২১শে ফেব্রুয়ারি উৎসবের মা ভৈ, মা ভৈ, মা ভৈ আর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে অন্তরায়
#১.
সাম্প্রতিক ২১শে ফেব্রুয়ারিতে সারাদিন যাব না, যাব না করেও হঠাৎ দুপুর ২টার দিকে সিদ্ধান্ত এবার ছাত্রাবস্থায় শেষবারের মত শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানানোর যে লোকদেখানো ব্যাপারটা সেটা সেরে আসি। ছেলেপিলেদের সাথে আগেই যোগাযোগ করা ছিল, তারা রওয়ানা দিল, আমিই বরং সবার শেষে তাদের সাথে যুক্ত হলাম। ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে আসলাম। কিছুক্ষণ ছবি তুলে যার যার মত, হলে ফিরে আসা। কিছু সময় পর আরেক বন্ধুর সাথে কর্পোরেট প্রচারণায় ঋদ্ধ দুনিয়া কাঁপানো ৩০ মিনিট জ্বরে আক্রান্ত আমি আবারও সেই শহীদ মিনারে। বন্ধু ছবি তুলবে, তাই লাফিয়ে-ঝাঁপিয়ে উপরে উঠে যায়, আমি মূল বেদীতে না উঠে নিচে দাঁড়িয়ে থাকি।
কিছুক্ষণ পর বন্ধু হঠাৎ দৌড়ে এসে বলে “সেলিব্রেটি” আসছে, দেখছিস? আমি আগেই দেখেছি। আমার অসম্ভব প্রিয় এখনকার সময়ের মডেল থেকে সদ্য টিভি নাটকের অভিনেত্রীতে পরিণত হওয়া এক তরুণী। ছবি তোলার আগ্রহ দু’জনেরই। তার সাথে কথা বলি।
- আপু, একটা ছবি তুলি?
:: আমার অসম্ভব মন খারাপ। আমি ফুল দিতে এসছি, আমাকে ফুল দিতে দেওয়া হচ্ছে না।
- আপু, এখানেই তো সবাইকে ফুল দিতে হয়, মূল বেদীতে তো আপনাকে উঠতে দেওয়া হবে না, ওটা তো কেবল ভিভিআইপি’দের জন্য। আমরা এখানেই ফুল দেব, স্বেচ্ছাসেবকরা সেগুলো গুছিয়ে মূল বেদীতে সাজিয়ে রাখবে।
:: তাই নাকি, কেন?
- এটাই তো সবসময় হয়ে আসছে, আপু।
:: আমি actually জানতাম না।
এবার আমার অবাক হবার পালা।
- কেন? আপনি এর আগে কখনো আসেননি?
:: না। এবারই আমার প্রথম এখানে আসা।
আমি হা হয়ে যাই। যে মানুষটা মোটামুটি ১৭/১৮ বছর ধরে ঢাকায় আছে, সে কখনো শহীদ মিনার আসে নি, এটা মানতে আমার খুব কষ্ট হয়। আর কথা বাড়াই না, উদাস মুখ করে ছবি তোলায় ব্যস্ত হয়ে পরি।
#২.
সময়কাল ৪.১৬।
দুনিয়া কাঁপানো ৩০ মিনিট শেষ হয়েছে কিছুক্ষণ আগে। ডিজুস প্রজন্ম আজ পাঞ্জাবি, শাড়ি, স্যান্ডেলে সেজে-গুঁজে এসেছে। দেখতে ভালই লাগছে। আনিসুল হকের উৎসাহী শ্লোগানে সবাই শহীদ মিনার অভিমুখী মিছিল শুরু করে। আমরা ভীড় এড়িয়ে ফুটপাথে জায়গা খুঁজি।
কিছু সময় এদিক-সেদিক ঘোরাঘুরি করে ছবি তুলে হলের ফিরতি পথ ধরি। শহীদ মিনারের সামনে এসে থমকে দাঁড়াই। চমৎকার দৃশ্য! মজমা বসেছে! বিয়ের আসরে বৌ-জামাইকে ঘিরে পুষ্পবৃষ্টি!! সবাই মূল বেদীতে জুতা পায়ে উঠে সেখানে শহীদ মিনারকে লক্ষ্য করে ফুল ছুড়ছে। আহা কি দৃশ্য! দুনিয়া কাঁপানো মন্ত্রের উদ্ভাবকরা তখন সোৎসাহে বলছেন, "আরো হবে, আরো হবে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এ এক দিক-নির্দেশনা; কি করে শহীদ দিবস পালন করতে হয়।"
আর, অতিউৎসাহীরা? তাদের কয়েকজন শহীদ মিনারে চড়ে বসেছেন। দুয়েকজন ফটোসাংবাদিকও মনে হয় উপর থেকে ঝুলছেন। আহা আহা! কি সুন্দর! শহীদ মিনারের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধার আবেগ যেন বেয়ে বেয়ে পরে! কি আনন্দ ঘরে ঘরে! এই না হলে একটা বিশেষ দিন? বিশেষ দিন গুলো হতে হবে উৎসবমুখর।
কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে দেখে আর থাকা সম্ভব হল না। গা জ্বলতে লাগল। ফিরতি পথ ধরলাম। এক ডিজুস ছেলে আরেক ডিজুসকে বলছে,
- দেখছিস, এইবারের ২১শে ফেব্রুয়ারি কি জোশিলা হইছে? Regular basis-এ এই অনুষ্ঠান করা উচিত।
:: সবচাইতে rocking ছিল ৩০ মিনিটের পর মিছিল, আর ফুল উৎসবটা তো awesome.
- হ, ঠিক কইছোস্। গ্রামীণ rocks!!
আমি আবারো লজ্জা পাই। মাথা হেঁট হয়ে যায়। মনে মনে বলি, “শহীদেরা, তোমাদের অবদান আজ ঐ ৩০ মিনিটে গুলি খাওয়া পর্যন্তই। এর আগে পরে কোন ইতিহাস নেই। তোমরা আজ ধূলি-জীর্ণ ইতিহাসের পাতায়।”
#৩.
সকালে ঘুম থেকে উঠে পত্রিকা পড়ার অভ্যাস। বাকি রুমমেটগুলোর চাইতে সকাল সকাল উঠার কারণে পত্রিকার ভাঁজ খুলি রোজই আমি। প্রথম পাতায় একটা সংবাদ দেখে চোখ আটকে গেল। বাংলাদেশ-পাকিস্তান শীতল সম্পর্ক।
আগ্রহী হয়ে পড়া শুরু করলাম। একটু পরেই মেজাজ পুরা খারাপ হয়ে গেল। আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি, তাদের দৌড় ঐ মুক্তিযুদ্ধ সংক্রান্ত বইগুলো,
চলচ্চিত্রগুলো, পত্রিকা/ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত বিভিন্ন মুক্তিযোদ্ধার আত্মকাহিনীগুলো। তাই দেখে, পড়ে আমাদের পাকিস্তান ঘৃণা, যারা আরেকটু উদার, বর্তমান পাকিস্তানকে তৎকালীন পাকিস্তানের কৃতকর্মের জন্য দোষারোপ করতে রাজি না, তাদের সাথে ঝগড়া।
আমরাও একটা সময় মেনে নেই, হ্যাঁ, কেন অতীত কাজের জন্য এখন একজনকে দোষারোপ করবো, সে তো তখন দায়িত্বে ছিল না, সে নিশ্চয়ই এ কাজে সমর্থন করতো না। কিছুটা সহানুভূতিশীল হতে চাই। কিন্তু, পত্রিকায় খবর এসেছে,
পাকিস্তান বিভিন্ন দেশে অবস্থিত তার মিশনগুলোকে যুদ্ধাপরাধের বিচার বন্ধে উদ্যোগ নিতে কাজে লাগাচ্ছে।
ঢাকা ও ইসলামাবাদের কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, সাম্প্রতিক কালে চিঠিপত্র চালাচালিসহ যেকোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পাকিস্তান অনীহা প্রকাশ করছে। নিয়মিতভাবে খুব দ্রুত সমাধান হয়ে যায় এমন বিষয়ে দীর্ঘসূত্রতা শুরু হয়েছে।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ব্যাপারে তাদের এত অনীহা কেন? তারা যদি তাদের পূর্বপুরুষদের কাপুরুষোচিত কৃতকর্মের জন্য দু:খিত হয়ে থাকে, তাদের জন্য আমাদের ক্ষমা চিরকাল থাকবে। কিন্তু, এই যুদ্ধাপরাধীদের প্রতি তাদের প্রীতি কেন? কেন তারা এই বিচারে অন্তরায় সৃষ্টি করতে চায়?
আজ থেকে আমি আবারো যারা বর্তমান পাকিস্তানকে ’৭১ এর পাকিস্তানের সাথে মিশিয়ে ফেলতে চায় না, তাদের দিকে করুণার চোখে তাকাবো, আর ঈশ্বরের কাছে তাদের সুমতি দেবার জন্য প্রার্থনা করবো। কিন্তু, পাকিস্তানের প্রতি যে ঘৃণা চাপা ছিল, তা আজ মুখ দিয়ে থুথু হয়ে বেরিয়ে আসা শুরু করল।
রচনাকাল: ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১০।





- দেখছিস, এইবারের ২১শে ফেব্রুয়ারি কি জোশিলা হইছে? Regular basis-এ এই
অনুষ্ঠান করা উচিত।
:: সবচাইতে rocking ছিল ৩০ মিনিটের পর মিছিল, আর ফুল উৎসবটা তো awesome.
- হ, ঠিক কইছোস্। গ্রামীণ roc
হায়রে বাঙ্গালি ...।
কিছু কওয়ার নাই। ওরাতো আসলেই rock করতেই গেছিল ওইখানে। ওদের চাই বিনোদন। আর একটু ভিন্নতা। ওদের জন্য এইটা ছিল একটা নতুন কাজ। নতুন adventure নতুন taste। ওরাতো rock বলবেই।
এডি কিতা হইল? কি আইল? বাগ বাগ বাগ। মুক্ত এডি সলভ কইরা দাওতো?
কমেন্ট তো এডিট করা যায় না। কাজেই এইখানে আমার-আপনার কিছু করার নাই।

মডু আংকেলরা আইসা যদি একটা খাটনি করে, তাইলে..
লেখায় এইরকম হইলে ঠিক করা যায়, সেইটা পারি।
হ, কি সুন্দর, কানে দুল, চুল স্পাইক, হাতে ফুল।
কি আর কর্বা!! এইটা বাঙালি না, এইটা ডিজুস।
হায়রে বাঙালী! হায়রে প্রথমালূ! প্রথমালূ অফিসে মুখফোড়ের "দুনিয়া কাঁপানো ৫ মিনিট" লেখাটা ছাপিয়ে লিফলেট আকারে বিতরণ করা উচিত।
ঐটা একটা লেখাই ছিল বটে!! সিরাম সিরাম!!

ফাকিস্তাং ফাকিস্তান্গই ওদের কোনই চেঞ্জ নাই...
সামুতে ছন্ন ভাইয়া একটা পোস্ট দিছিলো না?? "ফাকিস্থান" শিরোনামে। ব্যাপক মজাদার ছিল সেইটা!!
কুকুরের লেজ কখনো সোজা হয়না। এইটা আবার মনে পড়ল।
কি আর কমু... দুনিয়া কাঁপাইতে গিয়া শহীদ মিনার কাঁপাইয়া আবার হেই নিউজ সবখান থিকা গায়েব কইরা দিলো... এরেই কয় কর্পোরেট জামানা... হালার ডিজুস লাইফ... দেশের বেবাক পোলাপাইনরে প্রেমিক থিকা একটানে লুল পর্যায়ে নামাইছে এই ডিজুস আইডিয়া, ফ্রি ফোন রাতভর... ধুরো... পোলাপাইনগো আজকাল এইসব শহীদ মিনার, স্বাধীনতা নিয়া তেমন হেডেক (!!) নাই... এরা গার্লফ্রেন্ড নিয়া ডেট করতে যাইতে পারতাছে, মেয়েরা বয় ফ্রেন্ডের সাথে বের হবার সময় বিভিন্ন দিবসের নামে সাজুগুজু করে বের হতে পারছে... বিবাহিত লোকজন বউ বাচ্চা নিয়া হলিডে / উইকেন্ড কাটাইতে পারতাছে... ব্যাস আর কি চাই... স্বাধীনতা আর শহীদগো নিয়া মাথা ঘামানোর কি কাম...
ফাকিস্তান তো ফাকিস্তানই... পাপের ভারে সাত হাত মাটির নিচে চইলা গেছে এরই মাঝে... দুনিয়াতে এইডা একটা আস্তাকূঁড়... হের পরেও এগো শখ মিটে না... হালার কুটনীতিক আইসা শিমলা চুক্তির লেকচার দেয়... কয়দিন আগে দেখলাম ভারতের পিনাকের মুখে মাইনসে থুতু সহ আর সবকিছু দিছিলো... এইবার এই হালা রাষ্ট্রদূতরে কেউ কিছু কইলো না... একটু ঘৃণাও না... বাংলাদেশের ফাকিস্তান দূতাবাসের সামনে একটা গন থুতু নিক্ষেপ কর্মসূচী পালন করতে পারলে খারাপ হইতো না...
আপনে তো চাকরিজীবি, আপনেরা ভালো বলতে পারবেন। প্রত্যেক কোম্পানিতেই একটা
টার্ম আছে CSR বলে। এবং এজন্য প্রতি কোম্পানির একটা নির্দিষ্ট বাজেটও
থাকে। গ্রামীণের এক ছেলে সেদিন গর্ব করে বলে আমাদের এই খাতে বাজেট সবচাইতে
বেশি। আমরা সামাজিক কাজে সবচেয়ে বেশি খরচ করি। প্রশ্ন করায় উত্তর পাই,
তাদের খাতগুলো হল ক্রিকেট খেলা, ফুটবল খেলা, কনসার্ট, ফ্যাশন শো..
যখন
বলি, তোমাদের CSR নিশ্চয়ই বলে না, পোলাপাইনকে রাত জেগে কথা বলায় উদ্বুদ্ধ
কর, রাতে কথা বল্লে দিনে ফ্রি!! তারা যে এখন সকালে উঠে ক্লাস করতে পারছে
না, তার কিছুটা দায় কি তোমাদের ঘাড়েও পরে না? সে আর কিছু বলে না, চুপ করে
থাকে।
পাকিস্তানের এই ঘটনার ব্যাপারে আমাদের মিডিয়াও একদম চুপ।
একদিন একটা নিউজ করেই পত্রিকা দায় সেরেছে। আর কোন খোঁজ নাই। পিনাকও খারাপ,
এও পাকিস্তানিও খারাপ। পিনাকের সময় খুব চিল্লাইলাম, কিন্তু এখন নিশ্চুপ।
মনে হয়, "ভাসুরের নাম মুখে আনতে মানা" এই নীতিতে সবাই মুখ বুজে আছে।
rocks হৈছে
yooo cooool!!!!
কিছু বলার নাই, করার নাই। বাঙালি হুজুগপ্রিয় জাতি।
হুজুগে জাতি ঠিকাছে, কিন্তু, তাই বলে নিজের বিবেচনাটাও উবে যাবে, এটা মানা কষ্ট।
jossila লেখা ।
দইন্যাপ্যাটা!!!

__ কোটি সন্তানের হে মুগ্ধ জননী রেখেছ বাঙালী করে মানুষ করোনি
হ... আমরা বাঙালিই হয়ে রইলাম, মানুষের মনুষ্যত্ব দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে।
লেখাটা রকস....
আরে আরে.. কে কে কে!!


আমার পোস্টে আপনার পয়লা মন্তব্য।
সম্মানিত অনুভব করছি।
ধইন্যাপাতা।
মুক্ত বুদ্ধিজীবি হয়ে গেছে, লেখার নীচে রচনাকাল দেয়
আপনে খুব খ্রাপ।
লেখার প্রশংসা করছি, সেইজন্য?
এইটা প্রশংসা!!
"লুল" আর "বুদ্ধিজীবি" আমার কাছে সমগোত্রীয়!!!
বুড়া আঙুল উচানির ইমোটা তো প্রশংসা মিন করে বলেই জানতাম
সমগোত্রীয়তাসূত্রটা মন্দ হয় নাই
বুড়া আঙুল টিপি দিছেন, এইটা আগে কইবেন না?? তাইলেই তো হইয়া যাইতো!!


ধইন্যাপাতা সহ শুভেচ্ছা।
এই rocking অনুষ্ঠানের একটা ভিডু দেখে মাথা গরম হয়ে গেছিল।
ভিডিও একটাই কিন্তু এসেছিল, বাকিগুলা হাওয়া।
পুরাই কর্পোরেট হিসাব-কিতাব।
মন্তব্য করুন