স্বর্গীয় কিন্তু খাইস্টা (১৮+?)
অনেক আগে লিখছিলাম, সামুতে, ঝালাই কইরা দিলাম। এবির অনেকেই হয়তো পড়েননাই 
---------------------------------------------------------------------------------------
স্বর্গে সেদিন সেন্ট পিটারের মন ভাল না।
এর আগের কয়েকদিন যাবৎ তার ওপর বিচারের দায়িত্ব পড়েছে দাগী দাগী সব আসামীর; বেচারা ফাদার মানুষ, মন-দিল নরম। এতগুলো মানুষের নরক গুলজার করতে করতে মুষড়ে পরেছেন।
সেদিন পিটার ঠিক করলেন যে আজ খুব সহজভাবে বিচার করবেন, কারও অপরাধের কথা শুনবেননা। সবার কাছে শুধু নিজ নিজ মৃত্যুর ঘটনা শুনবেন, তারপর যদি মনে হয় 'আহা বেচারা!', ব্যস, তাহলেই স্বর্গে ঢুকিয়ে দেবেন।
১ম লোকটি এল, কাঁচুমাচু মুখ, নাম জন থান্ডারবোল্ট।
বিশাল সাইজের নামের লিস্টের বইয়ের পৃষ্ঠা ওল্টাতে ওল্টাতে পিটার জিজ্ঞেস করলেন, বাছা জন, কিভাবে মৃত্যুবরন করিয়াছ?
জন যেন এই প্রশ্নেরই অপেক্ষায় ছিলো, সাথে সাথেই উত্তেজিতভাবে বলা শুরু করলো, 'জানেন ফাদার, আমার মনে হয় আমার মতো এত কষ্ট পেয়ে ত্রিভুবনে আর কেউ মারা যায়নি।'
'জিসাস!' বলে চিৎকার করে উঠতে উঠতেও নিজেকে সামলে নিলেন ফাদার, বললেন, 'কি রকম? কিভাবে মারা গেলে তুমি'।
জন তার মৃত্যুর বিশাল বর্ণনা শুরু করলো:
আমার প্রতিবেশিনী মিসেস উডস সেদিন সকালে আমার অফিসে ফোন করে বলল, 'জন, বিশ্বাস করো, তোমার স্ত্রী একটু আগে তার সেই লুচ্চামার্কা বয়ফ্রেন্ডটাকে নিয়ে বাসায় ঢুকল। জলদি বাসায় যাও, হাতেনাতে ধরতে পারবে!'।
মিসেস উডস মুকহরা টাইপের মহিলা হলেও তাকে আমরা সবাই বিশ্বাস করি; তাই তার কথা শুনেই আমি টেলিফোন রেখে ঝড়ের গতিতে অফিস থেকে বাসায় চলে এলাম।
আমার ফ্ল্যাটটা ২৫ তলায়, চিন্তা করুন ফাদার, গুণে গুণে ঠিক সেদিনই লিফটটা নষ্ট হয়ে ছিলো! পুরো ২৫ তলার সিড়ি ভেঙে দৌড়ে দৌড়ে উঠতে হয়েছিলো আমাকে, আমার হার্টবিট তখন ১৫০ এর বেশী, জান যায় যায়। তাও হাল ছাড়লামনা, বাসায় গিয়েই ছাড়লাম। কিন্তু, ঘরে ঢুকে দেখি, একি! সব ঠিকঠাক।
কেউ এসেছে সেটা বোঝার কোন উপায়ই নেই। আমার স্ত্রী লিজ আমাকে বারবার বোঝাতে চাইল যে কিছুই হয়নি। তাও আমি নাছোড়বান্দা, সারা ঘর তন্নতন্ন করে খুঁজলাম। যখন কিছুই পেলাম না, তখন গেলাম বারান্দায়। সেখানেও কিছু নেই দেখে আবার যেই ঘরে ঢুকব, ঠিক তখনই দেখলাম বারান্দার এককোণায় রেলিংয়ের উপর কয়েকটা কেঁচোর মতো কি যেন নড়াচড়া করছে, কাছে গিয়ে কি দেখি জানেন? দেখি, মানুষের হাতের চার আঙুল। আমার মুখে হাসি ফুটে উঠলো ফাদার, বুঝলেন!
কাছে গিয়ে মুকহ বাড়িয়ে দেখি, হারামজাদা রেলিং ধরে বাইরের দিকে ঝুলে আছে, আর আরেকটি হাত বাড়িয়ে বারান্দার রেলিং ধরতে চাইছে। শখ কত, চিন্তা করুন!
সঙ্গে সঙ্গে ঘরে ঢুকে একবার অগ্নিদৃষ্টিতে লিজের দিকে তাকালাম, সে যেন কিছুই বুঝলোনা! তারপর বাসার সবচেয়ে ভারী হাতুড়িটা এনে হারামজাদার হাতের উপর দমাদম আঘাত করতে লাগলাম। ব্যাটার কই মাছের প্রাণ!! কোন ভাবেই ছাড়েনা, আমিও আঘাত বন্ধ করিনা। শেষমেষ আমারই জয় হলো, হে হে, ব্যাটা আর পারলনা, রেলিং ছেড়ে ২৫ তলা থেকে নীচে পড়ে গেল।
কিন্তু ফাদার, কপালটা এতই খারাপ যে কিছুক্ষণ পর নীচে তাকিয়ে দেখি হতচ্ছাড়াটা একটা ঝোপের উপর পড়ে হাত-পা নেড়ে কাতরাচ্ছে, মানে তখনও সে মরেনি। আপনি বিশ্বাস করতে পারেন ফাদার? কেমন কই মাছের প্রাণ!
আমিও ছাড়বার পাত্র নই, হে হে। রাগের মাথায় বাসার বিশাল ভারী ফ্রিজটা তুলে এনে ২৫ তলা থেকে ফেলে দিলাম একেবারে ব্যাটার ঝোপের ওপর আরাম করতে থাকা শরীরের ওপর। তারপর তার আর বাঁচার কথা না।
কিন্তু এর মধ্যে যা হবার তা হয়ে গেল। পুরো ঘটনায় আমি এত বেশী উত্তেজিত ছিলাম যে নিজের হার্টের অসুখের কথা ভুলেই গিয়েছিলাম। ফলাফল, সাথেসাথেই হার্ট এ্যাটাক, এবং তারপর তো সরাসরি এখানে। ব্যাটা মরলো কিনা সেটাও কনফার্ম করে আসতে পারলামনা, আফসোস!
কথা শেষ করে জন থান্ডারবোল্ট হাঁপাতে লাগল।
ফাদার দেখলেন, জন মানুষ মারলেও সেটা ছিল ইনোসেন্ট ক্রাইম। তিনি উদার কন্ঠে বললেন, ঠিক বাছা, তোমার মৃত্যুটা খুব করুণ। যাও তুমি নির্ভয়ে স্বর্গে প্রবেশ কর।
২য় জন এল, নাম টেরী স্পোর্টসওয়াটার।
ফাদার আবারও বিশাল নামের বইটা ওল্টাতে ওল্টাতে বেশ ফুরফুরে মেজাজেই বললেন, বাছা টেরী, বলে যাও তোমার মৃত্যুকাহিনী।
ফাদারের কথা মুখ থেকে পড়তে না পড়তেই টেরি বলা শুরু করল, "ফাদার, আমার এত করুণ মৃত্যু হয়েছে যে আমি শুধু ঈশ্বরকে একবার জিজ্ঞেস করতে চাই কেন এই অবিচারের জন্য তিনি আমাকেই বেছে নিলেন? জগতে কি আর মানুষ ছিলোনা?"
"আগে কাহিনীটা তো শুনি!", টেরীর ভূমিকায় একটু বিরক্ত ফাদার।
টেরী শুরু করলো তার কাহিনী:
আমি স্পোর্টস পছন্দ করি। সেদিন অফিস ছুটি নিয়েছিলাম। হাতে অনেক সময়, স্ত্রী সন্তানরাও বাসায় নেই, আমার ২৬ তলা ফ্ল্যাটের বারান্দায় তাই এরোবিকস করছিলাম মনের আনন্দে।
এরোবিকসের সময় আমি মাঝে মাঝে বারান্দার রেলিংয়ে উঠে ব্যালান্স রক্ষার প্রাকটিস করতাম, এতে আমার থাইয়ের মাসলগুলো মজবুত হতো। সেদিনও করছিলাম, কিন্তু হঠাৎ উপর তলার কুকুরটা আমার রেলিংয়ের ওপর হিসি করে দিলো আর তাতে পা পিছলে আমি গেলাম পড়ে।
ঘাবড়াবেননা ফাদার, আমি স্পোর্টসম্যান, আমার রিফ্লেক্স ভালো। আমি ঠিকই খপ করে এক হাতে ঠিক নিচের তলার ফ্ল্যাটের রেলিংটিই ধরে ফেললাম। ঝুলে থাকতে থাকতে নিজের শরীরকে মোটামুটি মানিয়ে নিচ্ছিলাম, অন্য হাতটি দিয়েও রেলিং আঁকড়ে ফেলছিলাম প্রায়ই; আর একটু হলেই বেঁচে যেতাম। ঠিক সে সময়েই ফাদার, ঠিক সে কুক্ষণেই দেখা গেলো ২৫ তলার বাসার বদ্ধউন্মাদটা আমাকে দেখে রক্তচক্ষু করে তাকিয়ে আছে! ভয়ে আমার অন্তরাত্মা শুকিয়ে গেলো! তবে এরপর হারামজাদা যা শুরু করেছিলো, তাতে আপনি বলবেন যে ঐ রক্তচক্ষু ঢের ভালো জিনিস ছিলো।
একটু পরই হতভাগাটা ঘর থেকে ইয়া বড় গদা সাইজের এক হাতুড়ি এনে দমাদম আঘাত দিতে লাগল আমার রেলিং আঁকড়ানো হাতটির ওপর, আমি কিছু বলারও অবকাশ পাচ্ছিলামনা।
উন্মাদটা শুধু বলছিল, হতচ্ছাড়া, তুই তোর পাপের শাস্তি ভোগ কর!' কিন্তু আমি কিছুতেই বুঝতে পারছিলামনা আমার পাপটা কি! কুকুরের হিসিতে পিছলা খাওয়া কি পাপ, বলুন?
যাই হোক, বেশীক্ষণ হাতুড়ির আঘাত সইতে না পেরে আমি রেলিং ছেড়ে নিচে পড়া শুরু করলাম। ভাগ্য ভালো যে ২৫ তলা থেকে ফ্রি ফলের পরও আমি গিয়ে পড়লাম নিচের এক পাতাবাহারের ঝোপের ওপর, এবং বিশ্বাস করুন, বেঁচে গিয়েছিলাম।
কিন্তু তখনই মশায়, হতচ্ছাড়া ম্যানিয়াকটা একটা বিশাল সাইজের ফ্রিজ ২৫ তলা থেকে সোজা আমাকে সই করে ফেলে দিলো!
তারপর তো এখানে।
ফাদার ভেবে দেখলেন, টেরী পুরো নির্দোষ। তিনি মাথা নাড়তে নাড়তে চুকচুক করে দুঃখ প্রকাশ করলেন, তারপর বললেন, 'হ্যাঁ তোমার মৃত্যুটি নির্দোষ এবং আসলেই করুণ! যাও তুমি সবচেয়ে ভাল স্বর্গটাতে গিয়ে ওঠ।'
পরপর দুজনকে স্বর্গে পাঠাতে পেরে ফাদার বেজায় খুশী।বিশাল বইয়ের পাতা ওল্টাতে ওল্টাতে ৩য় জনকে ডাকলেন ফাদার।
এলো ৩য় জন, নাম টাইগার ক্লিনটন।
'বল বাছা টাইগার, কিভাবে মারা গেলে?' ফাদারের কন্ঠে মমতা।
টাইগার বেড়ালের মতো ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে বলতে লাগল, 'সে এক করুণ কাহিনী ফাদার। না হয় আমি পাপিষ্ঠ, তাই বলে এভাবে ... !'
'আহা ভনিতা না করে খুলে বলোতো!' ফাদার মৃদু উষ্মা দেখান।
ক্লিনটন বলতে শুরু করে:
কল্পনা করুন, আপনি সম্পূর্ণ নগ্ন অবস্থায় একটা ফ্রিজের মধ্যে লুকিয়ে আছেন ...
(ইন্টারনেট থিকা পাওয়া, মাগার কষ্ট কইরা অনুবাদ করছি)





হাহাহা.........দারুণ!
হি হি...ছুডুবেলায় শুনছিলাম।
খাইছে! ছুডুবেলায়!!
হা হা হা!!!
অন্যভাবে শুনছিলাম। তবে আপনারটা অনেক ডিটেইলস। আর আপনার লেখার স্পেশাল মজাটাতো আছেই।
একটু গ্যাঁজানোর অভ্যাসটা ছাড়তে পারিনাই বস্
কাহিনীটা আগে ভাবতে পারলে অরিজিনাল বইলা চালায় দিতে পারতাম
হিউমার করাটা যে একটা আর্ট সেটা মাঝে মাঝে ভুলেই যাই ,এখন এই লেখা পড়ার পর সেটা আবার মনে পড়ল ।
ওরে বাবা, এতো বিরাট কমপ্লিমেন্ট! শুকরিয়া
টাইগার ক্লিনটন নামটা সেইরকম হৈসে ।
মজা পাইলাম
হে হে, সামুর ভার্সনটা তিন বছর আগে লেখা, ঐটায় টাইগার নাম ছিলোনা
কমন পড়েছে...এ এ এ...
কৌতুক কমন পড়ছে(গল্পের কোনো চরিত্র না)
>>গল্পের কোনো চরিত্র না
হা হা হা
আমরা বন্ধু ব্লগের পয়লা ১৮প্লাস পোস্টের প্রদায়ক হিসেবে জিন্টুরে অভিনন্দন
পোস্ট ভদ্র ছিল মাগার কমেন্টে ১৮প্লাস হয়া গেছিল মাসুম ভাইয়ের একটা পোস্ট
খাইছে!
মার্কামারা হয়া যামু দেখতাছি
কমন পড়ছে। তবে মজা পাইছি পইড়া।

সাজেশন মতো পড়লে কমন পড়বো
বহু পুরানা জিনিস .. কিন্তু পইড়া আবারো ভাল্লাগলো
এইটা হইছে পুরান বোতলে প্রাচীন মদ
হো হো হো.............
পয়লা ১৮+ এর লিগ্গা ইস্পিশাল ধইন্যাপাতা।

অ:ট: আপনার গণিতের ধাঁধা নিয়া একটা সিরিজ ছিল না সামুতে, ঐটা এখানেও চালু করেন না..
গণিতের ধাঁধা!দেখা যাক কিছু দেয়া যায় কিনা
আপাতত আপনি নিচের সিরিজটি পূরণ করুন :
১ - ১০ - ?? - ৮ - ২ -?? - ১১ - ৬ - ?? - ১২ - ?? - ৭
ফ্রিজের মৃত্যুটাই সবচেয়ে করুন হইছে, বস ঃ)
আহারে ... তিন তিনটা মানুষের চেয়ে ফ্রিজটাই বেশী হইলো!

মন্তব্য করুন