সহজ গেসবল: জাপানী বিয়ের উপহার
বাংলাদেশে আমরা বিয়ের দাওয়াত পেলে খুশী হই; বেশী ভাববাদী লোক হলে হয়তো অনুষ্ঠানের দিন সকাল থেকেই নানাবিধ তেল-চর্বিসমৃদ্ধ খাবারের কল্পনা করতে করতে "এটা খাবো, ওটাও খাবো" জাতীয় সুখস্বপ্নে বিভোর হই; আবার একটু বেশী বাস্তববাদী হলে স্বপ্ন-টপ্নের চেয়ে সেদিন সকাল থেকেই আহারকার্যে একধরনের অনীহা প্রদর্শনপূর্বক রাতের জন্য পাকস্থলী মশায়কে প্রস্তুত করার কাজে উঠেপড়ে লাগি। না, অত তাড়াতাড়ি ক্ষেপে উঠবেননা কেউ, আমি সবাইকে মিন করছিনা
।
জাপানে ঘটনা পুরো উল্টো, বিয়ের দাওয়াত পাবার ব্যাপারে এদেশে মোটামুটি সবাই আতংকেই থাকে বলা যায়। মূল কারণটি বিয়ের উপহার, আমাদের দেশে যেমন অতিথিরা নিজের পছন্দমতো (এবং সুবিধামতোও
) উপহার হিসেবে একটি বস্তু সাথে নিয়ে আসেন, এদেশে ঘটনা অত সহজ না। এখানে উপহারের ব্যাপারটা নির্দিষ্ট, এক ধরনের বিশেষ খামের ভেতর বেশ মোটা অংকের (কমপক্ষে ৩০ হাজার ইয়েন মানে প্রায় ২৫ হাজার টাকা) টাকা ভরে হাসি হাসি মুখ করে ব্যথিত চিত্তে ওয়েডিং হলে ঢুকতে হয়, এবং তারপর বিদেশী হলে বিরস মুখে নানাবিধ কাঁচা ও অর্ধসেদ্ধ জিনিস গিলতে হয়।
তবে ভাগ্য ভালো যে আমাদের দেশের মতো "প্রতিবেশীর বোনের ছেলের বিয়ে" বা "মামাতো বোনের স্বামীর ছোটবোনের জায়ের বড়ভাইয়ের কলিগের বিয়ে" টাইপের অনুষ্ঠানে এদেশে কখনই দাওয়াত পাওয়া যায়না, বিয়ের মতো বিশেষ উপলক্ষতে এরা শুধু একান্তই কাছের লোককে ডাকে। তবে এই "একান্তই কাছের লোক" বিশেষণটিই আবার বিপত্তির মূল হয়ে দাঁড়ায়, কারণ একান্ত কাছের লোক ভেবে একজন আপনাকে দাওয়াত দিলো আর আপনি বেরসিকের মতো সেটা নাকচ করে দিলেন, ব্যাপারটা একটু ইয়ে হয়ে যায়না? সেজন্যই দাওয়াতের ব্যাপারে লোকের এমন আতংক, বিশেষ করে অফিসের কলিগদের নিয়ে; কারণ কে যে কাকে "একান্ত লোক" ভেবে বসে আছে সেটা ঐ দাওয়াত পাবার আগে বোঝার উপায় নেই!
আজকের গেসবল জাপানী বিয়ের উপহার নিয়ে। উপহার তো বড় অংকের হতে হয়ই, সাথে আরো নিয়মকানুনের যন্ত্রণা আছে।
জাপানী মুদ্রার মধ্যে সবচেয়ে বড়টি হলো দশ হাজার ইয়েনের নোট, এদেশী ভাষায় দশ হাজারকে বলে "মান", ঐ নোটকে আমরা বলি এক মানের নোট। তো আপনি উপহারের খামের ভেতর শুধু এই এক মানের নোটই ঢুকাতে পারবেন, এর চেয়ে ছোটগুলো না। সবচেয়ে কম যে টাকার অংক আপনি ঢুকাতে পারবেন, এবং মোটামুটি অতিথিদের সবাইই যে অংকটি ঢোকায়, সেটি হলো তিন মান (৩০ হাজার না বললে ঠিক কষ্টটা বোঝানো কঠিন যদিও) -- এর কম দেয়া যাবেনা, তবে অবশ্যই এর চেয়ে বেশী দিতে পারবেন, যেমন, পাঁচ মান, সাত মান, বা আরো যত বেশী চান।
বুদ্ধিমান পাঠক নিশ্চয়ই উপরের উদাহরণের সাত-পাঁচ থেকে আঁচ করতে পারছেন যে খামের ভেতরের অংকটি হতে হবে বিজোড় সংখ্যক মানের, মানে, পাঁচ মান, সাত মান, নয় মান বা এগারো মান, বা প্লাস টুটু .... (যাইতে থাকেন যতদূর মন চায়)
আপনাকে গেস করতে হবে, কি কারণে এই বিশাল অংকের উপহারের পরিমাণকে আবার বিজোড় অংকের হতে হয়?
(সহজ গেসবল হওয়াতে পারফেক্ট উত্তর না হলে যে উত্তর সঠিক বলে গ্রহন করা হবেনা সেটি আগেই বলে রাখলুম!)





অনেক দিন বিয়ার কাচ্চি খাই না
আগামী শনিবার এক বিয়ায় যামু
ক্রোয়েশিয়ান , সেই রকম খাওন দাওন আর পানীয় থাইকপে। শুনছি ঐ বিয়ায় নাকি গলা পর্যন্ত পান কর্তে হইবে
আমি কি পান করবো সেইটা নিয়া চিন্তাযুক্ত 
চাচা ,,, আপনে 'ট্রামিনাচ' পান কইরেন .. ক্রোয়েশিয়ান 'ট্রামিনাচ' বেশ সুস্বাদু
হে হে হে ... ব্রাদার, কি আর বলবো! খাওন-দাওনের কথা লেখার সময় আপনার চেহারাখানা ভাইসা উঠছিলো, ঈমানে কইতেছি
পানপর্ব সুকহের হউক
আমি শক্ত পানীয় পান করি না
রাখেন আপ্নের মান-সন্মান ... খাওন দাওন এর কাহিনী বলেন .. আর সুন্দরীরা কেমন যায় বিয়াতে ??
মান-সম্মানই তো জগতটারে খাইলো, নাইলে আর কি কইলাম
খাওন দাওনের কথা কি কমুরে ভাই, ত্রিশ হাজার ইয়েন ধরায়া দিলেও ঐ খাওন খাইতে চাইবেননা ... কাঁচা আর আধাসিদ্ধ ... পানীয় থাকে মাইপা মাইপা, এক পেগ কি দুই পেগ
ঐ বিয়াতেও ডলার দিতে হবে
কত ডলার ?
সর্বনিম্ন ২০০ , এইটা ক্রোয়েশীয়ান স্টাইল। ঢোকার সময়েই ডলার দিয়ে ঢুকতে হৈবে
তাও ভালো, "ডলা" না
আমার বিয়াত ছয়শোর মতো লুকজনে আইছিলো.. আহারে ক্যান জাপানে গিয়া বিয়া কর্লাম না... ছয়শো লুকে যদি তিন মান কইরাও আনতো তাইলে আইজকা আমি কতই না মান সম্মানের অধিকারী হইতাম... আফসুস...
আরেকটা অনুষ্ঠান আয়োজন করমু নাকি এখানে? অর্ধেক আপনার, অর্ধেক আমার ... দ্যাখেন ভাইবা
পানি কেরম দেয়? বিমায় যেমুন বলছে পোল্যান্ডে নাকি হোটেল রিজার্ভ কইরা পানি রাখছে আর ও নাকি খাইয়া মাইয়া সাতঁরাইয়া ডুইবা মর্তে লইছিল।
ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগে রায়হান ভাইয়ের ব্যান দাবি জানাই
জাপানী জাত বইলা কথা, সব দিবো মাইপা মাইপা
জাপানের নাম তাইলে মাপান হৈলো ভালো হৈত
আমার বুদ্ধি কম।
এইটা কিন্তু মজার কাহিনী
বিয়ার আগে পিছে বউরে শুনাইলে স্কোর বাড়বো
আমার বিয়াতে আমারাবন্ধুর সব বন্ধুরে আগাম দাওয়াত। সবাই আমার ঘনিষ্ট। কেউ না করতে পারবো না।
মুক্লার বিবাহ কি ২০৩০ সালের মধ্যে হবে !!
টার্গেট ২০১৫। জাতিসংঘের মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল (এমডিজি)'র সাথে একাত্মতা আছে আমার।
এমডিজি)'র লক্ষ্য নম্বর-৩: ২০১৫ সালের মধ্যে অবিবাহিতের হার ৫০% কমানো.. শ্বশুর বাড়ির সম্পদ দিয়ে বিবাহিত পুরুষের সম্পদ বাড়ানো, দারিদ্র কমানো...
হা হা হা। চ্রম হৈছে মুনীর ভাই! এইরাম এক্টা ধারা আসলেই দর্কার।
এখনো তো কেউ কোন উত্তর দিতাছে না ... যে, ওইটা দেইখা কমু "আমিও এরম ভাবতেছিলাম"
সেইটাই তো!!
টুটুলের মত অবসথা আমারো। আমি আবার পোস্ট পৈড়া শেষ করতে পারিনাই।
আশায় আশায় ছিলাম, এই লোক পলিটিক্যাল পোস্ট লিখবো, গিয়া ত্যানা পাচামু, রাজা ুজির মারমু, কিসের কি
লাষ্ট টাইম দোস্তর বিবাহে গেছিলাম। মনে বড় বেদনা নিয়া ফেরত আইছি। তহারা বড়ই পর্দানশিন। কুনু বিয়ানের টিকির দেখা পাই নাই
ইদানিং মনে হয় পর্দানশীন বিয়ে বাড়তেছে ... খরাপ কি? আমগো তো বিয়ান দেখার দিন শেষ! ;)
অনেক চিন্তানের পরো পাইলাম্না বিজুরের রহস্য
মুরুব্বী, আরেকটু চিন্তান
টাকা টা মূলত বিয়ের অনুষ্ঠানের যাবতীয় খরচ মেটানোর জন্য অতিথিরা দেয়। জোড় সংখ্যা দুই ভাগ করা যায় কিন্তু বিয়ের অর্থ হল একসাথে হওয়া। তাই দুই ভাগ হওয়া কে অশুভ বলে মনে করা হয়। এর জন্য উপহারের টাকা বিজোড় হয়।
আরে!! আপনে তো প্রথম বলেই ছক্কা!!! অভিনন্দন, কোনো পুরস্কার কইলাম নাই
সেইটাই, বেজোড় সংকহ্যক নোট দিলে দুইভাগ করা যাবেনা, করতে গেলে একটা নোট ছিঁড়তে হবে ..
একহন এই ব্যাখ্যার সাহায্য নিয়ে বাংলাদেশের বিয়েশাদী/দলিলের দামে কেনো ঐ বাড়তি ১ টাকা যোগ করা হয়, সেটা বের করুন।
শাতিল ভাইর কমেন্ট পইড়া শান্তি পাইলাম;খামাখা চিন্তা-ভাবনা করা লাগলো না
চিন্তার শেষ নাই
এখন বলেন আমাদের দেশে দেনমোহর পঞ্চাশ হাজার এক টাকা হয় কেনো?
উত্তর লিখতে বইসা দেখি আগেই শাতিল ভাই বলে দিছে।
হায় হায়!
আমিও জান্তাম, কিন্তু শাতিল ভাই আগেই কইয়া দিছে
বাংলা ছিনামার হুলিশের লাইন ব্যাক্কিছুর বাদেদি আইছি। তয় বাইছা, শ্যাষেদি কতা হেই হুরানখান; বড় মৌজ করি লেইকছেন
নিজর বিয়ের পর বিয়া খাইনাই
আগে জানলে জাপানেই বিয়ে করতাম।
বাংলাদেশী বিয়েতে বেজোড় করা হয়, কারন বাকি টাকাটা বরের মা হাতাবেন তাই ঃ)
মন্তব্য করুন