অতিথি পাখি হবার সাধ জাগে একবার
আড্ডাপ্রিয় মানুষ আমি। ব্লগে আসার প্রধান কারন আড্ডা দেয়া। গড়ে ১৪ ঘন্টা যাকে অফিস করতে হয় তার জন্য আড্ডা জিনিসটা হারাম হয়ে যাবার কথা। হয়ে গেছেও একরকম। বন্ধুদের সাথে মাসে একবারো দেখা হয়না।
কিন্তু ব্লগ জিনিসটা খুঁজে পাবার পর থেকে আড্ডার খরাটা কেটে গিয়েছিল। কাজের ফাঁকে ফাঁকে ইতিউতি ব্লগে ঘোরাঘুরি, কোন আড্ডাবাজ দলের পেছনের সারিতে চুপটি করে বসে থাকা, এইসব নিয়মিত ছিল। আড্ডা শোনাটাও সওয়াবের কাজ মনে হয় আমার। তাই বেশীর ভাগ আড্ডায় শ্রোতার ভুমিকায়ই থাকি। শুনতে, পড়তে ভীষন ভালোবাসি। ব্লগে এই সুযোগটা ভালো পাই। চুপ করে থাকলেও কেউ এসে কান ধরে বলে না "ওই ব্যাটা চুপ করে বসে বসে মজা নেও কা, কিছু কথা কও"। ব্লগে চুপ করে বসে থাকা যায়, একা একা পড়ে হাসা যায়। প্রচুর মজার মজার আড্ডার দেখা পাই ব্লগে। অংশ নেয়া হয়না সবগুলোতে। সময় থাকলে কমেন্ট করি। নাহয় চুপ করে পড়েই ফিরে যাই অফিসের ট্যাবে।
পিসেতে দুটো ট্যাব খোলা থাকে আমার। অফিস ফাঁকিবাজির অনন্য উপায়। অফিসের ট্যাবে জরুরী কাজ। ব্লগের ট্যাবে জরুরী আড্ডা। মাঝে মাঝে অফিসের চেয়ে ব্লগের আড্ডা জরুরী হয়ে পড়ে। তখন ততোধিক গম্ভীর মুখে ব্লগ খুলে পড়তে থাকি। আসলে প্রযুক্তির কাছে আমার অনেক ঋন এইসব কারনে। কামলা খাটার ফাঁকে নির্মল বিনোদন বিশাল প্রাপ্তি।
ব্লগে ব্লগে আবার যুদ্ধও দেখি, আপোষ দেখি, আপোষহীনতা দেখি। নির্মল আড্ডার ছন্দপতন ঘটায় ব্যাপারগুলো। তখন খারাপ লাগে। তবে কিছু ক্যাচাল আছে ভীষন বিনোদিত হই। একবার কবি শফিকুল বলে এক ভদ্রলোকের আবির্ভাব/প্রাদুর্ভাব ঘটেছিল ব্লগে। ভদ্রলোকের সুলতা বলে এক প্রেমিকা ছিল, যাকে তিনি হারিয়েছেন অসময়ে। সুলতা হারানোর পর কবিতা পয়দা করতে শুরু করলেন ভদ্রলোক।
কবিতা যাই হোক, সমস্যা হয়ে গেল যখন ভদ্রলোক বনলতা সেনকে চ্যালেঞ্জ করে বসলেন। একবার দুইবার, বারবার পোষ্ট দিলেন চ্যালেঞ্জের। আমি আমোদিত হলাম। ওনার দেয়া একটা লিংকে 'বিবারিয়া ডট কম' গিয়ে দেখলাম রীতিমত অনলাইন পোল বনলতা বনাম সুলতা। বনলতা বিগত, জীবনানন্দ বিগত, ওনার চ্যালেঞ্জ গ্রহন করার মতো কেউ নেই। কিন্তু ভদ্রলোক দমে যান না। দিনে পাঁচবার পোষ্ট দিয়ে জানান দেন সুলতা অবশ্যই সর্বগুনে গুনান্বিতা। বনলতা তুচ্ছ গ্রাম্য মহিলা। ওখানে থেমে গেলেও হতো, একদিন দেখা গেল তিনি নজরুল পদক পেয়েছেন। নিজের টাকায় কেনা সম্ভবতঃ। তারপর বাংলা সাহিত্যের সব প্রধান কবিকে চ্যালেঞ্জ করতে লাগলেন। খোদ রবীন্দ্রনাথও বাদ গেলেন না। আমার হাসি চেপে রাখা কষ্ট হয়ে দাঁড়ায়।
তবে মজাদার কমেন্ট করার ফলে আমাকে ব্যান করা হয় তার ব্লগ থেকে। আমি বলেছিলাম, "সুলতা এখন আমার ঘরে, কবি শফিকুল কেঁদে মরে"। ব্যান করা হয় আরো অনেককে। তবু আমার হাসি থামে না।
এই কবি শফিকুলের কাছে আমি বিনোদনের জন্য ঋনী। তবে একসময় ভদ্রলোক নিজেও ব্যানের সম্মুখীন হন পুনঃপৌনিক পোষ্টের জন্য। তারপর থেকে শফিকুল মিসিং, সুলতা মিসিং। বউকে বলি, আজ থেকে তুমি আমার সুলতা, কোথাকার কোন বনলতা। বউ না বুঝেই হাসে, আসলে ফ্রেম মানুষকে ফাগল করে দেয়(কপিরাইটঃ বন্ধু রুপু)।
কদিন ধরে শীতের আমেজ বেড়ে গেছে। শৈত্যপ্রবাহে ত্রাহি মধুসুধন অবস্থা সারাদেশে। তবু যখন কেউ পিকনিকে যাবার প্রস্তাব দেয় মনটা উড়ু উড়ু হয়ে যায়। সাথে সাথে বিষন্নতাও। বিষন্নতার কারন গত তিন বছর ধরে আমি কোথাও যাইনি। একসময় বছরে দুয়েকবার এদিক সেদিক পাহাড় নয়তো সমুদ্রে না গেলে ভাত হজম হতো না। অথচ কতদিন যাইনি কোথাও.........। না পাহাড়, না সমুদ্র কোনটাই না। ভুটানের পাহাড়ে গিয়ে ট্রেকিং করবো, দার্জিলিং গিয়ে শুভ্র কাঞ্চনজংঘা দেখবো, নিদেন পক্ষে বান্দরবানের নীলগিরিতে গিয়ে মেঘগুলো ছুঁয়ে আসবো।
কিছুই করা হচ্ছে না। কেন হচ্ছে না সেকথা বলে বিড়ম্বনা বাড়াতে চাই না, তবে দেখতে পাচ্ছি সময় যাচ্ছে চলে, বয়স যাচ্ছে বেড়ে। শেষকালে কত কিছু অদেখা রেখে যেতে হবে, ভাবলেই মন খারাপ হয়ে যায়। এমনকি প্রিয় বন্ধুগুলোর সাথে দেখা করা হয়না।
সেদিন ঢাকা গেলাম অফিসের কাজে। কয়েক ঘন্টার জন্য। কাজ সেরে ফোন দিলাম সবচেয়ে প্রিয় বন্ধুটাকে। ইচ্ছে হলো বলি, আয় দোস্ত আড্ডা দেবো, তিরিশমিনিট সময় কর। কাজটাজ সব ফেলে দিয়ে চল কোথাও বসি গিয়ে। বন্ধু জানালো সে গেছে নারায়নগঞ্জে। ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যা হবে। বিশ মিনিটের ফোনের আড্ডায় অতৃপ্তি নিয়ে ফিরে আসছি চাঁটগা। মাঝপথে বন্ধুর ফোন, ফিরে এসেছে সে। আমি বললাম আমি তো চোদ্দগ্রাম এখন। আফসোস লেগেছে তখন ভীষন, ওই রাত না ঘুমিয়ে কাটালে আড্ডাটা হতো। বললাম তুই এত তাড়াতাড়ি ফিরে আসবি জানলে তো আমি থেকেই যেতাম আরো কয়েকঘন্টা। হলো না।
একবার তাই অতিথি পাখি হবার সাধ জাগে। ইচ্ছে করে পাখি হয়ে উড়ে যাই টাঙ্গুয়ার হাওড়ে, উড়ে যাই বিরিশিরি, উড়ে যাই কেওক্রাডং, উড়ে যাই আর কোথাও........অন্য কোথাও।





লাইকানোর মত লেখা। নীড় ক্ল্যাসিক।
আহাঃ আহাঃ মন ভরে গেল
কিছুদিন লেখাজোকা থেকে দুরে থাকবো ভেবেছিলাম। ব্লগে আসার সময় পাই না। হাতে কাজ অনেক। কিন্তু পোলাপান পিকনিক-টিকনিকের এমন ধুয়া তুললো মনটা উদাস করে দিল। দৌড়ের উপ্রে আবজাব লিখে অবুঝ মনরে বুঝ দেবার ব্যর্থ চেষ্টা করলাম। :(
ছুঁয়ে যাওয়া লেখা ...
নিড়দা... চৈলা আসেন আড্ডাই...
একদিন আসবোই ঠিকঠাক!
কাঁচকলা দেখানোর মানেটা কী? :)
ফুলদানি আছড়ে ভেঙ্গে চুরমার
ফুল জল সব একাকার
নেমে আসে অন্ধকার জানালার বাইরে
নেমে আসে রাত।
- দুটো মানুষ (অঞ্জন দত্ত)
অপূর্ব!
ভালো লাগলো আপনার ঝরঝরে বর্ননা পড়তে
কবি সফিকুল রে আমি পাইনাই এইকথা ভাইবা ব্লগজীবন ব্ৃথা মনে হইতেসে
লোকজন হুদাই নুরা ফ্যানক্লাব খুলে
তীব্র প্রতিবাদ। ণূড়ার উপ্রে মাল নাই।
নূড়া ক্লাব সভাপতি মাইন্ডাইছে.........খিকজ!
দুস্কের কথা হইলো আমি যেদিন সদস্য হলাম, সেদিন থেকে ক্লাব ব্যান!!
নীড়দার অনেক লেখা পড়লেই মনে হয়, উনিতো আসলে আমি। প্রযুক্তির কাছে আমিও অনেক ঋনী। সারাদিনের জীবন যুদ্ধের মাঝে একটু ঝড়োয়া বাতাস হলো এই ব্লগ / আড্ডা। রোজতো আর সামনা সামনি হয়ে এটা সম্ভব না। তাই যেখানে সেখানে পা তুলে যেমন তেমন ভাবে বসে প্রিয়জনদের সাথে থাকা হলো ব্লগ। নিছক আড্ডাই নয় সৃষ্টিশীল আড্ডা। আমার ভাষায়, "কোয়ালিটি টাইম স্পেন্ডিং"।
নেট যদি এখনকার মতো এতো সুলভ থাকতো আর এতো বাংলা ব্লগ / বিনোদন, ওয়েব সাইট দশ বছর আগে থাকতো, তাহলে আমি নিশ্চিত জানি, প্রবাসের প্রথম দিকের দিনগুলো এতো অসহ্য হতো না কিছুতেই না।
নেটের কাছে আমাদের তাই অনেক নেটাজ্ঞতা :)
কবি, হরর গল্প লেখক- এরাও যে বিনোদনের উৎস হতে পারে, ব্লগে না এলে বোঝা মুশকিল ছিলো।
লেখাটা চমৎকার!
আরো একজন কবির ভক্ত আমি। কবি শাহাবুদ্দিন।
এই কবির লিংকটা দিলাম। বিফলে মূল্য ফেরত-
http://www.poetshahabuddin.cc.cc
উফ, এই সুলতা আর বনলতা বিতর্ক একটা জিনিস ছিলো।
ঢাকায় আসেন... আড্ডা হবে
আহা আমি শইফ্যারে মিসাই। তার কাব্য প্রতিভায় আমি বধ। আরেকডা সিলো না কবি নিজে রকবিতার বইয়ে নিজেই মডেল
মুগ্ধ হয়ে পড়লাম।মুগ্ধতা, ভালো লাগা, নিয়ে গেলাম।
নেট যদি না থাকত ব্লগ পেতাম কোথায়?মেসেন্জার ফেসবুক....অফিসে সবচেয়ে জরূরী কাজ হলো এই সবে গভীর মনোযোগ দেয়া।
ভাল !খুব ভাল নয় !মন খারাপ হলনা পড়ে ?
থ্রিপল প্লাস ।খুব ভাল হয়েছে ।
খুব ভাল !শুভ আকাঙ্খা করছি ।
মন্তব্য করুন