বইমেলা, বই কেনা ও বাইয়ের দাম বিষয় ছাইপাশ ভাবনা
১.
যখন দশ টাকায় পাইজাম চাল কিনতাম, তখন বাজারের টাকা মেরে, বিশেষ করে মাছের দামটা নিয়ে চাপাবাজি করে দু'তিন সপ্তায় একটা করে সেবা'র বই কেনার টাকা উঠিয়ে ফেলতাম। এখন হিসেব করুন তো দেখি, তখন সেবার বইয়ের দাম কত ছিলো?
পাঠক যা ভাবছেন তা হয়তো না। তিন সপ্তায় একুশ দিনের প্রতিদিন পাঁচ টাকা করে মেরে দিয়ে একশো পাঁচ টাকা জমিয়ে, তারপর সেই টাকায় সেবার বই কখনো কিনতে হয়নি। দু'তিন সপ্তায় হয়তো বাজারে যাওয়ারই সৌভাগ্য হতো সাকুল্যে পাঁচদিনের মতো, বহুত দরদাম করে মাছের বাজারে দু'টাকা কমে বিশটা কই আটত্রিশ টাকায় কিনে, অথবা দুই ভাগ চাপিলা মাছ আঠারো টাকায় কিনে বাসায় এসে মায়ের কাছে হিসেব দিতাম একটু ভিন্নভাবে। যেমন ধরা যাক, বিশটা কইয়ের দাম বিশ দুগুণা চল্লিশ বা দুই ভাগ চাপিলার দাম দশ দুগুণা বিশ বলে চালিয়ে দিয়ে, পাঁচ দুগুণা দশ টাকা জমিয়ে সেবার তিন গোয়েন্দা বা অনুবাদ কেনা যেত; পেপারব্যাকে দু'শো পৃষ্ঠার (আড়াইশো/তিনশোও ছিলো মনে হয়!) বই, মাত্র দশ টাকায়!!
তখন শক্ত বাঁধাইয়ের "ঝকঝকে তকতকে" অফসেটে এক-দেড়শো পৃষ্ঠার হুমায়ূন আহমেদীয় বই বা কোলকাতার অনুবাদগুলোকে অনেক উঁচু শেলফের পাঠ্য মনে হতো, বিষয়বস্তুর কারণে যতটা তার চেয়ে বেশী দামের কারণে, ওগুলোর দাম থাকতো কমসেকম ত্রিশ টাকা! কাজেই দশ টাকা সেরের চাল খেয়ে দশ টাকা দামের বই পড়েই সুখে থাকতে হতো।
এসব সুদূর কৈশোরের কথা, সেই ছিয়াশি/সাতাশি/আটাশি'র সময়ের কথা। এরপর অনেক জল গড়িয়েছে অনেক নদীতে, অনেক পাহাড়েরও বরফ গলেছে গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ে, চালের দাম, কৈ মাছের দাম, মায়ের বাজারের বাজেট, মেরে দেয়া টাকার পরিমাণের সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে বইয়ের দামও। আজ পাইজামের দাম চল্লিশ টাকার মতো (নাকি আরো বেড়ে গেছে!! দ্রব্যমূল্যের দাম তো এখন হাইজেনবার্গের থিওরীর পাল্লায় পড়েছে)।
সে হিসেবে সেবার দু'শো পৃষ্ঠার পেপারব্যাক বইয়ের দামও হওয়া উচিত চল্লিশ টাকাই। জানিনা দাম কতো এখন! আবার, হার্ড কাভারের ঝকঝকে অফসেটের দেড়শো পৃষ্ঠার বইয়ের দামও হওয়া উচিত একশো বিশ টাকার কাছাকাছিই। যদিও নিশ্চিত করে বলতে পারছিনা যে বই প্রকাশের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বিশ বাইশ বছরে চালের দামের মতোই চারগুণ বেড়েছে কিনা। হিসেব করে দেখা যায় অবশ্য, কারণ এটুকু বলতে পারি যে, তখন সাদা কাগজের দিস্তা ছিলো বারো টাকা, নিউজপ্রিন্টের দিস্তা ছিলো তিন টাকা। এখন এসবের দিস্তা কত করে? আমি নিশ্চিত, চালের মতো একই হারে বাড়েনি।
আরেকটা তথ্য, তখন খবরের কাগজগুলো এখনকার মতো ত্রিশ পৃষ্ঠাসমৃদ্ধ স্ফীত কলেবরে বের হতোনা, বড়জোর ষোল পৃষ্ঠা, দাম দু'টাকা।ইন্টারপোলেশনের সুবিধার জন্য আরো কিছু উপাত্ত মনে করার চেষ্টা করি। সাতাশি/আটাশি থেকে একলাফে দুহাজার বারোতে চলে আসলে গাণিতিক হিসেবে ব্যাড়াছ্যাড়া লাগতে পারে, তাই পঁচানব্বই ছিয়ানব্বইয়ের দিকের দামগুলোও মনে করার চেষ্টা করি। তখন পাইজাম চালের কেজি ছিলো পনেরো-ষোল টাকা (সাত আট বছর আগের তুলনায় দ্বিগুণ হয়েছিলো), সাদা কাগজের দিস্তা ছিলো বিশ টাকা, নিউজপ্রিন্ট চার/পাঁচ, আর ইকোনো কলমের দাম অপরিবর্তিত -- তিন টাকা (কলমের কালির দাম বাড়েনি মনে হয় অনেকদিন, ছাপার কালির দাম?). খবরের কাগজের বপুও স্ফীত হওয়া শুরু করে, দামও ছিলো চার বা পাঁচ টাকার মতো।
কিন্তু ইদানিং প্রতিবছর বইমেলার নানান খবরের ভীড়ে যে খটকাটা খুব বেশী লাগছে আজকাল, তা হলো, কোনভাবেই সাদা কাগজে হার্ড কাভারের দেড়শো পৃষ্ঠার উপন্যাস (এখন কেউ এত বড় উপন্যাস লেখে কিনা সেটাও প্রশ্ন) মনে হয় একশো বিশ টাকায় পড়া যাবেনা। দাম দাঁড়াবে আড়াইশো থেকে তিনশোতে। নামকরা লেখকের বেলায় সেটাও ছাড়িয়ে যেতে হবে হয়তো। বোঝা যাচ্ছে যে এখানে স্ফীতির হারটা অনেক বেশী, অন্য জিনিসের দাম যেখানে চারগুণের মতো বেড়েছে, সেখানে এসব বইয়ের দাম সাত-আটগুণ বেড়েছে।
প্রশ্নটা জাগে কেন? কাগজের দাম বেশী? নাকি হার্ড কাভারের? নাকি প্রিন্টিং কস্ট? নিশ্চয়ই বই প্রকাশে প্রয়োজন এমন কোন একটা উপাদানের খরচ অনেক বেড়ে গেছে!
আলোচনা চলুক, হয়তো একটা গ্রহনযোগ্য হিসেব কেউ তুলে ধরতে পারবেন।
(মানুষের আয় কেমন বেড়েছে? ৮৭/৮৮ এর দিকে বিসিএস অফিসাররা ঢুকতো ৩৫০০ এর কাছাকাছি স্কেলে মনে হয়, এখন কি ১৪ হাজারে গেছে?)





জ্বীন ভাই... পয়লা স্বাগতম
দ্বিতীয়ত.. গেসবলের রিকুশ করছে অনেক ব্লগার
তৃতীয়ত ... পোস্ট বাসায় যাইয়া পড়মু... অফিস শেষ
টুটুল ভাই, পয়লা আরিগাতো (মানে বুইঝা লন)
দোসরা, অনেকগেসবল জমা হইয়া আছে, দিতে থাকবো
তেসরা, আবার দেখা হইবো
অত্যন্ত প্রিয় একটা বিষয় আমার। বাজারের টাকা মেরে বইকেনা খুব পছন্দ হলো। আশির দশকে আমার রেট ছিল ৫% একশো টাকায়। তিনবার বাজার করলে একটা বই কেনা যেত
লেখা প্রিয়তে নিলাম।
বস্, আপনে তাহলে ঝানু লোক ছিলেন
, আমি পাতি ছিলাম, প্রতি খ্যাপে দুইটাকা টার্গেট ... বিশেষ করে মাছের বাজারে, কারণ ঐটার কোন নির্দিষ্ট দাম ছিলোনা
তবে একহন কথাপ্রসঙ্গে মনে হলো, বাবা-মা'রা নিশ্চয়ই টের পেতেন যে টাকা মারছি; নাহলে ক'দিন পরপর নতুন নতুন বই পড়ছি অথচ কেনার টাকা নিচ্ছিনা -- কহটকা লাগার কথা না?
দেকহি জিজ্ঞেস করে দেখতে হবে
হার্ড কভার আর অফসেট কাগজ দিয়ে করা বইয়ের সাথে সাথে পেপার ব্যাক আর সাধারন কাগজে করা বই কি করা যায় না !! যায়, কিন্ত করা হয় না। এটা করা গেলে কিন্তু বইয়ের দাম অনেক কমিয়ে আনা সম্ভব। ঢাকা শহরে থাকা একজন নিম্ন মধ্যবিত্ত ৪ সদস্যের পরিবারে যেখানে আয় ৮-১২ হাজারে উঠা নামা করে সেখানে ১৫০ টাকা দিয়ে ৮০/১০০ পাতার একটা বই কেনা বিলাসীতাই বলা যাবে। একটা বই কিনলেতো হয় না, অনেক গুলো কিনতে হয়। যেখানে বাসা ভাড়া, বাজার খরচ, ছেলের মেয়ের পড়াশোনা - চিকিৎসা ইত্যাদি ইত্যাদি খরচ করে হাতে কিছু থাকে না বলা চলে সেখানে এতো দাম দিয়ে বই কেনা !! হয়তো আমার অবস্থা ভালো, এক ঘন্টার উপার্জনের টাকা দিয়ে গাদা গাদা বই কিনে ফেলা যাবে সেই আমাকে দিয়ে কি সেই নিম্ন মধ্যবিত্ত পিতাকে তুলনা করা যাবে !! ?? নাহ, যাবে না। বই কেনাতেও আস্তে আস্তে শ্রেণীভেদ চলে আসছে। গরীব মানুষ অচ্যুত হয়ে যাবে এখানেও।
হ, বস্, আসলেই অনেকেরই আসলে এই বাজারে কেনার সামর্থ্য নাই
তবে, হিসাবটা বুঝতে চাইতেছি, কেন এত বেশী?
হবে না!! টুটুল্ভাই কমেন্ট দিলেন কেন??
এই কমেন্টের আইডিয়া আমার ছিলো!! আমার কমেন্ট চুরি'র দায়ে তারে কি সাজা দেয়া যায় কানুগ্রুপ ঠিক করুক অচিরেই... আমি জিন্টু'রে দেখে বলছিলাম যে, আজ একটা লেখা দিলে আমি গেসবলের রিকুশ করে আসবো...
ভাইয়ারা দেখতাম বাজার থেকে মেরে, টিফিনের পয়সা জমিয়ে সেবা'র বই কিনতেন, ...রানা, অনুবাদ... অনেক পরে দেখেছিলাম দাম লেখা ৬টাকা! আর আমরা স্কুলের টাইমে 'তিন গোয়েন্দা' কিনতাম ২৫ করে... বিসিএস'দের সঠিক জানি না, তবে ইন্টার্ন ডাক্তাররা নাকি এবার ১০০০০ করে পাবে...
গেসবলের রিকোয়েষ্ট করে গেলাম... চিল্লাপাল্লা দিয়া...
গেসবল আসপে আসপে
তিন গোয়েন্দা ২৫!! কতদিন আগের কথা?
বিসিএস বেতন স্কেল নিয়া মনে হয় ভুল তথ্য দিছি
... ৯৮ তে নাকি ২৮৫০ টাকা ছিলো!!!! তাহলে তো এখন ভালোই বাড়ছে বলতে হবে
স্বাগতম । আপনার এই ব্লগটি আমুতেও দেখলাম । এখানে মনে হয় ডুয়েল পোস্ট নিরুৎসাহিত করা হয় ।
>>স্বাগতম ।
ধন্যবাদ
>>আপনার এই ব্লগটি আমুতেও দেখলাম । এখানে মনে হয় ডুয়েল পোস্ট >>নিরুৎসাহিত করা হয় ।
আরে! তাইতো! স্যরি, স্যরি, নীতিমালা ঠিকমতো না দেখেই লেখা শুরু করে দিছি :(
জ্বিনের বাদশা রে স্বাগতম
..।
গেসবল পোস্ট দিয়েন না দয়া কইরা.. ঐ অখাদ্য আর সহ্য হয়না
.... (সাকো নাড়াইস না মেথড অ্যাপ্লাই করলাম
... এতে যদি কাজ হয়
... খিকজ)
আরে ইন্ডি যে! কহবর কি?
হে হে হে, শেষে ব্র্যাকেটের ভিতর আবার ব্যাখ্যা এ্যাড করায় সাঁকো ইফেক্ট রিভার্স হইয়া গেছে ;)
সূর্যোদয়ের দেশ হতে দূরালপোনীতে জানতে পারলুম জ্বিনের বাদশা আপিস থেকে ব্লগিং করচে
বাহে, গরীবের চাকরীটা খাইয়েননা
জিন্টু'রে পাগলা বলা হইসে কিন্তু!!
হ... পাগলা বলা হইসে.
.. তয় খুশীর কথা হইলো সাকো পারায়া তারপরে কইছি...
... মু হা হা হা
জ্বিন-ভূতগোরে পাগল বলা জায়েজ আছে
মুদ্রাস্ফীতি কিংবা বেতনবৃদ্ধি নিয়া যতো হিসাবই হোক, এখনো সেবার বইয়ের দাম ৩৫-৪০টাকা, যেখানে ঐ একই কনটেন্ট অন্যপ্রকাশ মার্কা প্রকাশনী ছাপালে ২০০টাকার মতো দাম হয়ে যায়।
আরে! আপনাকেও অনেক দিন পর দেখলাম! আছেন কেমন?
সেবার বই ৩৫ -৪০? যাক, বাঁচালেন, ভালো কিছু শুনলাম
ভালোই আছি
আহারে সেই স্কুল জীবন। সপ্তাহে টিফিনের টাকা বাঁচাইলেই ৪খান সেবা প্রকাশনীর বই।
বইয়ের ব্যবসায়িরা আগের চাইতে অনেক ব্যবসায়ি হইছে...তারা প্রতি বইয়ে দ্বিগুণ লাভ করবার চায়। আরিফ জেবতিক গতোবার একটা হিসাব দিছিলো আড্ডা মারতে মারতে। এখন তো ফর্মা মাইপা মূল্য ঠিক হয়।
পয়সা বাঁচাইয়া বই কেনা -- আসলেই একটা এক্সাইটিং ব্যাপার ছিলো, তাইনা?
ভালো একটা ক্লু দিলেন, কারণ, বইমেলার ভীড়ের যেইসব গল্প শুনি তাতে তো বোঝা যায় যে নব্বইয়ের দশকের তুলনায় ক্রেতা বাড়ছে
মজা পেলাম- লেখার মটোতে নয়, বাজার করতে করতে ছোটবেলায় বাসা থেকেই যে আমরা চুরি করতে শিখি, সেজন্য। খুব ছোটবেলায় ঘুড়ি উড়ানোর শখ ছিল। টাকা মেরে ঘুড়ির কাগজ আর সুতা কিনতাম। একটু বড় হয়ে টাকা মেরে সিনেমা দেখতাম। বইয়ের জন্য অবশ্য টাকা মারতে হয় নি, বই কেনার নামে এমনিই যৎসামান্য পেতাম:)
৮৫/৮৬ বা ঐ সময়ে পেপার-ব্যাক বই বোধ হয় বেশি ছাপা হতো। দাম ভুলে গেছি, তবে অল্প টাকায় বেশ কটি বই কিনে সদর ঘাট থেকে লঞ্চে ৪/৬ ঘণ্টার জার্নিতে শেষ করতাম। আজকাল পেপার-ব্যাক বোধ হয় করা হয় না, হলেও বুকস্টলে চলবে বলে মনে হয় না। কারণ, যিনি বইটা কেনেন, তিনি পড়েই ছুঁড়ে ফেলে দেবেন বলে কেনেন না, ব্যক্তিগত লাইব্রেরিতে সংরক্ষণও করবেন পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের জন্য। লঞ্চ-স্টিমারেও অবশ্য আজও বিক্রি হয় কিনা জানা নেই।
আজকাল নিজের টাকায় আমরা লেখক হয়ে থাকি। টাকা না থাকলে ভালো লিখেও বোধ হয় বইয়ের জনক হওয়া সম্ভব না (কিছু ব্যতিক্রম থাকতে পারে)। তাই বই ছাপবার কালে লেখক ডিমান্ড করেন সবচেয়ে ভালো কাগজে বই ছাপবার জন্য, খরচ কোনো সমস্যা না। বইয়ের মান হয় উন্নত, দামও হয় খুব চড়া। লেখক সব খরচ নিজে বহন করলেও ইচ্ছে করলেই ভালো মানের ১৫০ পৃষ্ঠার বইয়ের দাম ২০ টাকা রাখতে পারবেন না, তাঁকে মিনিমাম এ্যাকসেপ্টেবল দাম ধার্য্য করতেই হয়। তাই বইয়ের দাম আর আগের মতো নেই। ঐ সময়ে পোলাওর চাল কিনতাম ১৫ টাকায়, এখন কিনি ৭০ টাকায়। ভাতের চাল ১০-১২ টাকা ছিল, এখন ৪৩-৪৪ (গত কালের দাম)। যাঁরা বই বেঁচেন, তাঁদেরকে বই বেঁচে ৪৪ টাকা দরে চালও কিনতে হয়। এই করুণ, কঠিন ও জটিল সমীকরণের মধ্যে দিয়ে বইয়ের দাম এগিয়ে যাচ্ছে।
ভালো থাকুন।
ধন্যবাদ আপনার বিশদ আলোচনার জন্য
পেপারব্যাক চলবেনা মনে করছেন কেন? ইংরেজী নভেল তো লোকে মূলতঃ পেপারব্যাকই কেনে! জাপানেও তাই, পাতলা কাগজে, সফট মলাট, পেপারব্যাকের চেয়েও সাইজে পিচ্চি বই
অবশ্যই শেলফে সাজানোর জন্য যুতসই না, তবে শেলফে সাজানোর ব্যাপারটা তো উৎসাহিত হওয়া উচিত না
১৫০ পেইজের বই ২০ টাকায় তো আর সম্ভব না, সেজন্যই বলছি চাল বা দৈনন্দিন ব্যবহারের জিনিসের দামের তুলনায় এখন হয়তো সেটা ১২০ হলে ঠিক হয়, কিন্তু দাম তো মনে হয় দু'শো ক্রস করে!
চাইলের দাম, বৈয়ের দাম?
এোবার অনেকদিন পরে, অনেক কাল অপরিবর্তত থাকার পর, দিয়াশলাইয়ের দাম বাইড়া ২ টা হৈতে দেকহছি, তাও আবার সা্যে বড় হৈছে....
বৈয়ের পৃষ্ঠা খারাপ হৈয়া গেছে...
ম্যাচের দাম বাড়েনাই অনেক দিন, ভালো বলছেন
বিড়ির দামের কি হালত? মধ্য আশিতে একটাকায় ২০টা পাওয়া যাইতো ;)
ঠিক নিশ্চিৎ নই, টাকায় মনে হয় ৮ টা বা ৬ টা..এইটা অনেক আগেই বদলাইছে, ২০০০ শুরু হবার সময়ই.....
আরে জ্বিনজী, স্বাগতম! আপনার লেখা মিস করছিলাম অনেকদিন ধরে।
বইমেলায় আসা বইগুলোর দামদর আসলে কীসের ভিত্তিতে হয়, পৃষ্ঠাসংখ্যা, নাকি বইয়ের কন্টেন্ট-- বোঝা মুশকিল। তবে বাজারে নামধাম আছে এমন লেখকদের বইয়ের দাম বাকীদের বইয়ের চেয়ে বেশী, এটা স্পষ্ট। এখানে দেখতে পারেন- http://www.swapnershiri.com/magazine/books/
আমার বইটার জন্য প্রকাশককে কম্পোজিটর, ট্রেসিং, প্রচ্ছদ ইত্যাদির খরচ করতে হয়নি, ১২৮ পৃষ্ঠার বইয়ের দাম লিখেছেন ১৬০/-, হিসাবটা জানি না।
বিসিএস অবিচাররা ৯৭ সাল থেকে ৪৩০০ বেসিক পে'তে ঢুকে আসছে, দুতিন বছর আগে এটা বোধহয় ৭০০০ এর ধারেকাছে গেছে, এই ব্লগে মামুনভাই সার্ভিসে আছেন, ঠিক অংকটা বলতে পারবেন (এগো কথা কইয়েন না, নিজের অভিজ্ঞতায় জানি, ডিপার্টমেন্টাল আর সিনিয়র স্কেল পরীক্ষার বই ছাড়া আর কোন বই কেনার সামর্থ এদের থাকে না। যাদের থাকে তারা বইয়ের পিছে না, বউয়ের পিছে খরচ করে)।
(এগো কথা কইয়েন না, নিজের অভিজ্ঞতায় জানি, ডিপার্টমেন্টাল আর সিনিয়র
স্কেল পরীক্ষার বই ছাড়া আর কোন বই কেনার সামর্থ এদের থাকে না। যাদের থাকে
তারা বইয়ের পিছে না, বউয়ের পিছে খরচ করে)।
খিদের চোটে হাসতে পারছি না:(
:( কিন্তু কথাটা খুব করুণ:(
:( বিসিএসদের দৈন্যতা এমনই:(

৮৬-৮৭-তে এঁরা ১৬৫০ টাকার স্কেলে ঢুকতো মনে হয়। ৯১-তে তা ২৭-২৮০০'র মতো হয়। বর্তমানে বোধ হয় ১১০০০। বাজারমূল্য আর স্ট্যাটাস বজায় রাখার জন্য ভেতরে এঁরা সারাজীবন সদর ঘাটের মতো ফাঁকাই থাকেন, উপরে যদিও ফিটফাট। কিন্তু মানুষ এঁদের প্রায়শ ভুল বুঝে থাকেন:(
দেশী, কি খবর আপনার?
সবার আগে অভিনন্দন, এই বইটা লিখে একটা কাজের কাজই করছেন, বাকী মন্তব্য বই পড়ার পরা করা যাবে
তাইতো, আপনি তো ভালো বলতে পারবেন দামের ব্যাপারে, কম্পোজিটর, ট্রেসিং, প্রচ্ছদের খরচ ছাড়াও পার পেইজ ১.২৫ টাকা! লেখকরা নিশ্চয়ই দামের ব্যাপারে প্রকাশকরে নসিহত করতে পারেননা? প্রকাশক নিশ্চয়ই ভেঙেও বলেননা কোন খাতে কত খরচ হওয়ায় এই দাম পড়ে?
বিসিএস অফিসারের বইয়ের বাজেট না থাকাতেই তো পুত্রকে মাছের টাকা মারতে হতো ... হে হে হে
, বাই দ্য ওয়ে, প্রসঙ্গটা টানছিলাম শুধুই এটা বুঝতে যে মানুষের আয় কোন হারে বাড়ছে
৯৭ তে ৪৩০০ থেকে ২০১০ এ ১১০০০ হলেতো একেবারে খারাপ না
১১হাজার স্কেল হলে সব মিলিয়ে ১৬/১৭ হাজার হবে হয়তো।
প্রাইভেটেও এখন সেই দিন শেষ নাকি শুনলাম, ১৫ ~ ২০ এ শুরু করতে হয়
হ বাইছা খবর বালা। আন্নে বালা নি'?
প্রকাশকের পাত্তা লাগানো মুশকিল আবার নসিহত
আমার সাথে আলোচনা শুধু একটাই করেছিলেন, রঙীন ছবি দিলে দাম ডবল হয়ে যাবে। তখন আবার বর্ণনা এডিট করে রঙীন ছবিগুলো সাদাকালো করে দিই।
বিসিএস অফিসারের সবচেয়ে করুণ দশা গেছে ২০০৩-এ সেই বেগুণ-আগুন রোজার সময়টা থেকে টানা তিন বছর। ২০০৫এ যখন পে-কমিশন কাজ করছিলো, এডমিন একাডেমিতে তাদের কড়াপাহারার অফিসের দরজার বাইরে মোনাজাতরত সিনিয়ারদেরকেও দেখেছি... । ১১০০০এর ঘোষণা সবে এসেছে, বাস্তবায়ন হতে সাধারণতঃ সময় লাগে।
আছি কহারাপনা, দেশী
বলেন কি? এই পে-স্কেল না গত জুলাই থেকে কার্যকরী হওয়ার কথা!!
খারাপনা লেকহতে গেছি, হয়ে গেছে কহারাপনা!
"খ" লিখতাম KH দিয়া, এখানে দেখি শিফটK ছাড়া হয়না
...এই বছর না ১৮০০০ টাকা হৈছে স্কেল? খুব সম্ভব...
ভাইডি এইখানে পাবলিক সার্ভিসের এন্ট্রি পোস্টের কথা হইতেছে, হেইডার বেসিক এইটিন কে হওনের দিন আসেনাই
পয়লা জ্বীনজিরে স্বাগতম। আপনার লেখা মিস করছি অনেক। সেই যে একটা থ্রিলার লেখলেন তারপর আর খবর নাই। এইখানে দেইখা ভালো লাগতেছে। আর বইয়ের দাম নিয়া কিছু কমু না। ঐতিহ্য প্রকাশনীতে গেলে বুঝা যায় আগুন কত প্রকার ও কি কি। বাংলা একাডেমীতেও বইয়ের আগুন দাম। অনেক কস্ট পাইছি। কিছু বই কিনতে না কিনতেই ফতুর।

আর শরম দিয়েননা!
বাংলা একাডেমীর বই নাকি তুলনামুলকভাবে অনেক সস্তা?
পয়সা মেরে বই কেনার মতো আনন্দ আর নাই। সেই স্মৃতি আহা সেই স্মৃতি... তখন মূলত সেবার বই-ই কেনা হতো বেশি।
এখন বইয়ের দাম! চার ফর্মার একটা বই একশ টাকার আশেপাশে থাকে। জনপ্রিয় লেখক ছাড়া অধিকাংশ বই-ই শেষপর্যন্ত লসের কাতারে যায়। খরচা উঠে না। সহৃদয় প্রকাশক আর লেখক নিজে ভর্তুকি দেয়। সেক্ষেত্রে শখানেক বই বিক্রি হবে ধরে বিক্রয়মূল্য ঠিক হয়। তাই দাম বেশি থাকে।
জনপ্রিয় লেখকদের বইয়ের দামও বেশিই থাকে, কারণ সেখানে লেখক সম্মানীও বড়ই।
পেপারব্যাক নিয়া কথা উঠছে। দেশে এখন কাগজের যা মূল্য, তাতে পেপারব্যাক ছেপে কোনো ফায়দা নাই। প্রায় একই দাম পড়বে। একটু ভালো মানের নিউজপ্রিন্ট দিতে হলে খরচটা কাছাকাছিই যাবে।
নুলিয়াছড়ির সোনার পাহাড় বইটার ভূমিকায় দেখলাম প্রকাশক লিখছেন একটা সংস্করণ তিনি পেপারব্যাকে বাইর করছিলেন, কিন্তু সেটা পাঠক কেনে নাই। তাই সুলভে বের করতে হইছে আবার।
পেপারব্যাকে বাইর না করার আরেকটা কারণ হইলো লেখক। অধিকাংশই শখের লেখক, নিজের কবিতা বা উপন্যাসের বইটা পারলে সোনা দিয়া বাঁধায়া বাইর করে... পেপারব্যাক কেমনে করবে?
আপাতত এই... পরে আরো কমুনে...
আরে বস্!
আমিও তো কই, নজরুল ভাইও এইখানে!
জইমা যাইবো
জনপ্রিয় লেকহকের সম্মানীর জন্য অবশ্য দাম বাড়বে -- ভালো একটা পয়েন্ট বলছেন... হুআ তো ৫০% চাইলেও প্রকাশকরা রাজী হয়ে যাবে মনে হয়!
পেপারব্যাকের ব্যাপারে লেকহকের অনীহার ব্যাপারটা বুঝলাম, পাঠকেরও অনীহা কেন! সেবারটা তো ভালোই চলতো!
একটা কারণ হইতে পারে, মানুষ পড়ার সাথে সাথে শেলফে সাজাইতেও পছন্দ করে হয়তো
জ্বীন ভূতের আছড় দেখি এইখানেও আছে
সেদিন হেনরি রাইডার হ্যাগার্ডের একটা বই দেখলাম | সেবা ভার্সন | প্রায় ৩০০ পৃষ্টা হবে, দাম রেখেছে ১২৫ টাকা
কিশোরকালে টিফিনের পয়সা বাঁচিয়ে বই কেনার কথা মনে করিয়ে দিলেন...
সেবার বই একশো টাকা ক্রস করছে!!!
তাইলে আর "সেবা" ;) কেনো?
প্রথমত স্বাগতম!
দ্বিতিয়ত বই কেনার চিন্তা করতে হয়নি। কারণ জয়েন্ট ফেমেলী থাকায় বই পড়ার বয়সে দেকি অগ্রজরা আগেই বুক শেলফ সেবা আর হুমায়ুন দিয়া ভরে ফেলেছে।
তৃতিয়ত এখন বই কেনা হয়না, ডাউনলোড করে পড়ি
চতুর্থত লেখা সুখ পাঠ্য হইছে, বেশ কয়েক মাস পর আপনার লেখা পড়লাম।
ধন্যবাদ চার স্তরের ;) মন্তব্যের জন্য
আপনের তো দেকহি কপাল!! শেলফ ভরা, ডাউনলোড!
একটা ছোট্ট কৌতুহল, আপনাকে কি অন্যব্লগে অন্য কোন নামে চিনি?
আমুতে আপনের গোয়েন্দা সিরিজে "মুরুব্বি" নিকে দেখছিলেন
স্বাগতম। বইকেনা একটা কঠিন ব্যপার ছিল আমাদের। মেয়ে হওয়ার কারনে তো বাজারের পয়সা মারার সুযোগ ছিল না।
গার্হস্ব্য অর্থনীতিতে একবার আমাদেরকে দশ হাজার টাকায় একটি চার সদস্য বিশিষ্ট মধ্যবিত্ত পরিবারের বাজেট করতে দিয়েছিল। যাতে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, খাদ্য, শিক্ষা এইসব খাত থাকতে হবে। মিলাতে পারি নাই। মিলে না কিছুই
ধন্যবাদ
আসলেই তো! মেয়েদের তো পয়সা মারার সুযোগ নাই! এইজন্যই আমার বোনেরা আমাকে হিংসা করতো মনে হয়
হুমম, হিসেব মেলানো আসলেই কঠিন
মন্তব্য করুন