উল্টো দহন
নিষিদ্ধ বস্তুর প্রতি মানুষের আকর্ষন দুর্বার। যেদিন থেকে ওর সাথে প্রকাশ্যে দেখা সাক্ষাতের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হলো সেদিন থেকে ওর সাথে প্রতিদিন দেখা হওয়াটাই যেন জরুরী হয়ে গেল। নিষেধ অমান্য করার আনন্দ রোমাঞ্চ আলাদা।
ওর সাথে প্রতিদিন এই ঘরটিতেই গোপনে দেখা সাক্ষাত করি। জায়গাটা নিরাপদ। সহসা কেউ এদিকটায় আসে না। বিশাল দালানের দক্ষিন দিকের এই এলাকাটা বানানো হয়েছে কোন উদ্দেশ্যে তা ভবনের মালিকই জানে। কিন্তু এরকম একটা নিরাপদ জায়গা আমার খুব দরকার ছিল। যেন ওর সাথে দেখা হবার জন্যই এটার সৃষ্টি। অফিস দালানের জায়গাটার কাছে খুবই কৃতজ্ঞ আমি।
প্রতিদিন লাঞ্চের পর দুপুরটা একটু নির্জন হলে এদিকটায় চলে আসি আমরা। বেশ কিছু প্রিয় সময় কাটাই। জানালার পাশে দাঁড়িয়ে দুজনে তাকিয়ে থাকি দুর সমুদ্রগামী জাহাজের মাস্তুলের দিকে। উদাস হয়ে যায় মনটা। সেও উদাস হয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে, উড়তে থাকে, ভেসে বেড়ায় আনন্দ বাতাসে। আমাদের দুজনের অভিসারে তখন থাকে না কোন বাধা। হাজার ব্যস্ততায়ও তার কাছে এক ফাঁকে যাবার জন্য মনটা উতলা হয়ে থাকে। ওরও কি তেমন হয়? জানা হয়নি কখনো।
সেদিন অফিস থেকে কাজ সেরে বেরুতে দেরী হচ্ছিল। সারাদিন ওর সাথে দেখা হয়নি নানা ব্যস্ততায়। যদিও মনটা বারবার ছুটে যাচ্ছিল ওর দিকে। কেমন আঁকুপাকু করতে লাগলো ভীষন। যেন কতকাল দেখা হয়নি ওর সাথে। অথচ ২৪ ঘন্টাও পেরোয়নি শেষ দেখার পর। রাত আটটার দিকে আর পারলাম না। রাতের বেলা ওইদিকে কেউ যায় না। তাছাড়া রাতে ওই ঘরটা অন্ধকার থাকে। বাতি লাগানো নেই ওখানে। কিন্তু যেতেই হবে যত অন্ধকারই হোক। বরং অন্ধকারে আমাদের মিলনে আরো সুবিধা। এখানে কখনো অন্ধকারে মিলিত হইনি দুজনে।
দ্বিগুন পুলক নিয়ে অন্ধকার ঘরটিতে ঢুকলাম ওকে নিয়ে। ওকে বাম হাতে দুআঙুলে ধরে অন্ধকারে পা টিপে জানালার পাশে চলে গেলাম। চোখে একদম ধাধা দেখছি আলো থেকে অন্ধকার ঘরে ঢুকে। ওর চেহারাও দেখা যাচ্ছিল না ভালো করে। তবু দীর্ঘ বিরহে তৃষ্ণার্ত ঠোট আমার। দেয়ালে হেলান দিয়ে অন্ধকারে আন্দাজ করে আলতো করে ঠোঁট ছোয়ালাম ওর ঠোঁটে। ওকে দুই ঠোঁটে চেপে ধরে রেখে, পকেটে হাত দিলাম। ওর মুখটা কি আজ একটু বেশীই নরোম?
পকেট হাতড়ে লাইটার বের করে ঠোঁটের সামনে ফস করে আগুন দিলাম। অগ্নিকান্ডের কোন দুরভিসন্ধি না থাকলেও সে চমকে উঠে দপ করে জ্বলে উঠতেই আমি বিভ্রান্ত হয়ে তাকে ছুঁড়ে ফেললাম মেঝেতে। এমন তো কখনো হয়নি? এতদিনের চেনাজানা আমাদের। আজ কি হলো ওর? আগুন নিভে গেছে। কিন্তু এ কিসের পোড়া গন্ধ? আবারো লাইটার জ্বালিয়ে ভালো করে দেখলাম, আমি অন্ধকারে সিগারেটটার উল্টাদিক ঠোঁটে লাগিয়ে ফিল্টারেই আগুনটা দিয়েছিলাম।
পুরা পাঁচ টাকার বেনসন পানিতে গেল!





হা হা হা দারুণ লাগলো!
তবে ওকে বাম হাতে দুআঙুলে ধরে অন্ধকারে পা টিপে জানালার পাশে চলে গেলাম--এই লাইনটার কারণে আগেভাগেই টের পেয়ে গিয়েছিলাম যে শ্বেত পরীর কথা বলছেন
মামুন ভাইয়ের বুদ্ধির কাছাকাছি কি আমার বুদ্ধি চলে গেলো? আমিও বুঝে ফেললাম কি ভাবে? প্রথমে অবশ্য ল্যাপটপ ভাবলাম কিন্তু তারপরই ক্লু পেয়ে গেলাম ঃ)
আপনি ল্যাপটপও ভাবছিলেন?????



এইটা চালু কইরা দেন। সবদিক দিয়াই লাভ।
হে হে আমার আন্দাজ ও ঠিক ছিলো।
আন্দাজ করছিলাম কিন্তু রোমান্টিক দিকে মোড় নিতে ভাবলাম দেখি কি হয়।এক্কেরে বিড়ি পোড়াইলেন।
ঘটনা কি? দুনিয়া থেকে বোকাসোকা লোকজন সব উঠে গেল নাকি?
একটা ডিসক্লেইমার দেয়া দরকার ছিল, "এই লেখাটি কেবল বোকারাই পড়িবেক, তাহলে লেখক স্বার্থক হইবেক।"
আমি যে আগে টের পাইছিলাম তা কিন্তু কই নাই
যারা আগে টের পেয়ে গেছে তাদেরকে মাইনাস
আমি লগড-ইন ছিলাম, পোস্ট পড়ার জন্য ক্লিক করতেই সোজা নিচের কমেন্ট বক্সে নিয়ে আসল (তখনও একটাও কমেন্ট পড়ে নাই) ... এরপরে উপরে স্ক্রল করতে গিয়ে শেষ লাইনটা চোখে পড়ে গেলঃ
পুরা পাঁচ টাকার বেনসন পানিতে গেল!
পোস্ট পড়ার আগেই পোস্টের মজাটা পানিতে গেল!
লেখা মজা লাগছে!
আপনারে ডাবল মাইনাস দেয়া দরকার, শেষের লাইন আগে পড়েন কা?
আমি কি করুম, পোস্টে ঢুকলেই পোস্টের তলায় নিয়া আসে ক্যান?
হ, পোস্টে ঢুকলেই তলায় আইসাপড়ে দেইখা চমকাই নাই
নীড়ুদা, আছেন কেমন ? অ---নে---ক দিন পর আপনার লেখা পড়লাম ।'নীড় সন্ধানীর' পোষ্ট দিয়েই বন্ধু ব্লগে আমার আড্ডা শুরু করলাম, ভাবতেই ভালো লাগছে ! আমাকে চিনছেন তো? না চিনলে এখনই কওনের কাজ নাই..মাত্তার মাত্তার আসছি কান্দনের ইমু-টিমু কই জানিনা কিছুই । লেখাটা ভালো লাগছে খুব না, এট্টু এট্টু.... হিহিহি । ব্যাপক ভালো থাকবেন । শুভেচ্ছা নিরন্তর !
লেখা ভালো না লাগলে স্বাগতম উইথড্র করুম কিন্তু!
আমি ভাবলাম আপনি আবার কোন প্রেম কাহিনী শুরু করতে যাচ্ছেন...
যাক এতক্ষনে একটু শান্তি পাইলাম, অন্ততঃ একজন পাঠক আগেভাগে বুঝে ফেলেনি।
আপনারে প্লাস দিলাম সানন্দে!
জটিল! দারুন লিখছেন। যাই এই উপলক্ষে একটা সিগারেট টাইনা আহি।
ভাল কথা মনে করছেন, আমিও যাই দখিনের ঘরে.........
হা হা হা। হো হো হো!
দারুণ লিখেছেনে মাইরি!
এইরাম আমারও হইছে বেশ কয়েক দিন।
ক্ষয়ক্ষতি কি পরিমান হইছিল?
পোষ্টখানা গত রাতে পড়েছিলাম ঘুমতে যাবার আগে। তাই কমেন্ট করা হয়নি। "ওকে বাম হাতে দুআঙুলে ধরে" কথাটা পড়ে মনে খটকা লাগলেও ওটা নিয়ে বেশি চিন্তা না করে পড়া চালিয়ে গিয়েছিলাম। তাই শেষটা পড়ার আগ পর্যন্ত সিগারেটের ব্যাপারটা ধরতে পারিনি। আর পারিনি বলেই খুব ভাল লাগছিল এই ভেবে যে আগ থেকে বুঝে গেলে এত সুন্দর একটা লেখার মজাটাই মাটি হয়ে যেত।
কেউ যখন কোন জোকস্ বলতে শুরু করে আমি মনে প্রাণে আশাকরি সেটা যেন এমন একটা জোকস্ হয় যেটা আমি আগে শুনিনি। শোনা জোকস্ হাসি হাসি মুখ করে শুনতে কার ভাল লাগে বলুন!
নীড়ু বদ্দা'র লাই জুড়ে হাততালি..
আপনার চমৎকার কমেন্ট এবং কাহিনী আগেভাগে না বুঝার জন্য দুই কেজি ধন্যপাতা!!!!!
ধুমপান স্বাস্থ্যের জন্যে ক্ষতি কর।
ধূমপান বিষপান। খেয়েছেন কি মরেছেন!!
আমি কিন্তু আগে বুঝতে পারি নাই
আগে ভাগে না বোঝার জন্য ধন্যবাদের সাথে আইসক্রিমও বরাদ্দ করা হলো ।
শেষের দিকে আইসা প্রায় তব্ধার মত খাইতে লাগছিলাম।

যখন সিগারেটের কথা কইলেন তখনই মনে হইলো; ধুর কিয়ের ভিত্রে কি
এখানে সিগারেট না হইলে কি এমন ক্ষতিটা হইতো
এইখানে তো সিগারেটই হবার কথা ছিল।

অন্য কিছুর সাথে আমার সম্পর্ক কী?
কবি এইখানে আর ধরা খাইতে চায় না খিকজ
১।'' প্রতিদিন লাঞ্চের পর দুপুরটা একটু নির্জন হলে এদিকটায় চলে আসি আমরা। বেশ কিছু প্রিয় সময় কাটাই। জানালার পাশে দাঁড়িয়ে দুজনে তাকিয়ে থাকি দুর সমুদ্রগামী জাহাজের মাস্তুলের দিকে। উদাস হয়ে যায় মনটা। সেও উদাস হয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে, উড়তে থাকে, ভেসে বেড়ায় আনন্দ বাতাসে। আমাদের দুজনের অভিসারে তখন থাকে না কোন বাধা। হাজার ব্যস্ততায়ও তার কাছে এক ফাঁকে যাবার জন্য মনটা উতলা হয়ে থাকে। ওরও কি তেমন হয়? জানা হয়নি কখনো।''
পইড়া তো মনে হইলো ভাই জান কি কঠিন চোখ পলান্তিস খেলতাছে সবাইরে ফাঁকি দিয়া। কি কঠিন রোমান্স !!!
বা
২। ''ওর চেহারাও দেখা যাচ্ছিল না ভালো করে। তবু দীর্ঘ বিরহে তৃষ্ণার্ত ঠোট আমার। দেয়ালে হেলান দিয়ে অন্ধকারে আন্দাজ করে আলতো করে ঠোঁট ছোয়ালাম ওর ঠোঁটে।''
ভাবলাম, ভাইজান অহন কি করতে চায়। অবলার সাথে। তাও আবার আইন্ধার রাইত। আশে পাশে কেউ নাই। অন্ধকার রুম, তার পর নিচে আর একটু যখন পড়লাম
''আমি বিভ্রান্ত হয়ে তাকে ছুঁড়ে ফেললাম মেঝেতে। এমন তো কখনো হয়নি? ''
যারে ধরার কথা ছিল তারে না ধইরা কি কাজের বুয়া ধইরা আনলো?
সে যাই হোক জব্বর হইছে। মজা ও পাইলাম।
আপনার কমেন্টেও দারুন মজা পেলাম। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে
ইয়ে ........ মানে........... প্রথম দুইলাইন পৈড়াই বুঝছি , তয় লেখা উমদার হৈছে
আপনারেও মাইনাস প্রথমেই বুঝে ফেলার জন্যি
হে হে, অপরপক্ষযে মেয়ে বা মহিলা না সেইটা জাইনাই পোষ্ট পড়া শুরু করছি, কারন নীড়দার ঘাড়ে একটাই মাথা.....।
নাহ, আপনিও পুরানপাপী দেখি। সরল সোজা বোকাসোকা লুকের বড় অভাব এই জগতে
মন্তব্য করুন