ইউজার লগইন

উল্টে দেখাঃ রক্তাক্ত একটা স্মৃতি

২২শে ডিসেম্বর ১৯৯০। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সেকেন্ড ইয়ার অনার্সে পড়ি তখন। ভার্সিটিতে কী একটা পরীক্ষা ছিল সেদিন। কিন্তু হবে না বোধহয়। কারন ইসলামী ছাত্র শিবির অবরোধ ডেকেছে। দাবি ভিসির পদত্যাগ। অথচ যৌক্তিক কোন কারন নেই। ব্যাপার হলো এই ভিসি শিবিরের পছন্দ না। কিন্তু যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের নিয়ন্ত্রনে, মসজিদের ইমাম থেকে রেজিস্ট্রি অফিসের পিয়নটা পর্যন্ত সবকিছু শিবিরের পছন্দের হতে হবে। সবাই বাধ্য শিবিরের কথা শুনতে। সেখানে ভিসি যদি মোটামুটি নিরপেক্ষও হয়, তাকে নিয়ন্ত্রন করাও মহা ঝামেলা। ঝামেলা কে চায়, শক্তি যখন আছে, ঝামেলা কেটে ফেলার চেষ্টা। ডঃ আলমগীর সিরাজের পদত্যাগ চেয়ে তাই অবরোধ।

সঙ্গত কারনেই সাধারন ছাত্রছাত্রীর কোন সমর্থন নেই এ ধরনের আন্দোলনে। তাই সিদ্ধান্ত সবাই নিল, বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবো, পরীক্ষা দেবো, শিবিরের মুখোমুখি দাঁড়াবো।

যদিও পরীক্ষা অনিশ্চিত, তবু ঘুরে আসি এরকম মন নিয়ে আমিও সকাল সোয়া আটটায় ট্রেনে উঠলাম। সাথে বন্ধু হোসেন শহীদ আর নওশাদ পারভেজ। হোসেন শহীদ ভালো কবিতা লেখে, চট্টগ্রামের মোটামুটি নামকরা কবি। আড্ডাবাজ, আমার প্রিয় বন্ধুদের একজন। ওকে জোর করে নিয়ে যাচ্ছি আড্ডা দেয়ার জন্য। কারন আরেক আড্ডাবাজ বন্ধু পারভেজও যাচ্ছে। সে সমাজতত্ত্বে প্রিলিমিনারিতে ভর্তি হয়েছে। আমাদের তিনজনের ভালো আড্ডা জমে। আজকে পরীক্ষা নাও হতে পারে, তাই ঘুরে ফিরে আড্ডা দিয়ে চলে আসবো দুপুরের ট্রেনে।

ট্রেন যখন বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশানে পৌঁছালো তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেট বন্ধ। কাউকে যেতে দিচ্ছে না ভেতরে। ছেলেমেয়েদের সাথে বাকবিতন্ডা হচ্ছে শিবির নেতাদের। শিবিরের নেতাদের সাথে জামাতী শিক্ষকরাও পাশে দাঁড়িয়ে দিকনির্দেশনা দিচ্ছে। বুঝলাম যৌথ প্রযোজনার অবরোধ। শিক্ষকদের এমন ভুমিকায় দেখে ঘেন্না লাগলেও অবাক হই না। জামাতী শিক্ষকদের চরিত্র বুঝতে বাকী নেই গত তিন বছরে। সদ্যনির্বাচিত চাকসুর কিছু ছাত্রনেতাও ছিল ওখানে। ছাত্রছাত্রীরা তাদের ধরলো কিছু একটা করার জন্য। একজন নেতা(ভিপি নাজিম বোধহয়) পাশের একটা উচু জায়গায় দাঁড়িয়ে সংক্ষিপ্ত গরম বক্তৃতা দিল কয়েক মিনিট। ছাত্রছাত্রীরা ক্রমাগত চিৎকার করে যাচ্ছে - অবরোধ ভাংবো, ভাংতেই হবে। উত্তেজনা বেড়ে গেলে নেতা বক্তৃতা শেষ করে নেমে পড়েন। এরপর মিছিল শুরু হয়। যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে গেছেন তারা জানেন, ছাত্রছাত্রীরা ট্রেনে শহর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ষ্টেশনে আসে। তারপর এখান থেকে বাসে করে দুই কিলোমিটার দুরের ক্যাম্পাসে যায়।

আজকে অবরোধের কারনে বাস চলছে না। হেঁটেই যেতে হবে। শহীদ আর পারভেজের কাছে গিয়ে বলতেই ওরা বললো, "চল ফিরে যাই। শিবিরের সাথে গ্যান্জাম করে লাভ নেই।" আমার হঠাৎ কেন যেন জিদ চেপে বসলো তখন। পরীক্ষা দেয়ার জোশে না। জিদ চাপলো শিবিরের অনৈতিক অবরোধের বিরুদ্ধে। আমরা কী ওদের খেয়ালের চাকর? চাইলেই কি ওরা আমাদের এভাবে আটকে রাখতে পারে? আমি শহীদ আর পারভেজকে বললাম, "শিবিরকে ভয় পেলে তোরা ফিরে যা, আমার কাজ আছে, ভেতরে যেতেই হবে।"

এমন সময় গেটের কাছে হৈ হৈ ধ্বনি শোনা গেল। একদল ছাত্র কীভাবে যেন গেটের তালা ভেঙ্গে ফেলেছে। পঙ্গপালের মতো সবাই হুড়মুড় করে ঢুকছে গেটের ভেতরে। কাটা পাহাড় দিয়ে না গিয়ে মিছিলের মুখ শাহজালাল হলের সামনের রাস্তার দিকে ঘুরে গেল। শহীদ আর পারভেজ আমাকে একা ছাড়তে চাইল না, ওরাও যোগ দিল মিছিলে। পেছনে তাকিয়ে দেখলাম বিশাল ব্যাপার। এত বেশী ছাত্রছাত্রী কোন মিছিলে দেখা যায়নি আগে। এমনকি চাকসু নির্বাচনের বিজয় মিছিলও ছিল এর চেয়ে ঢের ছোট। এই বিশাল মিছিল পাহাড়ী রাস্তা ঘুরে ঘুরে যখন ক্যাম্পাসে পৌছালো তখন বেলা সাড়ে দশটা পেরিয়ে গেছে। কলাভবনের সবগুলো কলাপসিবল গেটের তালা বন্ধ। সামনের বাধানো চত্বরে শিবিরের ক্যাডার বাহিনী দাঁড়ানো। আপাতঃ নিরস্ত্র। তবে অনেকগুলো ইটের আধলা স্তুপ করে রাখা। মিছিলের মুখ মাঝখানের গেটের দিকে এগোচ্ছে। দেখে ভরসা লাগলো যে এত বড় মিছিলের সামনে শিবিরের সামান্য কটা কুত্তা কী করবে।

মিছিলের সামনের ভাগে মেয়েরা। হঠাৎ কথাবার্তা ছাড়া ঠাশ ঠুশ শব্দ শুরু হলো হলো। শিবিরের ছেলেরা ইট মারছে। প্রবল উত্তেজনার সৃষ্টি হলো। কিন্তু আমাদের এদিকে ইট বলতে কিছু নেই, সব ওরা নিয়ে নিয়েছে। ভেবেছি ছাত্র নেতারা নিশ্চয়ই খালি হাতে আমাদের উজ্জীবিত করেন নাই। লোহা-বিচি, মাল-মুল নিয়ে এসেছে নিশ্চয়ই। পাল্টা জবাব দিবে হোতাইয়া। এদিক ওদিক তাকালাম। কিন্তু না, কোন পাল্টা জবাব দেখা গেল না। এ পক্ষে কারো অস্ত্রশস্ত্র নেই। সাধারন ছেলেপেলেরা বিড়বিড় করে গালি গালাজ করতে শুরু করেছে নেতাদের। শালারা খালি বিচি দুইটা নিয়া যুদ্ধ করতে আসছে, নাজিম্যা কই, ইত্যাদি।

হঠাৎ আমরা খেয়াল করলাম নির্মানাধীন নতুন কেন্দ্রীয় লাইব্রেরীর সামনে অনেকগুলো লম্বা বাঁশ স্তুপ করে রাখা। ওগুলো নিতে পারলে শিবিরের গোয়া ফাটিয়ে দেয়া যাবে এবার। চল নিয়ে আসি। মিছিল ছেড়ে আমরা কজন ছুটলাম বাঁশ নিতে। এটাই বোধহয় বড় ভুল হয়ে গেল। বাঁশের কাছে পৌছাতে না পৌঁছাতেই পেছন থেকে গুলির শব্দ। শিবিরের ক্যাডাররা ইট ছেড়ে বন্দুক ধরেছে। আমাদের পিছু হটার দৃশ্য দেখে ওরা বুঝতে পেরেছে আমাদের বন্দুক টন্দুক নেই। সাথে সাথে মিছিলের বাকী অংশের উপর গুলী করা শুরু করেছে। গুলির শব্দে পুরো ক্যাম্পাসে ছুটোছুটি, মেয়েদের চীৎকার, কান্নার শব্দ, মিছিল ছত্রভঙ্গ। আমরা যারা বাঁশের জন্য এসেছিলাম, তারা ফিরতে গিয়ে পলায়নপর উল্টোস্রোতের মুখোমুখি হলাম। দেখলাম তিনদিক থেকে আক্রমন শুরু হয়েছে। পুরোটা পূর্ব-পরিকল্পিত বোঝা যায়।

বাঁশ হাতে বন্দুকের মুখোমুখি হওয়ার কোন মানে নেই। বাঁশ রেখে পিছু হটলাম। পালানো ছাড়া গতি নেই। ভাবলাম লাইব্রেরীর পেছনের ফোকড় দিয়ে সায়েন্স ফ্যাকাল্টির দিকে চলে যাবো। লাইব্রেরীর পেছনে যেতেই দেখলাম উল্টো দিক থেকে গুলি করতে করতে ছুটে আসছে হামিদ বাহিনীর কয়েকজন। প্রায় ট্র্যাপড হয়ে গেলাম, ঘেরাও তিন দিক থেকে। লাইব্রেরীটা কলাভবনের মুখোমুখি রাস্তার ওপারে। লাইব্রেরীর পেছনে ঝোপজঙ্গলভর্তি খাড়া পাহাড় উঠে গেছে। এমনিতে লাখ টাকা দিলেও ওই জঙ্গলে উঠার কথা ভাবতাম না। একটা পা রাখারও জায়গা নেই, এত ঘন আদিম জঙ্গল। কিন্তু এখন পরিস্থিতি খারাপ। প্রান বাঁচানো ফরজ। মুহুর্তেই লাফ দিলাম জঙ্গলের ভেতরে। হাঁচড়ে পাঁচড়ে উঠে গেলাম বেশ কিছুদুর। আড়াল পেতেই একটু দাঁড়ালাম। দেখি আরো অনেক ছেলে মেয়ে উঠে আসছে জঙ্গল মাড়িয়ে। কারো মাথা দিয়ে রক্ত পড়ছে, কারো হাত দিয়ে। একজন আরেকজনকে টেনে তোলার চেষ্টা করছে পাহাড়ের খাড়াইতে। কে একজন পানি চাইল। একটা মেয়ে কাঁদছে, তার সহপাঠির মাথা ফেটে দরদর করে রক্ত পড়ছে। ওকে ধরে উপরের দিকে এগিয়ে দিলাম আমরা। উপরে কোথায় যাচ্ছি জানি না। শুধু গোলাগুলি থেকে যত দুরে যাওয়া যায় সেই চেষ্টা।

কিছুদুর গিয়ে একজনকে দেখলাম, জঙ্গলের মধ্যেই একজন রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছে জনে জনে। বলছে, "ভায়েরা আমরা যদি এভাবে পালিয়ে যাই ৭১ এর পরাজিত শক্তির ভয়ে, ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না। চলুন আমরা ঘুরে দাঁড়াই। ঝাঁপিয়ে পড়ি একাত্তরের চেতনায় ......." কয়েকজন দাঁড়িয়েও পড়েছিলো। কিন্তু পেছনে আবার বুম বুম শব্দ হতেই সবাই হুড়মুড় ছুট। জঙ্গলের লতাপাতা ধরে ধরে টিলার চুড়ায় পৌছালাম কোনমতে, তারপর ওপাশে নামতে শুরু করলাম, নামতে তেমন সময় লাগলো না। ছোট্ট একটা লোকালয়, অচেনা গ্রাম। গ্রামের লোকজন অবাক হয়ে গেছে আমাদের দেখে। হঠাৎ খেয়াল হলো আমার, আরে - ওরা কোথায়? শহীদ আর পারভেজ? ধরা পড়েনি তো? তিক্ততায় মনটা ভরে গেল নিজের স্বার্থপরতায়। আমার গোয়ার্তুমির জন্যই ওরা আজ এই বিপদে পড়েছে। নিজে পালাতে ব্যস্ত ছিলাম বলে ওরা কোথায় গেছে দেখার সুযোগ পাইনি।

যাই হোক গ্রামের ভেতর দিয়ে এগিয়ে দেখলাম, সামনে আরেকটা পাহাড়। এটা অনেক পরিস্কার, গ্রামবাসীর কল্যানেই বোধহয়। পলাতক সবাই উঠতে শুরু করলো। অর্ধেক উঠে উপরে কাদেরকে যেন দেখা গেল। সন্দেহ হলো। শিবিরের কেউ না তো? ওরাও সন্দেহজনকভাবে তাকাচ্ছে আমাদের দিকে। তবে হাতে অস্ত্র দেখলাম না বলে এগিয়ে গেলাম সাহস করে। না, শিবির না, এরাও পলাতক জনতার অংশ। হেসে সন্দেহের কথাটা বললাম তারপর হাত মিলিয়ে উপরের দিকে উঠতে লাগলাম। তখনো জানতাম না কোথায় উঠছি। টিলার ওপর উঠে দেখি সুন্দর একটা বাড়ী। সামনে বড় লোহার গেট বন্ধ। ওটা আসলে ভিসি সাহেবের বাড়ী। পাহাড়টা হলো ভিসির পাহাড়। স্বাভাবিক পথে কেউ কখনো আসিনি। আজকে প্রানভয়ে এলোমেলো ছুটতে ছুটতে ঘুরে ভিসির পাহাড়ে উঠে গেছি। অথচ ভেবেছিলাম ক্যাম্পাস ছেড়ে অনেক দুরে চলে গেছি। যাহোক এটা মোটামুটি নিরাপদ জায়গা আপাততঃ। পুলিশও দেখা যাচ্ছে গেটে।

ভিসির বাড়ী ছাড়িয়ে ডানে তাকাতে দেখি ওদিকের পাহাড়ের নীচ থেকে দুটি মাথা উপরে উঠছে। দেখে আমার হাসি দুকান ছাড়িয়ে গেল। শহীদ আর পারভেজ। তিনজনই আলাদা আলাদা পালানোর পরও ছুটতে ছুটতে একই আশ্রয়ে পৌছেছি। 'শালা, বেঁচে আছিস তাহলে' - দুঃসময়েও খুশী লাগলো। পরবর্তী গন্তব্য কোথায় জানি না। ঘন্টাখানেক পর ভিসির পাহাড় থেকে নেমে এলাম শহীদ মিনারের মোড়ে। খিদে পেয়েছে খুব। কিন্তু সব দোকানপাট কলাভবনের পাশে। ওখানে যাওয়া মানে আত্মহত্যা করা। তাছাড়া ক্যাম্পাসের মারামারিতে দোকানপাট বন্ধ হয়ে গেছে বোধহয়। দুর থেকে দেখা যাচ্ছে কাকপক্ষীর আওয়াজও নেই ওখানে। কিন্তু খিদেটা আরো চিড়বিড় করে উঠতেই তিনজনে বেপরোয়া সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলাম, চল যাই। ভালোমানুষের মতো হাঁটা দিলাম কলাভবনের দিকে ।

পুরো ক্যাম্পাসে কবরের নিস্তব্ধতা। কে বলবে দুই ঘন্টা আগেও কয়েক হাজার ছেলেমেয়ের পদচারনা ছিল এখানে। শিরশির করছে গায়ে। একটা ঝুপড়ি দোকানের আংশিক খোলা দেখলাম। দোকানী যে মারাত্মক সাহসী বলার অপেক্ষা রাখে না। এর বাপ নিশ্চয় একাত্তরের ২৫ মার্চের রাতেও দোকান করেছে। দোকানের ছেলেটা জানালো, শিবিরের পোলাপান ক্যাম্পাস থেকে চলে গেছে। হাঁপ ছেড়ে বাঁচলাম। খাবার তেমন কিছু নেই। শুধু চা মুড়ি খেয়ে ফিরে আসার সময় কলাভবনের কোনায় শিক্ষকদের বিশ্রামাগারের দিকে চোখ গেল। লোকজন দেখা যাচ্ছে ওখানে। এগিয়ে গিয়ে দেখি প্রতিবাদ সভা চলছে শিক্ষক সমিতির। হামিদা বানুকে দেখলাম। তিনিসহ আরো অনেক প্রগতিশীল শিক্ষক আক্রান্ত হয়েছেন। প্রতিবাদ সভা শেষে ফিরে এলাম শহীদ মিনারের দিকে। দেখি সব ছাত্রছাত্রী শামসুন্নাহার হলের দিকে যাচ্ছে। আমরাও গেলাম। আগে কখনো যাইনি মেয়েদের হলে। ছেলেরা ভেতরে যেতে পারেনা, সবাই সামনের মাঠে বসে আছে। গিয়ে নতুন খবর পেলাম একটা। শিবিরকর্মীরা ভার্সিটি থেকে বেরুনোর সব রাস্তাঘাট বন্ধ করে দিয়েছে। শতশত ছেলেমেয়ে আটকে আছে এখানে।

শিবিরের ক্যাডাররা তখন হলগুলোতে নির্যাতন চালাচ্ছিল বিপক্ষ দলের উপর। (পরে জেনেছি ছাত্র ফেডারেশানের নির্বিবাদী কর্মী ফারুককে কীভাবে মেরেছে। আমার আরেক নির্দলীয় বন্ধুকে তার শিবিরের রুমমেট দ্বীনের দাওয়াত কবুল না করার প্রতিশোধ নিয়েছিল সে রাতে। শাহ আমানত হলে সারারাত হকিষ্টিক দিয়ে রুমের এ মাথা থেকে মারতে মারতে ও মাথায় পাঠিয়ে খেলেছে শিবির ক্যাডার দিয়ে। নেহায়েত রুমমেট ছিল বলে খাতির করে প্রানে মারেনি, হাতপায়ের হাড়গুলো গুড়ো করে ছেড়ে দিয়েছে।)

শামসুন্নাহার হলের সামনে তখন অভুতপুর্ব এক দৃশ্য। হলের মেয়েরা একেকজন ফ্লোরেন্স নাইটিংগেল হয়ে গেছে। কেউ আহতদের ব্যান্ডেজ করছে, কেউ খাবার দিচ্ছে, কেউ পানির জগ হাতে পানি খাওয়াচ্ছে। দুপুর গড়িয়ে গেছে তখন। অনেকের খাওয়া হয়নি। আমাদের চা-মুড়ি হেঁটে আসতে আসতেই হজম। এগিয়ে গিয়ে দেখি কিছু মেলে কি না। কিন্তু খবর ভালো না। হলের খাবারতো অনেক আগেই শেষ। এরপর মেয়েদের নিজ নিজ রুমের যত চাল, ডাল, ডিম, কলা, মুড়ি, চিড়া, গুড়, তাও শেষ। একটা ছেলেকে দেখলাম মিনতি করছে, আপা শুধু সাদা ভাত থাকলেও দেন। সেই আপার কাছে অল্প ডাল ছিল, তাই দিল এগিয়ে। আমি ভেবে পেলাম না কার কাছে চাইব। লজ্জাটজ্জা আজ কোথায় যেন চলে গেছে। অন্যরকম এক অনুভুতি। একাত্তরকে একটু হলেও বাস্তব উপলব্ধি করেছিলাম সেদিন।

দয়াবতী চেহারার কাউকে খুঁজলাম। শেষে একজনকে বলেই ফেললাম,"আপা আপনার কাছে কী কিছু আছে?" সেই আপাটা এমন দুঃখিত চোখে তাকালো আমি এখনো দেখতে পাই সেই চোখের মায়া। বললো "ভাই, আরেকটু আগে যদি আসতেন! আমারতো ডাল ডিম সব শেষ"। আমি তাড়াতাড়ি বললাম, "না- ঠিক আছে, আমরা অবশ্য চা-মুড়ি খেয়েছি কিছুক্ষন আগে"। সেই অচেনা আপা তখন বললো, "একটু দাড়ান, রুম থেকে আসি।" পাঁচ মিনিটের মধ্যে হাতে করে নিয়ে এলো আনন্দ বিস্কিটের একটা প্যাকেট। বললো, "নিন, এটা তিনজনে ভাগ করে খান আপাততঃ।"

কোথায় যেন পড়েছিলাম, মানুষের প্রতি কখনোই বিশ্বাস হারাবে না। যে দেশের মানুষে মানুষে এতটা মায়া সে দেশের মাটি সোনার চেয়ে খাটি হবে না তো কোন দেশের হবে?

বিকেল হয়ে এসেছিল তখন। আমরা শহরে ফেরার কোন উপায় দেখছি না। আজ ফেরা যাবে কি না কে জানে। রাতে কোথায় থাকবে, কী খাবে এসব ভেবে সবাই অস্থির। একজন বললো, সামনের রাস্তা ধরে পাহাড়ের ভেতর দিয়ে গেলে গ্রামের রাস্তা পাওয়া যাবে। রাতটা হয়ত সে গ্রামে কাটানো নিরাপদ হবে। এখানে হলের সামনে রাতে শিবিরের হামলা হবে শোনা যাচ্ছে। শহীদ বললো, চল পাহাড়ের ভেতরের রাস্তা দিয়েই হাঁটা শুরু করি। কোথাও না কোথাও বেরুনোর রাস্তা নিশ্চয়ই আছে। আরো কয়েকজন মিলে আমরা রওনা দিলাম।

শীতের বিকেল স্বল্পায়ু। আমরা পা চালিয়ে ভার্সিটি এলাকা পেরুতে পেরুতেই সন্ধ্যা নেমে আসলো। এলোপাথাড়ি হাঁটছি। বেশ কিছুদুর হাঁটার পর একট গ্রামের ভেতর প্রবেশ করলাম। গ্রামের একজনকে জিজ্ঞেস করে জানলাম চট্টগ্রাম শহরে যাবার রাস্তা। বড় রাস্তায় উঠে শহরে যাবার বাস পেয়ে গেলাম। আধঘন্টা পরে মধ্যে শহরের আলোতে প্রবেশ করলাম বিধ্বস্ত পরাজিত সৈনিকের মতো।

বাসায় ঢোকার পথে রক্তমাখা সাদা শার্ট দেখে মা চিৎকার করে ওঠে। মাকে আশ্বস্ত করি, ভয় নেই মা, এ আমার রক্ত না, এ রক্ত আরেক সহযোদ্ধার। তোমার ছেলের কিছু হয়নি।

পোস্টটি ১২ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

হাসান রায়হান's picture


অবাকই লাগে পরাজিত শক্তির এমন দাপট।
সাবলীল লেখা আমাকে নিয়ে গিয়েছিল যেন ঘটনাস্থলে।

নীড় সন্ধানী's picture


সেই দাপটকে চুর্ন করে দিতে পারে একটা মোটামুটি ঐক্য। কিন্তু বিভক্তির রাজনীতি করতে দিচ্ছে না সেটা। নইলে শিবিরের অস্তিত্ব পর্যন্ত থাকতো না এদেশে।

আহমেদ রাকিব's picture


হমম। আমারো প্রায় একি রকম একটা গল্প আছে। তবে ছাত্রদলের বিপক্ষে সেটা। ছাত্রী ধর্ষন মামলা। সেবার সবাই আশ্রয় নিয়েছিল ভিসির রুমে। পরে রাতে বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজম্যান্ট গাড়িতে করে সবাইকে বাসায় পৌছে দিয়েছিল। সেসব এক একটা দিন কি যে ভয়াবহ উত্তেজনা। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতন জায়গায় এধরনের ঘটনা খুবই লজ্জাজনক।

নীড় সন্ধানী's picture


কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনা সেটি?
আপনার ঘটনাটাও শোনার অপেক্ষায় থাকবো।

নুশেরা's picture


ওদের হলো সিলেট শাবিপ্রবি। তখন মাঝে মধ্যে আমার ডিউটি পড়তো ওদের ক্যাম্পাসে। আমি জানা দোয়াদরুদ সব রিভাইজ দিয়ে ফেলতাম Smile । তবে ওই ঘটনাটার সময় বিশেষ টেলিফোনিক আদেশে বিশেষ বৈশিষ্ট্যের একজন ডিউটি অফিসার দেয়া হয়েছিলো এটা জানি।

নীড় সন্ধানী's picture


বিশেষ বৈশিষ্টৈর ডিউটি অফিসার মানে কি মোল্লা বৈশিষ্টের নাকি? Smile
আপনাকে ওই রকম উত্তেজনাকর জায়গায় পোষ্টিং দেয়ার কারন কি। আপনি যে কারাতে জানা ম্যাজিষ্ট্রেট সেজন্য নাকি Wink

নুশেরা's picture


ঠিক তা না, গায়ে একটু হাওয়া-বাতাসের গন্ধ আছে এমন Wink (ছাত্রদলের কারো কুকর্ম ছিলো কিনা)

আমার রুটিন ডিউটিই থাকতো, তবে দুপুরের পরে হলে বস প্রেফার করতেন কারণ আমার বাসা ঐদিকে ছিলো, দুনিয়া ঘুরে আবার যেন অফিসে ফেরা না লাগে

ভাঙ্গা পেন্সিল's picture


ঢাকাতে শিবিরের তেমন একটা পাত্তা নাই। রাজশাহী চট্টগ্রামের দিকে এতো ক্ষ্যামতা ক্যান!

টুটুল's picture


ঢাকাতে শিবির এখনো সুবিধা করতে পারতেছেনা .... কিন্তু চেষ্টার কমতি নাই... হারামির বাচ্চা প্রত্যেকটা

১০

নীড় সন্ধানী's picture


ঢাকায় সুবিধা করতে না পারলেও বায়তুল মোকারম ছেড়ে ঢাবির ক্যাম্পাসেও তৎপরতা চালাতে শুরু করেছে। মাইরের উপর রাখতে না পারলে বেড়ে যাবে নিশ্চিত।

১১

ভাস্কর's picture


আমরা শিবিরের লগে যুদ্ধে জয়ী হইছিলাম...Smile

১২

নরাধম's picture


 

 

আপনি  মনে হয় জাবি'র কথা বলছেন ভাস্করদা। আপনার কাছ থেকে কাহিনী শুনতে চাই।

১৩

নরাধম's picture


 

 

@লেখক, লেখা ভাল লেগেছে। তবে গত ১০ বছরে শিবির সেরকম অগ্রগতি করতে পারেনি, প্রথম ১৫ বছর যেভাবে এগিয়েছে সেভাবে এগুলে এতদিন আমরা সারা দেশই তাদের হাতে বন্দী থাকতাম।

১৪

নীড় সন্ধানী's picture


ওদের অগ্রগতি সংখ্যার বিচারে তেমন হয়নি। কিন্তু গোপন তৎপরতা ছোট হলেও ভয়ংকর হতে পারে।

১৫

মুক্ত বয়ান's picture


অসাধারণ লাগল ভাইয়া। আপনার ফানপোস্টগুলা পড়তে পড়তে মনে হইছিল, আপনি বেশ মজা করে লেখেন, আর আজকে পড়ে মনে হচ্ছে, সবধরণেই আপনার কী-বোর্ড সাবলীল!! Tongue out

১৬

নীড় সন্ধানী's picture


EmbarassedEmbarassed

১৭

আশরাফ মাহমুদ's picture


আমরা যখন ছোট (মানে আপনারা যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন) তখন একটা স্লোগান জনপ্রিয় ছিল এলাকা- "একটা দুইটা শিবির ধরো, সকাল বিকাল নাস্তা করো (কিংবা বেদম মারো)। Smile

১৮

নীড় সন্ধানী's picture


হ সেইরকম শ্লোগান আমার এলাকায়ও ছিল। আগ্রাবাদে। Smile

১৯

নুশেরা's picture


সেদিন বা তার পরদিন বিকেলেই শহরের রাস্তায় মাঝবয়েসী চাকুরিজীবি জনাব শোয়েবের মৃত্যু হয় একই গ্রুপের হাতে, যারা চবি ক্যাম্পাস ছেড়ে শহরে এসে চট্টগ্রাম কলেজে উঠেছিলো।

এই ঘটনার বছর চারেক পরে এদের হাতে মারা গেলেন মাস্টার্সপড়ুয়া মুসাভাই (উনার বাবা চবির শিক্ষক ছিলেন, হবু স্ত্রীর পাশাপাশি মুসাভাই ক্যাম্পাসে হাঁটছেন, এটা তখনকার ক্যাম্পাসে নৈমিত্তিক দৃশ্য ছিলো ) , তারপর চারুকলার সঞ্জয় তলাপাত্র, তার পরপরই ক্রসফায়ারে এক শিক্ষকের পুত্র। এরপর একটা অসাধারণ পোস্টার বের হয়েছিলো সম্ভবতঃ চারুকলা আর ছাত্র ফ্রন্টের উদ্যোগে। শিবিরের হাতে নিহতদের ছবি পরপর এক সারিতে, নীচে চবি স্টেশনে ছাত্রছাত্রীদের ভীড়, টার্গেটের বৃত্ত এঁকে লেখা "Who's Next?" সেখানে ছেলেমেয়েরা নিজেদের নামধাম লিখে রাখতো।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর শিবিরের উপদ্রব আপাতঃভাবে কিছুটা কমে এসেছিলো কিন্তু ভেতরে ভেতরে তারা কীভাবে সক্রিয় ছিলো তার একটা উদাহরণ হলো আমাদের ব্যাচের মাস্টার্স পরীক্ষা শুরুর এক সপ্তাহ আগে অসাধারণ মেধাবী এক ছাত্রের (পারিবারিকভাবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততা আছে) রুমে আগুন লাগিয়ে বইখাতা সব জ্বালিয়ে দেয় তারা। লিখিত পরীক্ষা চলার সময় পরীক্ষার হল থেকে অস্ত্রের মুখে ধরে নিয়ে যায় একজনকে। সেই পরীক্ষা পুরোপুরি শেষ হতে এক বছর লেগে যায়!

ক্যাম্পাসে সামনাসামনি কোপাকুপি দেখিনাই এই আফসোস (!) করতাম। অথচ যেদিন সত্যি সত্যিই এমন দৃশ্য দেখি, এর পর কয়েকদিন খেতে বসলে বমি করে দিতাম। কৃষ্ণগোপাল নামে একটা ছাত্রলীগ কর্মী নিজের পার্টির ছেলেদের হাতে রামদায়ের কোপ খেতে খেতে একতাল কিমার মতো গুটিয়ে গেলো। একটা পোটলার মতো রিকশার পা রাখার জায়গায় তাকে তুলে হাসপাতাল নিয়ে যাচ্ছিলো রিকশাচালক; যাবার পথে সেই কিমা-পুঁটুলি আবার রাস্তায় পড়ে গেলো কয়েকবার। মজার ব্যাপার, মাস আটেক পর ক্রাচে ভর দিয়ে সেই ছেলে আবার মিছিলে যোগ দিলো, তার পাশে হাত উঁচানো সেই সহযোদ্ধা, যে সবচেয়ে বেশী কোপ দিয়েছিলো তার গায়ে!

আমার সবচেয়ে ভয়ংকর অভিজ্ঞতা ছিলো ৯৭-৯৮এর দিকে, শাটল ট্রেনে। শিবির অবরোধ ডেকেছে, ক্যাম্পাস ফাঁকা, কিন্তু আমাদের এক সদ্য কানাডা-ফেরত শিক্ষক ক্লাস নেবেনই, প্রয়োজনে লাইব্রেরিতে নেবেন। ঐ এক বগিতেই বোধহয় আমরা কিছু ছেলেমেয়ে সকালের ট্রেনে ক্যাম্পাসে যাচ্ছি। চৌধুরিহাট আর ফতেয়াবাদের মাঝামাঝি গ্রামের ধানক্ষেতের আলে দাঁড়ানো ক্যাডাররা। অল্পগতির ট্রেনে মুহূর্তে গুলি-বোমার আক্রমণ। আমরা সবাই মেঝেতে শুয়ে পড়েছি, মাথার ওপর দিয়ে একপাশের জানালা দিয়ে বোমা ঢুকে উড়ে বের হচ্ছে ওপাশের জানালা দিয়ে, ছাদে বোমা ফাটছে, ট্রেনের দেয়াল ফুটো করে দিচ্ছে বুলেট। ক্যাম্পাসে পৌঁছানোর পর বের হয়ে দেখি আমরা যে জানালার ধারে ছিলাম তার ঠিক নীচে বারুদে ঝলসে গেছে, বুলেট বিঁধে তোবড়ানো অবস্থা। তার মধ্যেও হাসাহাসি হচ্ছিলো, কে কার গায়ের উপর পড়েছে (বিশেষ করে কোন্ ছেলে কোন্ মেয়ের হাত ধরে রেখেছিলো ইত্যাদি)।

২০

নীড় সন্ধানী's picture


ছাত্রলীগ কর্মীদের নিজেদের মধ্যে মারামারি করতেই দেখলাম সারাজীবন। তখনো, এখনো। ওই দুর্বলতা আর অনৈক্যের কারনটাই শিবিরের শক্তির মূল উৎস চবিতে। কিন্তু দৃঢ়তার কাছে শিবির সাহসী হতে পারে না তার প্রমান আমি নিজে। আমার কোন দল ছিল না। কিন্তু শিবিরের তৎপরতার প্রকাশ্য বিরোধীতা করতাম আমি ডিপার্টমেন্টে, ক্যাম্পাসে।

একবার একটা মজার ঘটনা। একদিন মাষ্টার্সের পরীক্ষার আগে শিবির পরীক্ষার ফির সাথে কি একটা চাদা নিচ্ছিল কেরানীকে বাধ্য করে। রশিদও দিচ্ছিল শিবিরের। ওরা দাঁড়িয়ে আছে পাশেই। যাতে কেউ ট্যাঁ ফু করতে না পারে। আমার পালা এলো। চাঁদা বোধহয় বিশ বা পঞ্চাশ টাকা হবে। আমি পরিষ্কার গলায় বললাম, আমার কাছ থেকে যেন চাদা কাটা না হয়। কেরানী ইঙ্গিত দেখালো কয়েকফুট দুরে দাড়ানো হাতকাটা ক্যাডারের দিকে। আমি আবারো বললাম। পরীক্ষার ফির বাইরে একটা টাকাও দিব না আমি। কোন চাদা দেই না আমি। শিবিরের রশিদটাকে ছুড়ে ফেলে দিলাম কেরানীর দিকে। কেরানী ভীত, এবং হতবাক। আমি বেরিয়ে আসতেই বারান্দায় আমার পথরোধ করলো তিনজন। তাদের একজন হাতকাটা। পেছনে আরো চারপাঁচজন। আমার সহপাঠিরা বুঝেছে ঘটনা খারাপ হতে যাচ্ছে। ওরা নিরাপদ দুরত্বে। আমি কাউকে ডাকলাম না।

একজন এগিয়ে এসে বললো
: কি নাম
: নাম দি দরহার (নাম দিয়ে কি দরকার)
: কোন ইয়ার
: ফাইনাল
: বাড়ী কোথায়
: কিল্লাই? (মানে কেন)
: আমাদের চিনেন?
: ন চিনির (চিনি না)
: বাসা কোথায়
: আঁই এন্ডিয়ার (আমি এখানকার)

ওরা ঝামেলা না করে চলে গেল। ওরা চলে যেতেই সহপাঠীরা এসে হাসতে হাসতে খুন। শিবির ভেবেছে আমি মারাত্মক কোন চীজ। গায়ে হাত দিলেই ঝলসে যাবে বোধহয়। এরকম গোয়ার্তুমি আমি শিবিরের সাথে হরদম করেছি। কিন্ত ব্যাটাদের নৈতিক জোর আসলেই কম। আমরা চাইলেই কিন্তু ওদের কঠিন শায়েস্তা করতে পারি। অস্ত্রের চেয়েও মূখ্য হলো মনোবল, ঐক্য।

 

২১

মুক্ত বয়ান's picture


এটা অস্বাভাবিক। সাধারণত, যেটা হয়, আপনাকে একলা পেলে খবর করে ফেলে। কিন্তু, আপনার ক্ষেত্রে এটা কেন করলো না, সেটা জানা নেই।
আর, একতার যে কথা বললেন, সেটা তো সার্বজনীন। ওরা জানে ওদের পথ ভুল, কাজেই মানসিকভাবে দূর্বলতা তো থাকবেই, আর যারা ওদের বিরোধীতা করে, তারা সত্যের পথে, ন্যায়ের পথে। কিন্তু, আমরা এখন অনেক ভীতু। তাই, অস্ত্র দেখে ভয় পাই। কেননা, আমরা জানি না, আমাদের যদি কিছু হয়, তাহলে তার বিচার কবে হবে? হলে, সেটা সুষ্ঠু হবে কিনা? বা আদৌ হবে কি না?

২২

নীড় সন্ধানী's picture


আমার সাথে ঝামেলা করেনি কেন সেটা একটা রহস্য। হয়তো ভাবতো মাছি তাড়িয়ে কোন লাভ নেই।

২৩

নুশেরা's picture


আমার একটা অভিজ্ঞতা আছে চট্টগ্রাম কলেজে একাদশে পড়ার সময়। গ্যালারিতে ক্লাসের পর বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে সবাইকে আটকে চাঁদা তুলছে। ছেলেদের জন্য ধার্য হলো পাঁচ টাকা করে, মেয়েদের বিশ। ছেলেরা পটাপট টাকা ফেলে বাইরে ছুট। গোটা দশেক মেয়ে, ধনীর দুলালীরা দ্রুত বিদায় হয়ে গেলো (তখন সেই নব্বই সালে বিশ টাকা কম না)। আমার আছে পনের টাকা, ফিরতে হবে সেগুনবাগান। এরা ছাড়ে না, রশিদ কেটেই রেখেছে আগে থেকে, সবার নামে। শেষে চাঁদার রশিদে ২০এর পাশে "২০ ভাগ ৪ = ৫" লিখে ৫টাকা দিয়ে এক ঘন্টা পর রেহাই দেয় আমাদের কয়েকজনকে; "কাজটা ভালো করলেন না" ধরণের হুমকি দিয়ে।

২৪

নীড় সন্ধানী's picture


২০এর পাশে "২০ ভাগ ৪ = ৫"
**************************

দারুন কাজ হয়েছে তো? হারামীরা অংক ছাড়া কিছু করে না। মানুষরে তো সাত পাচ চোদ্দ বুঝিয়ে সারে, খোদ আল্লার কাছেও অংকবাজী করতে দেখেছি আমার চেনা জামাতী কয়েকটারে।

আপনার ত্যাড়ামিকে অভিনন্দন!  Smile

২৫

শাওন৩৫০৪'s picture


...ভভিনদেশি মুভিতে শয়তানের কাছে আত্মা বেইচা দেয় একটা গ্রুপ....শিবিররে আমার সেই রকমই মনে হয়, মানুষ থেইকা নাম কাইটা তারপর তারা যোগ দেয় শিবিরে,..

২৬

নীড় সন্ধানী's picture


নাহ, অত শক্তিশালী না ওরা। কিন্তু শক্তির গুজব ছড়িয়ে প্রতিপক্ষকে গায়েল করা ওদের পুরোনো অস্ত্র।

২৭

সাঈদ's picture


এইগুলারে শিক্ষা না দেয়া পর্যন্ত শান্তি নাই।

চরম একটা কাহিনী পড়লাম দাদা।

২৮

নীড় সন্ধানী's picture


চরম এবং কর্মময়।

২৯

মামুন হক's picture


চট্টগ্রাম ইউনিতে শিবিরের বর্তমান হাল-হকিকত কেমন?

নীড় সন্ধানী ভাইকে স্যালুট, পরেরবার দেশে গেলে আপনার সাথে বুক মিলিয়ে আসবো। শিবিরের ধ্বংস ছাড়া বাংলাদেশের অস্তিত্ব্ব রক্ষাই কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।

৩০

নীড় সন্ধানী's picture


এখনো ওরা বহাল তবিয়তে।

নিশ্চয়ই আসবেন দেশে আসলে। Smile

৩১

কাঁকন's picture


কেমন যেন লাগেএসব কাহিনী পড়লে

৩২

নীড় সন্ধানী's picture


আসলেই কেমন লাগে!! এখনো।

৩৩

তানবীরা's picture


কেমন যেন লাগেএসব কাহিনী পড়লে

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

নীড় সন্ধানী's picture

নিজের সম্পর্কে

ভুল ভূগোলে জন্ম নেয়া একজন অতৃপ্ত কিন্তু স্বঘোষিত সুখী মানুষ!