পিন আপ পত্রিকা
সকালে যেখানে দাঁড়িয়ে চা সিগারেট টানি কাজে যাওয়ার আগে, সেটার সাথেই একটা পত্রিকাস্ট্যান্ড, কখনও সেখানে মনোযোগ দিয়ে দেখা হয় নি আগে, আজ খেয়াল করে দেখলাম সেখানে বেশ কিছু পত্রিকা রাখা " শুধুমাত্র প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য", এমন শিরোণাম দেওয়া পত্রিকা বাংলাদেশে কয়টা ছাপা হয় আমার জানা নেই, বাংলাদেশের "প্রেস পাব্লিকেশন সংস্থা" কিংবা তথ্য অধিদপ্তর এমন পত্রিকা প্রকাশের অনুমতি দেয় কি না এটাও আমার জানা নেই, কিন্তু পত্রিকা স্ট্যান্ডে জায়গা করে নেওয়ার মতো পাঁচ থেকে ছয়টি পত্রিকা কিংবা বই দেখে বুঝলাম যৌনতা বিষয়ে আমাদের সামাজিক গ্রহনযোগ্যতার মাত্রা বদলেছে।
ছাপার হরফে কিংবা ফটোগ্রাফে প্রাপ্তবয়স্কদের যৌনসুরসুরি এবং যৌন তাড়না বাড়াতে কিংবা তাদের যৌনকল্পনা সম্প্রসারণ করতে পত্রিকা প্রকাশিত হচ্ছে সেটারও প্রায় দ্বিশতক পূর্ণ হয়েছে, বাংলা সংবাদ পত্র প্রকাশ্য যৌনবিহার, যৌনকাতরতা এবং বর্তমানের বিবেচনায় অশালীন আদিরসাত্মক সংবাদ ও বিবৃতি নিয়ে প্রকাশিত পত্রিকা বয়েসে রবীন্দ্রনাথের বড়।
অশ্লীলতার অভিযোগ এবং মধ্যবিত্তের কিংবা শিক্ষিত ব্যক্তির নৈতিক বোধ এবং যৌনতা বিষয়ক সংরক্ষণশীলতা বৃদ্ধি পাওয়ার আগে বাংলা ভাষার দৈনিকে বেশ্যা চাওয়ার বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়েছে, যেকোনো ধরণের যৌনবিহারে পারদর্শী এবং আগ্রহী কিশোরি চেয়ে বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়েছে, সুতরাং এমন যৌনকাতর সংবাদ কিংবা বিজ্ঞাপন বাংলা ভাষায় নতুন এমন না।
আমাদের সমাজে মধ্যবিত্ত মানসিকতার বিকাশ এবং যৌনতা বিষয়ক সংস্কার এবং সংরক্ষণশীলতা সে হিসেবে রবীন্দ্রনাথের জন্মের সমসাময়িক কিংবা তার আশে পাশে এমনসব ট্যাবুতে ভারাক্রান্ত হয়েছে আমাদের মানসিকতা । বাবুয়ানী সংস্কৃতির উদ্ভবের সময় দুই একটা বাইজী না নাচালে, উৎসবে এক দঙ্গল এসে খ্যামটা না নাচলে বাবুয়ানী প্রকাশ পেতো না, শিক্ষিত অভিজাত ও মধ্যবিত্ত মানুষেরা সামাজিক সাক্ষাৎকারের জন্য সন্ধ্যে বেলা বাইজীবাড়ী কিংবা বাধা রক্ষিতের ঠাইয়ে যেতেন।
প্রায় একশত বছরের নিষ্পেষনে আমাদের যৌনচাহিদা বিকৃত হয়েছে, আমাদের স্বাভাবিক শাররীক চাওয়াটাকেও আমাদের নিজেদের কাছে অশালীন মনে হয়েছে, সেসব কারণেই আমাদের বেড়ে ঊঠবার দিনগুলোতে "চটি" লুকিয়ে কিনতে হতো, বয়স্ক মানুষের সামনে নয়, মুখ কাচুমাচু কওরে, অন্য সব বইয়ের ভাঁজে লুকিয়ে এক বাসা থেকে অন্য বাসায়, দোকান থেকে কোনো বাসায় " চটি" ঘুরতো।
বইয়ের দোকানে প্রাপ্ত বয়স্কদের পত্রিকা থাকবে, প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য বই থাকবে, এ দৃশ্য পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে স্বাভাবিক হলেও, নগ্নবক্ষা পিন আপ পত্রিকা বাংলাদেশের পত্রিকা স্ট্যান্ডে আগে ঝুলতো না। টাইম এর পাশে প্লেবয়ের সহাবস্থান কিংবা সানন্দার পাশে ডেবোনেয়ারের সহবস্থান বাংলাদেশের স্বাভাবিক দৃশ্য নয়। সে কারণেই আজ প্রাপ্তবয়স্কদের একগাদা বই রাস্তার পাশের পত্রিকার দোকানে দেখতে পেয়েও আশ্চর্য হলাম, যদিও এসব প্রকাশনা নিয়ে তেমন মাথা ঘামানোর কিছু নেই, কিন্তু এই মূহুর্তে মনে হচ্ছে আমাদের সামাজিক পরিমন্ডলে যদি যৌনতা স্বাভাবিক হিসেবে গৃহীত হয় তাহলে হয়তো অসহায় যৌবনযাতনাকে এতটা বিশ্রী ভাবে প্রকাশ হবে না বাংলাদেশে। আমাদের স্বাভাবিক ক্ষুৎ পিপাসা নিবারণের মতো আমরাও স্বাভাবিক ভাবেই নিজের যৌনচাহিদা নিয়ে আলোচনা করতে পারবো এবং এই বিষয়ে পরিণতমনস্ক হয়ে উঠবো।





ভয় পাইছি। তবে শুরু করো।
(আমি একটা আবালীয় গল্প লিখতেছি, পারলে পইড়ো)
কোনটা শুরু করবো
হুম।
মানে কি লীনা?
আর হইছি পরিণতমনস্ক...দেশের মানুষ হাঁটছে পেছন দিকে আর আপনি যৌনচাহিদা নিয়ে আলোচনা করার আশা করছেন!
আমরা রেপ করব কিন্তু আলোচনা করব না, আমরা মোবাইলে মোবাইলে কাট পিস নিয়ে ঘুরব, কিন্তু নিজের বউকে বাসায় তালা মেরে রেখে আসব...আপনার আশা যদি কখনো বাস্তবতার মুখ দেখে তাহলে খুশি হব।
ধর্ষণের বিষয়টা শুনতে ভয়ংকর মনে হইতে পারে কিন্তু সেইটার বোধগত উপলব্ধি বাংলাদেশে এখনও আসে নাই। অন্য কারো অসম্মতিতে তার সাথে মিলিত হওয়ার চেষ্টা কিংবা তাকে প্ররোচিত করা, কিংবা তাকে উত্তেজিত করবার চেষ্টা সেটাকে যদি ধর্ষণ মেনে নেই আমরা, তাহলে আমাদের বিবাহিত স্ত্রীদের কিংবা বিবাহিত স্বামীদের যৌনমিলনে আগ্রহ আছে কি না এসব যাচাই না করেই অধিকাংশ দাম্পত্য চলছে নির্বিকার।
সম্মতি কিংবা আগ্রহ আছে কি নেই এটা যাচাই করবার সংস্কৃতি না থাকায় অন্য যেকেউ তার সাথে কোনো মানসিক সম্পর্ক কিংবা সামাজিক সম্পর্ক আছে কি না এটা বিবেচনা না করেই উপগত হওয়ার বিষয়টাকে পত্রিকায় ধর্ষণ বলে, সেটার বাইরেও ধর্ষণ ঘটে
তুলনামূলক ভাবে নতুন ধারণা হওয়ায় যেখানে এখনও মেয়েদের সম্পূর্ণ মানুষের মর্যাদা দেওয়া হয় নি, সেই সমাজে ধর্ষণ বিষয়ে বৈপ্লবিক উপলব্ধি আশা করা কষ্টকর।
প্রযুক্তির অপব্যবহার কিংবা সুব্যবহার কিংবা বাণিজ্যিক ব্যবহার কোন অর্থে বিষয়টা এসেছে জানি না, কিন্তু যখন মানুষ ভিডিও ক্যামেরা কিনলো কিংবা যখন ভিডিও ক্যামেরা সহজলভ্য হলো তখন মানুষ নিজের সংগম দৃশ্য ধারণা করেছে, ওয়েব ক্যাম সহজলভ্য হওয়ার পর সেটা দিয়ে সংগম দৃশ্য ধারণ করেছে, মোবাইলের ক্যামেরা আসায় সেখানেও ধারণ করছে, মোবাইলগুলো তার সচেতন বলা যায়, এখানে অন্য পক্ষের অসম্মতি কম, অপ্রকাশ্য গোপন দৃশ্য ধারণ হয়তো হয় না, মানে নিজের সংগম দৃশ্য নিজেকেই ভিডিও করতে হলে সেটা অন্য পক্ষের কাছে লুকিয়ে করা কঠিন
সেটা নিজের সাফল্য বিবৃত করতে কিংবা নিজের কলাকৌশল দেখাতে কিংবা প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য প্রকাশ্যে ছড়িয়ে দেওয়াটা অপরাধ হতে পারে কিন্তু মোবাইলে সেসব ধারণ করার ভিতরে অপরাধের কি আছে
বুঝলাম।
আমি তো দেখি পত্রিকা স্ট্যান্ডের সামনে দাঁড়িয়ে কেউ কেউ পড়ছেও
"শুধুমাত্র প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য" এমন শিরোণাম দেওয়া সেবা প্রকাশনীর বইগুলো বুক স্টলে দেখতাম তখন কিনতে সাহস পেতাম না ।।। কলেজে পড়ার সময় একদিন সাহস করে বল্লাম বিদ্যুৎ মিত্রের যৌন বিষয়ে সাধারন জ্ঞান বইটা দিন তো । কোন মতে টাকা দিয়ে এক দৌেড় বাসায় গেলাম।বছর তিনেক আগে নীলক্ষেতের পুরানো বইয়ের দোকান শাহজাহান বুক হাউজে পেলাম আবুল হাসনাতের লেখা প্রায় ১২০০ পৃষ্ঠার ২ খন্ডের বই যৌন বিজ্ঞান। কিনলাম ৪০০ টাকায় । দামাদামী করার সময় শাহজাহান আংকেল বল্লেন,"আংকেল আপনি ঠকেননি, এযাবত কালের মধ্যে যত বই কিনেছেন তাদের মধ্যে এদুটাই শ্রেষ্ঠ।" তারপর ডা। মোহিত কামালের না ,চেনা বন্ধু অচেনা পথ, সুখ পাখি আগুন ডানা, মানব মনের গতি-প্রকৃতি পড়লাম ।এখন মনে হয় এগুলো আগে কেন পড়লাম না ?
কয়েকটি পত্রিকার নাম বলতে পারেন?
মন্তব্য করুন