সব দোষ মধ্যবিত্তদের
মধ্যবিত্ত - খুবই পরিচিত শব্দ আমাদের ।
এই মধ্যবিত্তের বলয়েই আমরা বাঁধা আছি যুগ যুগ ধরে। মধ্যবিত্তদের অবস্থা পাহাড়ী পথের মতন, উপরে উঠতেও কষ্ট, নিচেও নামা যায়না। মাঝখান দিয়ে সরু রাস্তার মত জীবন, যার বাঁক গুলো বরাবর অচেনা , বার বার জীবনের বাঁক গুলো পেরুতে হয় সাবধানে।
মধ্যবিত্ত ঘরে জন্ম ও বড় হওয়া - অনেক অসুবিধার। নামে মধ্যবিত্ত হলেও এদের ব্যক্তিত্ব , আত্ম অহংকার, সামাজিকতা, নীতিবোধ সব গুলোই উচ্চমাত্রার। পাছে লোকে কিছু বলে - এটা মধ্যবিত্তরেই একমাত্র মানায়।
কিছুদিন ধরে পত্রিকা পড়ে যে অবস্থা বুঝলাম - তাতে সব কিছু নষ্টের মূলে এই মধ্যবিত্তরা।
যেমন আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন - ভারতে মধ্যবিত্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় খাদ্য দ্রব্যের দাম বেড়ে গেছে। বুঝেন অবস্থা। মধ্যবিত্তরা খেতে পারবে না, মানুষ নিম্ন আয় থেকে মধ্য আয়ে যেতে পারবে না। গেলেও খেতে পারবে না। বিশ্বে খাদ্য দ্রব্যের দাম বাড়ে - মধ্যবিত্তদের জন্যই।
মধ্যবিত্তরা কেনা কাটা বাড়িয়ে দিয়েছে বলেই দেশে এত মার্কেট, শপিং মল - বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করে গহনা , লিপস্টিক, ফেস পাউডার , পারফিউম আসছে দেশে - অর্থনীতি নিয়ে এক লেখায় পড়েছিলেম কথা গুলো। মধ্যবিত্তদের এসব ব্যবহার না করাই ভালো। এতে দেশে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা বাঁচবে। দেশের বৈদেশিক মুদ্রা বাঁচানোর দায় - মধ্যবিত্তদের।
ঢাকায় অসহনীয় যানজট - গাড়ী বেড়েছে অনেক। এক সেমিনারে এক বক্তা বললেন - এখন মধ্যবিত্তরাও গাড়ী কিনছে ফলে রাস্তায় গাড়ী বাড়ছে, জট বাড়ছে। আরে , গাড়ী বাড়বে - সেটা মাথায় রেখে কেন রাস্তা তৈরী হয়নাই ? মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ছে - এটা কি খারাপ ? মধ্যবিত্তরা গাড়ী কিনতে পারবে না, যানজটের জন্য, এটা উচ্চবিত্তদের জন্য শুধু!! দেশের চিন্তা করার দায়িত্ব - মধ্যবিত্তদের।
সরকার রাস্তা বাড়াচ্ছে না , ঢাকায় রেল ঢুকছে - বেরুচ্ছে রাস্তা বন্ধ করে , ভিভি আই পি রা যাচ্ছেন রাস্তা বন্ধ করে - আর দোষ মধ্যবিত্তদের কারন তারা গাড়ী কিনছে। তাদের জন্য বাস যথেষ্ট আর খুব বেশী হলে ট্যাক্সি আর ক্যাব - পায়ে ধরলেও যারা যেতে চায়না তাদের মনের মতন গন্তব্য না হলে।
মধ্যবিত্তরা এখন ঘুরতে বের হচ্ছে দেশের এখানে সেখানে - এটাও এখন দোষের। এক পত্রিকার কলামে দেখলাম একজন কলামিস্ট লিখেছেন- মধ্যবিত্তদের ঘুরা ঘুরির অভ্যাস বেড়ে যাওয়াতে যত্র তত্র রিসোর্ট হচ্ছে, পাহাড়ে পাহাড়ীদের জীবন বৈচিত্র্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে - পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ইত্যাদি ইত্যাদি।
এখানেও মধ্যবিত্তরাই দোষী।
আর ফ্ল্যাট - মধ্যবিত্তরা ফ্ল্যাটের দিকে ঝুঁকছে বলে দাম বেড়েছে - এরকম আরো লম্বা লিস্ট করা যাবে যাতে মনে হয় সব দোষ মধ্যবিত্তদেরই।
পড়তে পড়তে ভাবলাম - আসলেই - সব দোষ মধ্যবিত্তদের। কেন যে মধ্যবিত্ত হতে গেলাম !!!





সত্যিই তো! কেন যে মধ্যবিত্ত হতে গেলাম !!
আসলেই
বয়স্করা আসলেই জ্ঞানী- গুণী হয়!!!

আমার বাপে ছোটবেলা থেকেই কইত, দ্যাখ বাবা, তুমি হয় খুব ভালো হইবা, নয়ত খুব খারাপ হইবা। তাতেই মানুষ তোমারে মনে রাখবে, মাঝামাঝি কিছু হয়ে লাভ নাই।
কিন্তু, আফসুস কি জানেন? নিজের কথা নিজেই কাজে লাগাইতারে নাই!! নিজেই মধ্যবিত্ত হইয়া রইছে!!!
সেই
হুমমম। ভাল বলছেন।
ধন্যবাদ
যত দোষ নন্দ ঘোষের । কেষ্টা বেটাই চোর । মধ্যবিত্তরা যত অঘটন সব ঘটাচ্ছে । মধ্যস্বত্তের মত মধ্যবিত্তরা নিপাত যাক, এই শ্লোগান মুখে নিয়ে নিম্নবিত্ত আর উচ্চবিত্তরা রাস্তায় মিছিল করবে তারই প্রস্তুতি মনে হচ্ছে ।
"কেন যে মধ্যবিত্ত হতে গেলাম"।
কিছুদিন পর আর মধ্যবিত্ত থাকবে না। উচ্চবিত্ত আর নিম্নবিত্ত।
কথা ঠিক সাঈদ ভাই।
১০০ তে ১০০!
আমি ধইন্যা
এই লিস্ট আরও লম্বা হবে, প্রাপ্তির তালিকাটাও কম লম্বা নয়। সুতরাং ইতি-নেতি মিলিয়ে মধ্যবিত্তের জীবন সবচে' বর্ণিল।
কিন্তু সেখানে আজ অশুভর কালো ছায়া।। সব দোষ মধ্যবিত্তের
মধ্যবিত্ত!
লীনাদির কমেন্টে লাইক
মধ্যবিত্ত হৈয়া সাঈদ ক্যান গাড়ী কিনতে গেলো ?
আগে জানলে কি আর কিন্তাম, হাতির খরচ
গাড়ি কিননের ঝামেলা কত প্রকার ও কি কি লিখে দেন।
আসলেই তো এই মধ্যবিত্তরা সব কিছুর মূলে।
এক সময় সমাজে কেবল দুটি শ্রেণী ছিলো। উচ্চ আর নিম্ন। যে কারণে উচ্চবিত্তের লোভ-লালসা-অন্যায়-অত্যচার নীরবে সয়ে গেছে সেই নিম্ন শ্রণী। দুর্বল, অসহায় বলে কোনো প্রতিবাদ হতো না। এমন কি ভিটেমাটি থেক উচ্ছেদ করা সহ নবপরিণীতাকে ছিনিয়ে নিয়ে কিছুদিন পর বরের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার মত জঘন্য কাজগুলোরও প্রতিবাদ হতো না বলে সমাজে বজায় থাকতো স্থিতিশীলতা।
কিন্তু এই মধ্যবিত্ত শ্রেণীটা জেগে উঠেছে বলেই অন্যায়ের প্রতিবাদ হয়, ন্যয্য অধিকারের দাবীতে সোচ্চার হতে শিখেছে মানুষ। শিক্ষার হার এই মধ্যবিত্ত শ্রণীটাতে বেশি বলেই উচ্চবিত্তের নয়কে ছয় করা ছয়কে নয় দেখানোর সুবিধাগুলো চলে গেছে। এই মধ্যবিত্তের কারণেই আর তারা শুষে খেত পারছে না নিম্ন বিত্তের রক্ত। তবুও ফাঁক পেলে শোষনের মাত্রা কোনো অংশেই কমে না। দেশের উন্নয়নে এমনকি রাজনীতিতেও ব্যাপক ভূমিকা এই মধ্যবিত্ত শ্রণীটিরই।
সমাজে কেবল দুটি শ্রেণী থাকলেই সুবিধা। মধ্যবিত্তদের কারণে দিনদিন তাদের সুবিধাগুলো কমে যাচ্ছে। সুতরাং মধ্যবিত্ত সমাজ নিপাত যাক!
মধ্যবিত্ত সমাজ নিয়ে অনেক গালমন্দ শুনি ভাই -
আন্দোলনে এদের পাওয়া যায়না , এরা সুবিধাবাদী, এরা ভীতু , ইত্যাদি ইত্যাদি।
কী বলবো আর। আপনার কথার সাথে একমত।
এইজন্যই মুরুব্বীরা বলেন, হইলে হ হারামজাদা নইলে হ শাহজাদা।
মাঝখানের কিছুতেই আসল গন্ডোগোল।
মাঝা মাঝি তে পড়েই তো আমাদের জান যায় যায় অবস্থা
চিন্তা করতেছি...মধ্যবিত্ত কি জিনিস? সমাজের গ.সা.গু.?
বাংলাদেশে কাদেরকে মধ্যবিত্ত বলা হয়? ৯৮ মডেলের টয়োটা কিনে ২০০৮ মডেলের দিকে তাকিয়ে যারা আফসোস করে তারা? নাকি রিক্সায় চড়ে টেক্সীর দিকে তাকিয়ে আফসুসে মরে তারা?
ভালো বলছেন দাদা - গ সা গু
মধ্যবিত্ত ধীরে ধীরে গালিতে পরিণত হচ্ছে।
মদ্যবিত্তই ভালো
হুমমম ।
চমতকার বলেছেন।
মধ্যবিত্তদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ছে বলেই দেশের এখন রমরমা অবস্থা।
কেন যে মধ্যবিত্ত বাপের ঘরে জন্মাইলাম!
মন্তব্য করুন