জীবন বৃত্তান্ত - এম এ বেগ
আলোকচিত্রাচার্য মঞ্জুর আলম বেগ , যিনি এম.এ.বেগ. অথবা বেগ স্যার নামে বেশি পরিচিত, ২০০৭ সালে একুশে পদক প্রাপ্ত, বাংলাদেশের ফটোগ্রাফীর প্রবাদ পুরুষ, ওনার সংক্ষিপ্ত জীবনী সংকলন করলাম।
M.A. BEG
একুশে পদক ২০০৭
Dip-in-Photography & MIRT (UK), FBPS (BD), ASIIP (INDIA),
Hon. FBPS (BD), Hon.FPAD (INDIA), ESFIAP (Int’l)
পারিবারিক
মনজুর আলম বেগ (এম, এ, বেগ) নানার বাড়ীতে, রাজশাহীর নবাবগঞ্জ জেলায়, শ্যামপুর গ্রামে ১৯৩১ সালে জন্মগ্রহন করেন। তার পিতা প্রফেসর হোসামউদ্দিন বেগ (ছোট হুজুর) বরিশাল বি.এম. কলেজের আরবী ও ফারসীর অধ্যাপনা শুরু করেন মুর্শিদাবাদ থেকে বরিশালে এসে ১৯২৫ সালে। মাতার নাম যাহেদা চৌধুরী।
শিক্ষা বিষয়ক
১৯৪৭ সালে ম্যাট্রিক, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ১৯৭২ সালে এইচ.এস.সি. পাশ করেন ঢাকা বোর্ড থেকে।
১৯৪৯ সালে পাকিস্থান এয়ার ফোর্স টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারে ফোটগ্রাফী বিষয়ে করাচীতে প্রশিক্ষন লাভ করেন।
১৯৫৭ সালে করাচীতে ইউনেস্কো এক্সপার্টদের অধীনে মাইক্রোফিল্ম বিষয়ে প্রশিক্ষন লাভ করেন।
১৯৬৮ সালে বৃটিশ সরকার প্রদত্ত বৃত্তি লাভ করে তিনি রিপোগ্রাফী বিষয়ে ইংল্যান্ডে হ্যাটফিল্ড কলেজ অফ টেকনোলজীর ন্যাশনাল রিপোগ্রাফীক সেন্টার ফর ডকুমেন্টেশন-এ প্রশিক্ষন লাভ করেন। ঐ সালেই তিনি লন্ডনের কোডাক ফটোগ্রাফীক স্কুলে রঙ্গিন ফটোগ্রাফী বিষয়ক ট্রেনিং লাভ করেন।
১৯৭৪ সালে তিনি বৃটিশ ইন্সটিটিউট অফ ইনকরপোরেটেড ফটোগ্রাফারস (IIP) থেকে ফটোগ্রাফী বিষয়ে ডিপ্লোমা করেন। এ ডিপ্লোমা ইংল্যান্ডের জুট এবং লেদার টেকনোলজী ডিপ্লোমার সমতুল্য।
১৯৭৬ সালে ইংল্যান্ডের ইন্সটিটিউট অফ রিপোগ্রাফিক টেকনোলজীতে AMIRT পেশাদারী যোগ্যতার জন্য দরখাস্ত করেন কিন্তু তাকে একধাপ উপরে MIRT যোগ্যতাটি দেয়া হয়।
১৯৭৬ সালেই তিনি ইউনেস্কোর বৃত্তি লাভ করে বাংলাদেশসরকার থেকে থাইল্যান্ডে ফেডারেশন অফ ইন্টারন্যাশনাল ডকুমেন্টেশন (FID) এর ৪র্থ কংগ্রেসে যোগ দেন এবং প্রবন্ধ পাঠ করেন।
১৯৭৮ সালে তিনি ইংল্যান্ডের নিউপোর্ট প্যাগনেলে অবস্থিত জেরক্স ট্রেনিং সেন্টারে প্লেন পেপার বিষয়ক ট্রেনিং লাভ করেন।
১৯৮০-৮১ সালে ভারত সরকার এবং ইউনেস্কোর যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত “TRAINING COURSE FOR INFORMATION CENTRE MANAGERS” শির্ষক প্রশিক্ষনে নিউদিল্লীতে অংশগ্রহন করেন।
১৯৭৮ সালে সিঙ্গাপুরে ফটোগ্রাফিক কর্ম-শিবিরে অংশগ্রহন করেন।
এছাড়া বাংলাদেশে ফটোগ্রাফিক সোসাইটি থেকেও তাকে সর্বোচ্চ পেশাদারী যোগ্যতার ফেলোশিপ সনদ (FBPS) প্রদান করা হয় ১৯৮৪ সালে।
চাকুরি এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ক
১৯৪৯-৫৫ সাল পর্যন্ত তিনি ফটোগ্রাফী বিষয়ে পাকিস্থান এয়ারফোর্সে চাকুরি করেন। তিনি সেখানে স্থির, মুভী এবং এরিয়াল ফটোগ্রাফী বিষয়ে এয়ার ফোর্সের করাচি, লাহোর, পেশোয়ার, কোয়েটা, মারি ইত্যাদি বিভিন্ন স্টেশনে কাজ করেন।
১৯৫৫-৫৭ সালে তিনি ঢাকা এবং ময়মনসিংহে ইউনাইটেড স্টেটস ইনফরমেশন সারভিস (USIS) অফিসে মোশন পিকচার্স সেকশনে চাকুরি করেন।
১৯৫৭-৬০ সাল পর্যন্ত তিনি চাকুরি করেন করাচিতে CSIR এর অধীনে প্যান্সডকে। এখানে তিনি মাইক্রোফিল্মের কাজই বেশি করেন। পদন্নোতির প্রশ্নে মতান্তর হবার কারনে তিনি সে চাকুরি ছেড়ে দেন।
১৯৬০ সালে তিনি ঢাকায় চলে আসেন এবং দেশের প্রথম ফটোগ্রাফী প্রশিক্ষন কেন্দ্র বেগার্ট ইন্সটিটিউট অফ ফটোগ্রাফী প্রতিষ্ঠা করেন।
১৯৬৩ সালে যখন সায়েন্স ল্যাবরেটরীতে প্যান্সডকের শাখা অফিস খোলা হয় তখন তাকে যোগ দিতে অনুরোধ করা হয়। বিদেশে প্রশিক্ষনের ব্যাবস্থা, অফিসার পদে পদোন্নতি এবং ফটগ্রাফী শিক্ষাকেন্দ্রে সান্ধ্যকালিন প্রশিক্ষন বিষয়ে কোন বাধা দেয়া হবেনা – এই তিন শর্তে চাকুরিতে যোগ দেন। ১৯৬৮ সালে সে অনুযায়ী তার বিদেশে প্রশিক্ষন গ্রহনের ব্যবস্থা করা হয় এবং জুনিয়ার অফিসারে পদোন্নতি দেয়াহয়। ১৯৭২ সালেফটোগ্রাফিক অফিসার এবং ১৯৭৭ সালে সিনিয়ার রিপোগ্রাফিক অফিসার পদে এবং ১৯৮৩ সালে তাকে প্রিন্সিপাল অফিসার পদের স্কেলে উন্নিত করা হয়। ১৯৮৮ সালে তিনি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রনালয়ের অধীনে ব্যান্সডক থেকে অবসর গ্রহন করেন।
শিক্ষকতা
১৯৬০ সাল থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত বেগার্ট ইন্সটিটিউট অফ ফটোগ্রাফীতে তিনি ফটোগ্রাফী বিষয়ে ৩৮ বছর শিক্ষকতা করেছেন।
১৯৬১-৬৩ সাল পর্যন্ত তিনি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের অডিও ভিজুয়াল সেন্টারে টিচার্সদের ক্লাস নিয়েছেন।
১৯৭৫-১৯৭৭ সালে তিনি খন্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন বুয়েটের স্থাপত্য বিভাগে।
উপদেস্টা
তিনি বারডেম – এ ফটোগ্রাফী বিষয়ের উপদেষ্টা হিসেবে তিন বছর কাজ করেছেন জাতীয় প্রফেসর মোহাম্মদ ইব্রাহিম সাহেবের অনুরোধে।
তিনি বাংলাদেশ আর্মিতে, বাংলা একাডেমীতে, জাতীয় প্রেস ইন্সটিটিউটে রিসোর্স পারসোনাল হিসেবে কাজ করেছেন।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীতে তিনি ফটোগ্রাফী উপদেষ্টা প্যানেলের সভাপতি ছিলেন বেশ কয়েক বছর।
বিচারক
ক্লাব, সোসাইটি এবং জাতীয় পর্যায়ে কমপক্ষে ৫০টি প্রতিযোগিতায় বিচারকের দ্বায়িত্ব পালন করেন। এরমধ্যে রয়েছে শিল্পকলা, ইউনেস্কো, ইউনিসেফ, পর্যটন এবং বিভিন্ন সোসাইটি আয়োজিত জাতীয় প্রতিযোগিতাসমূহ। সার্ক দেশ সমূহের মধ্যে আয়োজিত প্রদর্শনিগুলোতেও তিনি বিচারকের দ্বায়িত্ব পালন করেন।
তারসাথে অন্যান্য যারা বিচারকের ভূমিকা পালন করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, শিল্পী কামরুল হাসান, শিল্পী মুস্তফা মনোয়ার, চিত্র পরিচালক আলমগীর কবির প্রমুখ।
পুরষ্কার প্রাপ্তি
শিক্ষকতা, বইলেখা, শিক্ষাকেন্দ্র, সোসাইটি পরিচালনা, বিচারকার্য সম্পাদনা ইত্যাদি বিবিধ বিষয়ে ব্যাস্ততার কারনে তার পুরষ্কার প্রাপ্তির সংখ্যা তুলনামুলকভাবে কম। তথাপি দেশের ক্লাব, সমিতি এবং জাতীয় পর্যায়ে তার প্রাপ্ত পুরষ্কারের সংখ্যা ১৫০ টির কম নয়।
আন্তর্জাতিক ফটো প্রতিযোগিতায় প্রাপ্ত পুরস্কারের বিবরনঃ
সেন্ট ফটো কন্টেস্ট আংকারা ১৯৬৮ ব্রঞ্জ
ইউনেস্কো জাপান ১৯৭৬ সনদ
ইউনেস্কো জাপান ১৯৭৭ রোটারী
হন-ডিপ্লোমা রাশিয়া ১৯৭৭ সনদ
ফটোকিনা জার্মানী ১৯৭৮ প্রথম
কমনওয়েলথ কানাডা ১৯৭৭ দুটি সন্মান
ইউনেস্কো জাপান ১৯৭৮ ফুজি
পেন্টাকস ইংল্যান্ড ১৯৮৬ প্রথম
ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড আই আমেরিকা ১৯৮৬ প্রথম
ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড আই আমেরিকা ১৯৮৭ প্রথম
এছাড়া দেশে-বিদেশে তার তোলা বহু ছবি প্রদর্শিত হয়েছে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা সংগ্রামের তার তোলা ছবি স্বাধীনতার ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে “দৃক” ক্যালেন্ডারে ছাপানো হয়েছে।
প্রকাশনা
১৯৫৫ সালে যখন তিনি ময়মনসিংহে ইউসিস এ চাকুরিরত তখন থেকেই কিছু শিক্ষিত বেকারদের ফটোগ্রাফী বিষয়ে প্রশিক্ষন দান শুরু করতে গিয়ে বাংলা ভাষায় ফটোগ্রাফী শিক্ষা বিষয়ক পুস্তক রচনার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন এবং সে অনুযায়ী কাজ শুরু করেন।
১৯৫৭ সালে তার ফটোগ্রাফী বিষয়ে লেখা ছাপা শুরু হয় “দিগন্ত” পত্রিকায়, করাচিতে।
১৯৬৮ সালে তার লেখা ফটোফিচার তৎকালীন মর্নিং নিউজ দৈনিকে DISTRESS এবং RAMSAGAR CALLS YOU ছাপা হয়। “আলোকচিত্রে আরবের দান” ছাপা হয় দৈনিক ইত্তেফাকে ৭০ দশকে। কলকাতা থেকে “ফটোগ্রাফী চর্চা” এবংঢাকা থেকে প্রকাশিত “ফটোগ্রাফী” মাসিক পত্রিকায় প্রায় প্রতিটি সংখ্যায় তার লেখা প্রকাশিত হচ্ছে। জনাব বেগ এর প্রকাশিত ফটোগ্রাফী বিষয়ক প্রবন্ধ সংখ্যা নূন্যতম ৩০০টি।
এম এ বেগ প্রনিত এবং প্রকাশিত বই এর তালিকাঃ
ফটোগ্রাফী বিষয়ক বই
১. REPORT ON REPROGRAPHY ১৯৬৮ লন্ডন
২. আধুনিক ফটোগ্রাফী ১৯৭৪ ভারত
৩. ফটোগ্রাফী ফরমূলা ১৯৭৪ বাংলাদেশ
৪. ফটোগ্রাফী ডাইজেস্ট ১৯৮১ বাংলাদেশ
৫. রঙ্গিন প্রিন্ট করা ১৯৮১ বাংলাদেশ
৬. মাইক্রোফিল্ম কি ও কেন ? ১৯৯০ বাংলাদেশ
৭. RURAL BANGLADESH (ছবির বই) ১৯৯৩ বাংলাদেশ
৮. আলোকচিত্র সাদাকালো ও রঙ্গিন ১৯৯৩ বাংলাদেশ
৯. ডার্করূম সলিউশন ১৯৯৪ বাংলাদেশ
অন্যান্য বই
১০. বিশ্ব-ভাষা ১৯৮৩ বাংলাদেশ
১১. মআবের কবিতা ১৯৯১ বাংলাদেশ
১২. স্রস্টার সাথে সংলাপ ১৯৯৬ বাংলাদেশ
সম্পাদনা
তিনি বাংলাদেশ ফটোগ্রাফিক সোসাইটি প্রকাশিত দেশের প্রথম ও একমাত্র ফটগ্রাফী বিষয়ক সরকার অনুমোদিত “মাসিক ফটোগ্রাফী” পত্রিকার সম্পাদনা করেছেন প্রথম চার বছর ১৯৯১ সাল থেকে। দৈনিক বাংলায় তিনি “কোন ছবি কেন ভাল” বিষয়ে কয়েকমাস ধরে সমালোচনা লিখেছেন ১৯৯২ সালে।
সাংগঠনিক তৎপরতা
বেগার্ট ইন্সটিটিউট অফ ফটোগ্রাফী (বি আই পি) প্রতিষ্ঠা করেন ১৯৬০ সালে। ১৫ বছর পর যখন তার ছাত্র সংখ্যা প্রায় তিন হাজার তখন তিনি একটি ফটোগ্রাফিক সোসাইটি গড়ার কথা ভাবতে থাকেন। এরই ফলশ্রুতিতে এ শিক্ষা কেন্দ্রের ১৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে বিষয়টি উপস্থাপন করেন। আনুষ্ঠানিকভাবে আলোকচিত্রশিল্পী মো. মাকসুদুল বারি “বাংলাদেশ ফটোগ্রাফিক সোসাইটি” গঠনের প্রস্তাব করেন যা ঐ সভায় গ্রহীত হয় এবং একই সভায় জনাব বেগ কে বাস্তবায়ন কমিটির চেয়ারম্যান মনোনীত করা হয়। বাংলাদেশ ফটোগ্রাফিক সোসাইটির প্রথম নির্বাচন সভা অনুষ্ঠিত হয় ৩০-৫-৭৬ তারিখে বেগার্ট ইন্সটিটিউট অফ ফটোগ্রাফির ৮৩/১ ল্যাবটারী রোডস্থ ঠিকানায়। জনাব হারুন পাশা তৎকালীন সময়ে (ডেপুটি সেক্রেটারী, তথ্য ও বেতার) বাংলাদেশ ফটোগ্রাফিক সোসাইটির প্রথম সভাপতি এবং জনাব বেগ সাধারন সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন (BANGLADESH OBSERVER ১-৬-৭৬)। ১৯৭৭-৮৫ পর্যন্ত জনাব বেগ বাংলাদেশ ফটোগ্রাফিক সোসাইটির (বি পি এস) সভাপতি ছিলেন। তার সময়ে উল্লেখযোগ্য কিছু কাজঃ
১. BPS NEWSLETTER এর সম্পাদনা ও প্রকাশনা শুরু করেন ১৯৭৮ সালে।
২. প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় জাতীয় পর্যায়ে ফটো-প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করেন ১৯৭৯, ১৯৮১ এবং ১৯৮৩ সালে।
৩. BPS এ পেশাদারি যোগ্যতার বিচার বোর্ড গঠন এবং LBPS, ABPS এবং FBPS পেশাদারি যোগ্যতা পরীক্ষার নীতিমালা প্রনয়ন করেন।
৪. যে সকল ব্যাক্তিত্ব ফটোগ্রাফী পেশার উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন তাদের সোসাইটি থেকে সন্মানসূচক দু’টি পদবী (Hon.MBPS এবং Hon.FBPS) দেবার ব্যাবস্থা চালু করেন।
৫. যে সকল সিনিয়ার সদস্য নির্বাহী কমিটিতে সময় দিতে পারেন না অথচ তাদের মতামত সোসাইটি উন্নয়নের জন্য বিশেষ প্রয়োজনীয় তাদের জন্য উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করেন।
৬. ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত নয় বছর BPS লালিত পালিত হয় বেগার্ট ইন্সটিটিউট অফ ফটোগ্রাফীর ঠিকানায়। জনাব বেগ ৮৭ সায়েন্সল্যাবরেটরী রোডে বিপিএস কে স্থানান্তরিত করে স্বনির্ভর করে তোলেন।
৭. ১৯৮৩ সালে বাংলাদেশ ফটোগ্রাফিক সোসাইটির জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রনালয় থেকে নিয়মিত বাৎসরিক অনুদান লাভের ব্যবস্থা করেন।
৮. জনাব বেগ এবং ব্রিগেডিয়ার (অবঃ) আতিক-উর-রহমান উভয়ে সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত ফিয়াপের বৈঠকে যোগ দিয়ে ১৯৮৭ সালে সোসাইটির জন্য স্বর্নপদক নিয়ে আসেন।
৯. তার সময়েই হংকং এ অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ ফটো প্রতিযোগিতায় BPS দলীয় স্বর্নপদক লাভ করে।
জনাব বেগ তার ছাত্রদের উদবুদ্ধ করে দেশে বিভিন্ন অঞ্চলে ফটোগ্রাফিক সোসাইটি এবং ক্লাব গঠনে কার্যকর
ভূমিকা রাখেন।
উদাহরন স্বরূপঃ
১. দেশের প্রথম ফটোক্লাব – ক্যামেরা রিক্রিয়েশন ক্লাব
২. বাংলাদেশ ফটোগ্রাফিক সোসাইটি
৩. চট্টগ্রাম ফটোগ্রাফিক সোসাইটি – মওদুদ আলম এর মাধ্যমে
৪. ঢাকার সিনেসিক ক্লাব – খালেদ মাহমুদ মিঠুর মাধ্যমে
৫. ব্রাহ্মনবাড়ীয়া ফটোগ্রাফিক সোসাইটি – ছাত্র ওবাইদুল আল মামুন এর মাধ্যমে
৬. বগুড়া ফটোগ্রাফিক সোসাইটি – ছাত্র ঠান্ডা মিয়ার মাধ্যমে
৭. রাজশাহী ফটোগ্রাফিক সোসাইটি – ছাত্র পরাগ এর মাধ্যমে
৮. নারায়নগঞ্জ ফটোগ্রাফিক সোসাইটি – ছাত্র কামাল আহমেদ এর মাধ্যমে
৯. দিনাজপুর ফটোগ্রাফিক সোসাইটি – ছাত্র অপূর্ব রায় এর মাধ্যমে
১০. এছাড়া নিউইয়র্কে তার ছাত্র রিমন ইসলাম সেখানে একোটি সমিতি করেন
ঐ সকল সমিতিগুলোকে এক পতাকার নিচে নিয়ে আসার ইদ্দেশ্যে তিনি বাংলাদেশ ফটোগ্রাফিক সোসাইটিকে ফেডারেশনে উন্নীত করেন। যার ফলশ্রুতিতে বিপিএস আন্তর্জাতিক ফটোগ্রাফিক ফেডারেশনের সদস্যপদ লাভ করে আরো শক্তিশালী হয়।
দেশের সরকারি, বেসরকারি বহু সংস্থায়, টেলিভিশনে, বড় বড় দৈনিক ও সাময়িকী অনেকগুলোতে এম এ বেগ এর ছাত্ররা কাজ করেছেন। আন্তর্জাতিক ফটো প্রতিযোগিতায় এখন পর্যন্ত যারা পুরস্কৃত হয়েছেন তাদের ৭০% বেগার্টের সনদধারী।
তার ছাত্ররা এখন ছোট ছোট ফটোগ্রফী শিক্ষাকেন্দ্রও চালু করেছেন। যেমন, টি এস সি তে ইউনিভার্সিটি ফটোগ্রাফিক একাডেমী, ঢাকাস্থ অলিয়াস ফ্রসেঁ এবং বাংলাদেশ ফটোগ্রাফিক সোসাইটির শাখা বি পি আই।
এখানথেকেই সহজেই অনুমেয় যে বাংলাদেশের ফটোগ্রাফির সামগ্রিক উন্নয়নের পিছনে বেগার্ট ইন্সটিটিউট অফ ফটগ্রাফী তথা এম এ বেগ এর ব্যক্তিগত উদ্ব্যোগই কাজ করেছে বেশি। ১৯৯৬ সালে তার ছাত্রসংখ্যা হয়েছে প্রায় ৭০০০ এর মত।
খেতাব / সন্মানঃ
ফটোগ্রাফী উন্নয়ন বিষয়ে বিশেষ অবদান রাখার জন্য জনাব এম এ বেগকে দুর্লভ সন্মানে ভূষিত করেছে ফটোগ্রাফি বিষয়ক বাংলাদেশের সোসাইটিগুলো, পার্শ্ববর্তী দু’টি দেশ ভারত ও শ্রীলংকা এবং আন্তর্জাতিক ফটোগ্রাফিক ফেডারেশন FIAP থেকে।
কিছু বিবরন
১. ১৯৮২ সালে ভারতে প্রথম আন্তর্জাতিক ফটোগ্রাফী সন্মেলন হয় কোলকাতায়। এখানে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে এম এ বেগ সহ মোট এগারোজনকে (১১) ফটোগ্রাফী বিষয়ক শ্রেষ্ট ফেলোশিপ (Hon.FPAD) সন্মানে ভূষিত করা হয়। এ সন্মান দলিল হস্তান্তর করেন বিশ্বখ্যাত স্বনামধন্য সত্যজিৎ রায়।
২. ১৯৮৩ সালে বাংলাদেশ ফটোগ্রাফিক সোসাইটি তাদের Hon. Fellowship (Hon.FBPS) সন্মানে তাকে ভূষিত করে।
৩. ১৯৮৩ সালে ওয়ার্ল্ডভিউ ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন নামের একটি জাতিসংঘ অনুমোদিত আন্তর্জাতিক এনজিও জনাব বেগকে আজীবন সদস্যপদ প্রদান করেছে শ্রীলঙ্কায় অবস্থিত তাদের কেন্দ্রীয় দফতর থেকে।
৪. ১৯৮৭ সালে আন্তর্জাতিক ফটোগ্রাফিক ফেডারেশন (FIAP) জার্মানিতে অনুষ্ঠিত তাদের ১৯তম কংগ্রেসে জনাব বেগকে (EXELLENCE FIAP POUR SERVICES RENDUS) ESFIAP সন্মানে ভূষিত করে।
৫. ১৯৯১ সালে নিউদিল্লীর ইন্ডিয়া-ইন্টারন্যাশনাল ফটোগ্রাফি কাউন্সিল থেকে জনাব বেগকে (ASIIPC) সন্মানে ভূষিত করা হয়।
৬. ১৯৯৫ সালে ইউনাইটেড স্টেটস ইনফরমেশন সার্ভিস (USIS) থেকে বাংলাদেশের একজন সেলিব্রিটি হিসেবে জনাব বেগকে সন্মানিত করা হয়েছে ১৭/১০/৯৫ তারিখে।
এছাড়া বাংলাদেশের শীর্ষ স্থানীয় সকল সোসাইটিগুলো তাকে তাদের সন্মানসূচক খেতাব দিয়ে সন্মানিত করেছে
বিভিন্ন সময়ে।
কে কি বলেছেন?
ব্রিগ্রডিয়ার (অবঃ) আতিক উর রহমান পিএসসি তার লেখা “ডেভেলপমেন্ট অফ ফটোগ্রাফী ইন বাংলাদেশ” প্রবন্ধ
এবং বই এ লিখেছেনঃ-
It was the pioneer effort of Mr. M.A.Beg an eminent photographer, teacher, writer on photography
who realised the necessity and importance of setting up facilities for photographic training in
Bangladesh thus the “BEGART Institute of Photography (BIP)” was established by him with his own
resources in 1960. This institution has produced many fine distinguished photographers of
international fame such as Bijon Sarkar, M.M. Bari, M.A. Wuadud, Altaf Hossain, Shamsul Alam
Almaji, Mizanur Rahman, Anwar Hossain. (2nd Nov. 1982, The Daily Observer)
জনাব গোলাম মুস্তফা, (ডিরেক্টর, বাংলাদেশ টেলিভিশন) লিখেছেন “ফটোগ্রাফী শেখার জন্য যখন এ দেশে কিছুই ছিলনা, না বই, না শিক্ষক, না ছিল কোন সাহায্যের হাত, তখনই প্রতিষ্ঠিত হয় বেগার্ট ইন্সটিটিউট অফ ফটোগ্রাফী, কিছু তরুন উৎসাহী ও আবেগপ্রবন ফটোপাগলদের একেবারে অ আ থেকে ফটোগ্রাফী শেখাবার জন্য। সে থেকে ৩২ বছর ধরে এ ইন্সটিটিউট শত শত লোককে শিখেয়েছে ফটোগ্রাফীর বিভিন্য জ্ঞান, প্রযুক্তি ও নান্দনিক বিষয়। বেগার্টের বড় অবদান আজ বাংলাদেশের যে কজন আলোকচিত্র শিল্পী দেশে ও বিদেশে সুনাম অর্জন করেছেন, বহির্বিশ্বে খ্যাত হয়েছেন, তার প্রায় সবারই এখানথেকেই ফটোগ্রাফীতে হাতেখড়ি। আরেক অনন্য অবদান বাংলাদেশে ফটোগ্রাফী আন্দোলনের আজকের যে অবস্থান তার জন্ম সেই “বি আই পি” থেকেই। বিআইপির পতাকার নীচে থেকে আজ সারা দেশে এ আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে।
সাক্ষরঃ গোলাম মুস্তফা ৩০/৮/৯৬
পশ্চিম বাংলায় সোসাইটি অফ ফটোগ্রাফারস এর পক্ষ থেকে সুনীল হাজরা লিখেছেনঃ
“বাংলার জনগনকে আপনি যে ফটোগ্রাফীর বইটি উপহার দিয়েছেন তার জন্য আপনার কাছে এপার বাংলার আলোকচিত্র শিল্পীরা চির কৃতজ্ঞ থাকবে বলে আশা পোষন করি। বহুদিন যাবৎ বাংলাভাষায় এ ধরনের প্রকৃত জ্ঞান আহরনোপযোগী ফটোগ্রাফী বই এর অভাব ছিল সে অভাব আপনি পূরন করেছেন”।
আমিরিকার আইওয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির সাইন্স অ্যান্ড টেকনলজীর ডিপার্টমেন্ট অফ ইনফরমেশন অ্যান্ড ম্যাস কমিউনিকেশনের প্রফেসর উইলার্ড ই জিলেট (পি এইচ ডি), বেগার্ট ইন্সটিটিউট অফ ফটোগ্রাফী তে কয়েকদিন এম এ বেগ এর ক্লাস পরিচালনা অবলোকন করেন এবং তাৎক্ষনিকভাবে বলেন, “GIFTED TEACHER”। তারপর আমেরিকায় ফিরে গিয়ে ৮ই আগস্ট ১৯৮৯ তারিখে চিঠিতে লেখেন, “Your students are indeed fortunate to have you as a teacher”.






এই লেখা এবি তে পোষ্ট করার যৌক্তিকতা খুঁজে পাচ্ছি না। দুঃখিত।
এবি তে স্বাগতম।
পড়তে থাকুন। লিখতে থাকুন। ভাল থাকুন।
আপনাকে দুঃখ দেয়ার জন্য দুঃখিত ..
আমাদেরকে ফটোগ্রাফি পড়াতেন কাজী রওনক স্যার। তিনি এম এ বেগের ছাত্র ছিলেন। অনেক শুনতাম বেগ আর্টের কথা তখন স্যারের মুখে। আমাদেরকে উনার বইও পড়তে বলতেন স্যার। কিন্তু ফাঁকিবাজ ছিলাম বলে কখনো কেনা হয় নি।
যাই হোক্ লেখায় কিন্তু '৯৬-এর পরের আপডেট নাই।
এই লেখাটা বেগার্ট থেকে ৯৬ এ বের হইছিল .. এর পরেরটুকু যদি বের হয় তাইলে আবার আপডেট দিয়ে যাবো ..

ওনি কি আপনার কেউ হন নাকি আপনি ওনার ফ্যান?
উনি আমার আইডল
বাংলাতো ভালই পারেন
....
এবার ফটোগ্রাফীটা শেখান...
এনিওয়ে... এবিতে স্বাগতম... প্রতিদিন নিয়ম করে কিছুনা কিছু লিখেন... একসময় দেখবেন লেখাটা ভালই পারেন... আর ফটোগ্রাফীর সাথে গল্প কিন্তু খুবি জরুরী বিষয়।
ধন্যবাদ ..
বাংলাদেশের ফটোগ্রাফির ইতিহাস নিয়ে কিছু পড়ালেখা করতেছি .. সেগুলাই আস্তে ধীরে আপনাদের সাথে শেয়ার করবো ইনশাল্লাহ ..
মন্তব্য করুন