প্রথম দেখা লেটেষ্ট কম্পিউটার
আশির দশকের দ্বিতীয়ার্ধে প্রথমবারের মতো শুনতে পাই কম্পিউটার নামক আজব বস্তুটার কথা। এই যাদুকরী বাক্সটিতে নাকি হেন কিছু নাই পাওয়া যায় না। তখনো সচক্ষে কোন কম্পিউটার দেখিনি। কেবল শুনে শুনেই গপ্পো করি। টিভিতে তখন নাইট রাইডার সিরিজ চলছিল। গাড়ীর সাথে কথা বলে নাইট রাইডারের নায়ক মাইক। সকল প্রশ্নের উত্তর দেবার এবং তার সকল ক্ষমতার উৎস এই গাড়ীটা। আমার ধারনা হয় মাইক তার গাড়ীকে যেভাবে হুকুম দিয়ে চালায়, কম্পিউটার জিনিসটা নিশ্চয়ই সেরকম কোন বস্তু হবে। হুকুম দেবার সাথে সাথে পেট চিরে সকল তথ্য বেরিয়ে আসবে।
চট্টগ্রামে তখন কম্পিউটার মাত্র কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে শেখায়। জব্বার কাগুর আনন্দ কম্পিউটার আর সালমান কাগুর বেক্সিমকো। ভার্সিটির দুই বন্ধু এই দুই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা গ্রহন করছে। দেখা হলেই বলে, 'দোস্ত পিছায়া পড়তেছ। এইটা এমন এক জিনিস, যা শিখতে একদিন দেরী করা মানে এক বছর পিছায়া যাওয়া।' আমাকে হিংসা লাগানোর জন্য বলতো না তবু আমার হিংসা হতো।
কিন্তু আমি নিরুপায়। বাপের হোটেলে খেয়ে পড়াশোনা চালাতেই হিমশিম খাচ্ছি। কম্পিউটারের কথা বললে বাপ চটকানা দেবে। প্রায় সব বন্ধু টিউশানি করে কিছু না কিছু আয় করে। একমাত্র আমিই ছিলাম ভাদাইম্যা। তাই কম্পিউটার থেকে জোর করে মনটারে সরিয়ে রাখি। আর রাতে ঘুমানোর আগে হিসেব করি, একটা দিন যায় এক বছর পিছাই...........একদিন সমান এক বছর....... পিছাতে পিছাতে পিথাগোরাসের রাজ্যে পৌঁছে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ি।
আরো বেশ কবছর পর। ১৯৯২/৩ সাল বোধহয়। এক বন্ধু খবর আনে এলাকার এক বাসায় মুনীর নামের এক জুনিয়র ছেলে কম্পিউটার কিনেছে বাসায়। বড়লোকের পোলা শখ করলেই দুই লাখ টাকার কম্পিউটার পায়। সেই ছেলে নাকি একটা দুর্লভ সুযোগ দিয়েছে সস্তায় কম্পিউটার শেখার। শিখবা নাকি দুস্ত? আমি রাজী হবো কি হবো না বুঝতে পারছিলাম। রিস্ক নিলাম।
পড়াশোনা তখন অনার্স শেষের দিকে। এবার সাহস করে বাবাকে বললাম। বাবা হয়তো কম্পিউটারে ভবিষ্যত উজ্জ্বল দেখলো, রাজী হলো বিনা আপত্তিতে। মুনীরের বাসায় গিয়ে দেখি তিনতলা একটা বস্তু। ওই তিনে মিলে কম্পিউটার। বললো, এটি এখনকার সবচে লেটেষ্ট জিনিস। IBM 286 কম্পিউটার। আমেরিকায় এর পরের মডেলও চলে এসেছে। তবে এটির কনফিগারেশান খুব ভালো এখনো Processor: 4.77 MHz, Memory 256KB ফ্লপি ড্রাইভ ছিল কিনা মনে নাই।
কিন্তু এত লেটেস্ট জিনিসটা দেখে প্রণাম করার জন্য শুয়ে পড়তে ইচ্ছে হলো। হুকুম দিলেই কথা বলে এই জিনিস? আমার চোখে 'নাইট রাইডার' ভর করে।
আমাদের কোর্স হলো দুই বিষয়ে। এক হলো 'ওয়ার্ড পারফেক্ট', যেটা শিখলে দুনিয়ার তাবৎ কমিউনিকেশান করা যাবে। আরেকটা হলো লোটাস১২৩, এটা জানলে দুনিয়ার সকল হিসেব লিখে ফেলা যাবে। আমি নাইট রাইডার হবার স্বপ্নে বিভোর। বিশেষ কোন প্রশ্ন না করে বসে যাই শিখতে। দেড় হাজার টাকার কোর্স। পনেরো দিন। আমি বললাম, টাইম কম। সাত দিনে শিখায়া দিতে হবে।
বললো, 'অসুবিধা নাই। দিনে দুই পাতা করে গিলবেন।'
আমরা রাজী। তিনদিন ওয়ার্ড পারফেক্ট। তিনদিন লোটাস। শেষদিন ফিনিশিং টাচ।
সাত দিনে কোর্স করে চলে আসি দেড় হাজার টাকা দিয়ে। ফিরে আসার সময় একটা আলগা শক্তি এনে দেয় সাথের এক শিক্ষার্থী ছেলের সমাপনী বক্তব্য।
সেই ছেলেটি একটা বড় কোম্পানীর কম্পিউটার ডিপার্টমেন্টে চাকরী করতো। তার চাকরী চলে গেছে কদিন আগে কি যেন কারনে। সে নাকি আসার সময় রাগ করে সেই কম্পিউটারে এমন কিছু দিয়ে এসেছে যার বিষক্রিয়ায় সেই কোম্পানী দেউলিয়া হয়ে যেতে পারে। সে ছাড়া কেউ ওটাকে সারাতে পারবে না।
ওটা শুনে আমাদের নিজেকে তখন ইনক্রেডিবল হাল্ক মনে হয়। একসময় কারাতে শিখতাম আর কল্পনা করতাম ব্রুসলী হয়ে যাচ্ছি ছমাস বাদেই, কাল্পনিক শত্রুকে খতম করার সাথে বলতাম, 'আর জীবনে গায়ে হাত তুলবি তুই? এখন বুঝলি আমি কি জিনিস? সাবধান, পরের বার মাফ নাই।'
কম্পিউটারের সাত দিনের কোর্স করেও সেই রকম অনুভূতি হলো। আমার সঙ্গে তেড়ি বেড়ি করলে কম্পিউটারে এমন জিনিস ঢুকিয়ে দেবো তোমার বারোটা বাজিয়ে ছাড়বে। মনে মনে অনাগত চাকুরীদাতা বড় কোন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানীর সমীহ করা দৃষ্টিকে কল্পনা করলাম। অনার্স পাশ দিলেই চাকরী বসে থাকবে আমার জন্য। আমি আর পিছিয়ে পড়া মানুষ নই। কম্পিউটার পাশ দিছি। সেই বন্ধুর সাথে দেখা করার জরুরী তৃষ্ণা হলো। 'দোস্তওওওওওওওও, আমিও তোদের সাথে এগিয়ে যাচ্ছি। দিনে এক বছর করে আর পিছাবো না।'
[বাণীঃ কম্পিউটারের চেয়ে দ্রুততম বিবর্তন আর কোন প্রযুক্তিতে ঘটে নাই। আজিকে যা অত্যাধূনিক আগামী কল্য তাহা প্রাগৈতিহাসিক হইয়া যাইবে]
[চলবে..........]





পড়তেছি
পড়ার সাথে সাথে কিছু বলেন
পাদটীকাটি একদম খাঁটি। খাঁটি সত্য কথা।
এইখানার সাথে আমার হাতেখড়িও ৯২সালের দিকে। খালাতো ভাই অপুকে খালুজান কম্পিউটার কিনে দিলেন। আমরা সব কাজিনরা হুমড়ি খেয়ে পড়লাম সেইটার উপর, অদ্যাবধি হুমড়ি খেয়ে পড়ে আছি।
লেটেস্ট জিনিসের উপর আজীবন হুমড়ি খেয়ে থাকা যায়, কি বলেন?
নীড়দা পোষ্ট ভাল লাগছে। আমার কাহিনী এইখানে।
সরি, সঠিক লিংক এখানে।
আপনার পোষ্ট দেখলাম। ছবির ওইটা কি কম্পিউটার না টেলিভিশন....হা হা। রীতিমতো এন্টিকস!
ত্রুটিপূর্ণ লিংক দেওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

আমি শিখেছিলাম এই ওয়ার্ড পার্ফেক্ট , লোটাস, ডিবেজ ইত্যাদি ইত্যাদি। একটা আগের কথা মনে পড়ে গেল, বড়ো ভাইদের প্রতি সম্মান রাইখাই সেই গল্প টা বলি।
এক বন্ধু কম্পিউটার কিনছে, আমি কম্পিউটারের দোকানে চাকরীর সুবাদে বন্ধু মহলে এমনিতেই একটু ভাব , সেই বন্ধুও ভাব নেয়, তার বাসায় আছে এই জিনিস , আমাদের কারো বাসায় নাই। সে কিনেছিল মনে হয় এম এম এক্স ২৩৩ মেঃহাঃ এর। তো বয়স ও অল্প, তার নিজের রুমে কম্পিউটার। ফরজ কাজ হলো মুভি দেখা কম্পিউটারে। আবার যা তা মুভি না , ঐ নীল নীল মুভি, যা আবার ২/৩ সংখ্যা দিয়ে যায় চেনা।
গেলাম মুভির সিডি ভাড়া করতে। গিয়ে দেখি চাচা বয়সী একজন বসে আছে দোকানে, ইনাকে তো আর ডাইরেক্ট বলা যায়না। তো আমতা আমতা করে বললো আমাদের একজন - চাচা , রোমান্টিক মুভি আছে ? চাচা বুঝলেন আমরা কি ধরনের রোমান্টিক মুভি চাই।
সেই চাচা ২ সংখ্যার মুভি দেখায়ে বললেন - এটা হাফ রোমান্টিক, ৩ সংখ্যার মুভি দেখায়ে বললেন - এটা ফুল রোমান্টিক।
ছি ছি আপনারা রোমান্টিক ছিলেন! আমাদের সময় কম্পিতে রোমান্টিক যুগ আসেনাই
আহারে ইরাম চাচার দেখা কুনুদিন পাইলাম না

হা হা হা হা
কম্পু পাইয়া একমাত্র কাম ছিল সিনেমা আর গেম...তখন আবার ডেভ২, মরটাল কম্ব্যাট, মোস্তফা ছিল গেম। এখন গেম ধরিও না।
এই জন্যই মুরব্বীরা পোলাপানদের কম্পি কিনতে দিত না, খালি গেমস আর মুভি। খ্রুব খ্রাপ!
আগেকার আমলে তো বিল্টইন এজিপি থাকতো না, আলাদা কিনতে হইতো। দোকানি হারামজাদা গার্জিয়ানদের বুঝাইতো যে বেশি হাই এজিপি নিলে পুলাপান গেমস খেলবে। তাই গার্জিয়ানরা মিনিমাম এজিপির পিসি কিন্যা দিত
তাও মোস্তফা তো চলতো! ঐটাই এনাফ 
সে এক বিরাট কাহিনি

প্রথম কম্পিউটার শিখি আজিমপুরের কম্পিউটার লাইনে
তখন ওয়ার্ডস্টার, ওয়ার্ড পার্ফেক্ট, লোটাস, ডিবেসের কোর্স ছিল
ওয়ার্ডস্টার, লোটাস১২৩ শেখার পর ওয়ার্ডপার্ফেক্ট শিখছিলাম
আর একটা পার্ট ছিল ওয়ার্ডপ্রসেসিং-এর... এপল দিয়া সেইটা সেখানো হইতো। সেই আমলে এপলে বাংলা লেখছি শহীদ লিপি দিয়া। শহীদ সাহেবের বর গুন ছিল সে পুরা সিস্টেমটাই বাংলা করে ফেলছিলেন। সেই আমলে ৫০০ টাকা দিয়া একটা ডিস্ক কিনে আনা হইতো সাইফ শহীদের অফিস থেকে। সেখানে সিস্টেম থাকত এক ডিস্কে অন্য ডিস্কে থাকত মাইক্রোসফট ওয়ার্ড বা এক্সেল বা পেজমেকার। শহীদ সাহেব যেই সব ফন্ট ডেভেলপ করছে সেইগুলার নাম ছিল মেহেরপুর, রংপুর, জয়পুরহাট, লালমনিরহাট... বাংলাদেশে বিভিন্ন জেলার নামানুসারে।
আর জব্বার সাহেব শুধু ফন্ট ডেভেলপ করে। সিস্টেমের ধারে কাছেও যেতে পারে নাই। ম্যাকের সিস্টেমে ফন্ট এড করে দেয়া হতো নাম মাত্র মূলে (১০০ টাকা)। আনন্দ কম্পিউটারের তৈরীকৃত ফন্ট গুলোর নাম ছিল জাব্বার সাহেবের পরিবারের সদস্যদের নামানুসারে। সুতন্বী, রুমকি, আরো কি কি যেন।
আরো কত্ত কি
জায়গামতো ধরছেন। বিজয়-জব্বরতো একটা পারিবারিক ফন্টলাইনের নাম। এদ্দিন পুরা কাহিনী জানা ছিল না। কালকে সচলের সাইফ শহীদের কাহিনী পড়ে রীতিমত চমকে গেছি। কত কষ্ট করে এই মানুষ বাংলা ডেভেলাপ করেছে প্রায় একা একা। আর ওই ব্যাটা কাগু, অন্যের তৈরী করা মাখন তুলে নিয়ে পকেট ভারী করছে কোটি টাকায়, আর পাইরেট পাইরেট বলে চিল্লাইতেছে।
আজকে আমারব্লগে পড়লাম পাহাড়ী একদল ডেভেলাপারের সফট ওয়ার রিভিউ করার জন্য নিয়ে সেটা নিজের নামে আনন্দ শিশুশিক্ষা নামে বাজারে ছেড়ে দিয়েছে। চোর চোর চোর, সে নিজে কত বড় চোর, আর অভ্রকে বলে পাইরেট। চোরের মার বড় গলা, এই বাগধারাগুলো ছেলেবেলায় মুখস্ত করছিলাম, উদাহরন পাইনি, এখন উদাহরন হাতে নাতে।
সাইফ শহীদের লেখাটা ক্যাডেটকলেজ ব্লগে আগেই পড়ছিলাম। উনার সাইটস.গুগলে বাংলা যুক্তাক্ষরের একটা লিস্টি ছিল। একবার ফন্ট বানাব ভাইবা ঐগুলা রেফারেন্স হিসাবে গুতাইছিলাম। পরে অবশ্য অমিক্রনল্যাব সহ বিভিন্ন ফন্ট তৈরির ফোরাম ঘুইরা হাল ছাইড়া দিছিলাম।
কম্পু প্রথম ধইরা দেখি ২০০৪ সালে, দেখার পর নিজের ভেতরে কোন আবেগ অনুভব করি নাই কেননা জিনিসটা জীবনে কোন দিন কিনতে পারবো এই ধারনাটা ছিল।
আত্মবিশ্বাসী টেকি প্রজন্ম!
স্যার কিরাম আছেন ?
প্রথম ধরি ৯৫ সালে
ডস, উইনডোজ ৩.১ , ওয়ার্ড পারফেক্ট, লোটাস, ডিবেইজ জাতীয় বাতিল জিনিস শিখি।
প্রথম সিস্টেম কিনা হয় ৯৮ এ , ২০০ এমএমএক্স , হার্ড ডিস্ক ২.১ মেগা আর কি জানি ছিলো মনেও নাই। টানা ৭ বছর সেইটা চালানো হয় সেটা।
কম্পু সেই যে ধরলাম আর ছাড়তে পারলাম না।
রোমান্টিক মুভি দল বেঁধে দেখা হৈতো।
একসময় কি আফসুস ছিল ডিবেইজ শিখি নাই, জীবনটা ষোল আনাইই বৃথা
প্রথম দেখি বাবার অফিসে। বাপের টেবিলে আছিলো না, আরেক কলিগের টেবিলে আছিল। আমারে অফিসে নিয়া গেছে, তখন ক্লাস ১/২এর ছাত্র।


কম্পু দেইখা কইলাম, "অফিসে কাজ-কর্ম হবে, এইখানে টি.ভি ক্যান?? "
আংকেল হাস্তে হাস্তে খুন
আমারে কয়, এইটা কম্পু। এইটা দিয়া যা খুশি তা করা যায়। আকিবুকিও করা যায়, যোগ-বিয়োগ করা যায়। আমি তখন নতুন নতুন আকার স্কুলে যাতায়াত শুরু করছি.. ভাব নিয়া কইলাম, একটা গ্রামের দৃশ্য আকেন তো..
উনি মাউস দিয়া ক্যামনে ক্যামনে জানি একটা গ্রামের দৃশ্য আইকা ফেললেন। তাতে একটা মহিলা ছিল বাচ্চা কোলে, কৃষক ছিল ধানক্ষেতে, নদীতে নৌকাও আছিল।
আমি তব্দা খায়া গেলাম। প্রিন্ট কইরা আমারে হাতে ধরায়ে দিল। বহুতদিন যত্ন কইরা রাখছিলাম। পরে কোথায় জানি হারায়ে গেল।
পাশের বাড়ির সুন্দরী মেয়েটিকে দেখবার মত করে, উঁকিঝুঁকি দিয়ে ডেষ্কটপের সাথে আমার পয়লা দেখা'৯৮ এর দিকে। মনে হয় সেবছরই দুলাভাই বৈদেশ থেকে একখান ল্যাপি আনি বললেন এই দেখো কী! সত্যি বলতে কি, এসব টেকনোলজির প্রতি আমার বেসম্ভব ভয় কাজ করতো। জ্ঞান না থাকলে যা হয়। কিন্তু পাছে লুকে আমার এটা নিয়ে হাসাহাসি করে তাই ভাব দেখাতাম এসবরে আমি পাত্তা দেইনা। কিন্তু পাত্তা না দিয়ে যাবে কই বাবুল? বন্ধুমহলে সবাই উঠে পড়ে লেগেগেলো কম্পিউটার কোর্সে ভর্তি হবার জন্য।কিন্তু আমি একটু ত্যাড়ামী করে শিখলামনা তো শিখলামই না।আরে বাবা, এই কম্পু না জানা থাকলে যদি চাকরী জুটাইতে না পারি, তাইলে ভালোলাগার বিষয়ে পড়া কেনু? এসব বিষয় রাখার মাইনেই বা কী! ...বন্ধুরা 'তুই ত্যাড়ামী ধুয়ে পানি খা্' বলে সটকে পড়লো। দেশে থাকতে অবশ্য ঠিকই আমি ঘাড় ত্যাড়ামী ধুয়েই পানি খাইছি...কিন্তু রে বাপ বৈদেশ আসি সব ত্যাড়ামী বানের জলে ভাসি কুনখানে যে গেলু.....কম্পু ছাড়া এখন কিছুই হয়না..সেই যে '৫ এ কম্পু নামের পেম(প্রয়োজন) আমারে জাপটে ধরলো এখন যেখানেই যাই সেও থাকে সাথে ..এই ল্যাপিই এখন আমার 'প্রথম সকাল, ক্লান্ত দুপুর সারা বেলা.....'
শুনছিলাম ল্যাপি বেগমরে বিয়ে করতে যাইতেছ, কতা সত্য নাকি?
আমি প্র্থম শিখছি ওয়ার্ডস্টার। এইটা নিয়া একটু ভাব নিমু ভাবছিলাম, কিন্তু বুইড়া রোমিও দেখি আগেই বইলা দিছে। আপনার মত অভিজ্ঞতা আমারো আছে। কিন্তু সেইটারে এত সুন্দর কইরা উপস্থাপনা করার এলেম আমার নাই। লেখা টা চলুক।
২৩ বছরের তরুনকে 'বুইড়া রোমিও' বলার তীব্র প্রতিবাদ!
ধুর আপনেরে কৈছি নাকি, আপনে কি ওয়ার্ডস্টার শিখছেন?
ধুরো আমি কি ২৩ বছরের তরুন নিকি?
সরি বস
ভেনচুরা পাইছিলেন?
আমার প্রথম কম্পিউটারও ছিল ২৮৬ মডেল। বিজ্ঞান যাদুঘরে বিশাল বাক্সের একটা পুরান যুগের কম্পিউটার আছে। দেখছেন?
বিজ্ঞান যাদুঘরেরটা দেখি নাই। মেইনফ্রেম কম্পিউটার নাকি ওটা?
হাহাহা। ব্যাপক মজা পাইলাম, আর নিজের কাহিনী মনে হৈলো।
কম্পুর নাম শুনি সেই স্কুলে থাকতেই, ম্যাকগাইভারেও কম্পু দেখছিলাম,এইটা মনে আছে। সামনাসামনি প্রথম কম্পু দেখি ১৯৯১ সালে, সশ্রস্ত্র বাহিনীর কোন এক এক্সিবিশনে। বাপের কারনে একটু আধটু ধৈরা দেখার দুর্লভ সুযোগটাও পাই।
১৯৯১ এই আব্বাকে তার ডিপার্টমেন্ট থেকে পাঠানো হয় কম্প্যুটার শিখতে, বনানীর কোথায় জানি শিখতো, আর আমি শুনতাম কি কি হয় ঐখানে। আব্বার সাথে নাকি এমন লুকও শিখতো যার ইচ্ছা কার্টুন ছবি বানাইবো ভবিষ্যতে। আর কম্প্যু দিয়া নাকি সব করা যায়।এরপর থেইকা সিনামা-নাটকে মরা আর গুলির যে কোন দৃশ্য দেখলেও কৈতাম এইটা কম্প্যুটারে করা। বাপ সাথে কৈরা আনতো "কম্প্যুটার জগৎ" নামে একটা পত্রিকা। সেইগুলা হৈতো আমার সম্পত্তি। উন্মাদখ্যাত আহসান হাবীব ঐটার প্রচ্ছদ আকতো। আর ভিতরে থাকতো নানা টেকি নিউজ, যার ১০০% ই বুঝতাম না। তবে কম্প্যুটার আর প্রিন্টারের ছবি দেইখা বিমলানন্দ পাইতাম। সেই পত্রিকা আবার স্কুলে নিয়া ভাব নিতাম।অগা-মগা পোলাপাইনরে বুঝ দিতাম নানা রকম। কম্প্যুটারের যেই ক্ষমতা এখনও হয়নাই, সেইটাও সেই প্রাগঐতিহাসিক কালেই আমি লিষ্টি কৈরা দিছিলাম।
বাসায় ৯৪ সালে প্রথম কম্প্যুটার আসে, আব্বা আর ভাইয়ের ব্যবসার প্রয়োজনে। তখন সেই যাদুর বাক্স দেখি আর আমোদিত হৈ, কিন্তু বড় ভাইয়ের খবরদারীর কারনে ধরতে পারি না। নীল স্ক্রীনে হলুদ লেখা আইতো মনে হয়। একদিন চুপে চুপে অন কৈরা কি জানি করছিলাম তাতে ফাইল ইনডেক্স এর এ্যারেন্জমেন্ট চেন্জ হয়্যা গেছলো। ভয়ে কম্প্যুটারের কাছে কয়েকদিন যাই নাই।
পরে সেইটাতেই শিখি ওয়ার্ড পারফেক্ট, বড় ভাইয়ের কাছ থেকে।
৯৫ এ বাকৃবি ভর্তি হবার পর আমার এই স্বল্প কম্প্যুভিজ্ঞতাই বিশাল হয়্যা দেখা যায় পোলাপাইনের মাঝে..... ক্লাশের রুটিন টাইপ কৈরা প্রিন্ট কৈরা ফোল্ডারের ভেতরের দিকে স্কচ টেপ দিয়া আটকায়া ক্লাশে যাইতাম। ক্লাশে প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে ফোল্ডার খুইল্যা সেইটা আবার ইস্টাইল কৈরা দেখতাম, মানে দেখাইতাম।
একদিন এক স্যারের কাছে স্পেশাল ক্লাশের ডেট নিতে ক্লাশের সবাই গেছি, আমার এক ততোধিক বাটপার বন্ধু আমার ফোল্ডারটা চায়্যা নিয়া স্যারের কাছে খুব ভাব নিয়া রুটিন দেখাইতেছে। স্যার দেইখা কয়, বাহ! কম্প্যুটারে টাইপ করছো দেখি.....। নিজের কৃতিত্ব ছিনতাই হৈতে দেইখা কোনমতে কৈলাম, স্যার, এইটা আমার স্যার।...
যাই হোক, পরবর্তীতে বাসায়-হলে সবখানে কম্প্যুটারের সহজলভ্যতায় সব হলো মামুলি ভাত। ইভেন কোর্সের প্রয়োজনে নানারকম এ্যালবাম তৈরী করতে হলে সেগুলোর পাতা তৈরী করতাম কম্প্যুটারে নানারকম ডিজাইন দিয়ে। আর রুমমেট কম্প্যু কেনায় হার্ডকোর রোমান্টিক ছবি নিয়মিত চলতো। এলাকার ভিডু ক্লাবগুলোর কালেকশন শেষ, নতুন কিছু আসলে সেইটার আপডেট পাইতাম। খেক খেক.....
হায়রে কম্প্যুটার, এখন এটা জীবনের অংশ। বিয়ার পর বউ কয় তুমার বিয়া না করলেও চলতো। সারাক্ষন এইটার সামনে থাকো কেমনে?
Processor: 4.77 MHz, Memory 256KB ফ্লপি ড্রাইভ ছিল কিনা মনে নাই
[বাণীঃ কম্পিউটারের চেয়ে দ্রুততম বিবর্তন আর কোন প্রযুক্তিতে ঘটে নাই। আজিকে যা অত্যাধূনিক আগামী কল্য তাহা প্রাগৈতিহাসিক হইয়া যাইবে]
তাইলে আপনার ওইটা যদি নাইটরাইডার হয়, এখনকার গুলোকে কি বলা যাইবে?
রচনা সুস্বাদু হইয়াচে।
বিল গেটস নাকি কৈছিলো, কম্পুতে ৫১২'র বেশি মেমরি দরকার নাই, কম্পু কেউ ডোমেস্টিক ভাবে ব্যাবহার করবো না?
তার মত ভিশনারিও বুঝতারেনাই?
লেখাডা সেরম হৈছে, আমি পয়লা কম্পু চালাইছি আধুনিক যুগে, ১৯৯৭, তাও গেম খেলার জন্য, আর কিছু না।
দারুন মজা করে পড়ছি। চলুক
কম্পুকাহন পৈড়ে মজা পাইসি
মন্তব্য করুন