সস্তা মানুষদের নিয়ে সস্তা কথা
সাভারে রানা প্লাজা ধ্বসে গেছে। দুপুর একটা পর্যন্ত পাওয়া খবরে মৃতের সংখ্যা ৮২। এতক্ষণে এ সংখ্যা নিশ্চয় একশ ছাড়িয়ে গেছে । আহত ছয় শতাধিক ।মৃতের সংখ্যা আরো বাড়বে বলে আশংকা করা হচ্ছে। ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি.........।।
টিভিতে অনলাইন সংবাদ মাধ্যমগুলোতে খবরটা এভাবেই আসছে। কত সহজে বলা হয়ে গেলো কথাগুলো। আমিও খুব সহজে লিখে ফেললাম। কারণ সেখানে আমার মা বোন ভাই বা এমন কেউ নেই যার উপর আমার পরিবারের সবাই নির্ভরশীল। যার উপার্জনের টাকায় পরিবারের সবার মুখে দুবেলা আহার জোটে। তাদের দাম আমার কাছে নেই। দেশের মানুষের কাছেও নেই। আর সরকারের কাছে তো নেই ই। এভাবে শখানিক মানুষের জীবন ঝরে যেতেই পারে। তাতে কার বা কী আসে যায়। এর আগে তাজরিন ফ্যাশনে আগুন লেগে কয়েকশ মানুষ মারা গেলো তাতে কার কি হয়েছে। কারোরই কিছু হয়নি। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেত্রী শোক প্রকাশ করেছেন। এই তৃতীয় শ্রেণীর মানুষদের জন্য রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেত্রীর শোক প্রকাশই যথেষ্ঠ। শোকের সাথে হয়তো মৃতের পরিবার এক লাখ টাকা পাবে। কিছু তেল গম আটা পাবে। দুদিন পর পর শখানিক মানুষ মারা যাবে আর তাদের পরিবারকে দেয়া হবে একলাখ টাকা এবং তাদের প্রতি করা হবে কিছুটা শোক প্রকাশ । যে মানুষগুলোর উপর ভর করে দেশের অর্থনীতি এগিয়ে যায়, কোটি কোটি টাকা রপ্তানি আয় হয়,তাদের জীবনের দাম মাত্র একলাখ টাকা আর একটুখানি শোক প্রকাশ! মানুষের জীবন কি এতই সস্তা। অবশ্য রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেত্রীর শোক বলে কথা।
রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেত্রীর শোক ফিরিয়ে দিবেনা ছয় মাসের বাচ্চার কাছে তার মাকে। কোন মমতাময়ী পরম মমতায় কোলে নিবেনা তাকে। মায়ের আঁচলের ছায়া ছাড়াই বড় হতে হবে এই বাচ্চা শিশুটিকে।তাদের শোক ফিরিয়ে দিবেনা কোন পঙ্গু বাবার কাছে তার মেয়েকে। যে মেয়ে বাবাকে সকালে খাইয়ে রেখে যেতো এবং রাতে এসে পরম মমতায় বাবার মুখে খাবার তুলে দিত। এখনো দুধের জন্য সেই বাচ্চা কাঁদবে। কিন্তু মায়ের মত মমতা নিয়ে কেউ তার মুখে দুধ তুলে দিবেনা। সেই অক্ষম বাবা তার মেয়ের হাতের খাবারের জন্য অপেক্ষা করে থাকবে। কিন্তু মেয়ের মত পরম মমতায় কেউ তার মুখে খাবার তুলে দিবে না।
লিখতে আর ভালো লাগছেনা। কি হবে আর লিখে.....................!!!!





কি জবাব দিব বুঝতে পারছি না। এরা মারা গেলে কারো কিছু আসবে যাবে না, এরা জন্ম নিয়েছে পায়ের তলায় পিষে মরতে, উঁই পোকার মত আগুনে পুড়ে মরতে। এসব 'সস্তা মানুষ' কি আবার মানুষ! এরা তো সব পোকা মাকড়!!!
অর্থনীতির চাকা সচল রাখে তো সব উঁচু তোলার মানুষেরা!
ভাইরে কিচ্ছু বলার নাই...। মানুষগুলোর আর্তনাদ শুধু চেয়ে চেয়ে দেখেছি। কিচ্ছু করতে পারি নাই তাদের জন্য...। আর কত গার্মেন্টস শ্রমিক মারা গেলে আমাদের দেশের এই শোক প্রকাশের সংস্কৃতি বন্ধ হবে এবং তাদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে?? এই প্রশ্নের উত্তর আমি জানিনা......। আসলে আমরা কেউই জানিনা......।।
এমনেই চলবে।
যাদের আসলেই এ বিষয়ে কিছু করার ক্ষমতা আছে,
তার কখনই সত্যিকার অর্থে করার মত কিছু করবে না।
যার যায় সে ই বুঝে
আর কারও শেষমেষ কিছুই যায় আসে না।
ভাল লাগছে না কিছু
এ দায় আমাদের পচা রাজনীতির । দেশের তারুণ্যের কাছে অনুরোধ, যাদের রক্তে,ঘামে দেশের চাকা সচল, আপনাদের [ দলীয়, নির্দলীয় ] দাবীগুলোর সাথে এই নিরীহ মানুষগুলোর জীবন রক্ষার দাবীটা অন্তত: তুলুন ।
ম্যালথাসের থিওরি। মানুষ এতো বেশি তাই এতো সস্তা
(
উক্ত কারনে লেখাটি ব্লগের প্রথম পাতা থেকে সরিয়ে আপনার নিজের পাতায় রাখা হইলো! নীতিমালা মেনে লেখার অনুরোধ রইলো।
মন্তব্য করুন