হ-য-ব-র-ল
ব্লগে খুব বেশী আসা হয়না ইদানিং , মাঝে মাঝে আসি তাও অফলাইনে। কেন জানি কমেন্টও করতে ইচ্ছা হয়না ।
আবার মাঝে কিছুদিন ছিলাম চট্টগ্রামে, অফিসের কাজে।
মীরপুরে এখন সাজ সাজ রব । আর্মির লোকজন উন্নয়নের কাজ তত্ত্বাবধান করছে, রাস্তা গুলো কার্পেটিং করা হচ্ছে , অবশ্য যদিও দেখে মনে হচ্ছে না যে নতুন কার্পেটিং করা। আশা করা যায় বিশ্বকাপ পর্যন্ত এগুলো ঠিক থাকবে।
ফুটপাত গুলো ঠিক করা হয়েছে, অনেক আগেই ফুটপাত থেকে হকারদের উচ্ছেদ করা হয়েছে । মাঝে আইল্যান্ড গুলো তে সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ চলছে , রাস্তার খানিকটা দখল করে সেখানে সৌন্দর্য বর্ধনের উপকরন ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা। রাস্তায় বাঁধছে জ্যাম । স্টেডিয়াম থেকে ক্যামেরা যতদূর যাবে সম্ভবতঃ ততদূর পর্যন্ত ঠিক ঠাক করা হচ্ছে। কারন মীরপুর ১১-১২ নম্বরের অবস্থা আগের মতই । এদিকে ক্যামেরা আসবে না , বিদেশী মেহমানরা আসবেন না ধরেই নিয়েছে সরকার।
চট্টগ্রামেও দেখলাম একই অবস্থা । সাজ সাজ রব। স্টেডিয়ামের আশে পাশে যেখানে কোনদিন রাস্তা ঠিক করার কথা চিন্তা করেনি সরকার , সেখানেও পিচ ঢালা চলছে। স্টেডিয়াম যাবার পথে যতগুলো বিদ্যূতের খুটি পড়েছে সবগুলোর গায়ে সবুজ-লাল রঙ করা হয়েছে , বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে।
রাত হলেই দেখি ফ্লাড লাইট জ্বালিয়ে রাখা হয় স্টেডিয়ামে। ঐ এলাকা আলোতে এতই আলোকিত হয় যে, আলোকিত মানুষ খুঁজতে এখন আর বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের কষ্ট করতে হবে না আর !!!
মীরপুর ১০ নম্বর কবরস্থানের সাথে একটা মহাজোট এর কার্যালয় দেখি প্রতিদিন বের হলে। কার্যালয়ের সামনে সাইনবোর্ড - সেখানে এক পাশে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি আরেক পাশে লেজেহোমো এরশাদের প্রতিকৃতি। সাইনবোর্ডটা দেখে ভাবি, বঙ্গবন্ধু কে শেষ পর্যন্ত ক্ষমতার জন্য এরশাদের সাথে সমান্তরালে আনা হলো ???
চট্টগ্রাম থেকে এসে মীরপুর ১০ নম্বরে আরেকটা সাইনবোর্ড দেখে চমকে গিয়েছিলাম। বিশাল সাইনবোর্ড , ৪ জনের প্রতকৃতি । মাঝে বঙ্গবন্ধু, তাঁর বা পাশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু ডান পাশের ২ জন কে দূর থেকে চনতে পারছিলামনা। তাদের পরনেও মুজিব কোট। ভাবলাম হয়তো বঙ্গবন্ধুর পরিবারের ছবি। কাছে গিয়ে দেখি একজন হলো মীরপুরের সাবেক এমপি হারুন মোল্লা আরেকজন তার সন্তান বর্তমান এমপি ইলিয়াছ মোল্লা। বঙ্গবন্ধুর এহেন পরিনতি দেখে মায়াই হলো ভদ্রলোকটির জন্য !!
যাই হোক , রাজনীতি তে নাকি শেষ কথা বলে কিছু নাই।
চট্টগ্রামে গিয়ে জম্পেশ আড্ডা দিলাম নীড় সন্ধানী দাদা, নুশেরা আপু, রুমাইয়া, মাসরুর , মুকুল আর সিরাজী মামা-ভাই এর সাথে। শুধু ব্লগিং আর ফেসবুকিং এক একটা মানুষকে কত কাছে নিয়ে আসে, তার উদাহরন এই আড্ডা। নীড় সন্ধানী দাদা - নুশেরা আপু ব্লগিং এর কারনেই আগে থেকে ছিলেন শ্রদ্ধার মানুষ হিসাবে, কাছের মানুষই মনে হত তাদের । দেখা করে মনে হইয়নি সেদিন প্রথম দেখা নীড় দাদার সাথে। তাঁদের লেখা, কমেন্ট গুলোর জন্য অপেক্ষা করি । তাঁরা কোন লেখায় কমেন্ট করলেই গিয়ে দেখে আসি কি লিখলো। যেমন লেখার জন্য অপেক্ষা তেমন কমেন্টের জন্য। আর নুশেরা আপু তো আছেই বিখ্যাত প্রুফ রিডার। মুকুল তো আগে থেকেই মুকুল। সিরাজী আর রুমাইয়ার সাথেও সেদিন প্রথম দেখা।
আড্ডায় গিয়ে দেখি নুশেরা আপু , মুকুল, সিরাজী ভাই-মামা আগে থেকেই চলে এসেছে। আমি আর নীড় দাদা এক সঙ্গে ঢুকলাম। কিছুক্ষন পর এলো মাসরুর আর তার কিছুক্ষন পর রুমাইয়া। কিন্তু রুমাইয়া যখন প্রবেশ করে , তার পিছে পিছে এক দল লোক ও ঢুকছে হোটেলে। আরেকটি পরিবার মনে হয়। সবাই রুমাইয়ারে দেখে তাই কনফিউজড। রুমাইয়া তো ? কিন্তু সাথে এই সাঙ্গ পাঙ্গ কারা !!! পরে দেখা গেল তারা অন্যদিকে ঘুরে গেছে, রুমাইয়া হাসতে হাসতে এগিয়ে আসছে আমাদের দিকে।
আড্ডায় যে পরিমান হাসছি , গত কয়েকবছরে সেরকম হাসছি কি-না সন্দেহ। নীড় সন্ধানী দাদা, নুশেরা আপু কথা বললেও গল্পের মতই শোনায়। খুলশীতে এক রেস্টুরেন্টে আড্ডা জমেছিল সেদিন।
তার আগের দিন ঘুরে এলাম কাপ্তাই থেকে। এত সুন্দর জায়গা !!! অবাক বিস্ময়ে দেখেছি কিন্তু ছবি তুলতে পারিনি পিকনিক পার্টির জন্য। আরও অবাক হয়ে দেখেছি সেখানে থাকার জন্য কোন বেসরকারী হোটেল নাই !! রাঙ্গামাটি থেকে কাপ্তাই অনেক ভালো লেগেছে আমার কাছে । কর্নফুলির কালো পানি, পানিতে যে স্রোত - ভয়ের শিহরন জাগে , দুই পাশে পাহাড় , মাঝে বয়ে গেছে নদী - সে এক অপরুপ দৃশ্য।
যাবার সময় আমাদের বাসের আগে পিছে সব পিকনিকের গাড়ী - গাড়ীর বাইরে মাইক লাগিয়ে চলছে তারা কাপ্তাই তে। পিকনিকে যাবার সাথে গাড়ীর বাইরে মাইক লাগানোর সম্পর্ক টা এখনও আবিষ্কার করতে পারিনি !!!
৯৫ সালের পর এবার গেলাম পতেঙ্গা। কত চেঞ্জ !! জিবনে প্রথম সুমদ্র দর্শন করেছিলাম পতেঙ্গাতেই , সেই ৮৫ সালে। মা'র সাথে গিয়েছিলাম। তারপর ৮৭ তে , তারপর ৯৫ তে শেষবার ছিলো। পতেঙ্গা যতই দেখি ততই আপসেট হই। দিন দিন এর শ্রী হ্রাস পাচ্ছে , হয়ে উঠছে বাজার।





অনেকদিন পর আপনার লেখা পেলাম। ভালো লাগলো।
ভেবেছিলাম কিছু ছবি পাওয়া যাবে। সে ভাবনার কি হবে কে জানে।
পতেঙ্গা ভালো পাই। অনেকনেক দিন যাই নাই।
নেন কাপ্তাইয়ের একটা ছবি দিলাম আপনার জন্য ।
খিক খিক
ভালো লাগেনি ? আচ্ছা, পতেঙ্গার একটা ছবি দিলাম।
এবার নিশয়ই পছন্দ হবে ।
আপনেরে চেনা চেনা লাগে!আমরার সাঈদ ভাই নাকি?
হাত ধরার সেই গল্পটা চাপা পড়লো কুথায়?
হ আমি সেই হারিয়ে যওয়া সাঈদ , হাত ধরে হারিয়ে গেছিলাম
এক্টা গান আছে, হারিয়ে যাওয়া ফাতিমা.....।মীরকে বলেন লিংক দিতে।
"হাতিরপুলের ২৮ নম্বর বাসাতে" না কি যেন গানটা...... কাল বাধ্য হয়েই বেশ কয়েকবার শুনতে হলো

ঐ অতি সুন্দর গানটার লিঙ্ক ও কি মীর ভাই এর দেয়া
nope
তাইলে সেই মহামানব মনেহয় নিজেই গানটা খুজে বের করেছেন!

ঋহান আবার ওই গানে নৃত্য পরিবেশন ও করে
ঋহান এর নাচের ভিড্যু নাই ?
নাজ, গান্টা রায়হান ভাই এর আবিষ্কার।শাহনাজ বেলী নামে একজনের গাওয়া বলে গান্টা রায়হান ভাই আমাকে দিয়েছিলো।

গান্টা তো জটিল।
আপনি তৈলে একটু গেয়ে শোনান আমাদের ।
আমি থাকি হাতিরপুলে ২৮ নম্বর বাড়িতে, বন্ধু থাকে ২৯ এ, দেখা হয় বারান্দাতে, চুল শুকাতে গেলে আমি বেড়ে যায় পাগলামি, ভলিওম বাড়িয়ে গান শোনে লতার.......
লাইভ শুনতে মঞ্চায়
এই গানের সাথে নাই। "রক উইথ রবিন্দ্রনাথ" এর সাথে আছে

কিন্তু, এইখানে কি ভিডিও আপ দেয়া যায়?
ইস! আমারে কেউ ঘুরতে নিয়া যায় না
আহালে
দিলাম কান্দনের ইমো, হইয়া গেল কি ছাই
সেইদিন না ঘুরতে গেলেন ????
১৯৫৩ সালের কথা কইলেন মনে হয়??
সাঈদের অভাবে অনেকেই
। ফিরে এসে সুন্দর একটা পোস্ট দেওয়ায় সকলে
। সাঈদের ছবির হাত চমৎকার ! এবারের সফর নিয়ে একটা ছবি পোস্ট দিলে সবাই কত যে খুশী হবে ! 
ধন্যবাদ ভাই। ভালো আছেন ?
সময় করে দেখি ছবি দিবোনে। ফেসবুকে দেই তো তাই আর এখানে দেয়া হয়না ।
সাঈদের ফেসবুকে ঢুকবার চাবি আমার কাছে নাই ।
এফবিতে দেখলাম, কি যেন নূতন খবর আছে!
কই, আমি তো নতুন কিছু পেলামনা । "সিরাজীর তিন 'প' " রাতেই দিয়েছি এখানে । কষ্ট করে পড়ে মতামত জানান । এ ছাড়া অন্য কোন খবর হলে জানাবেন ।
কার খবর দেখলেন উদ্রাজী কাকা ?
এমন ঘটুক বারবার
হাত ধরে রাস্তা পার...
তারপর কী হৈলো
কন্যাই বা কী কৈলো ?
যা ঘটছে বা ঘটবে বারবার

সেতো কন্যা আর আমার
আপনার কেন এত উৎসাহ আবার ?
হযবরল মোটেই না, পার্ফেক্ট ব্লগিং!
কাকুর হাসিমুখটা চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি
আপনি সেদিন পতেঙ্গায় না গেলে নীড়-পরিবারের সঙ্গে আরেকটা আড্ডা হতে পারতো। আপনাকে মিস করেছি আমরা।
আমিও মিছ কর্ছি । ইশ্ সকালে যদি জানাইতেন সেদিন , তাহলে আর পতেঙ্গা যাইতামনা ।
ব্যাড লাক টা খারাপ
আমরা বিশদ বাঙলা থেকে কাপ্তাই যাবো পিকনিকে, দেখি গান বাজানো ছাড়া যাওয়া যায় কিনা
গান বাজনা ছাড়া পিকনিক হয় নাকি আবার
আমার ভাগিনা ভাগ্নি-ভাগ্য ভালোই মনে হয়।
তাইতো দেখছি মামা-ভাই ।
নিয়মিত থাকেন না কেন? আবার শুরু করেন ব্লগিং। চিটাগং-এ হাত তো যথেষ্ট মর্যাদা পাইছে। হাতকে এখন ব্লগিং-এর কাজে লাগান। অন্য কোনো কাজে না।
এনশাল্লাহ আবার নিয়মিত হবো , হাতকে শক্তিশালী করেছি , ব্লগিঙে এখন ব্যবহার হবে প্রতিদিন ।
সাঈদ সাহেব ফুচকা চটপটির জ্বালায় ব্লগে আসারই টাইম পায় না।
নীড়দার সামনে আপনার কমপ্লেক্স হয় নাই, ওনিতো মহা হ্যান্ডশাম হাঙ্ক
হাত কেমন আছে
পরিশেষে একটা গান
মাঝে মাঝে তব দেখা পাই
প্রতিদিন কেনো পাই না
এরেই কয় মহিলা মার্কা বুদ্ধি
নীড় দাদা যতই হাঙ্ক হোক , আমার কমপ্লেক্স হবে কেন ?
ফুচকা চটপটি খেতে যাইতে হবে , অনেকদিন খাইনা ।
একেই বলে হাটুর নীচে বুদ্ধি। আপনার কমপ্লেক্স হবে নাতো কি রুমিয়ার হবে?
মন্তব্য করুন