হ য ব র ল - ৪
২০১০ সালের শেষ লগ্নে আমার ফেসবুক ফ্রেন্ড লিষ্টের প্রায় ৬০% মানুষের স্টেটাসটি এরকম ছিলো যে “২০১০ সালের মত এমন খারাপ বছর যেন আর দেখতে না হয়”। আসলেই কি তাই হচ্ছে? ২০১১ সালের শুরু থেকে চারিদিকে কেবল মৃত্যু আর মৃত্যু। মাত্র এপ্রিল মাস শুরু, এই তিন মাসের মাঝে চেনা পরিচিতদের মাঝে প্রায় ৭-৮টি মৃত্যু সংবাদ।
১. আমার এক চাচী (আব্বার কাজিনের ওয়াইফ), আগুনে পুড়ে গিয়ে ঝলসে যাওয়া দগদগে শরীর নিয়ে কষ্ট করলেন। মৃত্যুর সাথে যুদ্ধ করলেন টানা দুই মাস। কিন্তু শেষমেশ কিছুদিন আগে পরাজিত হলেন মৃত্যুর কাছে।
২. কিছুদিন আগে সিলেটে এক তরুনী তার ঘরের কাজের মেয়েটি সহ খুন হলেন। অনেকেই হয়তো খবরটি জানেন, পেপারে পড়েছেন। সেই মেয়েটিও আমার দূরসম্পর্কের আত্মীয়। সামান্য ৩০ হাজার টাকার জন্য কত নৃশংস ভাবে মৃত্যু হলো তার। সেদিন তার নিকটাত্মীয়র কাছে শুনলাম পুরো কাহিনী। মারা যাওয়ার পর আটদিন তার লাশ পরে ছিলো ঘরের মেঝেতে। আটদিন? মৃত্যুও তো শান্তি দিলো না মানুষটাকে।
৩. আমার এক চাচা মারা গেলেন হঠাৎ করেই। তার কাহিনী অবশ্য এখানে বলেছি। তার মৃত্যুও বড় বেমানান। তার ছেলের বয়স মাত্র ৮মাস। এইতো আমার ঋহানের সমান। এই বাচ্চাটার কথা ভাবতেই আমার পুরো চোখ ঝাপসা হয়ে যায়। বাবা কি জিনিস, সে তো জানতেও পারলো না।
৪. আমার এক খালু মারা গেলেন কিছুদিন আগে। হঠাৎ করেই দুর্বলতা অনুভব করছিলেন, তাই তাকে সেদিন সকালে ডাক্তারে নিয়ে যাবার জন্য ঘুম থেকে জাগানোর চেষ্টা চলছে। তিনি যেন জাগতেই চান না। অনেক ডেকে তাকে জাগানো হলো। জেগে তিনি রওয়ানা দিলেন গোসল খানায়। গোসল করে এসে খালার কাছে নতুন জামা পড়তে চাইলেন। জামা পরে পেট পুরে খেয়ে বললেন “শরীর বেশ খারাপ লাগছে, আমি একটু শুবো”। খালা তাকে সাথে সাথে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে লোক পাঠালেন গাড়ি আনতে। গাড়ি আসলো, খালুকে ডাকা হচ্ছে, খালু আর উঠছেন না। তাকে ওভাবেই ধরে নিয়ে যাওয়া হলো সিলেট শহরে। সেদিনটা ওভাবেই ঘুমিয়ে পার করে রাতে চির নিদ্রার দেশে চলে গেলেন মানুষটি। ডাক্তার বললো, ঐদিন সকালে উনি পেট পুরে যা খেয়েছিলেন, তা উনার পাকস্থলিতে না গিয়ে পথ ভুলে চলে গিয়েছিলো ফুসফুসে। মানে, উনি সেদিন সকালেই স্ট্রোক করেছিলেন যেটা কেউ বুঝতে পারেনি।
৫. “ডঃ আলাউদ্দিন”- সম্পর্কে আমার নানা, আমার আপন চাচীর বাবা। ই.এন.টি স্প্যাশালিস্ট হিসেবে উনার বেশ খ্যাতি ছিলো এক সময়। কয়েক বছর আগে তার ফুসফুসে ক্যান্সার ধরা পরলো। নিজের সারা জীবনের উপার্জন দিয়ে নিজের চিকিৎসা চালিয়ে গেলেন। মাস খানেক আগে দেশ-বিদেশের সব ডাক্তার যখন তার জীবনের আশা ছেড়ে দিয়ে তাকে দেশে পাঠিয়ে দিলেন, তখনও তিনি আশাবাদী যে তিনি সুস্থ হয়ে যাবেন। দু সপ্তাহ আগে আমার চাচী তার দুই মাসের ছেলেকে সাত সমুদ্রের ওপারে বেবী সিটারের কাছে রেখে ছুটে এলেন তার বাবা’কে শেষ বারের মত দেখার জন্য। দেখলেন।চাচী চলেও গেলেন। চাচী উনার গন্তব্যে পৌছানোর পরেরদিন দুপুরে নানা’র মৃত্যু।
৬.. ৭.. ৮..
থাক। আর বলবো না। খামাখাই সবার মন ভার করে দিচ্ছি।
জীবনে আর কতটুকু সময় বাকী আছে জানিনা। তবে আপনজন ছাড়া জীবন যে বড় বেমানান তা খুব ভালো ভাবেই জানি, বুঝি। তাই, আজ-কাল খুব বেশি ভয় লাগে। আর এই ভয় লাগা সারাক্ষন আমার মনকে গ্রাস করে রাখে। কারন, আমার আপনজনের মৃত্যুর কথা আমি ভাবতেই পারিনা। স্বার্থপরের মত আমি সবার আগে চলে যেতে চাই। কিন্তু জানি এটা সম্ভব না। আমি তো আর এত ভালো মানুষ না যে এত সহজে-ই চলে যেতে পারবো!





লেখাটা পড়ে যদিও মন খারাপ হলো তবুও বলি লিখতে থাকুন এই রকম মন খারাপের গল্প।দেখবেন হালকা লাগবে।
আর একটা কথা আছে না '' সুখ বাটলে বাড়ে আর দুঃখ বাটলে কমে।''
হুমম। আসলেই কি তাই?
মন খারাপ করে লাভ নেই রে ............ যেতে সবাইকে একদিন হবেই
। মন ভার হয়ে গেলো ।
হুমম
মনটা খারাপ হয়ে গেল।
কী বলবো !
আজকে আমার নানু মারা গেলেন নাজ। তিনি মারা গেলেন গাড়িতে তার চার নাতি তার চারদিকে বসা কেউ টের পায় নাই, সবাই ভেবেছে ওনি ঘুমাচ্ছেন। বারডেমে ডাক্তার বললেন তিনি আর নেই। মা, খালা আর মামা পিছনে আর এক গাড়িতে ছিলেন।
মা বিলাপ করে কাঁদছেন তার মায়ের জন্যে আর আমি ভাবছি আমার মাতো এক গাড়ি দূরত্বে ছিলেন তার মায়ের কাছ থেকে। আমার মায়ের মৃত্যুর সময় আমি কোথায় থাকবো আর আমার মৃত্যুর সময় আমার মেয়ে কোথায় থাকবে? কি নিঃসংগ হবে সে চলে যাওয়া...............।
:( :( :(
মনটা ভীষণ খারাপ হলো।
হুমমম
মন্তব্য করুন