ইউজার লগইন

বিশ্বকাপ শর্টনোট (৮)

ব্রাজিল হারার পর দুঙ্গার নামে এখানে ওখানে চলতে থাকা টুকটাক সমালোচনাগুলো খুব জোর বাতাস পেলো, যে বিশেষজ্ঞরা দু'দিন আগেও "জোগো বোনিতো"র জন্য মৃদু আক্ষেপ করলেও একই সাথে ব্রাজিলকে "সবচেয়ে ব্যালান্সড" দল, "অনন্য ধরনের একতাবদ্ধ" বা "যে কোন ম্যাচ জেতার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত" দল হিসেবে আখ্যা দিতে কার্পণ্য করেননি, তারাই হঠাৎ আবার আগের ফর্মে চলে গেলেন। এটাই ফুটবল, বিশ্বকাপে এমনটাই হয় -- এই ভেবেই হয়তো দুঙ্গাকে সান্ত্বনা পেতে হবে।

তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি নব্বইয়ের পর এবারই ব্রাজিল দলটির খেলা দেখে সেরকম মুগ্ধ হয়েছি, গড়ানো বলে কখনও অনেকগুলো শর্ট পাসে, কখনও হঠাৎ করেই প্রতিপক্ষের ডিফেন্স চিরে বল নিয়ে হানা দিয়েছে ওরা। যে গোল গুলো ব্রাজিল এবার করেছে তার প্রত্যেকটাই "নিশ্চিত গোল", গোলে মেরে দিয়েছি আর হয়ে গেছে তেমনটা মনে হয় শুধু চিলির বিরুদ্ধে হুয়ানের করা গোলটাই। সাথে সামলেছে ডিফেন্স, বস্তুত ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডের অসাধারণ ব্যবহারে। এই করতে গিয়ে যে একটি জায়গায় ব্রাজিল ছাড় দিয়েছিলো, সেটা বল পজেশনে। আগে তারা খেলতো এ্যাকটিভ মোডে, এবার প্রথম গোলটি উঠে এলে তারা চলে যাচ্ছিলো প্যাসসিভ মোডে। তবে গত ম্যাচে হল্যান্ডের সাথে প্রথম গোলটি করেও ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড়রা প্যাসসিভে যাননি, মিশেল বাস্তোসকে তো ফরোয়ার্ড উইংগারের মতো মনে হয়েছে, অন্যপাশে মাইকনকেও প্রতিপক্ষের অর্ধেই দেখা গেছে বেশী। দানি আলভেসও আগের মতো ডিফেন্সিভে ফিরে যাচ্ছিলেননা। ফলাফলও দেখেছে সবাই, প্রথম গোলের পরও তিন তিনটা খুব ভালো সুযোগ পেয়েছে তারা। কাকা, রবিনিয়োদের মুখে লেগে থাকা হাসি বলছিলো, বাঁধ ভেঙে আনন্দের সাথে খেলছে এরা। প্রথমার্ধে মাঠ ছাড়ার সময় এখন ব্রাজিল দলটিকে বকাঝকা করা বোদ্ধাদের কেউও বাজী ধরতে রাজী হতোনা হল্যান্ডের পক্ষে, এটা আমি নিশ্চিত করেই বলতে পারি।

আমার ধারনা হাফটাইমের বিরতিতে দুঙ্গা অপ্রয়োজনীয় কিছু টোটকা দিয়েছেন খেলোয়াড়দের, এ্যাটাকিং মেজাজে খেলার জন্য বকাঝকাও করে থাকতে পারেন, বিচিত্র নয়। হয়তো এমন ধারনা নিয়ে খেলোয়াড়রা নেমেছিলেন যে বাকী সময়টুকু ডিফেন্সিভ খেললে কোনভাবেই সেদিনের ম্রিয়মান হল্যান্ড গোল করতে পারবেনা। এই এ্যাটিচিউডটাই হারিয়ে দিয়েছে ব্রাজিলকে। তা না হলে খেলার পঞ্চান্ন মিনিটে হল্যান্ড যখন গোল শোধ করে দিলো তখনই অমন ভেঙে পড়ার কথা না বাস্তোস, হুয়ান বা সিলভাদের। কিন্তু তাদের চেহারা বলছিলো এমনটা যে ঘটতে পারে তা তারা কল্পনাও করেননি। মনে হচ্ছিলো, হল্যান্ড যে একটি গোল ফিরিয়ে দিয়ে সমতা আনবে, এই সিনারিও তাদের গেমপ্ল্যানে ছিলোনা! প্রথমার্ধে বেশী ভালো খেলেই হোক, অন্য যে কারণেই হোক, এরকম অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসই ডুবিয়েছে দলকে। অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসে ফাঁপা অংশ থাকবেই, সেটাতে চিড় ধরলেও তাই সারিয়ে তোলা সহজ না। মেলো নাটকে সেটা তরান্বিতই হয়েছে। বেশী ভালো দলগুলো বিশ্বকাপে এই বাড়তি আত্মবিশ্বাসের নেগেটিভ চাপের শিকার হয়। যতবার খেলা দেখেছি, বিশ্বকাপের নক আউট পর্বের দ্বিতিয়ার্ধে পিছিয়ে পড়ে ব্রাজিলকে কখনও বেঁচে যেতে দেখিনি, প্রত্যেকবারই আউট হয়ে গেছে।

ব্রাজিলের পরাজয়টা যদি হয় ম্যাচ চলাকালে জন্ম নেয়া আত্মবিশ্বাসের কারণে, তবে আর্জেন্টিনার পরাজয়টা টুর্ণামেন্ট চলাকালে জন্ম নেয়া আত্মবিশ্বাসের ফল -- এটা বলতেই হচ্ছে। টুর্ণামেন্ট শুরুর আগে এই দলটির শক্তি বলতে এক মেসিকেই বোঝানো হলেও, প্রত্যেক ম্যাচে একের পর এক অসাধারন সব আক্রমণ, এ্যাকটিভ মোডে একচেটিয়া প্রাধান্য বিস্তার করে খেলা আর্জেন্টিনা দল শুধু নিজেদের না, সবারই সমীহ কেড়েছে। হয়তো সেজন্যই কোচ ম্যারাডোনা আলাদাভাবে হোমওয়ার্ক করাননি জার্মানীর জন্য, আর্জেন্টিনা দলের "নিজেদের ফুটবল" দিয়েই জিততে চেয়েছেন। তা না হলে, খেলোয়াড়দের উচ্চতায় হেরে যাওয়া আর্জেন্টিনা দল এতটা অসতর্ক কিভাবে থাকে যে ম্যুলার যখন হেড করে গোল করছে তখন তার আশেপাশে কোন ডিফেন্ডার নেই? অবশ্যই জার্মানী দল উচ্চতা থেকে যে এ্যাডভান্টেজ নেবে তার বিপরীতে ভালো হোমওয়ার্ক দলের ছিলোনা। আলাদা করে জার্মান দলটির জন্য কোন পরিকল্পনার ছাপ আর্জেন্টিনার খেলায় ছিলোনা। আগের চার ম্যাচে মেসিকে মার্ক করতে যেয়ে অন্যপাশ ফাঁকা করে ফেলার যে ভুলগুলো আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষেরা করেছিলো, শক্তিশালী জার্মানীও যে একই ভুল করবে সেটা এতটা নিশ্চিত হয়েছেন ম্যারাডোনা কিভাবে? এখানে জার্মানীর মুন্ষিয়ানা দেখা যায়, মেসির ব্যাপারে তাদের প্ল্যান ছিলো "সবাই একসাথে চড়াও না হয়ে, যখন যার সামনে পড়ে" -- এমনটা। যখন মিডফিল্ডের কাছাকাছি তখন শোয়েইনস্টেইগারের সাথে অসম ড্যাশিংয়ে হার মেনেছেন মেসি, আর বোয়াটেং, মারটেসেকাররাও প্রয়োজনমতো ডি বক্সের সামনে আটকে দিয়েছেন মেসিকে। এমনকি পোডলস্কি, ওজিলকেও দেখা গেছে জার্মান ডিফেন্সের কাছাকাছি এলাকায় মেসির পা থেকে বল কেড়ে নিতে।

তবে চারগোলে হারায় এখন লোকে যতই হাসাহাসি করুক, পাঁড় জার্মানী সাপোর্টারও জার্মানীর দ্বিতীয় গোলটি হবার আগে সামান্যও স্বস্তি পায়নি এই ভেবে যে আর্জেন্টিনা ম্যাচে ফিরে আসতে পারছেনা। প্রথমার্ধের পনেরো মিনিটের পর সেই যে আর্জেন্টিনা নিজেদের গুছিয়ে নিয়েছে, তারপর থেকে একচেটিয়া আক্রমণ করে গেছে। এরকম চালাতে থাকলে একসময় গোল হবেই, নিশ্চিত ছিলাম আর্জেন্টিনা ফিরে আসছে খেলায়। পারেনি ডিফেন্সের অমনোযোগের কারণে, দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই দেখা গেছে আর্জেন্টিনার আট নয়জন করে খেলোয়াড় সারাক্ষণ জার্মানীর অর্ধে, এতটা বেপরোয়া না হলেও তো হয়! তা নাহলে ডিবক্সে বল নিয়ে ঢুকে বেশ খানিকক্ষণ ড্রিবলিং করার পরও যখন পোডলস্কি ক্লোসেকে পাসটি দেন, তখনও ক্লোসে উইদাউট মার্ক থাকে কিভাবে?

দ্বিতীয় গোলের পর বাকী খেলাটা আসলে আলোচনার বাইরে, হাই নার্ভের খেলায় এমনটা হয়ই। "জিততেই হবে" এমন চাপ নিয়ে খেলা দল দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝিতে দুই গোলে পিছিয়ে পড়লে আর খেলার কিছু থাকেনা, তখন চার গোল কি, ছয় গোল হলেও কিছুই যায় আসেনা। আর্জেন্টিনা-জার্মানীর খেলা শেষ হয়ে যায় দ্বিতীয় গোলের পরই, ওটা না হলে সেদিন জার্মানীকেই কাঁদতে কাঁদতে ফিরতে হতো। আর্জেন্টিনা দলের আক্রমণের ক্ষুধা দেখে আমি ইমপ্রেসড, সেদিনের খেলায়ও।

মজার ব্যাপার হলো টুর্নামেন্টের শুরুতে সবার অগোচরে থাকা জার্মানী দলটি পরপর দু'ম্যাচে ইংল্যান্ড আর আর্জেন্টিনার সাথে চারটি করে গোল করে এখন ইংল্যান্ড/আর্জেন্টিনা/ব্রাজিলের অবস্থায় নিয়ে এসেছে নিজেদের। প্রত্যাশার চাপ কি জিনিস, তরুণদের নিয়ে গড়া দলটি টের পাবে পরের ম্যাচেই। এই জার্মান দলটিই প্রি-কোয়ার্টারে ইংল্যান্ডের কাছে হেরে বিদায় নিলে হয়তো নিজ দেশে ফিরে "ওয়েল প্লেইড", "নেক্সট টাইম" জাতীয় সান্ত্বনার কথা শুনে পিঠে হালকা চাপড় পেতো, তবে এখন কাপ না নিয়ে ফিরলে উপায় নেই। দেখা যাক সেই চাপ কাঁধে নিয়ে শক্তিশালী স্পেনকে তারা কিভাবে মোকাবেলা করে।

অন্যান্য দলের তুলনায় স্পেন দলটি কন্ডিশন আপগ্রেড করছে খুব ধীরে ধীরে, ইতালী, জার্মানী সবসময় যেমনটা করে। প্রত্যেকটি ম্যাচেই প্রাধান্য বিস্তার করে খেলেছে, গোল পায়নি অঢেল, তবে প্রয়োজনমতো তুলে নিয়েছে। একইসাথে টুর্নামেন্টের শুরুতে সবার ফোকাসে থাকার যে চাপ, জার্মানী আর হল্যান্ডের ঘটানো আপসেটের কারণে সেটা অনেকটাই সরে গেছে তাদের ওপর থেকে। ভারমুক্ত স্পেন তাই কাপ জিতে নিলেও অবাক হবোনা, তবে সেমিফাইনালে বর্তমানে সবচেয়ে শক্তিশালী বলে প্রতীয়মান জার্মানীকে হারালে আবার হুড়মুড় করে রাজ্যের ফোকাস তাদের উপর এসে পরে কিনা সেটাও দেখার বিষয়। স্পেনের জন্য সবচেয়ে ভালো হবে যদি টাইব্রেকারে ম্যাচ জেতে, বাহবার জোয়ারে ভেসে যাবেনা।

তবে, তিনটি শর্ত, ওয়েসলি শ্নাইডার যা খেলেছে এই বিশ্বকাপে সেটা ধরে রাখতে পারলে (১), রোব্বেন আগামী ম্যাচ গুলোতেও একইভাবে প্রতিপক্ষকে ব্যতিব্যস্ত রাখতে পারলে (২), এবং ডাচ কোচের অহেতুক ফনপার্সি বিষয়ক মুগ্ধতাটা কেটে গেলে বিশ্বকাপটা হল্যান্ডের ঘরে যাবে বলেই মনে হচ্ছে। ব্রাজিল সাপোর্টার না হলেও বলতাম, ব্রাজিলের থেকে সেকেন্ড হাফে ম্যাচ ছিনিয়ে নেয়া চাট্টিখানি কথা না!

পোস্টটি ১০ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

টুটুল's picture


ভালো লাগলো বস

জ্বিনের বাদশা's picture


থ্যাংক্যু

সাহাদাত উদরাজী's picture


এরই নাম খেলা!

জ্বিনের বাদশা's picture


ঠিক কইছেন, কি হইবো কিছু বলা যায়না দেইখাই খেলা, লীলাখেলা Wink

সাহাদাত উদরাজী's picture


জ্বিনের বাদশা ভাই,
সেমি ফাইনালে আমার বাজী
১। নেদারল্যান্ডস
২। জার্মানী

এখনো টাইম আছে, ছারুন না "এবিফা সেমি ফাইনাল"!
আবার মজা হউক!

শওকত মাসুম's picture


নেদারল্যান্ডস বা স্পেন জিতলেই খুশী হবো। পাওয়ার ফুটবল কখনোই আমার পছন্দ ছিল না।

জ্বিনের বাদশা's picture


নেদারল্যান্ডস ফাইনালে গেলে তাগোরে সাপোর্ট করবো ... সেমিতে শেষ ল্যাটিন ভরসা উরুগুয়েরেই সাপোর্ট করবো ... তবে আসল চিজটাই তো আউট, সুয়ারেস একটা প্লেয়ার বটে!

তানবীরা's picture


আপ্নে আমার সাথে বন্ধুত্ব রাখতে চাইলে সব সময়ই নেদারল্যান্ডস সার্পোট করবেন Glasses

জ্বিনের বাদশা's picture


হায় হায় !! এ কী কইলেন? ... বন্ধুত্ব কি এতই ঠুনকো? Wink

১০

তানবীরা's picture


খেলা দেখতে যাবো একটুপর, দোয়া রাইখেন, ফীআমানিল্লাহ Wink

১১

সাহাদাত উদরাজী's picture


স্পেন ভাল খেলে না। তাদের ভাগ্য ভাল।

১২

ভাঙ্গা পেন্সিল's picture


উরুগুয়ে ভাঙ্গাচোরা দল নিয়া নেদারল্যান্ডকে আটকায় দিবে এই আশা করতাছি। Big smile

১৩

জ্বিনের বাদশা's picture


আমিও ... Wink

১৪

মামুন হক's picture


নিখুঁত বিশ্লেষণ জ্বিনের বাদশা ভাই।
এখন আমার পয়লা চয়েস উরুগুয়ে, আর এর পরে স্পেন। জার্মানী আর হল্যান্ডের ফাইনাল হলে খেলা দেখি কি না সেটাই নিশ্চিত না।
স্নাইডার এই বিশ্বকাপের গোল্ডেন বল পাওয়ার অন্যতম দাবীদার। এর পরেই থাকবে শোয়েইনস্টেইগার আর ওজিল।

১৫

জ্বিনের বাদশা's picture


বস্, শোয়েইনস্টেইগার ঐদিন কি কেলাটা দেখাইলো! পরের দুই ম্যাচে এমইরকম খেললে গোল্ডেন বল নিশ্চিত

১৬

আসিফ (অতিথি)'s picture


জার্মানী খেলছে কাউন্টার অ্যাটাক নির্ভর ফুটবল। অদম্য তারুণ্যের জোরে ফাইনাল পৌছে যেতে পারে।
স্পেন খেলছে পাসিং ফুটবল, কিন্তু তোরেসের ফর্মহীনতায় কোচ মনে হয় কিছুটা চিন্তিত, ভিয়ার উপর চাপ বাড়ছে।
উরুগুয়ে সুয়ারেজকে ছাড়া কি করতে পারবে নিশ্চিত নই।

কিন্তু আমার মতে এই ওয়ার্ল্ড কাপে কার্যকরী ফুটবল খেলছে হল্যান্ড। কেন যেন মনে হচ্ছে এই দলের কোচ মরিনহো। যার সাথে যেভাবে খেলা প্রয়োজন ঠিক সেভাবেই খেলছে হল্যান্ড।

রোবেন/স্নাইডারের হাতে কাপ দেখতে পেলে খারাপ লাগবে না। তবে খুশি হব স্পেন জয়ী হলে। Smile

১৭

জ্বিনের বাদশা's picture


ঠিক, সুয়ারেসকে ছাড়া উরুগুয়ে আক্রমণ শানাতে পারবেনা ... সুয়ারেস আসলেই একটা জিনিস!!
হল্যান্ডই কাপ হাতে নিবে হয়তো

১৮

সাহাদাত উদরাজী's picture


আসিফ (অতিথি) ভাই, সেমি ফাইনালে আমার বাজী
১। নেদারল্যান্ডস
২। জার্মানী

আর ফাইনাল!
পরে বলি, সেমিতে ওদের খেলা দেখি আগে!

নোটঃ আমি পুর্তগালের সমর্থক ছিলাম!

১৯

আসিফ (অতিথি)'s picture


উদরাজী ভাই,
আমি ইতালীর সমর্থক ছিলাম, কিন্তু খেলা দেখে লজ্জায় আওয়াজ দেই নাই। Sad Sad

আমার বর্তমান বাজী স্পেন। তোরেসের ফর্মটা নিয়া চিন্তায় আছি। তোরেস যদি ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগের খেলার আটআনাও খেলতে পারে, তবে জার্মানী এইবারও সেমিফাইনাল থেকে স্লামালাইকুম। Wink Wink

তবে টেনশনের কিছু নাই, এবিফাতে আপনিই চ্যাম্পিয়ন। এজন্য অক্টোপাস লাগবে না। Big Hug Big Hug

অ.ট. - আমার নাম আসিফ ইকরাম। আসিফ বললেই খুশি হবো। আমি বয়সে আপনার ছোট হবো।

২০

সাহাদাত উদরাজী's picture


ভাই আসিফ (অতিথি), অতিথি হয়ে আছেন কেন? ডুকে পড়ুন। এক এক ব্লগে এক এক মজা। আমরা বন্ধু তে মজা হলো, পেচ্ছাপেচ্ছি। সবাই হেভী পেচ্ছাতে পারে। স্বামী - স্ত্রী, ভাই-বোন, মামা, চাচা, খালা, দুলাভাই, ওস্তাদ- সারগেদ, গুরু, জিনের বাদশা থেকে হুরপরী সবাই আছে।

যাই হউক- আসুন।

আমার প্রথম সেমিতে নেদারল্যান্ড জিতে গেল। হাহাহাহাহা
জামানী জিতবেই। আমি তাদের খেলা দেখে বলছি।

স্পেন নিয়ে বাজী ধরা যায় না। আমি তাদের খেলা দেখেছি, আমার কাছে অনেক দুর্বল দল মনে হয়েছে।

২১

অপরিচিত_আবির's picture


ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার একটা দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পার্ট প্লে করে। বিশেষ করে ব্রাজিলের এইবারের দলে যেখানে দুজন ডিএম ব্যবহার করেছেন দুঙ্গা। অভিজ্ঞ জিলবার্তো কাজ করেছে অ্যাংকরম্যান হিসেবে যাতে করে তরুণ মেলো এগোনোর স্বাধীনতা পায় আবার দরকার মতো ফিরেও যেন আসতে পারে। কিন্তু হল্যান্ডের সাথে খেলাতে ঔন গোল(অন্তত তখন পর্যন্ত ঔন গোলই ছিল পরে গবেষণার পর গোলটা স্নাইডারের কপালে জুটেছে)টা হওয়ার পর থেকেই মেলো নার্ভাস হয়ে পড়েছিল এবং তখনি ছিল ওকে চেঞ্জ করবার সময়। এছাড়া এলানোর বদলে আলভেসকে খেলানোর যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা যায়। যদিও আলভেস ঐ পজিশনে যথেষ্ট গতিময়তা যোগ করেছে কিন্তু প্রকৃতপক্ষে একজন মিডফিল্ডারের যেসব গুণাবলী প্রয়োজন - শট অ্যাকুরেসি আর পাসিং ইন্সটিঙ্কট, সেসব দিক থেকে সে এলানো থেকে অবশ্যই পিছিয়ে ছিল। লাতিন আমেরিকান স্টাইল থেকে সুইচ করবার যে সিদ্ধান্ত দুঙ্গা নিয়েছিলেন সেটা সাহসী পদক্ষেপ হলেও মুখ থুবড়ে পড়েছে ক্রিয়েটিভ ফুটবলারদের অভাবে। সত্যি বলতে কি এই স্কোয়াডের আগ পর্যন্ত আমার মনে হয় না ব্রাজিল কখনো এতো কম ক্রিয়েটিভ খেলোয়াড় নিয়ে খেলেছে। কাকা, রবিনহোরা থাকলেও তারা জ্বলে উঠতে পারেন নি যেমনটা বিশ্বকাপের মুহূর্তে রোনালদো, রিভালদো, রোমারিও, ডেনিলসনরা পারতেন।

২২

জ্বিনের বাদশা's picture


এলানো তো ইনজুরড ... নাইলে এলানোকে বসানোর তো প্রশ্নই আসতোনা ... দুঙ্গার ছকের অনেকটাই মার খাইছে এলানো না থাকায় ... দানি আলভেস বারবার গোলে মিডল-শট নিয়ে আক্রমণের সম্ভাবনা নষ্ট করছে
তবে এখন আর ক্রিয়েটিভ খেলোয়াড় দিয়া হয়না ... টিম-প্লে টা আসল হয়ে গেছে ... দেখেন, কাকা, রবিনহো বা মাইকন -- এরা কেউ কম ক্রিয়েটিভ না ... তবে খেলা দেখলেই বুঝবেন, কোচের তরফ থেকে নিষেধ আছে ... কাকা বল নিয়া টানই মারেনাই ... পাস, পাস, পাস ... তবে পরিহাস হইলো, হল্যান্ডের সাথে গোল শোধ করতে না পেরে শেষ পনেরো মিনিটে যখন দুঙ্গা দেখছে কাকা জ্বলতে পারতেছেনা, তখন নিশ্চয়ই রোনালদিনহোরে তার মনে পড়ছে ... একগাদা জিলবার্তো মেলো, ক্লেবারসন, জস্যুদের নিয়া কোটা না ভইরা রনিরে দলে রাখলেও পারতো

২৩

অপরিচিত_আবির's picture


সেটাই, আসলে এইবার দুঙ্গা দলে ছয় ছয়জন ডিএম রাখায় সবাই বিস্মিত হয়েছে। কার্যকরী খেলোয়াড়রা সবসময়ই খেলতে পারেন কিন্তু একজন ক্রিয়েটিভ খেলোয়াড় সবসময়ই হার আর জিতের মাঝে তফাত গড়ে দেবার ক্ষমতা রাখেন।

২৪

উদ্ভ্রান্ত পথিক's picture


-২০০৬ তে কিন্তু রোনালদিনহো থেকে শুরু করে তাবত ক্রিয়েটিভ ম্যাচ উইনার থেকেও কিছু করতে পারে নাই! সেইজন্যে এইরকম টিম ডুঙ্গা বানাইছে। আমার মনে হয় না রোনালদিনহো কিছু করতে পারতো। রোনালদিনহো তার পিকে থেকে ব্রাজিল দলে কিছু করতে পারে নাই তেমন। বরঞ্চ ২০০২তে পুরা ওয়ার্ল্ড কাপে ফ্লপ রোনালদিনহোর অতিমানবীর পারফরমেন্সের কারণেই কোয়ার্টারে জিতছিল।
-ওইদিন ম্যাচ হারছে খালি মাত্র ব্রাজিলের অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের কারনে। আর ডুঙ্গারও কিছু দোষ ছিলো ওইদিন। সে অতিরিক্ত মাত্রায় সাইডলাইন থেকে চিল্লাছিলো সেইটার প্রভাব প্লেয়ারদের উপরে গেছে।
-যাইহোক সবাই ডুঙ্গাকে ঢালাওভাবে দোষারপ করতেছে। কিন্তু সে তার ৪ বছরের ক্যারিয়ারে খুব ম্যাচ হারছে। ৫-৬টার বেশি না সম্ভবত।ওদিন ব্রাজিলের এক্টা খারাপ দিন ছিলো দুঃখের বিষয় সেইটা ছিল নকাউট ম্যাচ!

২৫

রন্টি চৌধুরী's picture


দুর্দান্ত বিশ্লেশন।

২৬

জ্বিনের বাদশা's picture


শুকরিয়া Wink

২৭

মীর's picture


ব্রাজিল হারার পর আপনাকে মুষড়ে পড়তে দেখে খারাপ লেগেছিলো। এই পোস্টে আপনার যে স্পোর্টিং স্পিরিট দেখতে পাচ্ছি.. দাদা হ্যাটস্ অফ। Smile

খেলায় হার-জিতের চেয়ে এই স্পিরিটটা বেশি বড়। অদ্ভূত বিশ্লেষণ। একগাদা ধইন্যা বরাদ্দ।

২৮

জ্বিনের বাদশা's picture


আসলেই বেশ মুষড়ে পড়েছিলাম ...হা হা হা, যদিও ব্যাপারটা শিশুসুলভ

২৯

মুক্ত বয়ান's picture


ব্রাজিলের সমস্যা যেটা মনে হইছে, তারা চিন্তাই করে নাই ১টা গোল পরিশোধিত হয়ে যেতে পারে। তাও যখন আত্মঘাতি গোল হয়ে গেল, পুরো দলটাই হ-জ-ব-র-ল হয়ে গেল। Sad
যাই হোক, ব্যাপার না। আগামীতে আবার দেখা হবে। Smile
আবারও হেক্সার মিশনে। Smile
চমৎকার বিশ্লেষণী পোস্টের জন্য ধইন্যাপাতা। Smile

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.