সে যে কেন এলো না, কিছু ভালো লাগে না
যুদ্ধ শেষ। দেশ মাত্র স্বাধীন হয়েছে। স্কুলে যাবার বয়স হয়নি আমার তখনো। পটিয়ায় দাদার বাড়ীতে গ্রামে থাকতাম। স্কুলে ভর্তি হবার আগ পর্যন্ত বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর সেই গ্রামটিতে শৈশবের চমৎকার ৪ বছর কেটেছে।
বলে রাখি, তখনকার দিনে প্রধান বিনোদন ছিল মাইক। আজকাল বিয়ে বাড়ীতে যেমন ব্যান্ডপার্টির আনাগোনা, তখনকার দিনে ছিল মাইক। সেই মাইকে এইচএমভি লেখা লং প্লে ডিস্কের গান বাজানো হতো। চালানো হতো হাতে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দম দিয়ে। গ্রামের মাঠে মাঠে এলোপাতাড়ি ঘুরতে ঘুরতে প্রায়ই অনেক গানের ভিড়ে দুটো গানকে বারবার বাজতে শুনতাম কোন দুর গ্রামের মাইকে।
১) সে যে কেন এলো না, কিছু ভালো লাগে না, এবার আসুক তারে আমি মজা দেখাবো...।
২) আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি
'আমার সোনার বাংলা' যে জাতীয় সঙ্গীত, শ্রদ্ধার গান সেটা তখনই শিখেছিলাম বড়দের কাছ থেকে। কিন্তু অন্য গানটা কিসের গান সেটা কেউ বলে দিত না। ফলে আমিও ধরে নিয়েছিলাম ওটাও শ্রদ্ধাশীল দেশাত্ববোধক গান। দুটো গানই মুখস্ত হয়ে গিয়েছিল। সুতরাং কেউ আমাকে গান গাইতে বললে, আমি পরপর দুটোই শুনিয়ে দিতাম। মুশকিল হলো আমার সোনার বাংলা শুনে হাততালি দিলেও, পরের গানটা শুনে কেন যেন সবাই হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়তো।
বড় হবার পর ভুলে গেলাম গান দুটোর কথা। সেদিন টিভিতে পুরোনো দিনের গান দেখাচ্ছিল, সেখানে প্রথমবারের মতো দেখলাম 'সে যে কেন এলো না, কিছু ভালো লাগে না' গানটা। বউকে খুলে বললাম ছেলেবেলার ঘটনাটা। দেখি সেও গড়িয়ে পড়ছে হাসতে হাসতে।
মনে মনে বললাম, যাশশালা! সবকিছু বদলাইছে, এই গানের মাজেজা দেখি বদলায় না!





হা হা হা হা .. দারুণ স্মৃতি নীড়ুদা।
চট্টগ্রামের আরেক পুরনো ট্রাডিশন ছিল বিয়ের সময় লম্বা বাঁশের মাথায় মাইক লাগিয়ে গান বাজানো। গ্রামে একদিন মাইকে এমনই এক বিয়েতে শেফালী ঘোষের গান বাজছিল.. "মাইক বাজে না ঢোল বাজে, আঁর পরাণে ক্যাণ গঁরে, ক্যঁনে যাইয়ুম আঁই বন্ধুর ঘর" (মাইক বাজে না ঢোল বাজে, আমার পরানে কেমন করে, কেমনে যাব আমি বন্ধুর ঘর)। কান পেতে শুনছিলাম, কে যেন বলল "হেডে পাখকন দের" (ঐখানে পিঠা দিচ্ছে খেতে)। হাফপেন্ট পরা আমি মাইক ফলো করে সেই বিয়েতে গিয়ে মাইকের ব্যাম্বোটাওয়ারের নীচে মাইক ওয়ালার পাশে সারাদিন বসে ছিলাম সেই পিঠা খাওয়ার আশায়। যদিও পরে বাড়ীতে খোঁজ পড়েগিয়েছিল আমাকে নিয়ে আর শেষে সবার হাস্সোরসের ভেতর দিয়ে আমাকে পিঠা না খেয়েই বাড়ী ফিরতে হয়েছিল বিফল মনোরথ হয়ে।
পাখকন, ..।হা হা জটিল একটা শব্দ। এখন আর ব্যবহার হয় না তেমন। এটা আরাকানী শব্দ বোধহয়।
পাখকন = পিঠা
কত কিছু আছে জানার!!!
দেখা হইলে আপনের গলায় শুনতে হইব গানটা।
যেখানে সেখানে তো গান গাই না। তবে বাথরুমে গলাটা খারাপ যায় না কিন্তু
গান শুনতে মন্চাইতাছে। নীড়দা ঢাকায় আসেন আমরা চারুকলার পিছনে টিলার উপড়ে বসে গান শুনব আপনার গলায়। আহারে বিমা কই? ছেলেটা গান শুনায় না।
এখন বাথরুমেও গাই না। কেবল শুনি। শেষবার গান গাইছি বিয়ের পরদিন সেন্টমার্টিনে হানিমুনে গিয়ে, চাদনী রাত ছিল না, ছিল তারাভর্তি রাত। কিন্তু একমাত্র শ্রোতানী গান শুনে এমুন মুগ্ধ হইছিল যে গান গাওয়াই ছাড়ান দিছি।
এরম খোলা জায়গায় কে আপনারে বিড়াল মারতে কইছিল? বিড়াল তো পালাইয়া গেছে।
আমার জীবনের প্রথম ছবি এই রংবাজ। অনেক ছোট ছিলাম কিছুই মনে নাই, খালি এই গানটার কথা মনে আছে।
ছবির নাম ভুলে গেছি। রংবাজের গান নাকি? রংবাজ ছবিতে বোধহয় রাজ্জাক চোখ মারতো নায়িকার দিকে চেয়ে। সেইটা এমন পপুলার হইছিল যে আমাদের এক সিনিয়র পাড়াতো মাস্তানের বামচোখটা ছোটই হয়ে গেছিল চোখ মারতে মারতে।।
স্মৃতি তুমি বেদানা
স্মৃতি তুমি কমলাও!
মজার স্মৃতি
সত্যি মজার। সুস্থ থাকুন ভাল থাকুন!
নীড় দা বাথ রুমে গান গাওয়ার মজাই আলাদা.।অনেক টা সাউন্ড প্রুফ রুমের মত।গান গাইলে আওয়াজ টাতে মন জুরাই যায়। বাথ রুমে গানের মাজেজা সবাই বুঝবে না । নিজেরে একজন ঘাতক মনে হয়। কেউ শুনতে চায় না গান।তাই গান গাই না । শুরু করার আগেই বলে উঠে , গান কি শেষ হইছে।
ভাল জিনিসের মর্ম সবাই বুঝে না রে ভাই!!
হাহাহা, হেভি লাগলো।
গানখানা কিন্তুক বড়ই মনোরম....
অতীব মনোরম এবং রুমান্টিক!
আপনার প্রত্যেকটি ব্লগ উপভোগ করি দাদা। ভাবী মানুষটা কেমন, স্বামীকে সম্মান করে না !!!!!
অনেক ধন্যাপাতা আপনাকে। হ স্বামী কি জিনিস বুঝলোই না। তয় মানীর মান আল্লায় রাখে
ঠিকাছে, নেক্সট্টাইম দেখা হউক, তারপর এই গান না গায়া কই যান দেখি
আলবত গাইবো, তবে বাথরুমের দরোজা বন্ধ করে
আপ্নে এইখানে খোলা গলায় গাইতে পারেন। আম্রা কেউ হাসবো না
আপনারা হাসবেন না, কিন্তু আমার কাশিতে পাইছে
ঠিক কথা, নীড়ুদা আপনি ঢাকায় আসেন তো ; আসর জমিয়ে আপনার 'ঘান' শুনপো:wink:
পুষ্ট খুবই মজারু হইছে !
হ এইবার ঢাকায় গেলে তোমার বাসায় গিয়ে গাইতে হপে.....ব্যাচেলর বাসা ছাড়া গান গাওয়ার উপায় নাই
hahahahaha.............
মজার
নীর্দা... ঢাকায় আইলে আওয়াজ দেন্না ক্যান?
কারে আওয়াজ দেই, কারো নাম্বার তো জানি না।
তবে ঢাকা যেতে ভয় পাই, হারায়া যাওযার ভয়।
খিক খিক খিক
মন্তব্য করুন