেছি ... সাদাকালো টিভি থেকে রঙীন টিভির সম্প্রচার শুরু হইলে বলের রঙ রঙীন থেকে সাদাকালো করলে কি লাভ হবে? সবুজ মাঠে লালচে বল তো খারাপ ফোটার কথা না!
হুমম । অভিকর্ষের প্রভাব আসলেই নগণ্য । এভারেস্টের উপরেও মাত্র ০.৩% এর মত কমে ।
দ্বিতীয়টা আরেকটু চেষ্টা করেন ... খুব কাছাকাছি
আমি আগেই ভাবছিলাম, দূরের পাখী আমি কওয়ার আগেই বইলা দিল।
২ নাম্বারটা এখনও সময় আছে
দূরের পাখীর উত্তর খুব কাছাকাছি
কালার ব্লাইন্ড ফুটবলার আছে মনে হয়, তাদের জন্য
হা হা হা ... চমৎকার!
এখনো কেউ উত্তর দেয় না ক্যান? আমি সহমত বলার জন্য বইসা আছি
আপনার লগে সহমত
সাদা বলে কম্পানি লোগো ফুডে ভালো------বিগ্যাপন------
আপনার উত্তরটা শুনে মনে হইতেছে এইটা আসলেই একটা হিডেন কারণ হইতে পারে ...গ্রেট!
১ নাম্বারের উত্তর তো হইলই ... বাতাস হালকা বইলা বলের উপর বাধা কম, ফলাফল সাঁইসাঁই ...
২ নাম্বারঃ
এক রংয়ের বল হইলে দর্শকদের দেখতে অসুবিধা, চক্রাবক্রা হইলে টিভিতেও ভাল দেখা যাবে।
এক রংয়ের বল হইলে কোন দলের জার্সির সাথে মিলে যাওয়ার ভয় থাকে, সাদা-কালো হইলে যে কোন জার্সির বিপরীতেই ভাল দেখা যাবে।
হাল্কা ব্যাকগ্রাউন্ডে অ্যাডিডাসের লোগো ভাল দেখা যাবে।
চক্রা-বক্রা দেখতে ভাল্লাগে, বিক্রিও ভাল হবে
খুব কাছাকাছি ... ৬০ এর দশকের মাঝামাঝি -- এই তথ্যটা কাজে লাগাইলে আপনার গেস একদম জায়গামতো চলে যাবে
দূরের পাখি'র উত্তরটারেই তাইলে ঘুরাইয়া বলি- সাদাকালো টিভিতে ওই মাইট্যা এক কালারের বলের চাইতে সাদাকালো বল বেশি ভাল দেখা যাইত।
এই তো পারছেন! গ্রেট!!
যখন ফুটবল ব্রডকাস্টিং পুরোদমে শুরু হইছিলো, তখন বাজারে মূলতঃ সাদাকালো টিভিই ছিলো। সেই টিভিতে ঠিকমতো দেখানোর জন্য বলে সাদাকালো প্যাটার্ণ ঢুকানো হয়।
এখন রঙীন টিভির যুগে অত ঝামেলা নাই, সেইজন্য এ্যাডিডাস প্রতি বিশ্বকাপে নতুন নতুন আবজাব ডিজাইনের ফুটবল নামায়।
শাহীন এর সাদা কালো দোকানের মডেল করার জন্যে
এটা হলো ক্রিয়েটিভ উত্তর। ক্রিয়েটিভ উত্তরের জন্য মার্কস নাই?
ক্রিয়েটিভ উত্তরের জন্য ডাবল মার্কস ...
কিন্তু আমি মনে হয় যুগের সাথে তাল মিলাইতে পারিনাই ... "শাহীনের সাদাকালো দোকান" এই প্রথম শুনলাম ... বিস্তারিত ব্যাখ্যা করলে গ্রেস নাম্বারও পাবেন
সাদাকালো নামের একটা বুটিক আছে ঢাকাতে, বেশ ভালো। তার মালকিনের নাম শাহীন
ইন্টারেস্টিং!
ওদের ডিজাইনগুলো সব সাদা আর কালো রঙে শুধু?
হায় হায় এত সহজ ব্যাপারগুলা লুকজন ধরতে পারতেছে না... কি কাহিনী।
সঠিক উত্তর যে দিতারপো তারে অগ্রীম অভিনন্দন।
কাহিনী তো আরও প্যাচ খাইতেছে। দেখেন ভবিষ্যতে কি হৈপে। গোল হওয়ার পর বলের কালারই চেন্জ হয়্যা যাইবো.......।
CTRUS - Envisioned by AGENT. from AGENT. on Vimeo.
বুঝলাম না ভিড্যু আইলো না কেন। লিনকে ক্লিক করলে অবশ্য দেখা যাবে।
গেসবল সেকেন্ডটা খুব মজা লাগল।
এনিওয়ে, আপনার পোষ্টের ভাষার এমন বিবর্তন কেন? হাপায়া, হান্দায়া, দৌড়ায়া, বাইর। আপনি তো আগে ঝড়ঝড়ে বাংলায় লিখতেন। বেশ ভাল লাগত। হাপায়া, ঝাপায়া পড়তে গিয়ে হোচট খাচ্ছি।
মন্তব্য করুন