বুয়েটিয়ান বলে সহানুভূতি চাই না। কেবল গালি না দেবার প্রতিশ্রুতি চাই।
কারো কাছে কেউ সহানুভূতি চাইতে আসে নাই। বুয়েটের ছেলে বলে তার প্রতি বাইরের কাউকে নাকি কান্নাও করতে বলে নাই। যারা কান্না করতেছে, দিন-রাত সারাবেলা ঐছেলেটার পেছনে দৌড়াইছে, বা তার লাশ নিয়ে গ্রামের বাড়িতে গিয়ে তার মা-বাবার হাতে তুলে দিছে তারাও কিন্তু ঐ ছেলেটার বিশ্ববিদ্যালয়েরই ছেলে।
বুয়েট বললে খুব সরলীকরণ হয়ে যায়, কিন্তু, তবুও এটা খুব গর্ব করেই বলতে পারি, এখনো আমাদের নিজেদের সাথে দেখা না হওয়া ১০/১২ বছর সিনিয়র কোন ভাই'র জন্য আমরা নাওয়া-খাওয়া বাদ দিয়ে চিকিৎসার অর্থ সংগ্রহে দৌড়াই, কিংবা জুনিয়র যে ছেলেটি মারা গেল, তার সাথে আখসান ভাই'র ব্যক্তিগত কোন পরিচয় না থাকা সত্ত্বেও যে অনুভূতি সেটা আমাদের সবারই। কোথাকার কোন খান জাহান, তার সাথে আমার হয়ত বুয়েট জীবনে কখনো দেখাও হত না, তার নাম জানারো কোন সম্ভাবনা ছিল না, তাও আমাদের এত কেন জ্বালা? কেন এই ছেলেটা মরেছে বলে সবাই এত হই-চই করে ওঠে, কেন আমাদের নিজের ভাই মৃত্যুর মত ব্যথা লাগে?
সহজ করে বলি... এটা আমাদের অনুভূতি। বুয়েট আমাদের ৪-৫ বছরে যন্ত্রে পরিণত করে অনেক ক্ষেত্রেই কিন্তু, তার সাথে যেটা দেয়, সেটা এই "বুয়েটিয়ান" পরিচিতি।
এবার একটু বড় পরিসরে আসি। সম্রাটের তো কোন দোষ ছিল না। ইডেনের সামনে যেভাবে বাসগুলো দানবের মত চলাচল করে, তাতে সবাই সাবধানেই চলাফেলা করে। কিন্তু, কোন একটা দাঁড়িয়ে থাকা বাস যদি পেছনে হেল্পার ছাড়া হঠাৎ করে পেছনে চলা শুরু করে, সেটার দায়ও বুঝি সম্রাটদেরই নিতে হবে? বাহ, ভালো তো!!
তারপর? বাসের ধাক্কায় ছেলেটা পরে গেল। তাই দেখে একজন চিৎকার করে বাসকে থামতেও বললো, ড্রাইভার সেটা শুনেও থামলো না। ছেলেটার মাথার উপর দিয়ে চালিয়ে দিল। মুহূর্তে ধ্বংস হয়ে গেল একটা পুরো পরিবারের স্বপ্ন। হাহ!! এটা কিছু না? এটা কেবল ছেলেটারই বেখেয়ালিপনা?
অনেকেই বলছেন বাস পোড়ানোর কথা। প্রথম আলোয় ছবি এসেছে বিশাল করে বাস পুড়ছে, তার সাথে ইনসেটে ছোট করে মায়ের আহাজারি। সাংবাদিকদের কাছে তো মায়ের আহাজারি খুব স্বাভাবিক। কিন্তু, বাস পোড়ানো হয় কালে-ভদ্রে। তাই, তাদের কাছে সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। আর, আম্রা? যারা নিজেদের আর দশজনের থেকে একটু আলাদা দাবি করি, যারা নিজেদের আবেগ এখনো একটু হলেও অবশিষ্ট আছে বলে দাবি করি, তারাও কি অমন হয়ে গেলাম? তাদের কাছেও কি বাস পোড়ানোটাও মৃত্যুর চেয়েও বড় হয়ে গেল?
ইউনিভার্সিটি এলাকাটা একটু দেখেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, মেডিক্যাল কলেজ, ইডেন কলেজ, গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ, (নাম মনে পড়ছে না এই মুহূর্তে বকশি বাজারের মোড়ে)মহিলা কলেজ। এই এলাকায় এমনিই গাড়ি চলে কম। এখানে খালি পেয়ে বাসগুলো চলে তাদের ইচ্ছামত। তাদের নিজেদের রাস্তা। যেমন খুশি-তেমন চলা। অথচ এখানে কোন ভারি যানবাহন চলার অনুমতি পাবার কথা না। এখানে বাসের গতিসীমার একটা সীমাবদ্ধতা থাকার কথা। তার কিছুই নেই। হায়রে দেশ!! এখানে বাস মালিকের টাকার কাছে এ রকম দু'চারটা সম্রাট কিছুই না।
এবার সবচাইতে দৃষ্টিকটু যে ব্যাপারটা নিয়ে এত লেখালেখি, সেটা নিয়ে একটু বলি। বুয়েটের ছেলেরা বাস ভাংছে, এটা নিয়ে এত উত্তেজনা? কতক্ষণ ভাঙছে? সারাদিন ভাঙছে? সারা রাস্তা ধরে ভাংছে? সাময়িক উত্তেজনায় দুপুর পর্যন্ত ভাংচুর চলছে। তাতে কি এমন মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে গেল?
কই, বুয়েটের ছেলেরা তো পরদিন থেকে আর বাস ভাংগে নাই। আমাদের ক্যাম্পাসের বাইরে তো জায়গায় কোন ভাংচুর চালায় নাই। কাল দুপুরে মিছিল হল, মৌন সমাবেশ হল। আজ দুপুরে মৌন মিছিল হল, মানব-বন্ধন হল। আমাদের ছেলেরা কি উত্তেজিত হয় না? আজ মিছিলেও তো উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ছিল। তাতে কি, যখন বুঝিয়ে বলা হল, তারা তো সবাই শান্ত। আর তো কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলো না।
আমাদের দাবিগুলা কি জানেন? খুব সহজ কিছু দাবি। সেখানে কোন ভাংচুরের কথা নাই, কোন অন্যায্য কিছু নাই। মূল দাবিগুলা বলি..
১. দায়ি ড্রাইভারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের এবং বিচার।
২. ক্যাম্পাসের ভেতর দিয়ে কোন ভারি যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ।
৩. পলাশীর মোড়ে কোন ধরণের যানবাহনের ইউটার্ন নিষিদ্ধ।
বুয়েটিয়ান একটা ছেলে মারা গেছে, সে বুয়েটিয়ান না হয়ে অন্য কেউও হতে পারতো, সে সম্রাট না হয়ে আমার-আপনার ভাই'ও হতে পারতো। তখন আপনি চুপ করে বসে থেকে ইলিয়াস কাঞ্চনের সাথে "নিরাপদ সড়ক চাই" দাবি জানিয়ে সচেতনতা বাড়াতে পারবেন, , কিন্তু আমি পারবো না।
আর, কেবল বুয়েট শুনেই অনেকের কেন জ্বালা ধরে, সেটা আমার ক্ষুদ্র মাথায় ঢোকে না। আমার ছোট ভাই মারা গেছে, আমি তার উত্তরে দশটা কথা লিখতে পারি। দশটা কথা বলতে পারি। সেটা নিয়ে পোস্টও দিতে পারি। আপনার এই সম্পর্কে কোন সহানুভূতি না থাকতে পারে, কিন্তু, তাই বলে কেন এসে বলে যাবেন,
ও বুয়েটের ছেলে? মরছে, ভালো হইছে। কি হইত, দেশের টাকায় পড়ে, বিদেশে গিয়ে চাকরি করতো।
কোন দেশে বাস করছি আম্রা? কেমন হচ্ছে আমাদের মানসিকতাগুলো। খুব জানতে ইচ্ছে করে, তারা কোন পরিবারের সন্তান? কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশুনা করে তারা এই মানসিকতায় নিজেদের গড়ে তুলছে?
আমরা কেন আমাদের ছোট ভাই'র মৃত্যুর প্রতিবাদে ঘাতক বাসটি ধুম করে পুড়িয়ে দিলাম। কেন আরো দশজনের যাত্রাপথে অসুবিধার সৃষ্টি করলাম, তার উত্তরে কেউ যদি আপনাকে একজন ধর্ষক বানিয়ে দেয় তাহলে আপনার উত্তরটা কি হয়, সেটা জানার আমার খুব ইচ্ছা।
আর, সবশেষে এক বড় ভাইর কথা দিয়ে শেষ করি,
আমরা বাস পোড়ানোর ক্ষতিপূরণ দিয়ে দেবো। যারা যারা যথাসময়ে অফিস কিংবা কোন জরুরি কাজে অংশ নিতে পারেন নি, তাদের কাজও করে দেব। আপনারা কেবল সম্রাটের জীবন ফিরিয়ে দিন। যদি সেটা করতে না পারেন, তাহলে প্লিজ, আপনাদের দোহাই লাগে, এই রকম সুশীল মার্কা কথা বলবেন না।
[বাফড়া ভাই'র পোস্টের উত্তরটা ওখানেই দিতে চাইছিলাম, কিন্তু, অনেক বড় হয়ে যাওয়ায় আলাদা করে দিলাম। বন্ধুদের কারো যদি দৃষ্টিকটু লাগে, তার জন্যে দু:খিত না। কারণ, আরো অনেক ব্লগে এমন কিছু পোস্ট দেখছি, যেগুলো পড়ে মাথায় আগুন ধরে গেছে। কিছু বলি নাই, গায়েও মাখি নাই। কিন্তু, এখানে এই পোস্টটা পড়ে খুব দু:খ পাইলাম। ভাইয়ার সাথে ব্যক্তিগত পরিচয় আছে, তাই, উনি কিছু বলাতে গায়ে লাগে।]





সুশীল এখন আমার খুব পছন্দনীয় গালি। হলে কারেন্ট গেলে মাঝেসাঝেই ইউজ করি।
ভালৈ!! আমাদেরও শুরু করতে হবে বোধহয়।
ভারতে সম্প্রতি একটা দুর্ঘটনায়(কিংবা নাশকতায়) একশতের উপরে মানুষ মারা গেছে। বাংলাদেশে পিলখানার ঘটনায় কি তার চাইতে বেশি মারা গেছিল? না। কিন্তু পিলখানা নিয়ে পোস্ট আসছিল কতোগুলা? ভারতের এ দুর্ঘটনা নিয়ে কয়টা আসছে?
যারা ভাবেন বুয়েটের সামান্য এক পোলা মারা গেছে দেখে আমরা ব্লগ গরম করে ফেলি, তারা উপরের প্রশ্নগুলোর উত্তর দিলেই চলবে, আর কিছু বলার নাই।
আমরা অশ্রু আপনজনদের জন্যই ফেলি।
তোমার সাথে আমিও এই প্রশ্নগুলার উত্তরের অপেক্ষায় রইলাম।
আপনাদের দাবীগুলো খুবই যৌক্তিক, আশাবাদী হতে ভয় হয়, তাও মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি অপরাধী বাস ড্রাইভার ধরা পড়বে।
কিন্তু এর সাথে বাস পোড়ানোর মানে কি? বাস পোড়ালে কি বাসযাত্রীর মৃত্যুর সম্ভাবনা তৈরী হয়না? তাঁদের দোষটা কোথায়?
ভাইয়া, এইটুকু জ্ঞান আছে। তাই, কোন যাত্রীবাহী বাসে একটা ঠিলও ছোঁড়া হয় নাই। সবগুলো খালি বাস ভাঙা হইছে, পোড়ানো হইছে।
খালি বাসের বাস ড্রাইভাররা কি মানুষ না?
অবশ্যই মানুষ। তাই, ঐ সব বাসের কোন ড্রাইভার/ হেল্পারের গায়ে হাত উঠে নাই। খালি বাস পরে আছে, সেটা ডিপো থেকে ঠেলে এনে ভাংগা হইছে, পোড়ানো হইছে।
আবারো বলি, কোন অন্যায্য ঘটনা ঘটে নাই। ছাত্র মৃত্যুর প্রতিবাদে লাগাতার ভাংচুর করা হইলে সেটা নিয়ে এত কথা হইলে তখন হত। কিন্তু, বাস ভাংছে কেবল ২/৩টা। তাতেই এত কথা!!
আল্লাহ, আগামীতে যদি কোন সম্রাট মরে তাইলে যেন একলা না মরে অন্তত: ৩/৪টা মরে। তাইলে যদি সবাই একটু বলে, নাহ ৩/৪টা ছেলে মরছে।
মুক্ত, সুশীল বৈলা ট্যাগ করনের আগে এক্টা ডিস্ক্লেইমার কৈয়া লৈ। আমার বাপে রোডে এক্সিডেন্ট কৈরা তিনমাসের লিগা এমনেশিয়ায় আছিলো, আর রিসেন্টলি আমার মামাতো ভাইয়ে রোড এক্সিডেন্টে মারা গেছে, মামায় গত কাইল যেইটার চল্লিশা করছে।
বাফ্রার পোস্টখান দেইখা তোমার মেজাজ খারাপ হৈয়া আছে বুঝতেছি। মুল মেজাজ খারাপ হওনের কারণ সামুতে ককের পোস্ট সেইডাও জানি।
আমি ভাংচুরের পক্ষে না।
সে বুয়েটের (বার্বার ঘুইরা ফিরা বুয়েটের নাম আইতেছে দেইখাই উল্লেখ কর্লাম) হৌক, না কি বস্তির পোলা হৌক বা আমার বাপ/ভাই হৌক। সবক্ষেত্রেই আমার ডিসিশন একৈ থাকবো।
ভাংচুর কৈরা তোম্রা বর্তমান সিস্টেমের এগেইনস্টে প্রতিবাদ কর্তেছো, চলমান দুর্নিতীর এগেইনস্টে দাঁড়াইতেছো। প্রতিবাদ কর্তেছো।
হ আমার সাপোর্ট আছে তোম্গো প্রতিবাদের প্রতি। বাট নট অন দ্য ভাংচুর ওয়ে। অন্য যে সিস্টেমে তোম্রা প্রতিবাদ শুরু করছো সেইটার প্রতি। বাট আল্টিমেট ফলাফল আমি অখনৈ বৈলা দিবার পারি। টোটাল ব্যাপার্টার যোগফল হৈবো বিশাল একটা শুন্য। শুনতে খারাপ লাগলেও ফলাফল হৈবো ঐটাই।
বাফ্রার পোস্ট কিংবা অন্য কোনো পোস্টে আমি সম্রাটরে কেউ মরার লাইগা দায়ী করছে এরম পাই নাই। সম্রাটরে কেউই দায়ী করতেছে না। সবাই দায়ী কর্তেছে যারা ভাংচুর কর্ছে তাগোরে। ভাংচুর কারীরা কি ঘাতক বাসডিরে ভাংতে পার্ছে? বা উইনারের অফিসে গিয়া সেইটারে? না পারনাই। কারণ তোমরা যতক্ষণে পয়েন্টে আসছো ততক্ষণে সেই বাসঅলা অলরেডি পলাইছে।কষ্ট লাগলেও ছোটবেলায় করা ডাক্তার রোগীর ট্রান্সলেশনের মত হৈয়া গেছে ব্যাপার্টা।
সেই ঝালটা তোমরা তুলছো অন্য বাসগুলার উপ্রে। জানি ঐ টাইমে মাথা ঠিক থাকে না, তারপরও ভাংচুর বিষয়টা কোনো ফাইনাল সল্যুশন দেয় না।
একটা কড়া কথা বলি ভাংচুর বিষয়ে
যে বীরপুঙ্গবেরা বাস ভাঙচুর করছে, তারা যদি নিশ্চিত থাকতো যে এই ভাঙচুরের পেছনে দায়ীদেরকে পুলিশ ঠিকই খুঁজে বের করবে, শাস্তি/জরিমানা দেবে, তাহলে এদের কেউই একটা ইটও ছুঁড়ে মারতোনা
ঠিক যে কাজটা বাস ড্রাইভাররা করে ... তারা যদি নিশ্চিত থাকতো যে দূর্ঘটনায় মানুষ মারলে তার শাস্তি তাকে পেতেই হবে, তাহলে এত বেপরোয়া গাড়ী চালানোর হ্যাডম তাদের হইতোনা
বাস ড্রাইভারদের যদি শাস্তি হত, তাহলে এই ঘটনাগুলা ঘটতো না..
১. ২০০৫ সালে শহীদ স্মৃতি হলের কোণায় মাদ্রাসা ছাত্রের মৃত্যু
২. একই স্থানে কিছুদিন আগে এক অজ্ঞাতপরিচয় মহিলার মৃত্যু
৩. এর কিছুদিন পর, কবি নজরুল কলেজের এক ছাত্র সহ তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যু একই জায়গায়
৪. ২৪শে মে পলাশীর মোড়ে বাস চাপায় এক পথচারী গুরুতর আহত।
এই সবগুলো ক্ষেত্রেই আমরা আসেন অপেক্ষায় থাকি, কবে সব কিছুর বিচার হবে। বাস ড্রাইভারদের বেখেয়ালিপনার অবসান হবে!!!
এইটা হয় নাই। বাস পালাইছে ঠিকাছে। পোলাপাইন গিয়া সেইটারেই বাস স্ট্যান্ড থেকে ঠেলে নিয়ে এসে তারপরে জ্বালাইছে। আর পরেরগুলা কেবল পরম্পরায়। কোন যাত্রীবাহী বাসে কিছু করা হয় নাই। খালি বাস যখনই এখানে আসছে, তখন সেটাকে ভাঙা হইছে। আর, বাস পোড়ানো কেন এত হাইলাইট হবে?
একটা ছেলে মারা গেছে, তার প্রতিবাদে ছেলেরা উত্তেজিত হয়ে ভাংচুর করছে। এরপর তো কিছু হয় নাই।
কেন বাস মালিকের বিরুদ্ধে কিছু বলা হবে না? কেন ড্রাইভারেরে এখনো ধরা যাবে না? এইগুলাই কেবল ছেলেদের প্রশ্ন। আর কিছু না। তাদের একটাই কথা বিচার। শেষ।
আর, বছর বছর আমরা সবাই দুর্ঘটনার কথা সয়েই যাই। চল্লিশা খেয়ে আসি, পরিবারকে সান্ত্বনা দিয়ে আসি। কিন্তু, প্রতিবাদ কিছু করা হয়না। যে ক্ষতি হয়, সেটা কেবল যার হয়, সেই বোঝে।
প্রতি বছর যদি খুব কম করেও ৫% মানুষ সড়ক দূর্ঘটনায় মারা যায়, তাদের মাঝে যদি ১%ও শিক্ষার্থীরা হয়, সেটা কিন্তু, খু্বই ছোট একটা সংখ্যা। কিন্তু, সমস্যাটা হল, যে গেল, তার পরিবারের কাছে সেটাই ১০০%।
আর, সবচেয়ে কুৎসিত যেটা লাগছে, একটা মানুষ মারা গেছে, আপনি সান্ত্বনা না দেন, এসে খোঁচা কেন দিবেন? কেন এসে বার বার একটা কথাই বলবেন, বুয়েটের ছেলে, বুয়েটের ছেলে বলে পুরো ব্যাপারটাকে "বুয়েটাইজ" করার কথা/ কিংবা ভাংচুরের কথা?
ছেলেটা যদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়, চুয়েট কিংবা নোয়াখালি কলেজেরও হয়, এবং সেখানকার কোন শিক্ষার্থী যদি সেটা নিয়ে পোস্ট করে, তাহলে কি সেখানে তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম অন্য কিছু লিখবে?
বুয়েটের ছেলে মারা গেছে, তাই আমরা বলছি বুয়েটের একটা ছেলে মারা গেছে। এটাকে খুব স্বাভাবিকভাবেই এক সাধারণ শিক্ষার্থীর সাথে তুলনা করা যেতো। সেটাকে বুয়েট ট্যাগ আমাদের কেউ করে নাই। আর, কেবল ট্যাগ করেই ক্ষান্ত হয় নাই। সেটা নিয়ে খোঁচাও দিচ্ছে। তাই, সেটা অনেকটা কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা দেবার মত।
মারা গেছে কি একজন মানুষ না একজন বুয়েটিয়ান ?
এরকম মোটা দাগে কেন ভাবছো ?
বুয়েট মানেই আমাদের দেশে সবচেয়ে মেধাবী ছাত্রদের স্থান বিবেচনা করা হয় । বুয়েটিয়ান বলে কাউকে নিচু চোখে দেখা হয়েছে বলে শুনিনি বরং পরিবার, আত্মীয়, পাড়া প্রতিবেশী - সবার একটা সমীহ কাজ করে সেই ছাত্রের উপর, রাতারাতি সে গুরুত্বপূর্ণ একজন হয়ে যায় সবার কাছে - এরকমই জানতাম।
রাস্তার পিকেটারদের, গার্মেন্টসের শ্রমিকদের দাবী দাওয়া আদায়ের জন্য তাদের মত বুয়েটের ছেলেরা এরকম ভাংচুর চালাবে হয়তো অনেকেই ভাবতে পারেনি বলেই অনেকেই আশাহত হয়েছে, কারন বুয়েটের ছাত্রদের কাছে সবার থেকে আলাদা কিছুই আশা করে সবাই। আমার মনে সেটাই বোঝাতে চেয়েছে , এটা কোন কারনে ভুল সিগন্যাল দিচ্ছে তোমাদের কে।
ভারতে একশতের উপরে মানুষ মারা গেছে। এই ব্যাপারে আপনার মতামত কি?
কিছুদিন আগে উইলস লিটল ফ্লাওয়ারের একজন মারা গেছে , সে ব্যাপারে কোন লেখা দেয়া হয়েছিল ?
যে কোন মৃত্যুই অনাকাঙ্খিত ও কষ্টের। বিষয়টা শুধু বুয়েটের দৃষ্টিকোন থেকে দেখছেন, আমি বা আমরা জেনারালাইজ করে দেখছি - পার্থক্য এইখানেই।
আপনাদের সহপাঠি মারা গেছে , স্বাভাবিক ভাবে আবেগ বেশীই থাকবে আমাদের থেকে , এইটাই স্বাভাবিক।
ভাইয়া, ভুল/শুদ্ধ সিগন্যাল দিতে চাওয়ার জন্য তাদের সকলকেই ধন্যবাদ।
কিন্তু, একটা কথা যখন এমন হয়... "বুয়েট ছাত্র মারার প্রতিবাদে সেখানকার ছেলেদের বাস পোড়ানো দেখে মনে হয়, আমার বোনের গায়ে চড় মারার প্রতিবাদে আমি গিয়ে তার বোনকে ধর্ষণ করে আসবো" এই কথা শোনার পর যদি কেউ কথা বলে, সেটা নিশ্চয়ই দোষ না।
আর, বার বার সবাই বাস পোড়ানোকে কেন এত বড় ইস্যু করছে? ছেলেটা মারা গেছে। তার বিচারের ব্যপারে কারো কোন আগ্রহ নেই। সবাই বড় বড় করে বাস পোড়ানোর সংবাদ ছাপছে। আর, আরো দশজন এসে সেখানে তালি দিচ্ছে। বুয়েটের গুষ্ঠি উদ্ধার করে ফেলছে।
একটা লেখা কেউ দেখাক, যেখানে লেখা বুয়েটের ছেলে বলে কোন বিশেষ সুবিধার চাই দাবি করা হয়েছে? সবাই যার যার মত করে অনুভূতি শেয়ার করেছে। সেখানে যদি কারো মনে হয়, একটা শিক্ষার্থীর লাশের প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে কিছু বলা উচিত, সেটা বলুন। আর নাইলে চুপ করে থাকুন। একটা লাশ এটুকু সম্মান পেতেই পারে। সেখানে তাকে কটাক্ষ করে কোন পোস্ট/ মন্তব্য বেশ কষ্ট দেয়।
তাই, পর পর এই পোস্টগুলো।
মুক্ত, তুমি আমার পোস্ৎাকে পার্সোনালি নিলে ভুল করবে... পরে আরেকবার পড়ে দেখো... আর কোথাও কেউ কিছু বলে থাকলে তার দায় আমার ঘাড়ে চাপিওনা... আর আমার পোস্টের অন্য কোন মিনিং বের হলে সেটা নিতান্তই কল্পনা..
সম্রাটের মারা যাওয়ারে ডালভাত টাইপের ঘটনা মনে হয়নি.. রাদার একটা মানবিক বিপর্যয়ই মনে হইছে.। তার ফ্যামিলির জন্য, আরো সবার জন্যও। শুধু এটার প্রেক্ষিতে ভাংচুর টাকে সমর্থন করতে পারিনি.. কোন দুর্ঘটনা সেইটা পিউরলি একটা দুর্ঘটনা হোক বা অবহেলাজনিত হোক কখনোই ভাংচুর সাপোর্ট করিনা...
আর বুয়েট কে জড়ানোতে আমার আপত্তি ছিল কি কারণে সেইটা বলেছি আমর পোস্টেই... একজন মানুষ মারা গেছে মানে একজন মানুষ মারা গেছে.। এইটা দুঃখজনক... আমার থেকে তুমরা বেশী উপলব্দি করছ দুঃকহটা সেইটাও জানি..।
কিন্তু তার পরিচয় নিয়ে যদি এইরকম ভাংচুর চলে তবে বলতে পারি এখন বুয়েটের ছাত্ররা বুয়েটের ছাত্র নিহত এই কারনে ভাংচুর করছে; একটু পরে এসে ঢাকা ইউনি, মেডিকেল, বুয়েট সবাই মিলে সব ছাত্ররা ভাংচুর করতে পারে সম্রাট নামের একজন ছাত্র মারা গেছে এই কারনে; তরপরে তরুণ রা এসে ভাংচুর করবে সম্রাট নামের এক তরুণ মারা গেছে এই কারণে...
এই কারনেই বলছিলাম এইটাকে একটা মানুষের মৃত্যু হিসেবে দেখা উচিত.. পরিচয় বাইর করতে গেলে হাজার পরিচয়ে হাজারবার ভাংচুর করতে পারবেন...
আপনারা মানববন্ধন করেছেন, কালোব্যাজ ধারণ করেছেন.। এইটাই দরকার.. এইটাই কাম্য.। সাথে আরো কিছু প্রয়োজন মনে করলে সেইটাও করেন, তবে সেই আরোকিছু যেন ভাংচুর নাহয় এটাই বলতে চাই...
==আমার পোস্ট নিয়া কয়েকটা লাইন বলি-
আর আমার পোস্টে আমিও এও বলেছিলাম যে পোস্টের বুয়েট বদলে অন্য কোন ইউনির নাম নিরদিধায় বসায়া দেয়া যা, যেকোন সাধারণ মানুষের নাম বসায়া দেয়া যায়... তাতে আসলেই হেরফের হবেনা... কারণ এইটা-এই ভাংচুর আমাদের জাতিগত সমস্যা। তুমি কেন/কিভাবে ধরে নিলা যে শুধু বুয়েটিয়ান বলেই এরকম লিখেছি??!!!
====
আর আমাকে চাইলে সুশীল বলতে পার... যদি ঐরকম কিছু করে বা বলে থাকি তবে বইল... সেক্ষেত্রে আমার জানা থকবে যে আমিও সুশীল
আটটা বাজে যে দুর্ঘটনা ঘটছে তার জন্য আবেগী হয়ে দশটা বাজে ভাংচুরের দরকার ছিল না। তবে এই পোড়ার দেশে তা না করলে কেউ কানে শুনে না। উই ওয়্যার জাস্ট সাম রোমানস লিভিং ইন রোম।
আমরা আধা-ইঞ্জিনিয়ার, মানুষ আশা করে আমরা লজিকালি কাজ করবো। লজিকের কথাতেই আসি।
লজিক কি বলে? আমাদের কালো ব্যাজ আর মৌন মিছিল সরকার বাহাদুরের নজরে পড়বে? ব্লগে অনেক সাংবাদিক আছেন, তারাই জবাব দিকঃ বাসে আগুন না লাগালে সম্রাটের মৃত্যুর গল্পটা কি প্রথম পাতায় আজকের মতো একই কাভারেজ পেত? উত্তর দিতে হবে না, আমরা সবাই উত্তরটা জানিঃ না!
পত্রিকাই যখন আমাদের পাত্তা দিত না, তখন সরকারের কি ঠ্যাকা পড়তো দুই-চার হাজার ছাত্র কালো ব্যাজ পড়ে নিজ ক্যাম্পাসে দাঁড়ায় থাকলে তাদের দাবি শোনার? We needed to be heard.
লজিক আরো বলে উইনারের বাস না ভেঙ্গে উইনারের মালিকরে কয়েক কোটি টাকা জরিমানা দিতে বাধ্য করতে পারলে ভাল হতো। সম্রাট তাতে ফিরে আসতো না, তবে আর কোন সম্রাট যেন বাসচাপা না পড়ে, সেই চিন্তা করে উইনারদের মালিকেরা বাস ড্রাইভার নিয়োগ দিত। অবশ্যই লজিকাল স্টেপ।
এবারের প্রশ্ন আপনার জন্যঃ কেমন করে আপনি উইনারের মালিককে বাধ্য করবেন ক্ষতিপূরণ দিতে? একটু হিন্টস দেই, কোকাকোলা/পেপসির এক গাড়ি আজ থেকে এক কি দেড় যুগ আগে এক সাংবাদিককে চাপা দিয়ে মারছিল, তার ক্ষতিপূরণের রায় দুয়েকদিন আগে হইছে, টাকা কবে পাবে কে জানে!
ইঞ্জিনিয়ার হলেও আমরা মানুষ, আবেগ দুয়েক ফোঁটা আছে। আমরা আবেগী হয়ে যদি বাস জ্বালায়ে থাকি, তাহলে লজিকাল কোন রাস্তা নেই দেখেই জ্বালাইছি। এ নিয়ে যে যা খুশি বলুক, আমরা জানি ঘরের দোরগোড়ায় ভাই মরে পড়ে থাকলে সে শোক কেমন করে সামাল দিতে হয়।
এইটা একটা খেলো যুক্তি হয়ে গেল না? আপনি ভালো করেই জানেন, এই ঘটনাটা ঘটবে না। তাহলে অনেক আগেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটতো।
ভাংচুর হওয়া না হওয়া নিয়ে আখসান ভাই'র পোস্টটা ছিলো না। পোস্টটা কি নিয়ে ছিলো, সেটা যদি না জানেন, তাইলে ছোট করে বলি,
, এই জাতীয় উপমা দিয়ে মেলায়, তাহলে নিশ্চয় আপনি চুপ করে থাকবেন না?
আর, এত কথা বলার নাই, আমি একটা বলাই বলি, সবকিছুর ক্ষতিপূরণ আমরা করে দেব, আমাদের সম্রাটকে এনে দিতে পারবেন কেউ? যদি না পারেন, তাহলে চুপ করে থাকেন।
অবাক হওয়ার আর বাকি কিছু রইলনা !!
কি আর বলবা?
দাবি আদায় যেনো হয়। আর কোন সম্রাট যেনো এভাবে ঝরে না যায় এইটাই চাওয়া। এই মর্মান্তিক ঘটনা নিয়ে বিতর্ক না করি।যার যায় সে বুঝে তার কি গেলো।
সেটাই আপু। যার যায়, সে-ই বোঝে।
আর কোন সম্রাট যেন অকালে ঝরে না যায়, সেটাই প্রত্যাশা।
এই বিষয়ে কয়েকটা পোষ্ট পইড়া মনে হইল, ব্লগ জায়গাটা খুব খারাপ।
অনেকেই অনর্থক কথা বলছেন। পুরা মেজাজ খারাপ অবস্থা।
কিছু বলার নাই। যার যায় সেই জানে।
সবাই যেনো তারপরও ভালো থাকে, প্রতিনিয়ত এই কামনা
মন্তব্য করুন