দিবানিদ্রা
আপনার দিবানিদ্রা নামে কোন রোগ আছে?
ভয় পাবেন না। দিবানিদ্রাকে যারা রোগ বলে আমি তাদের সাথে একমত নই। পৃথিবীতে যদি একখন্ড স্বর্গও থাকে তা লুকিয়ে আছে দিবানিদ্রার ভেতরেই।
দুনিয়ার খুব বেশী দেশে এই উপহার নেই। বাংলাদেশের আলসে কুঁড়েদের জন্য প্রকৃতি দিবানিদ্রা নামক একটা জিনিস উপহার দিয়ে গেছে।
দিবানিদ্রা বলতে দিনের ১২/১৩ ঘন্টার মধ্যে মূলত দুপুরের ভাতঘুমকেই বোঝায়। ঠিক কিনা? যদি ঠিক হয় তাহলে দিবানিদ্রা নিয়ে একটা কমন সুখস্মৃতি লিখতে বসে যাই।
বলে রাখি, সব দিবানিদ্রায় স্বর্গসুখ নেই। যেসব কুঁড়ে দিনমান বিছানায় গড়াগড়ি খায় তাদের জন্য কি দুপুর কি সকাল কি বিকেল সবই সমান। যে কোন সময় বিছানায় গড়াগড়ি খাওয়া এই লোকগুলোকে আমি দিবানিদ্রার হিসেবের বাইরে রেখেছি। আমার এক সাপ্তাহিক কুঁড়ে কলিগ আছে। সে বিষুদবার অফিস থেকে ফিরে রাতের খাবার খেয়ে সেই যে ঘুমোয়, সেই ঘুম ভাঙ্গে শুক্রবার বিকেলবেলা। মাঝখানে আস্ত একটা ব্রেকফাস্ট এবং লাঞ্চ হাপিস। তার কাছে অবসরের পুরোটাই নিদ্রা, দিবানিদ্রা বলে আলাদা কোন সেকশান নেই।
কিন্তু আমার চোখে দিবানিদ্রা হতে হবে এরকম-
আপনাকে খুব ভোরে উঠে নাওয়া খাওয়া সেরে সাড়ে সাতটার মধ্যে ট্রেন স্টেশানে পৌঁছাতে হবে। পৌঁছেই দেখবেন সবগুলো সীট বেদখল। আপনি রড ধরে দাড়িয়ে যাবেন। প্রচন্ড গরমে সমস্ত ট্রেনটা ঘামছে। সেই ঘাম নিয়ে ভার্সিটি স্টেশানে পৌছাঁতে হবে। (ও হ্যাঁ বলা হয়নি, জায়গাটা চট্টগ্রাম ভার্সিটি হতে হবে)। স্টেশান থেকে ঘামতে ঘামতে ক্যাম্পাসে পৌঁছাবেন। তার আগে এক ফাঁকে 'মউর দোয়ানে' গিয়ে সিঙাড়া চা খেয়ে নিতে পারেন। ক্লাসটা গোগ্রাসে গিলে না গিলে আবারো ফিরতি ট্রেনের জলন্ত চুলোয়। ঝুলতে ঝুলতে জ্বলতে জ্বলতে দুপুর আড়াইটায় শহরে পৌঁছে যাবেন। বাসায় গিয়ে গোসল খাওয়া সারতে সারতে বেলা সাড়ে তিনটা, তখন আপনার সমস্ত শক্তি শেষ। বিছানা প্রবলভাবে ডাকছে।
আপনি শেষ গ্লাস পানি খেয়ে বিছানার দিকে ছুটে যেতে না যেতেই শুভ্র বিছানা আপনাকে আলিঙ্গন করবে, আপনিও করবেন, দুজন দুজনকে পেয়ে গড়াগড়ি খাবেন কিছুক্ষণ। সমস্ত শরীর জুড়ে ক্লান্তির কনাগুলো সুখ সুখ হয়ে ফিসফিস করতে থাকবে। চোখের পাতাটা ভারী হয়ে আসবে অজান্তেই। জানালা দিয়ে দৃশ্যমান পেয়ারা আর কাঠাল গাছের মধ্যে পার্থক্য নির্ধারণ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
তারো কয়েক মুহুর্তপর চোখের সামনে আর কিছুই থাকবে না। মাথার ভেতরে পরম সুখের একটা রিনিঝিনি সঙ্গীত বাজতে থাকবে নিঃশব্দে।
এই হলো দিবানিদ্রা, আমার প্রিয়তমা নিদ্রাদেবী। আপনার কী এই দেবীর আশীর্বাদ পেয়েছেন কোনদিন?





হ্য আর ঠিক সে সময়ে বিদ্যুৎ চলে যেবে ফ্যানটা আস্তে আস্তে তার ঘুর পাক কমিয়ে স্হির হয়ে যেবে আর প্রচন্ড ভেপসা গরম এসে আলিঙ্গন করবে.....( এমনটাই ঘটেছে আমার সাথে দেশে থাকতে )
খুবই পরিচিত একটা চিত্র!
দিবানিদ্রা আমার খুবই প্রিয়। দুটি ছুটির দিন, মোটামুটি দেড়-দুই ঘন্টা ভাতঘুম দেই। আহা! কি যে সুখ পাই
আপনার জন্য এক কেজি ঈর্ষা
আমি তো প্রায় সময়ই দিবানিদ্রা যাই, রাইতে ঘুমাইতে প্রায়ই দেরী হয় বিদ্যুত মামার যন্ত্রণায়(
) , ফলাফল সকাল বেলা অফিসে আইসা সিটে বইসা কল্লা ছিলা মুরগীর মত ঝিমানি, আবার দুপ্রে খাওনের পর সেইম ঝিমানি, পুরাই দিবানিদ্রার ভিত্রে আছি কি যে হইব আমার জীবনে
।
আপনার জন্য একমন ঈর্ষা
কেন জানি আমার দিবা নিদ্রা আসে না কখনো!!
তিন ঘন্টার দিবা নিদ্রা দিয়ে উঠেই এই পোস্টটা পড়লাম।
কাজকাম নাইক্যা?
নিদ্রাদেবী আমার প্রতি বড্ড অপ্রসন্ন।

তাই, দিবা বা রাত্রি নেই......
দেবীর দেখা পেলেই খুশী।
আম্মো
এবার চিটাগং গেলে আপনার বাসায় আসবো ভাতঘুম দিতে।
(অফটপিক: চিঠিটা খোঁজা হচ্ছে)
চিঠি না, চিঠির মালিককে দরকার আমার। চিঠিটা আছে আমার কাছে।
দিবানিদ্রা খুব ভীষণ ভালো জিনিস। পশ্চিম ইউরোপের লোকজন সুযোগ পেলেই দুপুরের দিকে একটা ছোট্ট ন্যাপ নিয়ে ফেলে। পূর্ব ও মধ্য ইউরোপের লোকজন এটার মজা বোঝে না। আমার বেচারাদের জন্য বেশ খারাপ লাগে
পূর্ব এশিয়ার লোক সমাজতন্ত্রের গুতানিতে দিবানিদ্রা ভুলে গেছিল
আহা দিবানিদ্রা কিংবা দেবীনিদ্রা
নিদ্রা দেবী
আহা..পৃথিবীতে নিদ্রা ছাড়া আর আছে কি?
~
সুখের বিষয় আর কি আছে?
দিবানিদ্রা !!! আহ !!! ভাবতেই চোখে ঘুম চইলা আইলো
আপনার তো ঘুমানোর মেলা টাইম
আহ্্ ... জয়তু দিবানিদ্রা...
নিদ্রা বিষয়টাই আমার ব্যাপক প্রিয় । আহা ঘুম
যে জন দিবসে....নিদ্রা হরিষে...
আয় হায় কোন এক জীবনে আমিও ঠিক এরকম দিবানিদ্রা দিতাম। মিলে গেলো কেমন!
ভার্সিটির বাস দিয়ে ঝুলতে ঝুলতে বাসায় আসতাম অবশ্য দুপুরে আড়াইটা তিনটায়।
এখনো মাঝে মাঝে ইচ্ছে হয় কিন্তু ইচ্ছেরা ডানা মেলার সুযোগ পায় না
দিবানিদ্রায় আমার এলারজি আছে।
তয়, আপনার এই লেখা পইড়া ট্রাই করার মন চাইতাছে!
মন্তব্য করুন