পাগলরে তুই সাঁকো নাড়াইস নারে
চল চল চল/ ওরে তরুন দল/ তোদেরকে বোকা বানিয়ে/ যত্তসব আইবুড়োদের দল
ভয়ের কারন নাই। কবিতা লেখার অপচেষ্টা হচ্ছে না। আরেকটা টেকি গল্প। কম্পিউটারের ভুত স্মৃতি নিয়ে।
চাকরীতে ঢোকার সময় প্রথম মিথ্যাটা বলেছিলাম কম্পিউটার নিয়ে। অফিসে একখানা লেটেষ্ট কম্পিউটার কেনা হয়েছিল। ব্রান্ড Acer মডেল 486 সাথে আরো নানা ধরনের আপডেট জিনিস। নতুন ফিচার উইনডোজ ৩.১ এবং সবচেয়ে আশ্চর্য ঘটনা এটি সম্পূর্ণ রঙ্গিন। এত চোখা জিনিস দেখে আমার ২৮৬ পিসিতে করা ৭ দিনের কোর্সের জ্ঞান ভিরমি খেল।
ফলে অফিসে জয়েন করার পর বড় সাহেব যখন জিজ্ঞেস করলো কে কে কম্পিউটার জানে, আমি 'জীবনেও কম্পিউটার দেখি নাই' বলে সবার পেছনে লুকিয়ে থাকলাম। যে কয়েকজন কম্পিউটার জানে বলে হাত তুললো তাদেরকে লম্বা দিস্তা কাগজের শিট ধরিয়ে দেয়া হলো কাজ করার জন্য। আমি মনে মনে বললাম, “মরগে তোরা, আমি বাঁচলাম”।
কম্পুজ্ঞানী কলিগরা ভেবেছিল ‘কম্পু পারি’ বললে বস খাতির করবে, বেতন ভাতা বাড়িয়ে দেবে। কিন্তু লম্বা কাগজের দিস্তা দেখে ‘জেনারেল’ এসির বাতাসেও ঘামতে থাকলো এবং রাত বারোটায়ও কাজ অসম্পূর্ণ রেখে বাড়ী ফিরতে লাগলো। আমি কম্পুজ্ঞান লুকিয়ে রাখছিলাম ঠিকই কিন্তু মাঝে মধ্যে উকি দিয়ে দেখি কিভাবে কি করে। খেয়াল করে দেখলাম ওই কম্পুজ্ঞানীরা টাইপ কাজে আমার চেয়ে পিছিয়ে এবং লোটাস জ্ঞান খুবই দুর্বল। দুর্বলকে সাহায্য করার নৈতিক মানসে একদিন দুপুরবেলা বললাম আমি একটু ‘ট্রাই করি’।
দেখা গেল আমার ‘ট্রাই’ ওদের চেয়ে দ্রুত হচ্ছে। বসের অগোচরে ওদের কাজে সাহায্য করার অনুরোধ পেলাম। কিন্তু একদিন কাজ শেষে পেছনে ফিরে দেখলাম বস খাড়া আমার পেছনে। ভয়ে আমার শিরদারা টনটন করতে লাগলো। কারণ বসের পরবর্তী সংলাপগুলো হুমকিমূলক।
-কি করো তুমি এখানে, কম্পিউটার জানো না, কিন্তু অন্যের কাজে বিঘ্ন ঘটাও কেন? গেম খেলতে বসেছো নাকি?
-গেম? তাওবা। কাজের জায়গায় গেম খেলবো কেন? কিসের গেম?
-ন্যাকামি করো? ভাজা মাছটিও উল্টে খেতে জানো না?
-সত্যি জানি না স্যার
-শাট আপ
-সরি স্যার
-তুমি ভালো করেই জানো লেটেষ্ট কম্পিউটারে সব ধরনের গেম লোড করা থাকে। কিন্তু খবরদার ভুলেও ওসব কখনো খেলবে না। এটা কাজের জায়গা। খেলাধুলার মাঠ নয়।
-কিন্তু কোথায় সেগুলা? আমি নিজেও খেলাধুলা পছন্দ করিনা কাজের সময়। খালি একবার দেখিয়ে দেন। জীবনেও যাবো না ওদিকে।
-আচ্ছা দেখাচ্ছি। বাট বি কেয়ারফুল। ডোন্ট এভার ওপেন দোজ গেমস!
তারপর বস একটা কমান্ড দিলে উইন্ডোজ ৩.১ খুললো। তারপর আরেকটা ক্লিক করলো। তারপর আরেকটা মেনু এলো। তারপর দেখা গেল নানা রকম তাস খেলা, মাইন সুইপার, আরো কি কি। সবাই মনযোগ দিয়ে দেখলাম। নোট করে নিলাম।
বস বললো, মনে থাকবে তো?
আমরা বললাম, ইয়েস স্যার। আলবত থাকবে।
আসলেই মনে থেকেছিল কিভাবে গেম সেকশান খুলতে হয়। সেদিন সন্ধ্যা থেকে নিয়ম করে দুই ঘন্টা কম্পিউটারে পালাক্রমে তাস খেলা চলতে লাগলো। অফিসে এতদিন পর একটা আনন্দের জায়গা পাওয়া গেল। ভার্সিটি ছাড়ার পর তাস খেলার সুযোগ হয় নাই আর।
পাগল তুই সাঁকো নাড়িস না রে।





হাহাহা। ঝাড়ি খাইয়া তো আপনার ভালোই হলো। বস আপনারে গেম শিখাইলো। এমন বস যদি পাইতাম!আমি জীবনেও গেম খেলি নাই পিসি তে। ইচ্ছাই করে নাই।বন্ধুরা যখন খেলতো আমি উদাস হয়ে অন্যকিছু ভাবতাম।
যদ্দিন নিষিদ্ধ ছিল তদ্দিন খেলছি। এরপর খেলি নাই আর
তাস ক্যামনে খেলে?
ক্লিকায়া খেলে!
আমি কম্পিউটার কিনছিলাম ৩৮৬ এস এক্স। ঐটাতে খালি গেমই খেলছিলাম। প্রিন্স অব পারসিয়া, প্যারানোয়েড, গাড়ির রেস এইসব রাত জাইগা খেইলা বিপুল দক্ষতা অর্জন করছিলাম। কিন্ত যে কাজের জন্য কিনা হইছিল তার কিছুই শিখিনাই।
এখনো খেলেন নাকি?
আপ্নার বস তো ব্যাপকই ভালু ছিল!
ব্যাপক কুজারা আছিল! রসিক তো বটেই!
হ সঠিক কইছেন
এমুন বস চাই ফিউচারে!!!
সেই বস হারায়ে গেছে এখন। ভালো জিনিস বেশীদিন লাষ্টিং করে না
হা হা হা।
বসরা কি একটু ভোদাই টাইপের হয় সবসময়?
অতি চালাক হয় !
সেই বস হারায়ে গেছে এখন। ভালো জিনিস বেশীদিন লাষ্টিং করে না ... আফসুস Sad
হা হা....দারুণ তো!
দারুনই!
ইরাম বস চাই বেশি বেশি...
বেশী পামু কই?
আমার এক বসের কথা বলি। বস হঠাৎ এসে দেখে একজন গেম খেলতাছে। সে তখন বিজ্ঞের মতো বরছিলো, তাইতো তো বলি এতো বেশি বিদ্যুৎ বিল আসে কেন?
জুতা খুইল্যা স্যালুট সেই বসরে .......
আহারে গেম খেলা মানা আছিলো বলে নেশার মতন গেম খেলতাম । এখন বাসার পিসিতে কোন গেমই নাই।
আজকাল কেউ গেম খেলে না?
জীবনে ম্যালা গেম খেলছি... তবে এখনকার গেমগুলা সেই আমলে পসিবল ছিল না
... আর এখন ফেসবুকে চাষাবাদ করি (ফামভিল)
ফার্মভিল কেমনে খেলে? আমারে যেই রিকুয়েষ্ট পাঠাইছে সব বিরক্তি সহকারে ইগনোর করছি।
হা হা হা ... আপনার বসের বুদ্ধি তো টিপিক্যাল বসদের মতোই
টিপিক্যালের বাপ আছিল। তবে লোক হিসেবে দারুন!
হাহাহা, বসেরা বেশি ভাব নিতে গিয়া বেকুব হয়া যায়।
তবে নতুন প্রজন্ম কম্পিউটার নিয়া পুরানগো সাথে কিরাম খেলে তার একটা উদাহরন দেই।
আমার এক সিনিয়র সহকর্মী তার স্কুল পড়ুয়া ছেলেকে কম্পিউটার কিনে দিয়েছে, আবার খেয়ালও রাখে সেইটার মিসইউজ হচ্ছে নাকি। তো ছেলে কম্পিউটার খেলার সময় বাপে হাতে নাতে ধরে ফেলেছে, এবং বলেছে খেলা বন্ধ করতে। ছেলের উত্তর, "খেলার মাঝে গেম বন্ধ করলে কম্পিউটারের ক্ষতি হয়।" আমার সেই সহকর্মী আবার এইটা আমাদের বলে, আর গর্ব করে ছেলে অনেক কিছু জানে বলে।
আমার এলাকায় একজন অফিসে গর্বের সাথে পরিচয় দিত, আমি প্রবালের বাপ। প্রবাল ছিল এলাকার টপ টেরর।
জীবনের সবচেয়ে প্রথম কম্পিউদিন থেকে আজো সলিটেয়ার আমার প্রিয় খেলা। আমরা ভাবনা চিন্তা, গল্প। লেখা স্ট্রেস সব আমার সলিটেয়ার। অফিস পিসিতে নাই তাই রক্ষা, চাকরী নিয়ে টান পরতো। এমনেই ঘরের লোক সবসময় বলে, হাতটা না নাড়িয়ে থাকতে পারো না? এখন আমার মেয়েও সারাক্ষন সলিটেয়ার চায়। আম্মি ঐটা দাও ঐটা
লেখা ভালো হয়েছে বরাবরের মতো
মন্তব্য করুন